26/07/2025
সাপ নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য !
● অনেকেই ভাবে বীন বাজালে সাপ নাচে, কিন্তু আসলে সাপের কান নেই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়। তারা মাটির কম্পন অনুভব করে। তাই শব্দ করে হাঁটলে সাপ পালিয়ে যায়।
● সিনেমায় দেখা যায় সাপ দুধ খায়, কিন্তু বাস্তবে সাপ দুধ খায় নাহ। তারা ব্যাঙ, পোকামাকড় খায়।
● বেলি, হাস্নাহেনা, গন্ধরাজ ফুলের গন্ধে সাপ আসে নাহ। বরং পোকা আসে, যেটা খেতে ব্যাঙ আসে আর ব্যাঙ খেতে মাঝে মাঝে সাপ আসে।
● কেউ কেউ ভাবে সাপ প্রতিশোধ নেয়, কিন্তু সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল। তারা কোনো প্রতিশোধ নেয় নাহ। একটি সাপকে মারার পরে একই জায়গায় আরেকটি সাপ দেখা গেলে, সেটা হয়তো তার সঙ্গী বা সন্তান হতে পারে, কিন্তু প্রতিশোধ নিতে আসেনি।
● ছোট সাপে বিষ নেই, এটাও ভুল। সাপের বাচ্চাও বিষাক্ত হতে পারে।
● "সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়”, “উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত যায়”, “শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়ায় নাহ” - এসব ভুল ধারণা। বরং এতে অবস্থা আরও খারাপ হয়।
◾ বাংলাদেশে ৮০ প্রজাতির সাপ আছে। মাত্র ২৭টি বিষাক্ত। অধিকাংশই সামুদ্রিক। স্থলভাগে মাত্র ৫-৬টি। যেমন: গোখরা, কালকেউটে, চন্দ্রবোড়া, শঙ্খচূড় ইত্যাদি।
◾ সাপ সাধারণত আক্রমণ করে নাহ, যদি নাহ সে হঠাৎ মানুষের সংস্পর্শে আসে বা ভয় পায়।
সাপ কখন দংশন করে?
● মুখোমুখি হলে, পালাতে নাহ পারলে ভয় পেয়ে কামড় দেয়।
● বর্ষায় গর্তে পানি উঠে গেলে। তখন শুকনো জায়গায় আসে ক্ষেতের আইল, রাস্তা, তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনা, কাঠের স্তূপে।
● অন্ধকারে তার শরীরে পা পড়লে।
● ইঁদুরের গর্তে পা রাখলে বা সেখানে বসলে।
সাপে কাটলে কীভাবে বুঝবেন?
● সরাসরি সাপ দেখলে।
● বিষদাঁতের চিহ্ন থাকলে।
● নিউরোটক্সিন হলে ঝিমঝিম, ঝাঁপসা দেখা, চোখ বন্ধ হয়ে আসা, জিহ্বা-শ্বাসনালী ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি ইত্যাদি।
● চন্দ্রবোড়া হলে রক্তবমি, ক্ষতস্থানে রক্তপাত, ফুলে যাওয়া, ফোস্কা, কালচে হওয়া।
● কিছু সাপে হার্ট অ্যাটাক হয়। নির্বিষ সাপের কামড়েও মানুষ মারা যায় ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাকে।
চিকিৎসাঃ
● ঘাবড়াবেন নাহ।
● দংশনের স্থান ধুয়ে ফেলুন।
● নাড়াচাড়া করবেন নাহ।
● ব্লেড, অ্যাসিড, মরিচ, তেল, তাবিজ কিছু ব্যবহার করবেন নাহ।
● সাপ চিনলে ডাক্তারকে জানান। ওঝার কাছে যাবেন নাহ।
● এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট নাহ করে সরকারি হাসপাতালে যান।
◾ রাসেল ভাইপার বাদে সব বিষধর সাপের অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশে আছে।
সতর্কতাঃ
● খড়, লাকড়ি, বালিশ, তোশক, আলনা সব আগে শব্দ করে নিন।
● বাড়ির পাশে ঝোপঝাড় কেটে ফেলুন।
● ইঁদুরের গর্ত ভরাট করুন।
● কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায় নাহ। সাপের ঘ্রাণশক্তি দুর্বল। টোটকা ভুলে যান।
● সাপ নিরীহ প্রাণী। মেরে ফেলবেন নাহ। স্ন্যাক রেসকিউয়ারকে জানান। ওঝারা সাপ মেরে তেল বানায় যা বিভ্রান্তিকর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
● গ্রামের মানুষদের জানিয়ে দিন।
● সতর্ক থাকুন। ভয় পাবেন নাহ, অবহেলা করবেন নাহ।