04/07/2026
মারিয়ার মৃত্যু কিভাবে, পেছনে কারা
_____________________________________
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহির (১৪) মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাটেনি রহস্য। আলোচিত এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত— সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জাতীয় দৈনিক আগামীর সময়-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৫ জুন স্কুলে একটি ঘটনার জেরে মারিয়া ও এক ছাত্রকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়া হয়। ওই দিনই স্কুল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মারিয়া। ছয় দিন পর ২১ জুন সিংগাইরের জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি নির্জন ঝোপ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে মারিয়ার মা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী, এক শিক্ষার্থী, তার মা, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও ছাত্রদলের এক নেতাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এখনো ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক যাচাই করছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। জেলা পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দাবি করেছেন, তিনি টিসি দেওয়ার নির্দেশ দেননি; বরং অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে টিসি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মারিয়ার পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই প্রকৃত ঘটনা, মৃত্যুর কারণ এবং অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আদালতের চূড়ান্ত রায় ও তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।