30/10/2025
সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে, পুরোনো মসজিদের সামনে এসে থামলেন খতিব সাহেব। নামাজ শেষে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তরুণ সালাম দিল, তিনি হেসে উত্তর দিলেন। তারপর পাঞ্জাবির কলারে হাত দিয়ে হালকা করে ঘ্রাণ নিলেন
একটা শান্ত, গভীর, মসলাদার সুবাস যেন তার পুরো অস্তিত্বে ছড়িয়ে গেল।
এই ঘ্রাণের নাম — উদ হোয়াইট।
বছর দশেক আগের কথা। ফ্রান্সে তৈরি এই আতর প্রথমবার ব্যবহার করেছিলেন তিনি এক ইসলামিক কনফারেন্সে যাওয়ার আগে। সে দিন থেকেই যেন একটা অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেল তার ভেতরে। মানুষ তাকে চিনত তার কণ্ঠের জন্য, বক্তৃতার জন্য—কিন্তু সেদিন থেকে মানুষ তাকে চিনতে শুরু করল এই সুগন্ধির জন্যও।
যেখানেই যেতেন, সবাই বলত,
“হুজুর, আপনার থেকে একটা চমৎকার ঘ্রাণ আসে যেন!”
তিনি শুধু মৃদু হেসে বলতেন,
“আতর না, এটা একটা অনুভূতি।”
প্রতিদিন ফজরের পর তিনি আতরের বোতলটা খুলতেন। প্রথমেই ভেসে আসত মসলাদার নোটের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ—যেন জাগিয়ে দিত ঘুমন্ত মনকে। তারপর আস্তে আস্তে লেভেন্ডার, রোজ ও জেসমিনের ফ্লোরাল মিশ্রণ তার চারপাশে তৈরি করত এক প্রশান্ত পরিবেশ। শেষে এসে ঘ্রাণটা গিয়ে মিশে যেত উডি নোটে—গভীর, রহস্যময়, অথচ স্নিগ্ধ।
তার মসজিদের মিম্বারে বসে দেওয়া খুতবাগুলোতেও যেন সেই সুবাসের মতো এক গভীরতা চলে এল। মানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনত, তার কথা আর ঘ্রাণ — দুটোই যেন মিলেমিশে যেত এক অপরূপ প্রশান্তিতে।
কিন্তু একদিন সেই আতরের বোতলটা শেষ হয়ে গেল। তিনি নতুন বোতল কিনলেন, কিন্তু গন্ধটা আগের মতো লাগল না। বারবার চেষ্টা করেও পেলেন না সেই পুরোনো অনুভূতি। দোকানদার বলল,
“বাজারে অনেক ভেজাল এসেছে হুজুর, এখন অরিজিনাল ফ্রান্সের ‘উদ হোয়াইট’ পাওয়া কঠিন।”
তবুও তিনি খুঁজে গেলেন—প্রতিটি নতুন আতরে নিজের পুরোনো স্মৃতিটাকে ফিরে পেতে চাইলেন।
একদিন হঠাৎ এক ছাত্র উপহার দিল ছোট্ট একটি প্যাকেট। খুলে দেখলেন—বোতলের গায়ে লেখা, “Original Oudh White By Tahura ”। তিনি সন্দিহান চোখে একটু লাগালেন—আর সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এল সেই পুরোনো দিনের সুবাস।
যেন আবার ফ্রান্সের মিষ্টি বাতাসে মিশে গেলেন, মসজিদের মিম্বারে দাঁড়ানো সেই মুহূর্ত ফিরে এল, নীচে তাকিয়ে দেখলেন মানুষ শান্তির ঘ্রাণে ভিজে যাচ্ছে।
তিনি চোখ বন্ধ করলেন। মনে হলো, “এটাই সেই আতর, যা শুধু ঘ্রাণ দেয় না, মনকে প্রশান্ত করে।”
সেদিনের নামাজ শেষে দরজায় এক তরুণ এসে সালাম দিয়ে বলল,
“হুজুর, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব? এই সুগন্ধি টা এত সুন্দর! কোথা থেকে নিয়েছেন?”
খতিব সাহেব হেসে বললেন—
“কি বলো, কিছুদিন পর এরা এক যুগে পদার্পণ করবে... চেনো না তাদের?”
তরুণটি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
হুজুর বললেন ধীরে, মৃদু কণ্ঠে—
“ত্বহুরা পারফিউমস — Tahura Perfumes থেকে আমার ছাত্র হাদিয়ে দিয়েছে।
যারা সস্তায় নয়, সঠিক মূল্যে কোয়ালিটি সুগন্ধির সেবা দিয়ে থাকে।
ওদের কাছ থেকেই এনেছি এই উদ হোয়াইট—ফ্রান্সের অরিজিনাল ঘ্রাণ।”
তরুণটি মাথা নাড়ল শ্রদ্ধাভরে।
তার চোখে যেন দেখা গেল এক ধরনের তৃপ্তি—যেন সে জেনে ফেলেছে শান্তির এক গোপন সূত্র।
সেদিন সূর্য ডুবে গেল ধীরে ধীরে। মসজিদের চারপাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল সেই চিরচেনা সুবাস—
এক প্রশান্ত ঘ্রাণ, যা শুধু পোশাকে নয়, মনেও থেকে যায়।
Copyright ©️
Tahura Perfumes