31/05/2026
জামালপুরের ব্যান্ড মিউজিক দিন দিন যেন তলানির দিকে যাচ্ছে।
একটা গ্রুপ, ব্যান্ড বা খেপিস্ট টিমে সদস্য পরিবর্তন হতেই পারে। কিন্তু আজ এক টিমে, কাল আরেক টিমে, পরশু আবার অন্য টিমে—এভাবে ঘুরে বেড়ানোর পরও নিজেকে সেই টিমের স্থায়ী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া সত্যিই প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এর চেয়েও দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন অনেকেই শো বা খেপ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে নিয়মিত প্র্যাকটিস, নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দলগত সমন্বয়ের বিষয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে। মঞ্চে ওঠার পরও অনেক ক্ষেত্রে গান বা পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা চলে কে কার থেকে বেশি সাউন্ড নেবে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাঝে সবচেয়ে বিপদে পড়ে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও যারা সাউন্ড ব্যালেন্সের দায়িত্বে থাকে।
খেপের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে অনেকেই নিজের সম্মানী বা ন্যায্য পারিশ্রমিকের বিষয়টিও উপেক্ষা করছে। বিনা পারিশ্রমিকে বা অস্বাভাবিক কম রেটে কাজ করার এই প্রবণতা পুরো মিউজিশিয়ান কমিউনিটির জন্যই ক্ষতিকর। এর ফলে বাজারের স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হচ্ছে এবং পেশাদার শিল্পীদের কাজের মূল্যও কমে যাচ্ছে।
আরেকটি বিষয় হলো, অনেক খেপিস্ট টিমের কাছে প্রোগ্রাম পাওয়াটাই যেন মূল লক্ষ্য। সাউন্ড সিস্টেমের মান কেমন, অনুষ্ঠানটি ঠিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে কিনা, শ্রোতারা কেমন অভিজ্ঞতা পাবে—এসব নিয়ে তেমন ভাবনা দেখা যায় না। একইভাবে, একটু যন্ত্র বাজাতে পারলেই অনেকেই হোম স্টুডিও খুলে বসছে। কিন্তু মানসম্মত প্রোডাকশন, সাউন্ড ডিজাইন বা ভালো রেকর্ডিংয়ের চর্চা খুব কম। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজের মান উন্নত হওয়ার বদলে শুধু সংখ্যাই বাড়ছে। দিন শেষে হকারি ধরনের রেকর্ডিং আর হযবরল অবস্থার বাইরে খুব বেশি কিছু দেখা যায় না।
আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা, জামালপুরের ব্যান্ড মিউজিক আবার সেই আগের দিনগুলোর মতো হোক—যেখানে প্র্যাকটিস, দলগত সমন্বয়, সংগীতের প্রতি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং মানসম্মত পারফরম্যান্সই ছিল প্রধান বিষয়। আমরা আবারও ব্রহ্মপুত্র, লোকজ বা এনজি ব্যান্ডের মতো সুসংগঠিত, পরিশ্রমী ও নিজস্ব পরিচয়সম্পন্ন ব্যান্ড সংস্কৃতি দেখতে চাই।
ব্যান্ডের শক্তি সদস্য বদলে নয়, চর্চা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও ঐক্যে। 🎸🎶