MuwahhidaH

MuwahhidaH ইসলামি বই, ম্যাগাজিন ও ক্যাম্পেইন ম্যাটেরিয়ালসের জন্য..

দু'আ | ভালোবাসা | সহযোগিতা
(1)

09/04/2026

বই হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, অথচ পেইজের রিভিউ অপশনে আপনার মুল্যবান রিভিউ দিচ্ছেন না!

আপনাদের মূল্যবান রিভিউ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

পহেলা বৈশাখ : সূচনাকাল, ইতিহাস ও শরয়ি বিধানআমাদের এ বঙ্গদেশে প্রতি বাংলা নববর্ষে ঘটা করে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। হিন্দু-মু...
07/04/2026

পহেলা বৈশাখ : সূচনাকাল, ইতিহাস ও শরয়ি বিধান

আমাদের এ বঙ্গদেশে প্রতি বাংলা নববর্ষে ঘটা করে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। হিন্দু-মুসলিম, দল-মত নির্বিশেষে সবাই-ই এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। অনেকে বলে এটা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, কারও মতে এটা দেশীয় সংস্কৃতি, আর কারও নিকট এটা নিছক রং-তামাশা ও আনন্দ-উৎসব। একধাপ এগিয়ে কোনো কোনো বুদ্ধিজীবি এটাকে ইসলামের দৃষ্টিতেও বৈধ বানানোর অপচেষ্টা করেছে। মোটকথা, প্রত্যেকেই এটাকে স্বীকৃত ও বৈধ উৎসব প্রমাণ করার জন্য যুক্তি পেশ করছে। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এক্ষেত্রে ইসলামের দিক-নির্দেশনা কী, সে কথা ভেবে দেখার লোক নিতান্তই কম। এ বিষয়ে উদাসীনতা আজ আমাদের মুসলিম সমাজের স্বকীয়তার জন্য মারাত্মক এক অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ আমরা এ প্রসঙ্গে এর সূচনাকাল, ইতিহাস ও এর শরয়ি বিধান নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

পহেলা বৈশাখের সূচনা ও ইতিহাস :

আমাদের দেশে ১৪ই এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমানের প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত আরবি হিজরি সনেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। মোঘল শাসনামালে ভারতে হিজরি পঞ্জিকানুসারেই জনগণ থেকে খাজনা-ট্যাক্স উসুল ও অন্যান্য কাজকর্ম পরিচালনা করা হতো। কিন্তু কিছুদিন এভাবে চলার পর খাজনা-কর আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিল। কেননা, হিজরি সন চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল, যা সৌর বৎসরের চেয়ে ১০/১১ দিন কম হয়। আর চাষাবাদ ও এ জাতীয় মৌসুমি অনেক কাজ সৌর বৎসরের সাথে সম্পৃক্ত। এতে করে সৌর বৎসরের হিসাবের সাথে চান্দ্র বৎসরের হিসাবের গড়মিল হওয়ায় যথাসময়ে প্রজাদের ফসলের কর-খাজনা আদায় করা দুষ্কর হয়ে পড়ছিল। তখন ভারতের মোগল সম্রাট আকবরের সিদ্ধান্তে প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্রাট আকবর তার দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতেহুল্লাহ সিরাজিকে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরি মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন, যা এখন বাংলা সন নামে পরিচিত। তবে সম্রাট এ থেকে ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসনে আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকার হিসাব শুরু করার নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরি সাল থেকে বঙ্গাব্দ সালের গণনা শুরু হয়। ইতিপূর্বে বঙ্গে প্রচলিত বর্ষপঞ্চীর প্রথম মাস ছিল শকাব্দ বা শক তথা চৈত্র মাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরি সালের মুহাররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস; এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং পহেলা বৈশাখকে নববর্ষের প্রথম দিন ধরা হয়। তাই বাংলা সন মূলত হিজরি বা খ্রিষ্টাব্দ সনের বিপরীত স্বয়ংসম্পূর্ণ তৃতীয় কেনো সন নয়; বরং এটা হিজরি সনেরই পরিবর্তিত রূপ। হিজরি পঞ্জিকার মতো এ পঞ্জিকার হিসাবও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হিজরতের সময় থেকেই শুরু। সুতরাং ১৪২৬ বঙ্গাব্দ অর্থ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হিজরতের বয়স ১৪২৬ বৎসর। তবে এ ১৪২৬ বৎসরের সবই এক শ্রেণির বৎসর নয়; বরং এর মধ্যে ৯৬২ বছর পর্যন্ত হলো চান্দ্র বৎসর আর পরবর্তী ৪৬৪ বছর সৌর বৎসর। সৌর বৎসর চান্দ্র বৎসরের চেয়ে ১০/১১ দিন বেশি হওয়ায় প্রতি ৩৫/৩৬ বৎসরে সৌর বর্ষের তুলনায় চান্দ্র পঞ্জিকাবর্ষে এক বৎসর বৃদ্ধি পায় বা বলা যায় চান্দ্র বর্ষের তুলনায় সৌর পঞ্জিকাবর্ষে এক বৎসর কমে যায়। এজন্য ১৪৪০ হিজরি সাল মোতাবেক বঙ্গাব্দ ১৪৪০ সাল না হয়ে ১৪২৬ সাল হয়েছে।

মোঘল আমলে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু অনুষ্ঠান করা হতো। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করত এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগণ প্রজাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে কিছু আনন্দ উৎসব করত। এছাড়াও বাংলার সব শ্রেণির ব্যবসায়ী ও দোকানদারগণ পহেলা বৈশাখে হালখাতা করত। প্রথম প্রথম পহেলা বৈশাখ এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর ধীরে ধীরে এতে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন হতে হতে আজকের এ জাকজমকপূর্ণ স্বতন্ত্র উৎসবের রূপ নিয়েছে।

ইসলামে পহেলা বৈশাখ পালনের বিধান :

অনেক কারণেই উলামায়ে কিরাম পহেলা বৈশাখ পালনকে হারাম ও নাজায়িজ বলেছেন। ইসলামে দিবস পালনের বিষয়ে কয়েকটি মূলনীতি জানলেই পহেলা বৈশাখ পালনের অবৈধতা উপলব্ধি করা সহজ হবে। আমরা কুরআন ও হাদিসের আলোকে মূলনীতিগুলো উল্লেখ করছি; এতে পহেলা বৈশাখ পালনের অসারতা ও অবৈধতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।

১ নং মূলনীতি : ইসলামে জাতিগতভাবে উৎসব পালনের জন্য শুধুমাত্র দুটি দিন নির্ধারণ রয়েছে। এক হলো ইদুল ফিতর আর দ্বিতীয়টি হলো ইদুল আজহা।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ
‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই আমি নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। সুতরাং তারা যেন এ ব্যাপারে তোমার সঙ্গে বিতর্ক না করে।’ (সুরা আল-হাজ : ৬৭)

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا: كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ
‘রাসুলুল্লাহ সা. যখন মদিনায় আসলেন তখন তাদের দুটি উৎসবের দিন ছিল। তিনি বললেন, এ দুটি দিনের তাৎপর্য কী? তারা বলল, জাহিলিয়াতের যুগে আমরা এ দুটি দিনে উৎসব পালন করতাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ দিনগুলোর পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তোমাদের উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন⸻কুরবানির ইদ ও রোজার ইদ।’ (সুনানু আবি দাউদ : ১/২৯৫, হা. নং ১১৩৪, প্রকাশনী : আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত)
আল্লামা আবু আব্দির রহমান আজিমাবাদি রহ. এ হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেন :
وَهُمَا يَوْمُ النَّيْرُوزِ وَيَوْمُ الْمِهْرَجَانِ كَذَا قَالَهُ الشُّرَّاحُ. وَفِي الْقَامُوسِ النَّيْرُوزُ أَوَّلُ يَوْمِ السَّنَةِ مُعَرَّبُ نَوْرُوزٍ وَالنَّوْرُوزُ مَشْهُورٌ وَهُوَ أَوَّلُ يَوْمٍ تَتَحَوَّلُ الشَّمْسُ فِيهِ إِلَى بُرْجِ الْحَمَلِ وَهُوَ أَوَّلُ السَّنَةِ الشَّمْسِيَّةِ
‘সে দুটি দিবস হলো, নাইরুজ ও মেহেরজান দিবস। হাদিস ব্যাখ্যাকারগণ এমনই বলেছেন। কামুস অভিধানগ্রন্থে এসেছে, নাইরুজ হলো বছরের প্রথম দিন। শব্দটি ফার্সি ‘নওরোজ’ এর আরবি প্রতিবর্ণায়ন। আর নওরোজ তো প্রসিদ্ধ দিবস, অর্থাৎ যেদিন সূর্য মেষরাশির কক্ষপথে আবর্তিত হয়, তার প্রথম দিন। আর সেটা হলো সৌরবর্ষের প্রথম দিবস।’ (আওনুল মাবুদ : ৩/৩৪১, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে জাতীয়ভাবে দুটি উৎসবই নির্ধারিত। আর কুরআনের ভাষ্যমতে মুসলিমদের জন্য নিজ ধর্মের অনুমোদিত উৎসবই শুধু বৈধ, এর বাইরে অন্য কোনো উৎসব-পার্বন পালনের অনুমতি নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে প্রথমেই যেসব কুসংস্কৃতি বন্ধ করেন, তন্মধ্য হতে অন্যতম ছিল নববর্ষ পালন উৎসব। ইসলামপূর্ব সময়ে মদিনাতেও নববর্ষ পালনের প্রথা চালু ছিল। কিন্তু ইসলাম এসে তা বন্ধ করে তাদের উৎসবের জন্য নতুন দুটি দিবস দান করে। অতএব, বিধর্মীদের উদযাপিত নববর্ষের পরিবর্তে ইসলাম-প্রদত্ত দুটি দিবস পেয়েও যারা সন্তুষ্ট নয়, এখনও যারা নববর্ষ পালন করতে আগ্রহ দেখায় বা পালন করে, তারা মূলত ইসলামের পূর্ণতাকে অস্বীকার করে পূর্বের সে জাহিলিয়াতের দিকেই ফিরে যেতে চায়! এমনটা করা একজন মুসলিমের পক্ষে কী করে সম্ভব, যে দিবসের পরিবর্তে আল্লাহ তাকে উত্তম দিবস দান করলেন, তথাপিও নিষিদ্ধ সে দিবস পালন করার জন্যই সে উদগ্রীব হয়ে থাকে!?

২ নং মূলনীতি : ইসলামে বিধর্মী ও বদদ্বীন লোকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭/৩৬৮, হা. নং ২৯৬৬, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা)

এ হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে, বিজাতীয় ও বদদ্বীন লোকদের অনুষ্ঠান বা মেলায় শরিক হওয়া, এতে সমর্থন দেওয়া নাজায়িজ ও হারাম। অতএব, যারা এসব বিজাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবে, তারাও এ ক্ষেত্রে তাদের শ্রেণিভুক্ত হয়ে যাবে।

৩ নং মূলনীতি : অশ্লীলতাপূর্ণ উৎসব পরিত্যাগ করা মুসলিমদের জন্য একান্ত আবশ্যক। নিজে অশ্লীল কাজ করা বা এর প্রচার কামনা করা জঘন্যতম অপরাধ ও হারাম।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
‘যারা চায় যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার ঘটুক তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নূর: ১৯)

আমাদের কারও অজানা নয় যে, দিনদিন পহেলা বৈশাখে অশ্লীলতা কী পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে! অতএব, পহেলা বৈশাখসহ অশ্লীলতাপূর্ণ সকল কর্মকাণ্ড মুসলিমদের জন্য হারাম। তাতে শরিক হওয়া কিংবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করা সবই নাজায়িজ।

৪ নং মূলনীতি : অপচয় ও অনর্থক কাজ থেকে মুসলমানদের বেঁচে থাকা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন :
{وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
‘আর তোমরা খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আল-আরাফ : ৩১)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :
{ إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
‘নিশ্চয় অপচয়কারীরা হলো শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৭)

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ
‘ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা।’ (সুনানুত তিরমিজি : ৪/১৩৬, হা. নং ২৩১৭, প্রকাশনী : দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত)

পহেলা বৈশাখে কী পরিমাণ অপচয় হয়, তা শুধু এ থেকেই ধারণা পাওয়া যায় যে, সামান্য এক প্লেট পান্তা আর ছোট্ট এক টুকরো ইলিশের দাম রাখা হয় একশ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত! বাকি অন্যান্য অপচয়, অশ্লীলতা ও অনর্থক কাজের হিসাব তো আছেই!

৫ নং মূলনীতি : সংশয়পূর্ণ বিষয় পরিত্যাগ করে সংশয়মুক্ত বিষয় গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে।
হাসান বিন আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
‘যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করবে তা পরিত্যাগ করো, আর যাতে কোনো সন্দেহ নেই সেটাই করো।’ (সুনানুন নাসায়ি : ৮/৩২৭, হা. নং ৫৭১১, প্রকাশনী : মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব)

সুতরাং কোনো বিষয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থাকলে তা যদি আবশ্যকীয় জাতীয় কাজ না হয়ে থাকে তাহলে একজন মুমিনের কর্তব্য হলো তা পরিত্যাগ করা। কেননা, কাজটি বৈধ হলেও তা না করার কারণে তার কোনো গুনাহ হবে না, কিন্তু তা অবৈধ হয়ে থাকলে এতে জড়িত হওয়ার দরুন সে গুনাহগার হয়ে পড়বে, যা কখনো একজন সাচ্চা মুমিনের কামনা হতে পারে না। তাই শরিয়তের অপব্যাখ্যা করে কেউ পহেলা বৈশাখ পালন জায়িজ হওয়ার কথা বললেও এ পঞ্চম মূলনীতির আলোকে তার কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।

সারকথা:

এ পাঁচটি মূলনীতিকে সামনে রেখে বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কারভাবে বুঝে আসে যে, বর্তমানের প্রচলিত পহেলা বৈশাখ পালন করা, এতে শরিক হওয়া ও এর সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িজ। কেননা, আমাদের মুসলিমদের জন্য কুরআন-সুন্নাহর বাইরে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই। আর কুরআন-সুন্নাহ আমাদের উৎসবের জন্য নির্ধারিত দুটি দিন রেখে অন্য সব জাতীয় উৎসবকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। দ্বিতীয়ত, পহেলা বৈশাখের সূচনার সাথে বিধর্মীয় কোনো উৎসব জড়িত না থাকলেও কালের পরিক্রমায় তা এখন সম্পূর্ণরূপে বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচারের মৃগোয়া ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাস্তবতাকে আজ কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আর যদি এটাকে বিজাতীয় উৎসব নাও মানা হয় তথাপি এটা যে বদদ্বীন ও ফাসিকদের আনন্দ-উৎসব, এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। সর্বাবস্থায়ই এতে বিজাতীয় ও বদদ্বীন লোকদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন হয়, যা হাদিসের ভাষ্যনুসারে নিন্দনীয় ও নাজায়িজ। তৃতীয়ত, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইদানীং যে পরিমাণ অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা দেখা যাচ্ছে, তা শুধু ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়; বরং সুস্থ রুচিশীল ও বিবেকসম্পন্ন যে কোনো লোকের জন্যই তা চরম বিব্রতকর এক পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অশ্লীলতাপূর্ণ একটি উৎসবকে সামান্য ইসলামের জ্ঞান রাখে, এমন কেউ-ই বৈধ বলার মতো দুঃসাহস দেখাবে না। চতুর্থত, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পান্তা-ইলিশ, নবান্ন উৎসব, রং-বেরঙয়ের সাজ, নাচগান, হৈ-হুল্লোড়⸺এসবই অপচয় ও চরম অনর্থক পর্যায়ের কাজ, যা নাজায়িজ হওয়ার পাশাপাশি একজন মুসলিম হিসেবে মারাত্মক লজ্জাজনক একটি বিষয়ও বটে। পঞ্চমত, যদি কারও ভুল ব্যাখ্যায় এটাকে বৈধ মনে করার সামান্য অবকাশ আছে বলেও কারও মনে হয় তথাপিও হাদিসের ভাষ্যনুসারে তার জন্য এতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। কেননা, সংশয়পূর্ণ কাজে জড়িত হওয়া কোনো মুমিনের পক্ষে কখনো শোভা পায় না। এটা বরং সুযোগসন্ধানীদের বৈশিষ্ট্য, যা মানুষকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

এছাড়াও এর সাথে আরও অনেক শিরক ও ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস জড়িত রয়েছে, যা একজন মুমিনের ইমানকে মুহুর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে। যেমন মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা, নববর্ষের প্রথম প্রহরে সূর্যকে স্বাগত জানানো, রবি ঠাকুর-রচিত শিরকমিশ্রিত বৈশাখী গান গাওয়া, এদিনের বিশেষ কাজকে মঙ্গলজনক বা অমঙ্গলজনক মনে করা⸺এ জাতীয় অসংখ্য ইমানবিধ্বংসী আকিদা-বিশ্বাস এ পহেলা বৈশাখের সাথে জড়িত। তাই সার্বিক বিবেচনায় এতে অংশগ্রহণ করা, সমর্থন করা ও প্রচার করা পরিষ্কার হারাম ও নাজায়িজ এবং ক্ষেত্র বিশেষে আকিদাগত কারণে তা শিরকের পর্যায়েও চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মুসলিমদের জন্য বিজাতীয় এ উৎসবকে সর্বাত্মকভাবে বর্জন করে জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নির্দেশিত পথে চলে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন।

-

লেখা: মুফতি তারেকুজ্জামান হাফিজাহুল্লাহ

MuwahhidaH
দু'আ | ভালোবাসা | সহযোগিতা

আগে বুনিয়াদ, তারপর ইনকিলাব।আরব বসন্ত থেকে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান — ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে মজবুত আদর্শিক ভিত্তি ছা...
07/04/2026

আগে বুনিয়াদ, তারপর ইনকিলাব।

আরব বসন্ত থেকে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান — ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে মজবুত আদর্শিক ভিত্তি ছাড়া স্রেফ রাজপথের জনবিস্ফোরণ টেকসই হয় না। সমাজ ও শাসনের গোড়ায় যদি পরিবর্তন না আসে, তবে পুরোনো ব্যবস্থাই ফিরে আসে নতুন রঙে। কেবল শাসক বা সংবিধান বদলানোর কসমেটিক সংস্কার ভেতরের পচনকে আড়াল করতে পারে, কিন্তু সারাতে পারে না।

কাজেই, আমরা যদি সত্যিই বড় কোনো পরিবর্তন চাই, তবে সবার আগে তৈরি করতে হবে বুনিয়াদ। সব নিযাম গুড়িয়ে দিয়ে ইলাহী নিযাম কায়েম করার ইনকিলাবকে দাঁড়াতে হবে তাওহীদের মজবুত ভিত্তির ওপর। এভাবেই ইসলামের দাওয়াহ শুরু হয়েছিল। যুগে যুগে দ্বীনের পুনর্জাগরণের আন্দোলনগুলোও ঠিক এই পথেই হেঁটেছে।

#মুসলিমবঙ্গ

যুগসন্ধিক্ষণের দায় মেটাতে হলে আমাদের প্রয়োজন অন্তত একটা সমাজবিপ্লব, যার বুনিয়াদ হবে দ্বীনের সামগ্রিক পুনর্জাগরণ। যেখানে ...
05/04/2026

যুগসন্ধিক্ষণের দায় মেটাতে হলে আমাদের প্রয়োজন অন্তত একটা সমাজবিপ্লব, যার বুনিয়াদ হবে দ্বীনের সামগ্রিক পুনর্জাগরণ। যেখানে কেবল রাষ্ট্র আর শাসনব্যবস্থা বদলাবে না; বরং আইন, সমাজ কাঠামো, মূল্যবোধ আর জীবনব্যবস্থায়ও আসবে আমূল রুপান্তর।

#মুসলিমবঙ্গ

MuwahhidaH
দু'আ | ভালোবাসা | সহযোগিতা

অল্প সংখ্যক কপি স্টকে আছে। আপনার কপিটি সংগ্রহের জন্য ইনবক্স করুন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
05/04/2026

অল্প সংখ্যক কপি স্টকে আছে।

আপনার কপিটি সংগ্রহের জন্য ইনবক্স করুন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

আগামীর পৃথিবী কেমন হবে, তা নিয়ে গত শতাব্দীতে অনেক জল্পনাকল্পনা হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের কল্পনার ভবিষ্যত ছিল স্বপ্নের মতো...
03/04/2026

আগামীর পৃথিবী কেমন হবে, তা নিয়ে গত শতাব্দীতে অনেক জল্পনাকল্পনা হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষের কল্পনার ভবিষ্যত ছিল স্বপ্নের মতো। তবে কারও কারও ভাবনার জগতে ভবিষ্যত হাজির হয়েছিল দুঃস্বপ্নের চেহারা নিয়ে।
ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’-এ এমন পৃথিবীর ছবি এঁকেছিলেন, যেখানে রাষ্ট্র এক সর্বগ্রাসী দানব। নাগরিকদের ওপর সে প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি করে, তাদের ছোট-বড় প্রত্যেক সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করে। এক অমানবিক কাঠামোর মধ্যে পিষে ফেলে সবাইকে।
বিপরীতে আরেক ধরনের দুঃস্বপ্নের ভবিষ্যত কল্পনা করেছিলেন অ্যালডাস হাক্সলি। অরওয়েলের পৃথিবী ছিল নজরদারি, কঠোর নিয়মকানুন আর ভয়ের।
হাক্সলি তার বই ‘ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড’-এ এমন এক পৃথিবীর ছবি আঁকলেন, যা আনন্দে ভরপুর। যেখানে শিশুদের জন্ম হয় ল্যাবরেটরিতে, বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী তাদের ভাগ করা হয় নানা শ্রেণিতে। তারপর সেই মানুষের সময় কাটে মদ, মাংস আর বিনোদনের আরামদায়ক আলস্যে। জীবন কেটে যায় নিরন্তর, নিয়মিত আনন্দের চক্রে। এখানে মানুষ দাসত্বকে বরণ করে নেয় হাসতে হাসতে, স্বেচ্ছায়।
আজকের বিশ্বকে এই দুই দুঃস্বপ্নের অদ্ভুত মিশ্রণ বলা যায়। যেখানে পাল্লাটা হাক্সলির ‘ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড’-এর দিকে হেলে আছে। আধুনিক মানুষ আরাম, আনন্দ, আর হাজারো বিনোদনে এমনভাবে অবশ হয়ে গেছে, জীবন তার আসল অর্থই হারিয়ে ফেলেছে।
তবে কোভিডের সময় আমরা খুব ভালোভাবে দেখেছি, ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড-এর আরামের দুনিয়াটা কত সহজে ১৯৮৪-এর পৃথিবীতে পাল্টে যেতে পারে। এক মুহূর্তেই আরামের খাঁচাটা পরিণত হতে পারে নিরেট লোহার খাঁচায়; যেখানে আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপ, প্রতিটা নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রিত।
কেউ বলতে পারে, বৈশ্বিক পুঁজিবাদের কারণে কোটি কোটি মানুষের জীবন আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। পৃথিবীতে এখন কোটি কোটি মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, ইন্টারনেট আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের পাশাপাশি বিনোদনও এখন মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। এগুলো তো উন্নতিই।
সত্য। তবে এটা মুদ্রার এক পিঠ। অন্য পিঠে কী?
সপ্তাহে ৬ দিন, দিনে ১০ ঘণ্টা কেবল বেঁচে থাকার জন্য জীবিকার পেছনে দৌড়ানো। বছরের পর বছর, নিরন্তর—এটা কি স্বাধীনতা? নাকি বেতনভুক্ত দাসের জীবন?
যে জীবনে মানুষ ক্রমাগত কোনো-না-কোনো অতিকায় কর্পোরেশন বা রাষ্ট্রের জন্য খেটে যায়। বিনিময়ে পায় কাজের বাইরের অল্প সময়টুকুতে সুলভ মূল্যে নাচ, গান, সিনেমা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, পর্ন, ড্রাগস, খাওয়াদাওয়া আর ভ্রমণের নিশ্চয়তা।
আর এসবের পেছনে যে টাকাটা সে খরচ করে, সেটাও ঘুরেফিরে গিয়ে জমা হয় কোনো-না-কোনো কর্পোরেশন আর রাষ্ট্রের ভান্ডারে। অল্প কিছু মানুষের হাতে।
এ কেমন স্বাধীনতা?
পুরোনো দিনের দাসত্বে মানুষ জানত যে, তারা পরাধীন, তাদের পায়ে শেকল ছিল। তাই তারা বিদ্রোহ করত। কিন্তু ভোগবাদের এই নতুন দাসত্বে, মানুষ স্বেচ্ছায়, হাসিমুখে দাসত্বের শেকল পরে নেয়। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, আরও বেশি জিনিস কিনলেই তারা সুখী হবে। তারা নিজেদেরকে দাস হিসেবেও দেখে না। আর যেহেতু তারা নিজেরাই এই ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছে, তাই এর বিরুদ্ধে তারা কখনো বিদ্রোহও করে না।
~মুসলিমবঙ্গ
যুগসন্ধির দায়

আমাদেরকে অবশ্যই নিজ কওমের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।
03/04/2026

আমাদেরকে অবশ্যই নিজ কওমের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

কম্প্রেডর ক্লাস বা দালাল শ্রেণি। #মুসলিমবঙ্গ
02/04/2026

কম্প্রেডর ক্লাস বা দালাল শ্রেণি।

#মুসলিমবঙ্গ

রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বা ক্ষমতার অপরিহার্যতা, কেবল ইতিহাস বা সমাজতত্ত্বের উপসংহার না, আল-কুরআনের আসমানি নির্দেশনাও ঠিক একই ক...
01/04/2026

রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বা ক্ষমতার অপরিহার্যতা, কেবল ইতিহাস বা সমাজতত্ত্বের উপসংহার না, আল-কুরআনের আসমানি নির্দেশনাও ঠিক একই কথা বলে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হাদীদে এক চিরন্তন মূলনীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়ের মানদণ্ড, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি আরও নাযিল করেছি লোহা, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু কল্যাণ। এটা এ জন্যে যে, আল্লাহ প্রকাশ করে দেন কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।” [সূরা আল-হাদীদ, ৫৭:২৫]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন,
وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا
“আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার রবই যথেষ্ট।” [সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৩১]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
‘দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় পথপ্রদর্শনকারী কিতাব (যা হিদায়াত দেয়) এবং সাহায্যকারী তলোয়ারের মাধ্যমে।’
সূরা হাদীদের উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন,
‘যে কিতাব থেকে বিচ্যুত হয়, তাকে সোজা করা হয় লোহা (শক্তি) দিয়ে; এভাবেই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসহাফ’ (কুরআন) এবং তলোয়ারের সমন্বয়ে।’
অর্থাৎ, দ্বীন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হলো দুই স্তম্ভের সমন্বয়:
কিতাব; যা পথ দেখায়, যা ফুরকান বা চিরন্তন মাপকাঠি। কিতাব মানুষকে দুনিয়ার বাস্তবতা এবং আখিরাতের সত্যের সাথে জুড়ে দিয়ে তাকে সরল পথে নিয়ে যায়।
সাহায্যকারী লোহা; যা সেই পথকে রক্ষা করে ও বিজয়ী করে। কারণ শুধু সঠিক পথ জানাই যথেষ্ট না; সেই পথে চলার ও পথের বাঁধা দূর করার শক্তিও থাকতে হয়।
শাসনকর্তৃত্ব বা তলোয়ার ছাড়া কুরআনের নির্দেশনা পুরোপুরি পালন করা সম্ভব না। আর কিতাব ছাড়া তলোয়ার পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদিনা উসমান ইবনু আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন:
‘আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে যা প্রতিরোধ করেন না, তা ‘সুলতান’ বা শাসনকর্তৃত্বের মাধ্যমে প্রতিরোধ করেন।’
শুধু মানুষকে সত্যের দিকে ডেকে হক প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাওহীদের অনুসারীদের রক্ষা করা যায় না, আদল ও ইনসাফ কায়েম করা যায় না। রক্ষা করা যায় না স্রষ্টা ও সৃষ্টির অধিকার। প্রয়োজন হয় তাওহীদের পাশাপাশি হাদীদ, দাওয়াহর পাশাপাশি শাসনকর্তৃত্ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পথই আমাদের দেখিয়ে গেছেন। তাই ইসলাম এবং যৌক্তিক বিবেচনা, দু দিক থেকেই শাসনকর্তৃত্ব অর্জন করা আবশ্যক।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর আস-সিয়াসা আশ-শারইয়্যাহ গ্রন্থে লিখেছেন:
‘এটা জানা আবশ্যক, মানুষের ওপর কর্তৃত্ব বা শাসন পরিচালনা করা দ্বীনের অন্যতম মহান দায়িত্ব (ওয়াজিবাত); বস্তুত, এটি ছাড়া দ্বীন বা দুনিয়া; কোনোটিই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’
যদি যুগসন্ধির দায় মেটাতে হয়, যদি গেরুয়া আগ্রাসন রুখে দিতে হয়, যদি জুলুমের চক্র ভাঙতে হয় এবং বিশ্ব দরবারে হাজির হতে হয় স্বতন্ত্র সভ্যতা হিসেবে, তবে কেবল সরকার অথবা সংবিধান বদলালে হবে না। সমাজ কিংবা রাষ্ট্র সংস্কার করে লাভ হবে না।
কিতাবের হিদায়াত এবং লোহার নুসরাত; এই দুইয়ের সমন্বয়ে তাওহীদের ওপর গড়ে তুলতে হবে আযাদ ও শক্তিশালী এক শাসনব্যবস্থা। নষ্ট হয়ে যাওয়া দালান ভেঙে, পুরোনো ভিতকে উপড়ে, ইসলামের আদর্শে গড়তে হবে নতুন ইমারত।
আমাদের মুসলিমবঙ্গ হয়ে উঠতে হবে।
অধ্যায়: যুগসন্ধির দায়
বই: মুসলিমবঙ্গ
MuwahhidaH
দু'আ | ভালোবাসা | সহযোহিতা

Summary:— যুগসন্ধির দায়১. লেখক বিস্তারিত বর্ণনা করেন, সাম্রাজ্য পরিবর্তনের সময়ে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।২. তিনি বলেন,...
01/04/2026

Summary:

— যুগসন্ধির দায়

১. লেখক বিস্তারিত বর্ণনা করেন, সাম্রাজ্য পরিবর্তনের সময়ে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

২. তিনি বলেন, বাংলার মুসলিমদের প্রকল্প সাম্রাজ্যবাদীদের গোলাম হয়ে না থেকে এই যমীন ও কওমের জন্য কাজ করা।

৩. এই সংকটপূর্ণ অবস্থায় সভ্যতাগত ভিত্তি ও জাতীয় জীবনকে নতুন করে গড়া।

৪. তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবর্তনের মুল কেন্দ্র অন্য কোন অঞ্চল হলেও সেই মহাবিপ্লবের প্রক্রিয়ায় শামিল হতে হলে, আগে নিজেদের ঘর গোছাতে হবে। যমীনের লোকদের অবশ্যই নিজ কওমের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

— খাঁচা

১. ইসলামবিদ্বেষ, সেক্যুলার মতবাদসমূহ, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ – এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

২. দীর্ঘ টিকে থাকার তাগিদে জন্ম নিয়েছে কিছু কর্ম্পদ্ধতি ও মনস্তত্ব যাকে লেখক তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

i. একীভূত হওয়া – বিদ্যমান কাঠামোকে অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়ে, তার সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। (compromise)
ii. বিচ্ছিন্নতা – জাহেলী সমাজ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিজের একটা বলয় বানিয়ে নেওয়াই হয়তো টিকে থাকার শ্রেষ্ঠ উপায়।
iii. নিষ্ক্রিয় প্রত্যাখ্যান – কেউ সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন, কেউ প্রথম সুযোগে দেশান্তরী হওয়ার কথা ভাবেন, যারা কোনো এক ‘ঘটনা’র অপেক্ষায় দিন গোনেন; যেদিন সব কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে আর তারা হঠাত করে ‘কিছু একটা’ করার সুযোগ পাবেন।

লেখক এই তিন অবস্থানের ব্যাপারেই প্রশ্ন করেছেন এবং টিকে থাকার ও বিজয়ের বিকল্প পথ খোঁজার কথা বলেছেন।

— বুনিয়াদ (foundation)

১. লেখক মনে করেন এই যমীনের মুসলিমদের প্রয়োজন বৈপ্লবিক রূপান্তর, আর তার জন্য দ্বীনের পুনর্জাগরণ অপরিহার্য। (অর্থাৎ, তাজদীদ ও নববী দাওয়াহ)

২. নববী দাওয়াহর বৈশিষ্ট্য ও এর আলোকে কিভাবে সমাজ পরিবর্তন করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৩. তাওহীদ যদি কেন্দ্র হয়, ইসলাম ও জাহিলিয়াতের চিরন্তন দ্বন্দ্ব যদি ঠিক করে দেয় গন্তব্য, তবে আল ওয়ালা ওয়াল বারা হলো ইসলামী পুনর্জাগরণের নিখুঁত কম্পাস।

৪. ইসলামের পুনর্জাগরণের এই প্রকল্পে যারা শামিল হতে চান, বিশেষ করে শুরুর সময়টাতে, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাদের মধ্যে অবশ্যই কিছু গুণ থাকতে হবে বলে বিভিন্ন উদ্ধৃতির আলোকে লিখেছেন তিনি। নিয়্যাতের বিশুদ্ধতা, ইখলাস, কুরবানি, ইহসান এবং মহান আল্লাহর সাথে বান্দার মজবুত সম্পর্ক ছাড়া – এ পথে টিকে থাকা কঠিন।

৫. নববী দাওয়াহর এই বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজ পরিবর্তনের ইলাহী সূত্র যা বাস্তবে যথাযথভাবে প্রয়োগ হলে হক ও বাতিলের মধ্যে একটা সুস্পষ্ট বিভাজন দেখা দেয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনটা বিষয় ঘটতে থাকে।

i. মেরুকরণ: সমাজে হক ও বাতিলের পক্ষ স্পষ্ট হয়ে যায়।
ii. মনোজগতে বিপ্লব: মানুষের চিন্তাজগতে মৌলিক পরিবর্তন।
iii. সামাজিক শক্তি: হকের পক্ষে একটা দৃশ্যমান শক্তি গড়ে ওঠে।

— অগ্রপশ্চাৎ

১. লেখক এ পর্যায়ে বাংলার ফরায়েযী আন্দোলনের একদম বিস্তারিত আলাপ করেছেন। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের কাঠামোগত ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

২. তিনি ফরায়েজীদের কৌশলগত একটি অবস্থানের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন – যে তারা কেন সশস্ত্র পথে এগোলেন না? এ নিয়ে কোনো উপযুক্ত সূত্র থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও ইঙ্গিত বোঝা যায় বলে উল্লেখ করেছেন।

মূলত দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধের অনুপুযুক্ত, ব্রিটিশদের তুলনায় সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল ও বাংলার মুসলিম সমাজে ঈমান, আমল ও আক্বীদাহর অবস্থান ছিল শোচনীয় – এগুলোকেই তিনি হাজী শরিয়াতুল্লাহ রহ.-এর সামাজিক আন্দোলন করার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বাস্তবতার আলোকে উপসংহার টেনেছেন – (ক) প্রথমে দাওয়াহর মাধ্যমে মুসলিম সমাজের সংস্কার ও দ্বীনের পুনর্জাগরণ। (খ) সামাজিক শক্তি অর্জন এবং গণশক্তি নির্মাণ করে জুলুমের প্রতিরোধ। (গ) তারপর সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র বানিয়ে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।

৩. পরিবর্তন ও তাজদীদের ইতিহাস থেকে তিনি দুটো ধাপ উল্লেখ করেছেন – প্রথমে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি। তারপর সংঘাত, প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ। তিনি আরও বলেছেন, উপযুক্ত সময়ের আগে ইনকিলাবি স্তরে ঢুকলে বিপ্লবী আন্দোলন প্রচণ্ড বাধা, দমন এবং নির্যাতনের মুখোমুখি হবে। এবং এই একমুখী রাস্তায় হয় বিজয় আসবে অথবা বিলুপ্তি। অন্যদিকে খুব বেশি দেরি হলে বিপ্লবের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

৪. বাংলাদেশকে মুসলিমবঙ্গ হয়ে উঠতে হলে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করার তাজদীদী দাওয়াহর কোনো বিকল্প নেই বলে লেখক আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ হলো কালচারাল সেক্যু দিল্লির এলিট ও পোস্ট-কলোনিয়াল সেক্যুলার রাষ্ট্র। সাথে সূক্ষ্ম ফিকহি ব্যাপারে তর্ক বর্তমানে আত্মঘাতী ও কওমের প্রকল্প হিসেবে একক ব্যক্তি/সংগঠনের বদলে একে সামগ্রিক রূপ নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন।

— জিজ্ঞাসা

১. গণআন্দোলনের রাজনীতির ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে এই পদ্ধতি সহিংস বা অহিংস কিংবা এ দুইয়ের মিশ্রণ হতে পারে। তবে এর মূল শক্তি লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যে।

২. তিনি গণতন্ত্র ও এই ধারার বিপ্লবীদের সিস্টেমে জড়িত হওয়ার ব্যাপারে দীর্ঘ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

— দিকদর্শন

১. লেখক এ পর্যায়ে বিপ্লবের ধরণ, কিতাবী ও বাস্তব ব্যাখ্যা, ইসলামী ইনকিলাব সম্পর্কে আধুনিক মুসলিম চিন্তকদের চিন্তা ও তাদের কমতিগুলো উল্লেখ করেছেন।

২. গত আড়াইশ বছরের ইতিহাসের আলোকে বৈপ্লবিক রূপান্তরের তিনটি পথ এসেছে বলে বর্ণনা করেন তিনি।

i. বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ: বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া পরিবর্তন।
ii. দীর্ঘমেয়াদি সশস্ত্র সংগ্রাম: গৃহযুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ইত্যাদি।
iii. গণঅভ্যুত্থান: নিরস্ত্র অথবা সশস্ত্র।

পরবর্তীতে তিনি হাইব্রিড মডেল, অর্থাৎ যুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের মিশ্রণের উদাহরণসহ বর্ণনা দিয়েছেন।

৩. বিপ্লবের পদ্ধতি, পরিবেশ ও প্রতিস্থাপন নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিজের যমীনেই অবধারিত সংঘাতের কথা স্বীকার করে পুরোনোকে নতুন দিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করতে না পারলে বিল্পব ব্যর্থ হয় বলে উল্লেখ করেছেন। সামরিক ক্যু দ্বারা এই বিপ্লব সম্ভব না বলেও উল্লেখ করেছেন।

৪. লেখক ইসলামী ইনকিলাবের জন্য বর্তমান করণীয় হিসেবে বলেছেন – নববী দাওয়াহর অনুকরণে ইনকিলাবের বুনিয়াদ গড়া। সামাজিক শক্তি অর্জন ও সামাজিক আন্দোলন নির্মাণ করা।

৫. সবশেষে, (ক) প্রতিপক্ষে কি করবে? (খ) কাল পরিস্থিতি কেমন হবে? – এই দুই প্রশ্নের উত্তরে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বলেছেন – জমি চাষ করা। তিনি পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি দাঁড় করিয়ে এই যমীনে ইসলামের ফাউন্ডেশন/বুনিয়াদ থাকলে এবং না থাকলে কেমন পরিণাম প্রত্যাশাযোগ্য তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এক লাইনের সামারি: লেখক এই যমীনের কওমের মধ্যে তাজদীদ করতে বলেছেন এবং সংঘাতের সম্ভাবনা স্বীকার করেছেন।

নিজস্ব কিছু চিন্তা: কিছু ভাই সম্ভবত খাস নিয়তেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিন্তা করছেন। লেখক বিভিন্ন বিপ্লব, চেষ্টা ও কৌশলগুলোকে সাজিয়ে দেখাতে চেয়েছেন কিভাবে পরিপূর্ণ রূপান্তর ঘটে। এবং সে আলোচনায় যাওয়ার আগে তিনি দুটো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বলেছেন।

প্রথমত, এ আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ নিয়ে না, পদ্ধতি নিয়ে।
দ্বিতীয়ত, এটা কোনো শারঈ বা ফিকহি আলচনা না, বরং ইতিহাসের পাতা থেকে প্যাটার্ন বা ছক খুঁজে বের করার নির্মোহ চেষ্টা।

সুতরাং, এটা নিয়ে হয়তো এত বাড়াবড়ির কিছু নেই যেই পর্যায়ে গেলে আল ওয়াল ওয়াল বারা ভঙ্গ হয়। এবং এই লেখায় বইয়ের গঠনমূলক সমালোচনা কিংবা তারিফ – কোনোটা করতেই আমি ইচ্ছুক না। তবে তাজদীদের ব্যাপারে কারোই সন্দেহ থাকার কথা না। আল্লাহ এই যমীনের কওমকে কবুল করুন। লেখকের চিন্তা ও সময়ে বারাকাহ দান করুন। আমাদেরকে প্রক্রিয়ায় শামিল করুন।

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরে তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ‘ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, আর এরপর যারা কুফরী করবে তারাই ফাসিক।” [সূরাহ আন-নূর | ২৪:৫৫]

সমস্ত প্রশংসা সকল অবস্থায় শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলার। সালাত ও সালাম তাঁর হাবীব রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর।

-

লেখা: ওমর ফারদিন খান

01/04/2026

'মুসলিমবঙ্গ' ও 'চিন্তাপরাধ' বই দু'টো একত্রে অর্ডার করলে সুন্দরবন কুরিয়ার ডেলিভারি চার্জ মাত্র ৩০৳!

সাথ ৫ টা স্পেশাল বুকমার্কও হাদিয়া থাকবে!

প্যাকেজিং চলছে..অর্ডার ডিটেইলস কমেন্ট বাক্সে দেওয়া হলো।
01/04/2026

প্যাকেজিং চলছে..

অর্ডার ডিটেইলস কমেন্ট বাক্সে দেওয়া হলো।

Address

0100 Shahid Abul Kashem Road, Thanapara
Kushtia
7000

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:30
Tuesday 09:00 - 22:30
Wednesday 09:00 - 22:30
Thursday 09:00 - 22:30
Friday 08:30 - 11:45
14:30 - 23:00
Saturday 09:00 - 22:30
Sunday 09:00 - 22:30

Telephone

+8801304212226

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MuwahhidaH posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to MuwahhidaH:

Share