Book Bank

Book Bank Book Bank Bangladesh is a complete online bookstore of international imported original English books
(292)

রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি পত্র পৌঁছায়, যাতে তাঁকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছ...
13/08/2026

রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি পত্র পৌঁছায়, যাতে তাঁকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।

হিরাক্লিয়াস ক্ষমতার লোভে ইসলাম গ্রহণে রাজি হননি, তবে নবীজির চিঠিটিকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন।

এরপর কেটে যায় বহু শতাব্দী। স্পেনের এক খ্রিষ্টান রাজদরবারে একবার এক মুসলিম প্রতিনিধি উপস্থিত হন। রাজা তাঁকে দেখান একটি সোনার বাক্স, যার ভেতরে রেশমি কাপড়ে মোড়ানো ছিল একটি চিঠি।

রাজা তাঁকে জানান, এটিই সেই চিঠি, যা নবীজি তাঁর পূর্বপুরুষ হিরাক্লিয়াসের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁরা বংশপরম্পরায় এটি রক্ষা করে চলেছেন।

পূর্বপুরুষদের অসিয়ত অনুযায়ী, যতদিন চিঠিটি নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে, ততদিন তাঁদের রাজত্বও অটুট থাকবে বলে বিশ্বাস করা হতো।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তাঁর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন।

প্রায় আরও এক হাজার বছর পর, আনুমানিক ১৮৫০ সালের দিকে, মিশরের আখমিম অঞ্চলের একটি প্রাচীন কপটিক মঠে এক ফরাসি গবেষক পুরোনো নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

জীর্ণ পাণ্ডুলিপির মধ্যে তাঁর নজরে পড়ে চামড়ার তৈরি একটি পুরোনো পার্চমেন্ট, যা দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল এটি সাধারণ কোনো নথি নয়।

গবেষণা শেষে জানা যায়, এটি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই মূল চিঠি, যা তিনি মিশরের তৎকালীন শাসক মুকাউকিসের কাছে পাঠিয়েছিলেন।

দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও চিঠির নিচে স্পষ্ট ছিল সেই সিলমোহরের ছাপ, যাতে লেখা ছিল— "মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ"।

আবিষ্কারের পর চিঠিটি শ্রদ্ধাভরে হস্তান্তর করা হয় উসমানীয় সুলতান আব্দুল মজিদের কাছে।

বর্তমানে চিঠিটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত তোপকাপি প্রাসাদ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

মুকাউকিসের কাছে পাঠানো এই চিঠি ছাড়াও নবীজির আমলে লেখা আরও কয়েকটি চিঠি বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

১লা জানুয়ারি রাত ১১টায় রাতুল ভাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন — "নতুন বছর, নতুন আমি। কাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৬টায় উঠব, ৩০ মি...
12/08/2026

১লা জানুয়ারি রাত ১১টায় রাতুল ভাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন — "নতুন বছর, নতুন আমি। কাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৬টায় উঠব, ৩০ মিনিট দৌড়াব, আর রাতে ফোন স্ক্রল করার বদলে বই পড়ব।" পোস্টে লাইক পড়ল প্রায় দুইশো, কমেন্টে বন্ধুরা লিখল "ইনশাআল্লাহ ভাই, পারবেন!"

২ তারিখ সকাল ৬টায় অ্যালার্ম বাজল, রাতুল ভাই বন্ধ করে আবার ঘুম। ৩ তারিখ একই ঘটনা। ৫ তারিখ থেকে অ্যালার্মই বন্ধ করে রাখলেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি জিম ব্যাগটা বিছানার নিচে জায়গা করে নিল, আর "নতুন আমি" স্ট্যাটাসটা টাইমলাইনের অনেক নিচে হারিয়ে গেল অন্য পোস্টের ভিড়ে। মাস শেষে রাতুল ভাই নিজেকে প্রশ্ন করলেন — "আমার মধ্যেই কি সমস্যা? আমি কি আসলে ইচ্ছাশক্তিহীন একটা মানুষ?"

এই গল্পটা কি চেনা লাগছে? প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি আমরা লাখো মানুষ একই রকম প্রতিজ্ঞা করি, আর ফেব্রুয়ারি আসার আগেই সেই প্রতিজ্ঞা ভুলে যাই। তারপর নিজেকেই দোষ দিতে থাকি।

কিন্তু জেমস ক্লিয়ারের "Atomic Habits" বইটা বলছে অন্য কথা — সমস্যাটা আপনি না, সমস্যা আপনার সিস্টেমে।

আপনার জীবন বদলাতে বিশাল কোনো বিপ্লবের দরকার নেই — দরকার শুধু প্রতিদিনের ১% উন্নতি। জেমস ক্লিয়ারের এই বই সেই সহজ সত্যটাকেই একটা কার্যকর পদ্ধতিতে রূপ দিয়েছে, যা পড়ার পর আপনি নিজের প্রতি ব্যর্থতার দোষ চাপানো বন্ধ করে দেবেন।

বইটার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো — আপনি যদি বারবার পুরনো বদভ্যাসে ফিরে যান, সমস্যাটা আপনার ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়, সমস্যাটা আপনার দৈনন্দিন সিস্টেমে। লক্ষ্য ঠিক করলেই কিছু বদলায় না; বদলায় তখনই যখন আপনার সিস্টেম বদলায়। ক্লিয়ার এখানে চমৎকারভাবে বুঝিয়েছেন — আপনি আপনার লক্ষ্যের স্তরে পৌঁছান না, আপনি নেমে আসেন আপনার সিস্টেমের স্তরে।

জীববিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব আর স্নায়ুবিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বগুলোকে ক্লিয়ার এমনভাবে সহজ করে তুলেছেন যে যেকোনো পাঠক তা সাথে সাথে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন, বিখ্যাত শিল্পী, সফল উদ্যোক্তা আর জীবন-রক্ষাকারী চিকিৎসকদের বাস্তব গল্পের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন — ছোট ছোট অভ্যাসই কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকে অসাধারণ সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যায়।

এই বই আপনাকে শেখাবে:
- ব্যস্ত জীবনেও নতুন অভ্যাস গড়ার জন্য সময় বের করা
- মোটিভেশন আর ইচ্ছাশক্তির অভাব কাটিয়ে ওঠা
- পরিবেশকে এমনভাবে সাজানো যাতে সাফল্য নিজে থেকেই আসে
- পথ থেকে সরে গেলেও দ্রুত আবার ট্র্যাকে ফিরে আসা

রাতুল ভাইয়ের মতো যদি আপনিও প্রতি বছর একই প্রতিজ্ঞা করেন আর একই জায়গায় গিয়ে থমকে যান, তাহলে এই বই আপনার জন্য। ধূমপান ছাড়তে চান, ওজন কমাতে চান, স্ট্রেস কমাতে চান, নাকি একটা পুরো টিম বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান — "Atomic Habits" আপনার হাতে তুলে দেবে সেই টুল ও কৌশল, যা সাফল্য আর অগ্রগতি সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনাটাই বদলে দেবে। এবার প্রতিজ্ঞা নয়, দরকার একটা সিস্টেম

📚 ❤️

ছবিটি ১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের। ঘন কুয়াশার কারণে রেফারি মাঝপথে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সবাই ড্রেসিং রুম...
15/07/2026

ছবিটি ১৯৩৭ সালে চেলসি বনাম চার্লটনের ম্যাচের। ঘন কুয়াশার কারণে রেফারি মাঝপথে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সবাই ড্রেসিং রুমে ফিরে যায়। কিন্তু চেলসির গোলরক্ষক স্যাম বাট্রাম রয়ে যান গোল পাহারায়। কুয়াশা যত বাড়ছে-তার সতর্কতাও তত বেশি বাড়ছে। পেছনে মানুষের কোলাহলে তিনি শুনতে পাননি রেফারির খেলা সমাপ্তির বাঁশী। অনেকক্ষণ পর- মাঠের একজন নিরাপত্তা কর্মী এসে তাঁকে জানায় ম্যাচটি প্রায় পনের মিনিট আগেই শেষ হয়ে গেছে।
স্যাম বাট্রাম বলেন- না এটা হতে পারেনা। আমি বিশ্বাস করিনা। খেলা শেষ হয়ে গেলে বন্ধুরা অবশ্যই আমাকে বলতো। আমাকে মাঠে একা রেখে ওরা চলে যেতোনা। একজন মানুষও কি ছিলোনা- যে আমার খোঁজ করবে। এরপর, সত্যি যখন বুঝলেন-আসলেই খেলা শেষ হয়ে গেছে। তখন, স্যাম গভীর এক দুঃখ পেলেন। খেলা শেষ হওয়ার জন্য না। বরং বন্ধুরা যে সত্যিই তাকে না জানিয়ে চলে গেছে সে জন্য। যাদের জন্য তিনি গোল পাহারায় দাঁড়িয়ে ছিলেন- তারা সবাই চলে গেলো। কেউ তার কথা একটিবার মনেও রাখলোনা। জীবনটাও বুঝি এমনি এক খেলার মাঠ। যেখানে সময় দিয়ে, সামর্থ্য দিয়ে যাদের ডিফেন্ড করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়- সামান্য কুয়াশার পরিস্থিতিতে তারাই এভাবে সব কিছু ভুলে চলে যায়।

11/07/2026
ফ্রাঞ্জ কাফকা মারা যাওয়ার আগে তার বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে ডেকে বলেছিলেন তার সকল লেখা যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু মৃত্যুপথযাত...
04/07/2026

ফ্রাঞ্জ কাফকা মারা যাওয়ার আগে তার বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে ডেকে বলেছিলেন তার সকল লেখা যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী বন্ধুর কথা রাখেনি ম্যাক্স। একে একে প্রকাশ করেছিলো কাফকার সকল রচনা। এজন্যই আজ আমরা পড়তে পারছি মেটামরফোসিস বা ট্রায়ালের মতো কাল্ট ক্লাসিকগুলো।

বলা হয়ে থাকে, একজন মানুষের পক্ষে যত ধরনের আবেগ অনুভব করা সম্ভব তার সবকিছুই উপস্থিত রয়েছে কাফকার লেখায়। গভীর রাতে নিজের ভেতরে অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করে আপনি হয়তো ভাবেন 'আমার জীবনটাই এমন কেন!' কিন্তু কাফকার লেখা পড়লে বুঝবেন, আপনার চেয়ে বহুবছর আগে একই শূন্যতা অনুভব করেছিলো কাফকার কোনো চরিত্র।

কাফকার বাবা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন সফল ব্যবসায়ী। জীবনের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, মানুষকে হতে হবে শক্ত-সামর্থ্য, ত্যাগ করতে হবে দুর্বল আবেগ। কিন্তু কাফকা ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল, দুর্বল এবং লাজুক। তাই বাবার সাথে কখনোই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তার। যদিও তার বাবা কখনো তাকে মারধোর করেননি, তবে মানসিকভাবে তার ওপর তার বাবার প্রভাব ছিলো প্রবল। তিনি লিখেছিলেন, বাবার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে এত তুচ্ছ মনে হতো যে নিজের কোনো মতামত বলার সাহসই পেতেন না।

Letter to his father বইয়ের একটা চিঠিতে কাফকা লিখেছিলেন, ছোটবেলায় এক রাতে তিনি যখন বার বার পানি চাইছিলেন, তখন তার বাবা বিরক্ত হয়ে তাকে ঠান্ডার মধ্যে বারান্দায় দাঁড় করিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। যদিও ঘটনাটা অল্প কয়েক মিনিটের জন্য ছিলো, কিন্তু তার প্রভাব পড়েছিলো অনেক দূর পর্যন্ত। কাফকা লিখেছিলেন, "আমি এতটাই তুচ্ছ যে আমাকে যেকোনো সময় পৃথিবীর বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়া যায়।"

বাবার সাথে তার এই সম্পর্কের প্রভাব পড়েছিলো তার লেখালেখিতেও। 'মেটামরফোসিস' বা 'জাজমেন্ট' এর মতো গল্পে সামসা ও জর্জের বাবার যে রুপ কাফকা এঁকেছেন তা রীতিমতো ভয়ংকর।

ফ্রাঞ্জ কাফকার লাভ লাইফ ছিলো রীতিমতো আরেক ট্রাজেডি। বিভিন্ন সময়ে একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক করলেও কোনোটিতেই সফল হতে পারেননি হতভাগ্য এই লেখক। যদিও তার প্রথম প্রেমিকা ফেলিসের সাথে দুইবার এনগেজমেন্ট হয়েছিলো, কিন্তু দুইবারই তা ভেঙে যায়। তবে তার সম্পর্কগুলো পূর্ণতা না পেলেও বিশ্ব সাহিত্যে সেগুলোর অবদান অতুলনীয়। মিলেনা এবং ফেলিসকে লেখা কাফকার চিঠিগুলো আজে বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত প্রেমপত্র হিসেবে বিবেচিত।

আজ ৩ জুলাই। প্রচন্ড মেধাবী হওয়া সত্বেও সারাজীবন নিজেকে ব্যর্থ ও অযোগ্য ভেবে আসা এই অসাধারণ লেখকের জন্মদিন। কাফকার লেখা নিয়ে একটা কথাই বলার আছে, "পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, মানুষের ভয়, ভালোবাসা, অপরাধবোধ, একাকীত্ব আর অস্তিত্বের সংকট থাকবে, ততদিন কাফকার লেখাও বেঁচে থাকবে।"

শুভ জন্মদিন ফ্রাঞ্জ কাফকা..

কাফকাকে স্মরণ করার সময় অনিবার্যভাবেই স্মরণ করতে হয় আরো একজন ব্যক্তিকে, কাফকার বাল্যবন্ধু ম্যাক্স ব্রড। ব্রড নিজেও লেখক ছ...
04/07/2026

কাফকাকে স্মরণ করার সময় অনিবার্যভাবেই স্মরণ করতে হয় আরো একজন ব্যক্তিকে, কাফকার বাল্যবন্ধু ম্যাক্স ব্রড। ব্রড নিজেও লেখক ছিলেন—একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি ও অনুবাদক। পাশাপাশি সাংবাদিক এবং নাট্য ও সংগীত সমালোচক। অনেকগুলো উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু তিনি আজ আমাদের অনেকের কাছে বেঁচে আছেন কাফকার মধ্য দিয়ে। এই নিয়তির কাছে তিনি নিজেই জেনেবুঝে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। কাফকা তাঁকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন তার পাণ্ডুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলতে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে কাফকা ব্রডকে লেখেন: ”আমার প্রকাশিত পাঁচটি বই আর ছোটগল্পগুলো হয়তো কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবে। জোর করে আর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করার দরকার নেই।…আমার অপ্রকাশিত লেখাগুলোর ব্যাপারে বলছি, সবগুলো পাণ্ডুলিপি আর নোটখাতা পুড়িয়ে দিও। …পুড়িয়ে দেওয়ার আগে কেউ যেন পড়ে না দেখে সে ব্যাপারে আমার বিশেষ অনুরোধ রইলো।…এই ব্যাপারে এটাই হয়তো তোমার কাছে আমার শেষ অনুরোধ।”

না, ব্রড সেই অনুরোধ রক্ষা করেননি। ব্রড যে শুধু লেখক নন, বড়োমাপের সমজদার সমালোচক ছিলেন তার প্রমাণ নিজের লেখা নিয়ে কাফকার মধ্যে হতাশাবাদ ও দ্বিধা থাকলেও কাফকার লেখা সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চধারণা ছিল ব্রডের। সেই ধারণার মধ্যে যে একচুলও বাড়াবাড়ি ছিল না, তার প্রমাণ আজকের কাফকা—কাফকায়েস্ক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্রড ছিলেন অত্যন্ত উদার মনের মানুষ। না হলে বন্ধু জগতবিখ্যাত লেখক হবেন, তাঁকে ছাড়িয়ে যাবেন, এইটা সুনিশ্চিত জেনেও তিনি পাণ্ডুলিপি তো পোড়ালেনই না, উল্টো বহন করে বেড়ালেন যক্ষের ধনের মতো। ১৯৩৯ সালে নাৎসি বাহিনী ধরে ধরে ইহুদিদের নিধন করছে। শহরের শেষ ট্রেন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে ব্রড পালিয়ে যাচ্ছেন চেক থেকে। সঙ্গে বেশি কিছু নিতে পারবেন না। নিজেদের প্রয়োজনীয় কাপড়ের স্যুটকেস রেখে নিলেন পাণ্ডুলিপি বোঝাই ট্রাংকটা। কার পাণ্ডুলিপি? ব্রড তো নিজেও লেখক। তাহলে? কাফকার পাণ্ডুলিপি সব নিয়ে নিলেন দেশ ছাড়ার আগে। তখন কিন্তু ব্রডের জীবন নিয়ে টানাটানি। ট্রেনে ধরাও পড়ে যেতেন পারেন নাৎসি বাহিনীর হাতে।

ব্রড কাফকার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি প্রকাশ করলেন তাঁর চিঠিপত্র এবং ডায়েরিও। তিনি সম্পাদনা করলেন সেসব। লিখেছেন কাফকার জীবনীও। তবে একটা অভিযোগ থেকে গেল। তিনি সম্পাদনা করার সময় কাফকার কিছু কিছু লাইন ফেলেও দিয়েছেন। নীতিবাগিশরা এ অভিযোগও তুলেছেন, বন্ধুর শেষ অনুরোধ তিনি কেন রক্ষা করলেন না? কেন পুড়িয়ে ফেললেন না সব?

ভাগ্যিস!!

কাফকার জন্মদিনে ম্যাক্স ব্রডকে স্মরণ করি। কাফকা তাঁকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, বাকিটা ইতিহাস।
ব্যাপারটা বাঙালি দুই লেখকের মধ্যে হলে ভেবে দেখেন?

এইসব দিনরাত্রি নামে হুমায়ূন আহমেদের একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়েছিল। নিমেষেই সারা দেশে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এই...
03/07/2026

এইসব দিনরাত্রি নামে হুমায়ূন আহমেদের একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়েছিল। নিমেষেই সারা দেশে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এইসব দিনরাত্রি তাঁকে স্বাচ্ছন্দ্যও দিয়েছে। এটা লেখার টাকা দিয়ে রঙিন টিভি কিনেছেন। এইসব দিনরাত্রি নাটকটি নিয়ে পরে উপন্যাসও লিখেছিলেন। অনিন্দ্য প্রকাশনীর নাজমুল হক বইটি বের করেন। বইটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। হুমায়ূন আহমেদকে নাজমুল একটি সাদা গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। সে সময় প্রকাশনাজগতে সেটি ছিল বড় ঘটনা।

হুমায়ূন আহমেদ প্রথমবার মিসির আলি লিখলেন। সেই পাণ্ডুলিপি আমি সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্য নিয়ে গেছি সকালে। মিসির আলির পাণ্ডুলিপি পড়েছি ইলাস্ট্রেশন করার জন্য। বিকেলে হুমায়ূন আহমেদকে ফোন করলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘হুমায়ূন ভাই, মিসির আলি কে?’
গম্ভীর গলায় হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘আমিই মিসির আলি। শোনো মাসুক, আমাকে আঁকবে না। তোমার যা মনে হয়েছে, সে রকম আঁকো।’

একদিন হুমায়ূন আহমেদের বাসায় গিয়ে দেখি বারান্দায় তিনি ঝিম মেরে বসে আছেন। জানা গেল, তিনি একটা পরীক্ষা করছেন। আনারস খেয়ে দুধ খেলে কী হয়, তা দেখার জন্য তিনি একটি প্রমাণ সাইজের আনারসের সঙ্গে এক গ্লাস দুধ খেয়ে বসে আছেন। মাঝেমধ্যে এ ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষাগুলো তিনি করতেন। কেউ কিছু বললে সহজে বিশ্বাস করতেন না।

দৈনিক বাংলার ফিচার সম্পাদক সালেহ চৌধুরী ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের খুব ঘনিষ্ঠ। তাঁকে নানাজান বলে ডাকতেন। হুমায়ূন আহমেদ সাপ্তাহিক বিচিত্রায় আমার কাছে এসেই বলতেন, ‘নানাজানরে খবর দাও।’ সালেহ ভাইয়ের আরেক অনুরাগী ছিলেন দাবাড়ু নিয়াজ মোরশেদ। হুমায়ূন আহমেদ আর নিয়াজ মোরশেদকে মাঝেমধ্যেই সালেহ ভাইয়ের টেবিলের সামনে বসে থাকতে দেখা যেত।

সালেহ ভাই একটা ছড়ি ব্যবহার করতেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সালেহ চৌধুরীর স্মৃতিচারণামূলক একটি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছিলাম আমি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তোলা সালেহ চৌধুরীর ছবি প্রচ্ছদে ব্যবহার করেছিলাম। হুমায়ূন আহমেদ সে বই নিয়ে আমার কাছে এসে বললেন, ‘নানাজানকে আসতে বলো।’

সালেহ চৌধুরী এলেন। হুমায়ূন আহমেদ বইয়ের প্রচ্ছদটা দেখিয়ে আমাকে বললেন, ‘এতে একটা মজার ব্যাপার আছে। বের করো তো।’ আমি ঘাবড়ে গেলাম। হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ছবিতে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সালেহ চৌধুরীর হাতে ছড়ি, আর স্টেনগানটা পেছনে রাখা।’

- মাসুক হেলাল
(১৩ নভেম্বর ২০২৩ খ্রি. তারিখে দৈনিক প্রথম আলো’য় প্রকাশিত ‘মজার স্মৃতির হুমায়ূন আহমেদ’ লেখার অংশবিশেষ)
ছবি: নাসির আলী মামুন, ফটোজিয়াম

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক মা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সন্তানটি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। বহু ...
02/07/2026

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক মা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সন্তানটি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। বহু খোঁজাখুঁজির পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে সিলেটের কোনো এক অঞ্চলে যু/দ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু কোথায় তাকে ক/বর দেওয়া হয়েছিল, সে খবর কেউ জানাতে পারেনি।

যখনই সিলেট অঞ্চলের কোন মুক্তিযোদ্ধার খোঁজ পেয়েছেন তখনই তার কাছে ছুটে গিয়েছেন এই মা তাঁর ছেলের ক/বর কোথায় আছে সে বিষয়ে কিছু জানতে। ৪৩ বছর ধরে এভাবেই খুঁজেছেন মা।

অবশেষে একদিন...
এক মুক্তিযোদ্ধার হাতে উঠে আসে বজলুল মজিদ চৌধুরীর লেখা ‘র/ক্তাক্ত ৭১’ বইটি।
সুনামগঞ্জের ডলুরা সীমান্তে ক/বরস্থ শহীদদের তালিকায় দেখা যায় সেই নাম—
শহীদ আতাহার উদ্দিন।

এক মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে খবর পৌঁছায় সেই মায়ের কাছে। খবর পেয়েই মা ছুটে যান ডলুরার পথে।
৪৩ বছর পর,
তিনি খুঁজে পান তাঁর সাত রাজার ধনের মতো সন্তানের ক/বর।

যখন সেই মা তাঁর শহীদ সন্তানের কবর জিয়ারত করছিলেন তখন তাঁর চোখ দিয়ে ঝরে যাচ্ছিল নিরব ঝর্ণা ধারা।

কার্টেসি: গিরিধর দে/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

🔥 এমন একটি বই, যা প্রতিটি মুসলিমের জীবনে অন্তত একবার পড়া উচিত!অনেকেই তাঁর সম্পর্কে জানেন...কিন্তু খুব কম মানুষই তাঁর পু...
30/06/2026

🔥 এমন একটি বই, যা প্রতিটি মুসলিমের জীবনে অন্তত একবার পড়া উচিত!
অনেকেই তাঁর সম্পর্কে জানেন...
কিন্তু খুব কম মানুষই তাঁর পুরো জীবনকে ইতিহাস, গবেষণা ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের আলোকে পড়েছেন।

📖 The Sealed Nectar শুধু একটি বই নয়—
এটি মহানবী (ﷺ)-এর জীবনকে নতুনভাবে জানার একটি অসাধারণ সুযোগ।

🏆 বিশ্বের সীরাত গ্রন্থ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানপ্রাপ্ত এই বইটি আজ কোটি কোটি মানুষের আস্থার নাম।

এই বইয়ে রয়েছে—

✨ ইসলামের পূর্ববর্তী আরব সমাজ

✨ ওহীর সূচনা

✨ মক্কার সংগ্রাম

✨ হিজরত

✨ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা

✨ মহান যুদ্ধসমূহ

✨ বিদায় হজ

✨ মহানবী (ﷺ)-এর শেষ জীবন

💰 রেগুলার মূল্য: ৩০০০ টাকা

🔥 বিশেষ মূল্য: ১৯৫০ টাকা

🚚 ফ্রি ডেলিভারি

💵 Cash on Delivery

📦 সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি।

🤍 সীরাত জানা মানে মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শকে জানা।

28/06/2026

আপনার বাচ্চা জন্য আজই সংগ্রহ করুন এই বইটি।

Address

272, Middle Pirerbag, Mirpur/2, 60 Feet Road, Paka Mosjid
Mirpur
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Book Bank posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Book Bank:

Shortcuts

Share

Category