11/06/2026
মেজাজটা এমন গরম লাগে যখন শুনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। যেন কী এক বিরাট রহস্য! কারণটাই নাকি কেউ বুঝে না!
শালার একটা মেয়ের বাচ্চা আসছে পেটে, সেটা ভ্রূণ থেকে পূর্ণাঙ্গ একটা মানুষ নিজের শরীরের ভিতর বানাইয়া জন্ম দিল। তার কি কোনও দরকার নাই সুস্থ হওয়ার? এইটা কি চারটা কথা?
সারা রাত জাগল, দুধ খাওয়াইল ৩ ঘণ্টা পর পর। আর ছুটনামারী জামাই বলে কান্দন শুনেই না। শুনলেও পাশের ঘরে গিয়া ঘুমায়, তার নাকি কাজ আছে। আরে নমরুদ! তোর তো কলিগ আছে, ছুটি আছে, দুপুরে চেয়ারে বসার সুযোগ আছে। খানা খাওনের ব্রেক আছে। আর তোর বউ? বাচ্চা ধরার কেউ নাই, ঘুম নাই, খাওয়া নাই, ঠিকমতো টয়লেটে যাওয়ার সময় নাই।
শুন, তোদের বাচ্চা হওয়া লাগবে না বুঝার জন্য। যেকোনো একটা মানুষকে ধর। কয়দিন ঠিকমতো খাইতে দিবি না, ঘুমাইতে দিবি না, কানের কাছে সারাক্ষণ চিল্লাচিল্লি করবি, এক মিনিট শান্তি দিবি না। তারপর দেখবি তার অবস্থা কী হয়। তখন আবার কইস না “মাথার সমস্যা”, “পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন”। ওরে আগে ঘুমাইতে দে, খাইতে দে, একটু মানুষ মতো বাঁচতে দে।
আর জামাই একটা বালের নাম। না না, সব জামাই না। যেই জামাই কয়, “আমার মা-খালারও তো হইছে”, “রাস্তার বেটিরও হয়”—যেন সমস্যার সমাধান না, সমস্যা অস্বীকার করাটাই তাদের কাজ। “You signed up for this” — কারও জামাই যদি এই খোঁটা না দিয়ে থাকেন, তাইলে বলতেই হবে তিনি বিরাট ভাগ্যের অধিকারী।
আগেও বলছি, এখনও বলতেছি—শ্বশুরবাড়ির সাথে থাকা কোনও মেয়ের জন্য অনুচিত, আর নতুন মায়ের জন্য তো আরও অন্যায়। সেই শাশুড়ি বা শ্বশুর মানুষ ভালো হোক, খারাপ হোক, নিরপেক্ষ হোক—কোনোটাই ম্যাটার করে না। এক বাড়িতে এত মানুষের মতামত, নিয়ন্ত্রণ, মন্তব্য, প্রত্যাশা—এসবের মধ্যে নতুন মা পরে মাঙ্গের চিপায়।
আর “আমি তো এর চেয়েও বেশি করছি”, “আমাদের সময়ে এসব ছিল না”, “আমরাও বাচ্চা মানুষ করছি”—এই ডায়লগটা প্রায় সব সময় একই জায়গা থেকেই আসে। আশা করি বলতে হবেনা সে কে। আর এসব বলে কেন? সাহায্য করার জন্য না, তুলনা করার জন্য। নতুন মায়ের কষ্টটা বোঝার জন্য না, তাকে চুপ করানোর জন্য। আর সেই মানুষটাই অনেক সময় জামাইয়ের কাছ থেকে যে অল্প সাহায্যটা পাওয়ার কথা, সেটাও নষ্ট করে দেয়। আলাদা থাকলে অন্তত স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মতো একটা সিস্টেম বানাইতে পারত। একই ছাদের নিচে থাকলে সেই সুযোগটাও থাকে না।
আর শুধু ফ্যামিলি? না না। আউল-বাউল করিমন, নসিমন, চার বাচ্চার মা, এক বাচ্চার মা, বাচ্চাই নাই এমন মানুষ—সবারই কিছু না কিছু বলার থাকে, উপদেশ দেওয়ার থাকে, বিচার করার থাকে। নতুন মা কী খাবে, কীভাবে বাচ্চা ধরবে, কখন ঘুমাবে, কেন কাঁদে, কেন কাঁদে না—সব বিষয়ে সবার মতামত আছে। কিন্তু রাত তিনটায় উঠে বাচ্চা সামলানোর বেলা, একটু ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়ার বেলা, একবেলা গরম খাবার হাতে ধরিয়ে দেওয়ার বেলা মানুষগুলা কেমন যেন হাওয়া হয়ে যায়।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কোনো রহস্য না। মানুষকে ঘুমাইতে না দিয়া, খাইতে না দিয়া, একা একটা নবজাতকের দায়িত্ব চাপাইয়া, সারাক্ষণ বিচার কইরা, সাহায্যের বদলে কথা শোনাইয়া রাখলে তার মানসিক অবস্থা খারাপ হইবই।
আশ্চর্যের বিষয় ডিপ্রেশন না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কিছুর পরও আমরা যারা বেঁচে আসি, তারা কিভাবে বেঁচে
©️