18/10/2023
ই-লি-শ
ইলিশ মাছ।আ-হা!অমৃত স্বাদের আমাদের প্রিয় মাছ।আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় মাছ।বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে এই রূপালি মাছ আনন্দে বিচরণ করে। আর ডিম ছাড়ার সময় হলে পদ্মা, মেঘনা,যমুনার মিঠা পানিতে এসে মাতৃত্বের সুখ অনুভব করে। আবার ঝাঁকে ঝাঁকে জেলেদের জালে ধরা দিয়ে আমাদের রসনাকেও তৃপ্ত করে।
স্বাদে গন্ধে গুণে পৃথিবীর যেকোনো মাছকে পরাস্ত করার ক্ষমতা রাখে এই মৎসরাজ। তাই বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক আর গর্বের উপাদান হিসেবে ইলিশকে নিয়ে একেবারে আবেগ আহ্লাদে আটখানা ।
অমূল্যে পাওয়া এই অমূল্য সম্পদ একসময় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভোজন বিলাশের সাধারণ উপকরণ ছিল। কিন্তু পহেলা বৈশাখের বাঙালিয়ানার চাদর গায়ে লাগার পর ইলিশ একটি সামন্তচক্রের হাতে বন্দী হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ক্রমশ দুর্লভ হয়ে পড়েছে।
আমাদের একেবারে নিজস্ব এই সম্পদ দৈনন্দিন না হোক সাপ্তাহিক অথবা নিদেন পক্ষে মাসিক একদিনের রসনা বিলাসের উপকরণ হতে পারত।কিন্তু ভরা মৌসুমেও ইলিশ এখন মধ্যবিত্তদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর নিম্নবিত্তদের তো সেটা কল্পনার অতীত। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশের দাদাদের যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠানে ইলিশের সমারোহ দেখে মনে হয় তা যেন আমাদের নয়,তাদেরই জাতীয় মাছ।
কিছুদিন আগে এক শিশুকে "জাতীয় মাছ " কী? জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে বলেছিল "পাঙ্গাশ মাছ"।আর এটা হাস্যকর ভিডিও হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু এটা কি আসলেই হাস্যকর কোনো ব্যাপার? এতে আমাদের কোনো লজ্জার বা অপমানের কিছু নেই? যে শিশু ইলিশ মাছ খাওয়া তো দূর হয়তো কোনোদিন দেখেওনি তার কাছে দুষ্প্রাপ্য ইলিশ নয় সহজপ্রাপ্য "পাঙ্গাশ মাছ "-ই তো জাতীয় মাছ হবে। না কি আমাদের বোধ বুদ্ধি এতটাই লুপ্ত হয়ে গিয়েছে যে কোনো কিছুই আমরা আর ঠাহর করতে পারি না।।।।