Nakib

Nakib সুস্থ মন মানসিকতাই পারে একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণ করতে।

07/04/2025

কাদিসিয়ার যুদ্ধের সময় মদ্যপানের অভিযোগে আটক সাহাবী আবু মিহজান সাকাফী রা. এর মন যখন ব্যাকুল হয়ে ওঠেছিল যুদ্ধের ময়দানে মুসলমানদের কঠিন অবস্থা দেখে তখন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর স্ত্রী তার পায়ের বন্ধন খুলে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার জন্য মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি বীরদর্পে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক বীরত্বগাথা রচনা করেছিলেন।

আজ পর্যন্ত কেউ এই অভিযোগ করেনি যে তিনি মদ পান করার অপরাধী হয়ে যুদ্ধের জন্য আকুল হয়ে ভুল করেছেন বা যুদ্ধের ময়দানে যাওয়া ঠিক হয়নি।

13/05/2022

{ یُرِیدُونَ لِیُطۡفِـُٔوا۟ نُورَ ٱللهِ بِأَفۡوَ ٰ⁠هِهِمۡ وَٱللهُ مُتِمُّ نُورِهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡكَـٰفِرُونَ }
[سُورَةُ الصَّفِّ: ٨]

তারা আল্লাহর নূর ফুৎকারে নেভাতে চায়, আর আল্লাহ্‌, তিনি তাঁর নূর পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।

প্রাণবিশিষ্ট কোন কিছুর আকৃতি বা ভাস্কর্য বানানো বা কোনো স্থানে স্থাপিত করা যদিও তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে না হয়, সেগুলোর ইসল...
29/11/2020

প্রাণবিশিষ্ট কোন কিছুর আকৃতি বা ভাস্কর্য বানানো বা কোনো স্থানে স্থাপিত করা যদিও তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে না হয়, সেগুলোর ইসলামী বিধান আরবের বিখ্যাত ইসলামী স্কলার বিন বায রহ. এর মতে নাজায়েজ ও শিরকের মাধ্যম।

তিনি বলেন:

لا يجوز تعليق التصاوير ولا الحيوانات المحنطة في المنازل ولا في المكاتب ولا في المجالس؛ لعموم الأحاديث الثابتة عن رسول الله ﷺ الدالة على تحريم تعليق الصور وإقامة التماثيل في البيوت وغيرها؛ لأن ذلك وسيلة للشرك بالله، ولأن في ذلك مضاهاة لخلق الله وتشبها بأعداء الله، ولما في تعليق الحيوانات المحنطة من إضاعة المال والتشبه بأعداء الله وفتح الباب لتعليق التماثيل المصورة.
وقد جاءت الشريعة الإسلامية الكاملة بسد الذرائع المفضية إلى الشرك أو المعاصي، وقد وقع الشرك في قوم نوح بأسباب تصوير خمسة من الصالحين في زمانهم، ونصب صورهم في مجالسهم، كما بين الله سبحانه ذلك في كتابه المبين حيث قال سبحانه: وَقَالُوا لا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلا سُوَاعًا وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا وَقَدْ أَضَلُّوا كثيرا الآية [نوح:23-24] فوجب الحذر من مشابهة هؤلاء في عملهم المنكر الذي وقع بسببه الشرك.
وقد صح عن رسول الله ﷺ أنه قال لعلي بن أبي طالب : ألا تدع صورة إلا طمستها، ولا قبرًا مشرفًا إلا سويته خرجه مسلم في صحيحه، وقال ﷺ: أشد الناس عذابا يومم القيامة المصورون متفق على صحته، والأحاديث في ذلك كثيرة، والله ولي التوفيق

লিঙ্ক:

ج: لا يجوز تعليق التصاوير ولا الحيوانات المحنطة في المنازل ولا في المكاتب ولا في المجالس؛

25/10/2020

সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া উড়ানো গোটা বিশ্ব আজ নিশ্চুপ কেন?

সেক্যুলারী বগিজগী যে শুধু ইসলামের বিরোধিতা করার জন্য তা স্পষ্ট!

একটা মানুষ কত বড় অসভ্য হলে, আরেকটা মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে অভদ্র ও অসভ্য হলো ফ্রান্সের প্রশাসন!

30/07/2020

তাকবীরে তাশরীক সংক্রান্ত কয়েকটি মাসআলা
১। প্রত্যেক মুসল্লীর জন্য যিলহজ্বের নয় তারিখের ফজর হতে তের তারিখের আসর পর্যন্ত (মোট তেইশ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরয নামায আদায় করে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব।-সূরা বাকারা : ২০৩; মুসতাদরাকে হাকেম ১/২৯৯হাদীস : ১১৫২-১১৫৭; ইবনে আবী শায়বা ৪/১৯৫ হাদীস : ৫৬৭৭, ৫৬৭৮, ৫৬৯২; সুনানে দারাকুতনী ২/৪৯-৫০ হাদীস : ২৫-২৯; ইলাউস সুনান ৮/১৪৮-১৬২, আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৭৭-১৭৮
২। তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজন বিদিত শব্দ হল-

الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلاالله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد

-তাবারানী মুজামে কাবীর হাদীস : ৯৫৩৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ৫৬৭৯, ৫৬৯৬, ৫৬৯৭, ৫৬৯৯; ইলাউস সুনান ৮/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৫৮
৩। ইমাম আবু হানীফার রাহ-এর মতে একাকী নামায আদায়কারী ও মুসাফির ব্যক্তি এবং মহিলাদের উপর তাকবীরে তাশরীক যদিও ওয়াজিব নয়, কিন্তু সাহেবাইনের মতে তাদের উপরও তাকবীর বলা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে সাহেবাইনের কথার উপরই ফতওয়া।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৪০-২৪১, ২৫১; ইলাউস সুনান ৮/১৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০; ইমদাদুল আহকাম ১/৭৬৩-৭৬৫, ৭৭৯-৭৮০
৪। সুন্নত, নফল, বিতর নামাযের পর তাকবীর ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬২; মাবসূত সারাখসী ২/৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২
৫। উচ্চস্বরে একবারই তাকবীর বলা ওয়াজিব।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুর মুহতার ২/১৭৮
৬। কোনো সময় সকলেই বা কেউ কেউ তাকবীর বলতে ভুলে গিয়ে মসজিদ থেকে বের না হয়ে গেলে তাকবীর আদায় করে নিবে। আর যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় তাহলে এই ওয়াজিব ছুটে যাবে। এই ওয়াজিবের কোনো কাযা নেই এবং ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার কারণে ঐ ব্যক্তি গুনাহগার হবে।-মাবসূত সারাখসী ২/৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০৯-৫১১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬০-৪৬১; রদ্দুল মুহতার ২/১৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৬
৭। আইয়ামে তাশরীকের কোনো নামায কাযা হয়ে গেলে ঐ দিনগুলোর মধ্যে তার কাযা আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব। কিন্তু এই কাযা পরবর্তী অন্য সময় আদায় করলে বা আইয়ামে তাশরীকের আগের কাযা নামায ঐ দিনগুলোতে আদায় করলে তাকবীর বলা ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১১-৫১৩
৮। ঈদুল আযহায় ঈদগাহে পৌঁছার আগ পর্যন্ত পথে পথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলে বলে যাবে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/১৯২-১৯৪; দারাকুতনী ২/৪৪-৪৫; ইলাউস সুনান ৮/১১৪-১১৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৩
৯। কোনো ব্যক্তি নামাযে মাসবুক হলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে স্বীয় নামায আদায় করার পর তাকবীরে তাশরীক বলবে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৩৯-২৪০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২
১০। মহিলারা এই তাকবীরে তাশরীকটি নিচু স্বরে আদায় করবে। উচ্চ স্বরে নয়।-রদ্দুল মুহতার ২/১৭৯; হাশিয়া তাহতাবী ১/৩৫৭; হিন্দিয়া ১/১৫২
১১। ইমাম তাকবীর বলতে ভুলে গেলে মুক্তাদীগণ ইমামের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা তাকবীর বলবেন।
১২। প্রত্যেক ফরয নামাযের সালামের পর পরই কোনো কথাবার্তা বা নামায পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে।

এত গেল তাকবীরে তাশরীফ সংক্রান্ত কিছু মাসআলা। তবে এই তাকবীর সংক্রান্ত যে কয়েকটি গাফলতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তন্মধ্যে একটি হল মহিলাদের এই আমলের প্রতি যত্নবান না হওয়া। হয়তোবা এর কারণ এও হতে পারে যে, তাদের এই তাকবীরের কথা স্মরণ থাকে না। তা স্বাভাবিকও বটে। কারণ পুরুষরা মসজিদে জামাতে নামায আদায় করে বিধায় খেয়াল না থাকলেও অন্যের দেখাদেখি এই আমল করতে পারে। কিন্তু মহিলাদের তো এই সুযোগ নেই। তাই মহিলাদের উচিত ঘরের যে স্থানে তারা নামায আদায় করে সেখানে পাঁচ দিনের জন্য একটি কাগজ লিখে ঝুলিয়ে রাখা। যাতে জায়নামাযে এলেই তা নজরে পড়ে। দ্বিতীয় যে গাফলতিটি নজরে পড়ে তা এই যে, ঈদুল আযহার ঈদগাহে যাওয়ার পথে ও পাঁচ দিনের ফরজ নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক আদায় করলেও অনেক পুরুষ তা পড়ে থাকেন মনে মনে বা খুব নিচু স্বরে। অথচ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরামের এই তাকবীর ধ্বনিতে পুরো আশপাশ কেঁপে উঠত। আর এই তাকবীর উচ্চ স্বরে বলার একটি হিকমত তো এও যে, এর দ্বারা ইসলামের তাওহীদের ঘোষণা প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে দেওয়া হবে। গুনগুন শব্দে এর বহিঃপ্রকাশ কি সম্ভব?-ইসলাহী খুতবাত ২/১২৬-১২৯
পরিশেষে আসুন নির্ভেজাল তাওহীদ, দৃঢ় আক্বীদা ও আল্লাহর মহত্ত্বের উপর অটুট আস্তা স্থাপনের মাধ্যমে গড়ে তুলি একটি আদর্শ সমাজ, যা হবে শিরকের পঙ্কিলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তাওহীদের সমাজ। পুণ্যময় তেরটি দিনের এটিই মৌলিক বাণী। তাকবীরে তাশরীকের এটিই মহান শিক্ষা।
[ মাসিক আলকাউসার | যিলক্বদ ১৪৩০ || নভেম্বর ২০০৯ ]
*****
প্রশ্ন:
আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলা বলেছেন যে, তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব, তিনবার বলা মুস্তাহাব। কিন্তু অন্য এক আলিমকে বলতে শুনেছি, তিনবার বলা সুন্নত পরিপন্থী, বিদআত। জানার বিষয় হল, মূলত তাকবীরে তাশরীক তিনবার বলা সুন্নত, না মুস্তাহাব? সাহাবায়ে কেরাম কতবার তাকবীর বলতেন? তাদের থেকে তিন তাকবীর বলা প্রমাণিত আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর:
৯ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্ব আসরসহ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকীবরে তাশরীক তথা-
الله أكبر الله أكبر، لا إله إلاالله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.
বলা ওয়াজিব। এই তাকবীর তিনবার বলা সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবায়ে কেরাম রা. কীভাবে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন তা হাদীসের কিতাবে বর্ণিতহয়েছে। সেখানে একাধিকবার তাকবীরের কথা উল্লেখ নেই।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৮, ৫৬৯৯; আলআওসাত, হাদীস : ২১৯৮, ২২০০
তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিন নামাযের পর উক্ত তাকবীর বলতেন।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৬
অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে তাকবীরে তাশরীকের সাথে অন্য কিছু মিলিয়ে পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন হযরত ইবনে উমর রা. তাকবীরে তাশরীকের আগে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন।-আলআওসাত,হাদীস : ২২০১
আর পূর্ণ তাকবীরে তাশরীক তিনবারপড়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিকহবিদগণও তিনবার বলারপ্রতি গুরুত্ব দেন না। অবশ্য কেউ যদি সুন্নত মনে না করে এমনিতেই তিনবার বলে তবে সেটাকে বিদআত বলাও উচিত নয়।
-আলআওসাত, হাদীস : ২১৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৫৬৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫
■■ শেয়ার করে অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন।

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে নেক আমলের ফযীলতইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَل...
25/07/2020

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে নেক আমলের ফযীলত

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ. يَعْنِى أَيَّامَ الْعَشْرِ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِى سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلاَ الْجِهَادُ فِى سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَىْءٍ.

‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল যিলহজ্জ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর ﷻ পথে জিহাদও নয়? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহর ﷻ পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর ﷻ পথে যুদ্ধে বের হল এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তার কথা ভিন্ন)।’ [বুখারী : ৯৬৯; আবূ দাউদ : ২৪৪০; তিরমিযী : ৭৫৭]

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ﷺ বলেন,

مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ وَلا الْعَمَلُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ، فَأَكْثِرُوا فِيهَا مِنَ التَّهْلِيلِ، وَالتكبير والتَّحْمِيدِ، يَعْنِي: أَيَّامَ الْعَشْرِ.

‘এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’ [মুসনাদ আহমাদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]

অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,

«مَا مِنْ أَيَّامٍ أَفْضَلُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَيَّامِ عَشَرِ ذِي الْحِجَّةِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلا مِثْلُهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: إِلا مَنْ عَفَّرَ وَجْهَهُ فِي التُّرَابِ».

‘যিলহজ্জ মাসের (প্রথম) দশদিনের মতো আল্লাহর কাছে উত্তম কোনো দিন নেই। সাহাবীরা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ , আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এর চেয়ে উত্তম দিন নেই? তিনি বললেন, হ্যা, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ [সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ২/১৫; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৩]

এ হাদীসগুলোর মর্ম হল, বছরে যতগুলো মর্যাদাপূর্ণ দিন আছে তার মধ্যে এ দশ দিনের প্রতিটি দিনই সর্বোত্তম। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ দিনসমূহে নেক আমল করার জন্য তাঁর উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তাঁর এ উৎসাহ প্রদান এ সময়টার ফযীলত প্রমাণ করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ দিনগুলোতে বেশি বেশি করে তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন ওপরে ইবন উমর রাযি. আল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ হয়েছে।

ইবন রজব রহিমাহুল্লাহ বলেন, উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে বুঝা যায়, নেক আমলের মৌসুম হিসেবে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক হল সর্বোত্তম, এ দিবসগুলোয় সম্পাদিত নেক আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। হাদীসের কোনো কোনো বর্ণনায় أَحَبُّ (‘আহাব্বু’ তথা সর্বাধিক প্রিয়) শব্দ এসেছে আবার কোনো কোনো বর্ণনায় أَفْضَلُ (‘আফযালু’ তথা সর্বোত্তম) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব এ সময়ে নেক আমল করা বছরের অন্য যে কোনো সময়ে নেক আমল করার থেকে বেশি মর্যাদা ও ফযীলতপূর্ণ। এজন্য উম্মতের অগ্রবর্তী পুণ্যবান মুসলিমগণ এ সময়গুলোতে অধিকহারে ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। যেমন আবূ ছিমান নাহদী বলেন,

كانوا ـ أي السلف ـ يعظمون ثلاث عشرات: العشر الأخير من رمضان، والعشر الأول من ذي الحجة، والعشر الأول من محرم.

‘তাঁরা অর্থাৎ সালাফ তথা পূর্বসূরীগণ দিনটি দশককে অনেক বেশি মর্যাদাবান জ্ঞান করতেন : রমযানের শেষ দশক, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক এবং মুহাররমের প্রথম দশক।’

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের রাতের নেক আমল

যিলহজ্জ মাসের প্রথম নয় রাতের ইবাদত বন্দেগী লাইলাতুল কদরের রাতের ইবাদত বন্দেগীর সমুতূল্য। এই ৯টি রাত কুরআন এবং হাদীসের আলোকে যিলহজ্জ মাসের দশ রাতের ফযীলত সুপ্রমাণিত। কুরআন শরীফে সুরায়ে ফাজরে আল্লাহ তা‘আলা এই দশ রাতের শপথ করে বলেছেন, শপথ দশ রাতের, শপথ যা জোড় ও বেজোড়, শপথ রাতের যখন তা গত হতে থাকে।” এই চারটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা পাঁচটি বস্তুর শপথ করেছেন।

(১) ফজর ; (২) দশ রাতের ; (৩) জোড়ের ; (৪) বেজোড়ের ; (৫) রাতের।

অধিকাংশ মুফাসসিরীনদের মতে দশ রাত দ্বারা যিলহজ্জ মাসের এই দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে। একটি মারফু হাদীস দ্বারাও এর সমর্থন পাওয়া যায়। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন وَلَيَالٍ عَشۡرٖ দ্বারা উদ্দেশ্য হল যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। তাতে কুরবানির দিনও শামিল।

উল্লেখিত দশ রাত সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রা. রাসূলে আকরাম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, পৃথিবীর দিন ও রাত্রির মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তার ইবাদতের জন্য সবচেয়ে প্রিয় হল যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন, এই গুলির তুলনায় ইবাদতের জন্য প্রিয় আর কোন দিন নেই। এই দিন গুলির এক একটি রোযা এক বৎসর রোযা রাখার সমতুল্য, আর ঐ রাতগুলির এক একটির ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমতুল্য। (ফাযাইলুল আওকাত লিল বাইহাকী-৩৪৬, শুআবুল ঈমান, ৩/৩৫৫)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন, এই দশ দিনের নেক আমল আল্লাহ তা‘আলার নিকট যতটা পছন্দনীয় অন্যদিনের আমল ততটা নয়। (বুখারী শরীফ)

এসব হাদীস দ্বারা আমরা যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন ও রাতের ফযীলত সম্পর্কে অবগত হতে পারলাম। হযরত হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি বিষয় এমন যেগুলিকে রাসূলে আকরাম ﷺ কখনও ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাআত সুন্নাত। (নাসাঈ শরীফ, মিশকাত-১৮০)

আলোচ্য হাদীসে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক বলতে এখানে নয় দিনকে বুঝানো হয়েছে। কেননা অন্য এক হাদীসে দশ তারিখে ঈদের দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

আরাফা দিবসের ফযীলত

যিলহজ্জ মাসের নয় তারিখকে ইয়াওমে আরাফা বা আরাফার দিন বলা হয়ে থাকে। এই দিন হজ্জের মূল অনুষ্ঠান পালন করা হয়ে থাকে। এই দিনটি যেমন ফযীলতপূর্ণ তদ্রুপ এর পূর্ববর্তী রাতটিও ফযীলতপূর্ণ। এই দিন সম্বন্ধে হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে, হযরত আবু কাতাদাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট আশাবাদী যে, আরাফা দিবসের রোযা তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মুছে দিবে। আর আল্লাহর নিকট এও আশাবাদী যে, আশুরার রোযা তার পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মুছে দিবে। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত-১৭৯)

তাকবীরে তাশরীক

যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর সকল সাবালক পুরুষ,মহিলার জিম্মায় উক্ত তাকবীর একবার বলা ওয়াজিব। তিনবার বলা ওয়াজিব নয়। পুরুষগণ উচ্চস্বরে আর মহিলাগণ নিম্নস্বরে পড়বে। তাকবীরে তাশরীক এই :

اَللهُ اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ. لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ . وَللهُ اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ. وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ .

(আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ) (আদ্দুররুল মুখতার:২/১৭৭-১৮০)

07/04/2020
20/03/2020

করোনা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হ‌ওয়ার আমল।

قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، فَيَضُرَّهُ شَيْءٌ . رواه الترمذى وقال هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ.

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি প্রত্যেক দিন সকালে এবং সন্ধায়
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
(উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াযুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি অলা ফিস সামায়ী অহুয়াস সামিউল আলীম)

দোয়াটি তিনবার পড়বে, তাকে কোন কিছু ক্ষতি করতে পারবে না।

সুতরাং করোনা ভাইরাসের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য উক্ত আমলটি করা যেতে পারে। ( ফজরের পর তিনবার এবং মাগরিবের পর তিনবার)

16/02/2020

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত আবার রচনা করা উচিত।
যার মধ্যে থাকবে:
১) বঙ্গবন্ধুর কথা।
২) ভাষা আন্দোলনের কথা।
৩) স্বাধীনতার কথা।
৪) মুক্তিযোদ্ধার কথা।
৪) দোয়েল, ইলিশ, কাঁঠালের কথা।
৫) লাল-সবুজের কথা।
মোট কথা, বাংলাদেশের জাতীয়তা ও ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা ইত্যাদি।

দরকারে, ভারতের মতো দুটি জাতীয় সঙ্গীত রাখা যায়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকে এমন একটি জাতীয় সঙ্গীত উপহার দেয়ার জন্য সরকারের নিকট আবেদন র‌ইল।

Address

MADHABDI
Madhabdi

Telephone

01743912998

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nakib posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category