16/01/2021
পড়ার সময় ঘুম তাড়ানোর কৌশল
কেন যে পড়ার সময় ঘুম পায়। কি ভাবে এই ঘুমকে তাড়ানো যায়? আপনার সমস্যাও যদি এটি হয় তবে আপনি কি করবেন, তা আজকে বলব।
কিভাবে আপনি পড়ার সময় ঘুম তাড়াবেন আর মন দিয়ে পড়াশুনা করবেন?
একটা সমিক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রায় ৭০% ছেলে মেয়ের এই একই সমস্যা হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের ভূলটা বুঝতে পারে। তারা অনেকেই চেষ্টা করে না ঘুমানোর। কিন্তু সেটি আর সম্ভব হয়ে উঠে না। কেননা সবাই এটা জানে যে, এখানে কোন মটিভেশন কাজ করে না। আপনারা হয়ত অনেক সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েও পড়তে বসেন যে, আজ রাতে না ঘুমিয়ে সারা রাত বই পড়বেন। শেষ পর্যন্ত সেটা আর সফল হয়ে উঠে না। কিন্তু আপনি যদি আজকের টিপস গুলো অনুসরণ করেন তবে আপনি ঘুম থেকে মুক্তি পাবেন।
জোরে জোরে পড়ুন
পড়তে বসে ঘুম আসার অন্যতম কারণ হল আপনি সব সময় চুপ চাপ পড়েন। মুখে হাত আর বই এর দিকে চোখ, এ গুলোই আপনাদের পড়ার স্টাইল। এখনকার দিনে এটি আপনাদের প্রায় অভ্যাস হয়ে গেছে। আপনি যখন লাইব্রেরিতে যান সেখানেও আপনাকে চুপ চাপ পড়তে হয়। কারণ সেখানে তো অনেক লোক থাকে। তাই সেখানে একটি নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে যে, আপনাকে চুপ চাপই পড়তে হবে। কিন্তু বাড়িতে তো আপনি একা একাই পড়ছেন। তবে সেখানে কেন একই নিয়ম অনুসরণ করবেন। তাই আপনি যখনই পড়বেন জোরে জোরে পড়ুন। সব সময় জোরে জোরে পড়া সম্ভব না হলেও যখন আপনার মনে হবে যে, ঘুম ঘুম পাচ্ছে। তখনই আপনি জোরে জোরে পড়বেন। আর দেখবেন, আপনার ঘুম পালিয়ে গেছে।
পানি ব্যবহার
আপনি হয়ত শুনে থাকবেন, পড়তে পড়তে যখনই ঘুম আসবে তখনই চোখ মুখ ধুয়ে নিন। ঘুম খুব দ্রুত চলে আসে, তাই উঠে গিয়ে মুখ ধোয়ার মত অবস্থা অনেকের থাকে না। অনেক সময় মুখ ধোয়ার আগেই আপনি ঘুমিয়ে পড়েন। তাই আপনি পরিষ্কার ঠান্ড জল কাছে রাখবেন। যখনই ঘুম আসবে আপনি একটি রুমাল দিয়ে চোখ দুটি মুছে নিন। এতে আপনার ঘুম চলে যাবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ফ্রিজের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন তবে খুব বেশি কাজ হবে।
পড়ার জায়গা
আপনারা অনেকেই পড়ার সময় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়েন। যেটা একটা প্রধান ভূল। আপনাদের মাইন্ড আপনাদের শারীরিক মুভমেন্ট সব সময় অনুসরণ করে। আপনার শরীরের অবস্থা কেমন আছে সেটা দেখেই আপনার মাইন্ড আপনাকে চালিত করে। আপনি যখন দৌড়ান তখন আপনার মাইন্ডও দৌড়ানোর দিকেই থাকে। তাই তখন আপনার ঘুম পায় না। আবার যখন আপনি স্কুল থেকে বাসায় আসেন, রিলাক্স অবস্থায় ছোপায় বসেন তখন আপনার ঘুম চলে আসে। যেহেতু আপনার শরীর রিলাক্স অবস্থায় থাকে তাই মন ভাবে এটা রিলাক্স করার সময়। তাই তখনই আপনার ঘুম চলে আসে। আপনি যখন বিছানায় বসে পড়েন তখন মন ভাবে এটা নিশ্চয়ই ঘুমানোর সময়। তাই আপনার ঘুম চলে আসে। ঘুমকে তাড়ানোর জন্য অবশ্যই বিছানায় পড়ার ত্যাগ করুন। এর পরিবর্তে আপনি চেয়ার টেবিল ব্যবহার করতে পারেন। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে আপনি আপনার বই উচু স্থানে রেখে পড়ুন। ৪ টি বই নিয়ে উচু করে আপনি পড়তে পারেন। এতে ঘুমের হাত থেকে আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন। আপনি নিজেই আপনার নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।
হাটা এবং পড়া
যদি সব গুলো নিয়ম আপনার ক্ষেত্রে ফেল হয়ে যায় তাহলে এই নিয়মটা অবশ্যই কাজ করবে। আপনি একটি বই হাতে নিন আর দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়াটা পড়ুন। এটি অনুশরণ করলে আপনি অবশ্যই ঘুম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। সব সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নাই। যখন আপনার ঘুম আসবে অর্থাৎ যে সময় আপনার ঘুম আসবে। তখন আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়বেন। অনেকে জিজ্ঞাস করে যে, আপনি কি হাটতে হাটতে পড়তে পারেন? তবে মনে হয় না যে, হাটতে হাটতে আসলে পড়া যায়। কারণ তখন আপনার মন শুধুমাত্র হাটার দিকেই থাকবে। তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়াটাই শ্রেয়।
একা কখনও পড়বেন না
আপনার সবাই একা একা বদ্ধ ঘরে বসে পড়াশুনা করেন। এখন কার সময়ে এটি একটি বড় রকমের ভূল। আপনি যখন বদ্ধ ঘরে একা একা পড়াশুনা করেন তখন বার বার আপনার মন মোবাইল ফোনের দিকে যায়। ফেসবুক, হোয়াট চ্যাপ, ইমো ইত্যাদি চালাতে ইচ্ছা করে। আবার অনেক সময় হতাসা ও চলে আসে। এছাড়াও একটি বড় সমস্যা হল, আপনি ঘুমিয়ে পড়লেও কেউ দেখার থাকে না, কেউ আপনার উপর রাগও করে না। তাই আপনি অভয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ঠিক এই সমস্যা দূর করার জন্য আপনি এমন জায়গা ঠিক করবেন, যেটি আপনার বাবা বা মায়ের সামনে হবে। সেটা দূরে হলেও সমস্যা নেই। তারা যেন আপনাকে দেখতে পারে। আপনি কি করছেন, সেটা যেন নজর রাখতে পারে। যদি আপনি আপনার মা অথবা বাবার সামনে বই পড়েন তবে আপনার ঘুম আসবে না।
এই সব টিপস যদি আপনি ঠিক মত অনুসরণ করেন তবে আপনি পড়ার সময় আপনার ঘুম দূর করতে পারবেন।