04/09/2024
হিমু ও শিমু দুই বোন ঢাকার একটা মাদ্রাসায় থাকে।.. শিমু মাদ্রাসায় পড়লেও হিমু কিন্তু পড়তো না,মানে সে অনেক আগেই পড়া লেখা শেষ করছে এখন পড়ায়।শিমু যে মাদ্রাসায় পড়তো হিমু ওই মাদ্রাসা'ই পড়াতো তাই দুই বোনের একসাথেই থাকা পড়তো।হিমু, শিমুর তুলনায় বয়সে অনেকটাই বড়, তাদের বয়সের অনেক বড় একটা গ্যাফ রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ভীষণ মিল ছিলো। যাই হোক মূল কথায় আসি, তখন মাদ্রাসায় পরিক্ষা চলছে.. পরিক্ষা শেষ হলে মাদ্রাসা কিছু দিনের জন্য ছুটি দেয়। ছুটি পেয়ে তো শিমু অনেক খুশি, কারণ বড়ি তে ফেরার পালা যে এখন। মাদ্রাসা ছুটি হয়ে গেলে সবাই বড়িতে চলে যায়। বাকি থাকে শুধু হিমু,শিমু দুই বোন। শিমু, হিমু কে বলে আপু আমরা বাড়ি যাবো না..হিমু জবাবে বলে আমরাও যাবো পাখি..(হিমু, শিমু কে আদর করে মাঝে মাঝে পাখি বলে ডাকতো) শিমু আবার বলে কখন যাবা আপু..শিমু যেনো এট্টু বেশি অস্থির হয়ে পড়েছে বাড়িতে ফেরার জন্য। কিন্তু হিমু কিভাবে তাকে বোঝাবে যে তার কাছে বড়ি ফেরার জন্য পর্যাপ্ত টাকায় নেই...কিন্তু শিমু নাছোড় বান্দী ওর বাসায় যাওয়া'ই লাগবে। এদিকে মাদ্রাসা ও তো বন্ধ সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। যিনি রান্না করতো বাবুর্চি উনিও বাড়ি চলে গেছেন, তাই খানার ব্যবস্থাও তো নেই। সব কিছুর পর এবার তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো।শিমু তো মহা খুশি কিন্তু হিমুর মুখে কোনো হাসি নেই কারণ তার কাছে মাত্র ২০ টাকা আছে। তার পরও বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলো। তারা যে মাদ্রাসায় ছিলো সেটা শহর থেকে এট্টু ভেতরে গ্রামের মধ্যে হওয়াতে চলাচলের জন্য সহজে কিছুই পাওয়া যেত না। অনেকক্ষণ হাঁটার পর শিমু একটা অটো দেখতে পায়, শিমু দৌড়ে গিয়ে অটো তে চেপে বসে কিন্তু ও তো আর জানে না যে তার বড় বোন হিমুর কাছে ২০ টাকা ছাড়া আট টাকায় নেই। কি আর করার ছোটো মানুষ চেপে যখন বসেছে তখন টান দিয়ে তো আর নামিয়ে নেওয়া যায় না।শিমু যেখান থেকে অটো তে উঠেছে ওখান থেকে অর্ধেক পথ এসে আবার অন্য অটো তে উঠা লাগে....। যে হেতু তাদের চলাচলের রাস্তা শহর থেকে ভেতরে ছিলো তাই অনেক দুরের পথ হলেও ভাড়া তেমন একটা বেশি ছিলো না। শিমু যেখানে থেকে অটো তে উঠেছে ওখান থেকে প্রথম স্টপ ১০ টাকা ভাড়া হলেও সেদিন অটোওয়ালা ২০ টাকা চেয়ে বসে।হিমু অনেক ভাবে বললেও অটোওয়ালা তার কোনো কথায় শুনেন না। হিমু বাধ্য হয়ে ২০ টাকা দিতেই রাজি হয় কারণ শিমু যে আগে থেকেই উঠে বসে আছে।প্রথম স্টপ তো আাসা হলো কিন্তু এখান থেকে যে আরো প্রায় ১০ কি:মি: দুরের পথ, তাদের কাছে তো আর অবশিষ্ট কোনো টাকা ও ছিলো না।এখন কি করবে নিরুপায় হয়ে হাটা শুরু করে। হেঁটে হেঁটে বাড়ি তে তো ঠিকই পৌঁছে যায় কিন্তু ততক্ষণে হিমুর পায়ে.ঠোসা(ফোসকা) উঠে গেছে হিমু যন্ত্র দায়ক মুহূর্তে নিজের চোখে দিয়ে পানি ঝরাচ্ছে আর ভাবতেছে.. মানুষ এতো টা নির্দয় কি ভাবে হয়।অটোওয়ালা সব জানার পরও তার কাছ থেকে ২০ টাকা না নিলে, কি খুব বড় ক্ষতি হয়ে যেত। যদি ন্যায্য ভাড়া ১০ টাকায় নিতো এতে কি তার বড় লস হয়ে যেত।কেনো সে নিজের মেয়ে মনে করে এ দয়া টুকো করলো না।মানুষ না মানুষের জন্য, তাহলে হিমুর সাথে এমনটা কেনো ঘটলো....অটোওয়ালা কি পারতো না হিমুর প্রতি এট্টু সহানুভূতি দেখাতে। হয় তো হিমু একদিন এই পরিস্থিতি পার করে ভালো চলাচলের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিবে। তবে অটোওয়ালা যে আচরণ টা করছে এটার জন্য সে সারাজীবন দায়ী থেকে যাবে।...বাড়ি ফেরা তাদের হয়েছিল ঠিকই তবে অনেক কষ্টের পর.....বাড়ি ফেরার পরের অংশ, আমি আর লিখতে পারিনি আমার বুক কাঁপছিলো... আপনারা সবাই হিমু ও শিমু জন্য দোয়া করবেন। যেন, তারা অনেক সুখী হয় এবং সৎ ও সহজ ভাবে জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়।
(বি:দ্র:গল্প টি বাস্তবতা থেকে নেওয়া হয়েছে)
আমরা সবাই সবার যায়গা থেকে একে উপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো যতটুকু দিয়ে পারেন আপনার থেকে যারা অসহায় তাদের কে সাহায্য করুন। দেখবেন আপনার পাশেও আর একজন এসে দাড়াবে।গল্প কথাঃ-দস্ত(সংগ্রহীত)