06/06/2022
ঘটনা খারাপের দিকে যাচ্ছে!
নিছক আগুন ভেবেছিলেন অনেকে। কেমিকেলের আগুন আর সাধারণ আগুন এক না। সেই ভয়ের কথাই প্রথম আলোর কাছে জানিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন্দন মুখার্জি। তিনি বলেছেন, এটি চট্টগ্রাম শহরের দিকে এগুচ্ছে। আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে প্রত্যক্ষ প্রভাব আর এর দূরবর্তী প্রভাব পড়েছে ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গিয়ে পড়েছে।
‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড’ ছড়িয়ে পড়লে শ্বাসকস্ট বাড়বে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা এখনি আন্দাজ করা যাচ্ছে না। আজ বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ডের ওই ডিপো এলাকার ওপর দিয়ে বাতাস ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে যায়। আগুন, কালো ধোঁয়া ও উত্তাপের প্রভাব কুমিরা, বাড়বকুণ্ড ও সীতাকুণ্ড শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএম কনটেইনার ডিপো এলাকা থেকে আগুনের প্রভাব যেদিকে বিস্তৃত হচ্ছে, সেই এলাকায় একটি সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এটি প্রতিবেশগতভাবে বিপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
প্রতিবেশগতভাবে বিপন্ন এলাকায় কেন কেমিকালের ডিপো করতে দেয়া হলো? প্রশাসন কি ঘুমায়? তাদের কাজ কি? বাতাস গিয়ে পৌছাবে চট্টগ্রাম শহরে? এরপরে কি হবে? ভারতে ভুপালের কথা মনে আছে? সেখানে একটি কেমিকাল কোম্পানিতে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় এলাকা শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। ‘হাইড্রোজেন পারক্সাইড’ বিস্ফোরণের পর উদ্ভত পরিস্থিতি থামাতে পারছি না। আমরা পাবনার রূপপুরে একটা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো প্রায় শেষ করেছি।
সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়েছি। আগামি বছর কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে। আমরা কি এই ভূমিতে মানুষের জন্য অক্সিজেন কিছু বাকি রাখব, নাকি সব পুঁজিপতি ব্যবসায়ীদের লোভের গ্রাসে ছেড়ে দেব?
আমরা কি টাকা খাব? নাকি মৃত্যুর আগে ফোন দিয়ে বলবো আমি পুড়ে যাচ্ছি। পৃথিবীর বুকে দৌড়াচ্ছে অ্যাপোক্যালিপসের চার ঘোড়সওয়ার। আমরা মুর্দার গোসল সেরে অপেক্ষা করবো। কারণ আমাদের জন্য আর কিছুর অপেক্ষা নেই।
নিশাত তাসনীম
© আরিফুজ্জামান তুহিন | সাংবাদিক