10/10/2025
যাহারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামী খেলাফ প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহারা এই হাদিসটির শেষের অংশটি মন দিয়ে পড়ুন। 📜 আরবি হাদীস:
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا، فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيًّا، فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ» ثُمَّ سَكَتَ.
মুসনাদে আহমাদ সহিহ হিসেবে যাচাই করেছেন ইমাম আলবানী
✅ বাংলা অনুবাদ:
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
“তোমাদের মধ্যে নবুওয়াত (রিসালাত) থাকবে, যতদিন আল্লাহ তা রাখতে চান, তারপর তিনি তা উঠিয়ে নেবেন যখন ইচ্ছা করবেন। এরপর আসবে নবুওয়াতের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত খেলাফত (খিলাফাহ ‘আলা মিনহাজিন নুবুwwah), যতদিন আল্লাহ তা রাখতে চান, তারপর আল্লাহ তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আসবে কাটায়া রাজত্ব (অর্থাৎ বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র), তারপর তা শেষ হবে। এরপর আসবে জবরদস্তি বা স্বৈরাচারী রাজত্ব, তারপর যখন আল্লাহ চান তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর পুনরায় আসবে খেলাফত নবুওয়াতের আদর্শে। এরপর নবী ﷺ চুপ করে গেলেন।”
✅সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
1. প্রথম ধাপ — নবুওয়াত অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগ।
2. দ্বিতীয় ধাপ — খেলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াত অর্থাৎ খোলাফায়ে রাশেদীনদের যুগ (আবু বকর, উমর, উসমান, আলী রা.)।
3. তৃতীয় ধাপ — মুলকান আদ্দান (বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র): উমাইয়া, আব্বাসি, উসমানীয় প্রভৃতি রাজতন্ত্রের যুগ।
4. চতুর্থ ধাপ — মুলকান জাবরিয়্যান (স্বৈরাচারী শাসন): আধুনিক সময়ের জাতীয় রাষ্ট্র ও জুলুমভিত্তিক রাজনীতি।
5. পঞ্চম ধাপ — পুনরায় খেলাফত ‘আলা মিনহাজিন নুবওয়াত: অর্থাৎ এক সময় আবার এমন খেলাফত আসবে যা নবুওয়াতের পদ্ধতিতে হবে — ন্যায়, আমানতদারি ও শরিয়াহভিত্তিক।
এই হাদীসটি ইসলামি চিন্তাধারায় ভবিষ্যতে আদর্শ ইসলামিক খেলাফতের প্রত্যাবর্তনের আশা ও প্রতিশ্রুতির অন্যতম দলিল হিসেবে ধরা হয়।