31/01/2022
গল্প:-অরিত্রা...(🖤)
পর্ব:-২
লেখিকা:- মৌ মারিয়া
মিথিলার উত্তরের প্রতিক্ষা শুধু সাজু না মিথিলার মা বোনও অধির অগ্রহে করছে যেহেতূ মিথিলার বাবা নেই তাই তার মা,ভাই-বোন ই তার সব! তাই মিথিলা চিন্তা করলো সে কাল সাজুর সাথে দেখা করে যা বলার সামনা সামনি বলবে!
বাসায় আসতে, আসতে অনেক টা লেট হয়ে গেছে
আম্মুর সাথে কথা বলেই ঘুমতে চলে এসেছি!!
আম্মু যদিও খাবার খাওয়ার জন্য, জোর করছিলো
কিন্তু সারা দিনের ক্লান্তি, আর মাথা ব্যথার জন্য খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছিল না| রুমে এসে ফ্রেস হয়ে বালিসে মাথা রাখতেই, সারাদিনের সকল বিষয় গুলো মাথার ভিতরে ঘুরছে, আর ভাবতে পারছিনা খুব করে কান্না পাচ্ছে!
-কিন্তু আমি কার জন্য কষ্ট পাচ্ছি, সেটা ভেবে আরও খারাপ লাগছে ,
ওই মানুষটার জন্য শুধু শুধু আমার পরিবারের মানুষ গুলোকে কষ্ট দিয়েছি! কিন্তু সে তো ভালোই আছে আর না!
অনেক কষ্ট দিয়েছি আম্মুকে আর আমি কষ্ট দিবোনা আম্মুকে,আমি আর কখনোই ইমন কে নিয়ে ভাববো না, এগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমের দেশে পারি জমাইছি যানিনা!
ফোনের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো,মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি হসপিটালের রিসিপশন থেকে কল আসছে৷
কল পিক করে হেলো বলতেই, অপর পাস থেকে বলল
-মেম ছরি, আপনাকে এতো রাত এ কল দিলাম,
- ছরি বলতে হবে না কি হয়েছে সেটা বলো?
আসলে মেম আপনার কাল যেই সিজার টা করার কথা সেই রুগীর কনডিসন বেশি ভালো না৷
-ওকে আমি আসছি৷
-ফোন কেটে ফ্রেস হতে গেলাম,ফ্রেস হয়ে বের হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখি ,রাত ৩টা-২০ বাজে, ড্রাইভার কে কল দিলাম গাড়ি বের করতে বলবো৷
কিন্তু সে ফোন তুলছে না আরো তিনবার কল দেওয়ার পর যখন ফোন তুললো না৷ আমি কোনো উপায় না দেখে,গেটে গিয়ে দারালাম যদি কোনো রিক্সসা পাই , ২০মিনিট দারিয়ে থেকেও যখন কোনো গাড়ি পেলাম না তখন আমি হাটা শুরু করলাম,
হাটতে হাটতে অনেকটা রাস্তা চলে এসেছি কিন্তু
একটা গাড়ির ও দেখা না মেলায় আমি হতাশ হয়ে ঘুম ঘুম চোখে৷ হাটছি হুট করে একটা গাড়ি এসে সামনে
ব্রেক করলো, চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে ঝাঝালো কন্ঠে বলে উঠলো তুমি কি ফাইজলামু করো?গাড়ির আলোতে ঠিক বুঝতে পারছিনা কে?
ভয়ে আমি চুপসে যরসর হয়ে যেই না হাটতে যাবো ওমনি কেউ আমার হাত ধরে টান দিয়ে বুকের মধ্যে নিয়ে নিলো,
আমি ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করলাম সে আমার কাধে ঝাকি দিয়ে বলল ভয় পেওনা মিথি আমি সাজু,
আমি দূরে সরে এসে তাকে ধমকের সরে বললাম আপনি এখানে তাও এতো রাত এ,
সাজু বললো আজ তো আমার নাইট ডিউটি ছিলো শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম ৷
সামনে দেখলাম একটা মেয়ে ভাবলাম যে এতো রাত এ একটা মেয়ে একা রাস্তায় হয়তো গাড়ি পায়নি সামনে আসতেই দেখলাম তুমি কিন্তু এতো রাত এ তুমি কোথায় যাও৷
তোমার আবার ঘুমের মধ্যে হাঁটার সভাব আছে নাকি?
আমি এবার রাগ দেখিয়ে বললাম মজা করেন?
আমি তো হসপিটাল এ যাচ্ছিলাম৷
তো এতো রাত এ একা কেনো তোমার গাড়ি কথায়?
ড্রাইভার কে কল দিছিলাম ধরেনি আমার জরুরি ভাবে যেতে হবে তাই,
সাজু বললো এই কথা তাহলে দারিয়ে কেন আসো আমি পৌঁছে দি,
না থাক আমি একাই যেতে পারবো,
মিথি এতো রাত এ একা কিভাবে যাবে জেদ করনা আমি দিয়ে আসি,
কি যেন ভেবে আমি রাজি হলাম গাড়িতে বসে ছিট বেল্ট লাগিয়ে ফোন হাতে নিয়ে হসপিটাল এ কল দিয়ে ওটি রেডি করতে বললাম,
সাজু আমার হাতে একটা হাত রেখে বললো মিথি ৪ বছর যাবত ঘূরছি আর কত ঘূরাবে এখন তো রাজি হও ৷
আমি বললাম যা বলার কাল বলবো,
সাজু কিছু বলতে যাবে তখনই আমার কল আসলো
কল ধরে কথা বলতে বলতে আমরা হসপিটালে চলে আসি৷
আমি বের হতে যাব তখনই সাজু কিছুটা অভিমানের সরেই বলল ৪বছরে প্রথম তুমি আমার এতো কাছে ছিলে কিন্তু আমি একটু কথাই বলতে পারলাম না৷
আমি তার অভিমান বুঝে তার কিছুটা কাছে যেয়ে নিচু হয়ে বললাম অভিমান করার কি আছে আমিতো কোথাও চলে যাচ্ছিনা আজ দুপূরে তো দেখা হবেই তখন যত ইচ্ছা কথা বইলেন ,
কথা শেষ করার আগেই সাজু আমার কপালে একটা চুমু দিয়েই গাড়ি টান দিল আমি বড় বড় চোখ করে তাকাতেই আমাকে বলল যা বলার দুপুরে বইলো! আমি কিছুখন চুপ করে দাড়িয়ে থেকে উপরে উঠে এলাম,
ওটিতে ঠুকতেই দেখলাম ওটির ভাহিরে রুগীর বাড়ির লোক ভির করে আছে , আমাকে দেখে সবাই এগিয়ে আসলো আমি তাদের আসত্ত করে ভেতর প্রবেশ করলাম,
রুগী আমাকে দেখে কান্না করতে ছিলো আর আমাকে বলছিলো মেম আপনি আমার বাচ্চা কে বাচাবেন তো আমি বললাম আপনি শান্ত হন আল্লাহ কে ডাকুন সব ঠিক হয়ে যাবে৷
বলে আমি অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে ঢুকে অপারেশন শুরু করলাম প্রায় ১ ঘন্টা পরে মহিলার একটি মেয়ে বেবি হল, আলহামদুলিল্লাহ৷
অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হতেই একটা ছেলে হেটে এসে যানতে চাইলো তার বউ বাচ্ছা কেমন আছে তাদের সাথে কথা শেষ করে আমি বাসায় চলে আসি৷ ফ্রেস হয়ে কফি নিয়ে বারান্দায় বসে কফি টা শেষ করি,
রুমে এসে দেখি বেড এর ওপরে একটা বক্স রাখা পাসে একটা চিরকুট ৷
...........চলবে..............
পাঠক-পাঠিকাদের ওপর নির্ভর করে ৩য় পর্ব পোস্ট করা হবে ৷