03/09/2023
লেখাটা পড়ে মনে হলো এটা সব মেয়েদের মনের কথা 🙂
আমার বাবা যে বাড়িটা করেছেন, সেটা তিনতলা। সেখানে আমার পছন্দে করা একটা রুমও নেই। তাকে যখনি বলতাম, এটা এমন না, অন্যরকম করো, তিনি একদিন বলেই ফেললেন, এটা তো তোমার বাড়ি না। তোমার বাড়ি তোমার পছন্দে করে নিও। এখানে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসবে, সেটুক সময়ের জন্য অমন না হলেও চলবে।
আমি চুপ করে গিয়েছিলাম। আমার শ্বশুরবাড়িতেও একটা বাড়ি করা হয়েছে, সেটাও চারতলা। কিন্তু বিয়ের পর থেকে স্বামীর চাকরির জন্য ঢাকাবাসী হওয়ায় ওই বাড়িতে অতিথি হিসেবেই যাওয়া হয়। ওখানে আসলে আমার বলে কিছু নেই। এরপরের বিষয়টা আরো মারাত্মক। যেখানে আমি থাকি, সেই বাসাটাও পুরোপুরি আমার হয়ে ওঠেনি। দুয়েকটা মতের অমিল হয়ে গেলে দুয়েকবার বাসা থেকে বের করে দেবো অথবা যেখান থেকে এসেছ, সেখানে চলে যাও, কোনো সমস্যা নাই, এইরকম কথা শুনে ফেলেছি! ভালোবাসার গল্পের আড়ালে এসব হুট করে বলা কথাটাও কানে ঝুলে থাকে, সরে যায় না। বিষয়টা আসলে কী দাঁড়াচ্ছে তাহলে, এতবড় পৃথিবীতে আমি বা আমার মত অনেক মেয়েই আশ্রিত। নিজের বলে কিচ্ছু নেই।
আমার আজীবন স্বপ্ন, আমার একটা বাড়ি হবে। সেই বাড়িটা আমার মনের মতো করে সাজানো হবে। বাড়ির সামনে বাগানবিলাসের ঝোপ হবে। ড্রয়িংরুমের এক কোণে পা ছড়িয়ে বই পড়ার মতো একটা ডিভান থাকবে৷
একটা মস্ত আকাশ থাকবে ছোট্ট ছাদের ছাউনি হিসেবে, জোছনা রাতে সেখানে ঝুলবে তারাদের শামিয়ানা।
আমার পরে সেই বাড়ি উত্তরাধিকার সূত্রে আমার মেয়ে পাবে। ওর হাত দিয়ে ওর মেয়ে! যেন ওদের কেউ বলতে না পারে যে, বের করে দিবো! অথবা পায়ের নিচের মাটিটা কখনো হালকা না লাগে।
সাড়ে তিন হাতের স্থায়ী বাড়ির আগে এই মর্ত্যলোকের সেই বাড়িটা কি আদৌ করে উঠতে পারব কখনো!
বাড়ি
শানজানা আলম