TakwaShop

TakwaShop TakwaShop is a modern online shopping platform . Here you will find the original product according t

We have made arrangements to deliver the product of your choice within your reach at low cost, limited profit.

৪১৩২. প্রশ্নকোনো ব্যক্তি যদি নামাযে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুধু নিজে শুনতে পায় এতটুকু আওয়াজে কাউকে আসসালামু আলাইকুম বা অন্য কোনো...
03/03/2022

৪১৩২. প্রশ্ন
কোনো ব্যক্তি যদি নামাযে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুধু নিজে শুনতে পায় এতটুকু আওয়াজে কাউকে আসসালামু আলাইকুম বা অন্য কোনো কথা বলে ফেলে তাহলে কি তার নামায ভেঙ্গে যাবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।





উত্তর
নামাযে কাউকে সম্বোধন করে আসসালামু আলাইকুম বললে বা অন্য কোন কথা নিজে নিজে বললেও নামায ভেঙ্গে যাবে। চাই সেটা নিচু আওয়াজে এবং অনিচ্ছাকৃতই হোক না কেন। হযরত মুআবিয়া ইবনুল হাকাম সুলামী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِنّ هَذِهِ الصّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التّسْبِيحُ وَالتّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ.

নিশ্চয় নামাযে কথা বলার সুযোগ নেই। নামায তো কেবল তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩৭)

-মাবসূত, সারাখসী ২/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৪৫; ফাতহুল কাদীর ১/৩৪৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৮; হালবাতুল মুজাল্লি ২/৪২৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬১৫

৫৪৭৬. প্রশ্নআমার খালু ইন্তিকালের সময় ব্যাংকে তার কিছু টাকা ছিল। তিনি এ টাকার ব্যাপারে কাউকে কিছু বলে যাননি। কিন্তু তার স...
22/02/2022

৫৪৭৬. প্রশ্ন
আমার খালু ইন্তিকালের সময় ব্যাংকে তার কিছু টাকা ছিল। তিনি এ টাকার ব্যাপারে কাউকে কিছু বলে যাননি। কিন্তু তার স্ত্রীর (আমার খালার) নামে নমীনি করে গিয়েছেন। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, উক্ত টাকার হকদার কে হবে? শুধু কি তার স্ত্রী (আমার খালা) এ টাকার মালিক হবে, নাকি অন্যান্য উত্তরাধিকাররাও তার অংশ পাবে?

উত্তর
ব্যাংকের নমীনি পদ্ধতি রাখা হয় একাউন্টধারীর মৃত্যুর পর যেন নমীনি মৃতের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিতে পারে। তাকে মালিক বানানোর জন্য নমীনি করা হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার খালুর ব্যাংকে রেখে যাওয়া টাকা তার সকল উত্তরাধিকারীর মাঝে মিরাছনীতি অনুসারে বণ্টিত হবে। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী (আপনার খালা) এককভাবে উক্ত টাকার মালিক হয়ে যাবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ১০৯২

৫৪৮২. প্রশ্নচোখ বন্ধ করে নামায পড়লে আমার মনোযোগ একটু বেশি হয়। তাই আমি নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় সাধারণত চোখ বন্ধ করে রাখি। ...
20/02/2022

৫৪৮২. প্রশ্ন
চোখ বন্ধ করে নামায পড়লে আমার মনোযোগ একটু বেশি হয়। তাই আমি নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় সাধারণত চোখ বন্ধ করে রাখি। কিছুদিন আগে আমার বড় ভাই চোখ বন্ধ করে নামায পড়তে দেখে বললেন, ‘নামাযে চোখ বন্ধ করে রাখ কেন? এভাবে নামায পড়া ঠিক না।’ জানার বিষয় হল, তিনি কি ঠিক বলেছেন? চোখ বন্ধ করে নামায পড়লে কি নামাযের কোনো ক্ষতি হবে? সঠিক মাসআলাটি জানতে চাই।

উত্তর
নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখবে। বিনা প্রয়োজনে নামাযে চোখ বন্ধ করে রাখা মাকরূহ।

عَنْ إِبْرَاهِيمَ النّخَعِيِّ، أَنّهُ كَانَ يُحِبّ لِلْمُصَلِّي أَنْ لاَ يُجَاوِزَ بَصَرُهُ مَوْضِعَ سُجُودِهِ.

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি দৃষ্টি সিজদার স্থান অতিক্রম করে না যাওয়া পছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৬৫৬৩)

عَنْ مُجَاهِدٍ؛ أَنّهُ كَرِهَ أَنْ يُصَلِّيَ الرّجُلُ وَهُوَ مُغْمِضُ الْعَيْنِ.

মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নামাযে চোখ বন্ধ করে রাখা অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৬৫৬৫)

অবশ্য যদি সামনে এমন কিছু আসে, যা নামাযে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, সেক্ষেত্রে মনোযোগ রক্ষার জন্য তখন চোখ বন্ধ করে রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত চোখ বন্ধ রেখে নামায পড়া মাকরূহ।

-কিতাবুল আছল ১/১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৭; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ, পৃ. ৮৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৫

মেয়েদের চুল বিক্রি করা কি জায়েয?অনেক এলাকায় দেখা যায় ফেরীওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জমানো চুল ক্রয় করে। ...
17/02/2022

মেয়েদের চুল বিক্রি করা কি জায়েয?

অনেক এলাকায় দেখা যায় ফেরীওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জমানো চুল ক্রয় করে। আর মহিলারাও অজ্ঞতাবশত চুল বিক্রি করেন।

মানুষের শরীর ও তার অংশবিশেষ কোন ব্যবসায়িক পণ্য নয়। এটি তার মালিকানাতেও নয়। কাজেই মানুষের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা এর কোনো অংশ বিক্রি করা বা তা দিয়ে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। মানুষকে যেমন আল্লাহ তাআলা সম্মানিত বানিয়েছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদি কর্তিত অংশও সম্মানিত এবং এগুলো বিক্রয়যোগ্য কোনো বস্তু নয়। সুতরাং এগুলো বিক্রি করা যাবে না। সম্ভব হলে দাফন করে দেয়া উত্তম।



قَطَعَتْ شَعْرَ رَأْسِهَا أَثِمَتْ وَلُعِنَتْ زَادَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ وَإِنْ بِإِذْنِ الزَّوْجِ لِأَنَّهُ لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ، (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، فصل البيع-6/407

মানুষ সম্মানিত প্রাণী। কোন পণ্য নয়। তাই মানুষের কোন অঙ্গ বা কর্তিত অংশকে ব্যবসায়িক পণ্য হিসিবে ক্রয়বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম। তাই মানুষের চুল, নখ ইত্যাদির ব্যবসা করা জায়েজ নয়।



وَكَذَا بَيْعُ كُلِّ مَا انْفَصَلَ عَنْ الْآدَمِيِّ كَشَعْرٍ وَظُفْرٍ لِأَنَّهُ جُزْءُ الْآدَمِيِّ، وَلِذَا وَجَبَ دَفْنُهُ كَمَا فِي التُّمُرْتَاشِيِّ وَغَيْرِهِ (رد المحتار، كتاب الحظر والاباحة، فصل فى البيع-9/552)

وَشَعْرِ الْإِنْسَانِ وَالِانْتِفَاعِ بِهِ) أَيْ لَمْ يَجُزْ بَيْعُهُ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ لِأَنَّ الْآدَمِيَّ مُكَرَّمٌ غَيْرُ مُبْتَذَلٍ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ شَيْءٌ مِنْ أَجْزَائِهِ مُهَانًا مُبْتَذَلًا (البحر الرائق-6/8، الهندية-3/114

والله اعلم بالصواب

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত রাজির মধ্যে নিঃসন্দেহে স্মৃতিশক্তি এক...
15/02/2022

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়

আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত রাজির মধ্যে নিঃসন্দেহে স্মৃতিশক্তি একটি বড় নেয়ামত। যা আল্লাহ কম বেশী সবাইকে দান করেছেন। যাদের স্মৃতি শক্তি কম বা লোপ পেয়ে শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে তারাই কেবল বুঝতে পারে স্মৃতিশক্তি কত বড় নেয়ামত।

যে সব কারণে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় তা নিম্নে উল্লেখ করা হল :
⇒ গোনাহ করা। এটি স্মরণশক্তি লোপ পাওয়ার একটি অন্যতম কারণ।

⇒ অধিক হাসি ঠাট্টা করা।

⇒ ইস্তিঞ্জার জায়গায় অজু করা।

⇒ মসজিদে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা। ডান পা দিয়ে বের হওয়া।

⇒ ময়লা আবর্জনা দেখা।

⇒ ফলবান গাছের নীচে পেশাব করা।

⇒ অযথা রাগ করা।

⇒ দাঁড়িয়ে পেশাব করা।

⇒ নিজের বা অন্যের লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো।

⇒ বেগানা মহিলা / পুরুষের দিকে তাকানো।

⇒ যিনা ব্যভিচার করা।

⇒ পানাহারের পূর্বে বিসমিল্লাহ না বলা।

⇒ আঙ্গুল দিয়ে খেলা করা। যেমন- কেরাম বোর্ড খেলা।

⇒ হস্তমৈথুন করা।

⇒ কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুখ মোছা।

⇒ দীর্ঘ সময় নির্ঘুম থাকা। ব্রেইনে প্রেশার দিয়ে কাজ করতে থাকা।

⇒ অপ্রয়োজনীয় কথা বলা। সাধারণত বেশী কথা বললে মস্তিষ্কের শক্তি অপচয় হয়। আর এর প্রভাব পড়ে স্মরণশক্তির উপর।

⇒ পরিধানের কাপড় দ্বারা মুখ মোছা।

⇒ টিভি, সিনেমা এবং উলঙ্গ ও অর্ধ-উলঙ্গ ছবি দেখা।

⇒ অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকা বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করা।

যাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে বা স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাদের প্রয়োজন স্মৃতিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। নিম্নে কয়েকটি পন্থা উল্লেখ করা হল। যদি কেউ আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করে উক্ত পন্থা অনুযায়ী চলে, তবে স্মৃতি উন্নত হবে।স্মৃতি বৃদ্ধির আমলসমূহ –
⇒ স্মরণশক্তি বৃদ্ধির আমল সমূহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আমল হল- সব রকম গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

⇒ যথাসম্ভব নির্জনতা অবলম্বন করা।

⇒ চোখের হেফাজত করা। অর্থাৎ প্রয়োজন ব্যতীত এদিক সেদিক না দেখা।

⇒ অবিরাম চেষ্টা করা। নিরলসভাবে চেষ্টা চালালেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ইমাম আবু ইউসুফকে বলেছিলেন ‘তুমি মেধাহীন ছিলে, ক্লাসের উপস্থিতি ও চেষ্টা তোমাকে মেধাবী বানিয়েছে।

⇒ কম খাওয়া।

⇒ রাতের বেলায় মধু খাওয়া।

⇒ দেখে দেখে কুরআন পড়া। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ।

⇒ মিসওয়াক করা।

⇒ নিয়মিত মাথায় তেল দেয়া।

⇒ রাসূল (সা.) এর উপর বেশী বেশী দুরুদ পড়া।

⇒ তিনবার সূরা মুজ্জাম্মিল পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা।

⇒ নারিকেল তেল ব্যবহার করলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

⇒ তিলের তেল ব্যবহার করলে মেধা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়।

⇒ দুপুরে শোয়া সুন্নত, এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে তার মধ্যে একটি হল মেধা বাড়ে।

⇒ নিয়মিত ব্যায়াম করলে স্মরণশক্তি তীক্ষ্ণ হয়।

⇒ সবসময় হাসি খুশি অর্থাৎ টেনশন মুক্ত থাকলে এবং মিষ্টি ভাষায় কথা বললে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

⇒ প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর একবার ফাতেহা, তিনবার সূরা ইখলাস এবং ১১ বার দুরুদ শরীফ পড়ে মুনাজাত করলে এবং মুনাজাতের প্রথমে নবীজীর প্রতি ও ক্রমানুসারে সকল মুসলমানের জন্য ছওয়াব পৌঁছিয়ে নিজের গোনাহের মাফ চেয়ে স্মরণশক্তির জন্য দোয়া করলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

স্মৃতি বৃদ্ধির খাবার সমূহ-
⇒ মধু পান করা।

⇒ মাখনে ভেজে বাদাম খাওয়া।

⇒ মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া।

⇒ ঘি খাওয়া।

⇒ হালাল জন্তুর ঘাড়ের গোশত খাওয়া।

⇒ ফল ফলাদী খাওয়া।

⇒ মিষ্টি আপেল খাওয়া।

⇒ ঠাণ্ডা রুটি খাওয়া।

⇒ ভাত গরম খাওয়া।

⇒ হযরত আলী (রা.) বলেন, স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য মিষ্টি ডালিমকে আবশ্যক মনে করা।

⇒ কিশমিশ খাওয়া।

⇒ বিস্মৃতি দূর করার জন্য দুধ আবশ্যক। কারণ, তা অন্তরে সাহস যোগায় এবং বিস্মৃতি দূর করে।

⇒ এন্টি অক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বাড়ানো কারণ তা স্মৃতি শক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি টাটকা শাক-সবজি, ফলমূল যথা : পাকা পেঁপে, আনারস, কমলা লেবু, আম, কালো জাম, গাজর, পেয়ারা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, পালং শাক ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

⇒ কফি ও চা পান করা, তবে প্রত্যেক দিন তিন কাপের বেশী করা উচিত নয়।

⇒ আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। কারণ পরিষ্কার ও স্বচ্ছ স্মৃতিশক্তির জন্য আয়রন অত্যন্ত কার্যকর। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন : শস্য দানা, ভুট্টা, শিম, কচু শাক ও গাঢ় শাক সবজি ইত্যাদি।যাদের ভুলে যাওয়া অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের উচিত হল ১ কাপ গরম পানিতে ৩/৪ গ্রাম খেসারীর ডাল ভিজিয়ে রেখে ঐ পানি পান করা।

⇒ সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ মধু সামান্য জাফরানের সাথে মিশিয়ে খাওয়া।

যদি কোন জিনিস মুখস্থ রাখতে চান, তবে উচিত হল জিনিসটির প্রতি গভীর মনোযোগ দেয়া। অমনোযোগী অবস্থায় কখনো মুখস্থ হবে না আর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মুখস্থ করার জন্য উত্তম সময় হল রাতের শেষ ভাগে, প্রত্যুষে এবং মাঝ রাতের পর। কারণ এ তিন সময়ে মানুষের মন পরিষ্কার থাকে এবং স্থির থাকে, তাই যে কোন বিষয় শেখা সহজ হয়।

৫৫২৯. প্রশ্নআমাদের এলাকায় একবার আসরের পর এক মায়্যিতের জানাযা উপস্থিত হয়। কিন্তু অভিভাবক ও নিকটাত্মীয়রা আসতে দেরি হয়ে যায়...
14/02/2022

৫৫২৯. প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় একবার আসরের পর এক মায়্যিতের জানাযা উপস্থিত হয়। কিন্তু অভিভাবক ও নিকটাত্মীয়রা আসতে দেরি হয়ে যায়। ফলে মাকরূহ সময় চলে আসে (অর্থাৎ সূর্যের রং বিবর্ণ হয়ে যায়)। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় যে, উক্ত নিষিদ্ধ সময়ে জানাযা পড়া যাবে কি না। কেউ বলেন, পড়া যাবে। কেউ বলেন, পড়া যাবে না; বরং মাগরিবের পর পড়তে হবে। উক্ত মাসআলায় সঠিক সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর
সাধারণ অবস্থায় জানাযার ক্ষেত্রে বিলম্ব না করার কথা হাদীসে এসেছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ، فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا، وَإِنْ يَكُ سِوَى ذَلِكَ، فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ.

তোমরা জানাযাকে দ্রুত নিয়ে যাও। কেননা মৃত বক্তি যদি নেক লোক হয়, তাহলে কল্যাণের দিকেই তোমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছ। আর যদি মন্দ হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তোমাদের ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে দিচ্ছ। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৪৪)

অন্যদিকে আরেকটি হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন সময়ে জানাযার নামায ও অন্যসব নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।

হযরত উকবা বিন আমের রা. বলেন-

ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ، أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتّٰى تَرْتَفِعَ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتّٰى تَمِيلَ الشَّمْسُ، وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتّٰى تَغْرُبَ.

তিনটি সময় এমন রয়েছে, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নামায পড়তে বা আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে (অর্থাৎ তাদের জানাযা পড়তে) নিষেধ করতেন।

১. সূর্য উদিত হওয়ার সময় থেকে (দুই বর্ষা পরিমাণ) উপরে ওঠা পর্যন্ত।

২. দ্বিপ্রহরে ছায়া যখন স্থীর থাকে তখন থেকে সূর্য মধ্যাকাশ থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত।

৩. সূর্য অস্তমুখী হওয়া থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৩১)

অতএব স্বাভাবিক অবস্থায় জানাযা বিলম্ব করবে না। তবে উক্ত নিষিদ্ধ সময়ের আগে জানাযা হাজির হলে ঐ সময় শেষ হওয়ার পর তা আদায় করবে। তবে যদি কোনো ক্ষেত্রে এমন হয় যে, বিলম্ব করলে লাশের ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে বা অভিভাবক ও আত্মীয়দের বেশি সমস্যা হয়, কিংবা জানাযা এমন এলাকায় হয় যেখানে রাতে দাফন করতে অসুবিধা হয়, তাহলে এ ধরনের ওজরের কারণে নিষিদ্ধ সময়ে জানাযা আদায় করে নিতে পারবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২২৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৭, ২২৩; ফাতহুল কাদীর ১/২০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩২৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫২; ইলাউস সুনান ৮/৩৫৮

৫৬৪৯. প্রশ্নআমাদের বাড়ীতে একটি অনুষ্ঠান থাকায় এক দোকানে ৪০ কেজি মুরগির অর্ডার দেই। দোকানদারকে মুরগিগুলো যবাই করে দিতে ...
12/02/2022

৫৬৪৯. প্রশ্ন
আমাদের বাড়ীতে একটি অনুষ্ঠান থাকায় এক দোকানে ৪০ কেজি মুরগির অর্ডার দেই। দোকানদারকে মুরগিগুলো যবাই করে দিতে বলি। সে মুরগিগুলো যবাই করতে শুরু করলে প্রথম কয়েকটি জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। পরে বিসমিল্লাহ বলা ছেড়ে দেয়। তাকে আমি বললাম, আপনি ‘বিসমিল্লাহ’ বলছেন না কেন? সে বলল, একসাথে অনেকগুলো জবাই করলে প্রথমবার ‘বিসমিল্লাহ’ বললেই হয়। পরে আর ‘বিসমিল্লাহ’ না বললেও চলে। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ওই ব্যক্তির কথা কি ঠিক? একসাথে অনেকগুলো মুরগি জবাই করার সময় প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা কি জরুরি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর
ওই ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। একাধিক মুরগি বা পশু জবাই করলেও প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথক ‘বিসমিল্লাহ’ বলা জরুরি। অন্যথায় যে পশুর জবাইয়ের পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হবে না, সেই পশুর জবাই সহীহ হবে না এবং তা খাওয়া হালাল হবে না।

উল্লেখ্য, হালাল-হারামের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের ধারণা অনুযায়ী কাজ করা অন্যায়। এসব ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে মাসআলা জেনে নেওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তৎসংক্রান্ত মাসায়েল জেনে নেওয়া খুবই জরুরি।

-কিতাবুল আছল ৫/৩৯৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৩/৭২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৫৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০২

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান জন্মদান : ইসলাম কী বলে?মুফতি কামরুল ইসলাম—————————————-সারোগেসির অর্থ হলো অন্যের সন্তানকে নিজের...
07/02/2022

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান জন্মদান : ইসলাম কী বলে?

মুফতি কামরুল ইসলাম
—————————————-

সারোগেসির অর্থ হলো অন্যের সন্তানকে নিজের গর্ভে ধারণ করা। সারোগেসি আসলে একটি সহায়ক প্রজনন-ভিত্তিক পদ্ধতি। যেখানে কাঙ্ক্ষিত বাবা-মা অন্য নারীর গর্ভ ভাড়া করেন। ওই গর্ভধারিণী মাকে বলা হয় সারোগেট মাদার। ওই নারীরা অর্থের বিনিময়ে অন্যের শিশু নিজ গর্ভে ধারণ করেন। গর্ভকালীন সময়ে ওই দম্পতি সারোগেট মায়ের গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ যত্ন ও সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেয়।

সন্তান ধারণের জন্য নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌনসম্পর্ক হয়ে থাকে। তবে সারোগেসির জন্য শুধু সারোগেট মাকে প্রয়োজন হয়। প্রথমে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়। এরপর যে দম্পতি সন্তানের মা-বাবা হতে চাচ্ছেন, ওই পুরুষের শুক্রাণু নিয়ে আইভিএফ কৌশলের মাধ্যমে সারোগেট নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়।

বর্তমানে এই পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণ করার প্রবণতা পৃথিবীর এক শ্রেণির মানুষের মাঝে বাড়ছে। মানুষকে এই পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করতে, বহু বড় সেলিব্রেটিরা নিজেদের দেহাবয়ব ঠিক রাখতে এ পদ্ধতি গ্রহণ করছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। নাউজুবিল্লাহ অনেক সমকামীরাও পরিবার শুরু করার জন্য এই পদ্ধতিতে সন্তান নিচ্ছে, যা সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

মহান আল্লাহ জৈবিক চাহিদা পূরণ ও সন্তান গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
هوالذي خلقلكم من نفس واحدة وجعل منها زوجها ليسكن إليها فلما تغشاها حملت حملا خفيفا فمرت به ـ فلما أثقلت دعوا الله ربهما لئن ءاتيتنا صالحا لنكونن من الشاكرين
“তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। তারপর যখন সে তার সঙ্গে সংগত হয় তখন সে এক হালকা গর্ভধারণ করে এবং এটা নিয়ে সে অনায়াসে চলাফেরা করে। অতঃপর গর্ভ যখন ভারী হয়ে আসে, তখন তারা উভয়ে তাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, যদি আপনি আমাদের এক পূর্ণাঙ্গ সন্তান দান করেন, তাহলে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।” (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৮৯)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,
والذين هم لفروجهم حافظون ـ إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم فإنهم غير ملومين ـ فمن ابتغى وراء ذلك فأولئك هم العادون
“আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে রাখে সংরক্ষিত, নিজেদের স্ত্রী বা অধিকারভুক্ত দাসীগণ ছাড়া, এতে তারা হবে না নিন্দিত, অতঃপর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারাই হবে সীমা-লঙ্ঘনকারী”। (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫-৭)

উল্লেখিত আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহ, জৈবিক চাহিদা পূরণ ও বংশ বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে বিশেষভাবে স্ত্রীকে চিহ্নিত করেছেন এবং অধিকারভুক্ত দাসীর মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণের বৈধতা দিলেও বর্তমানে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় এখন আর রাস্তাটি খোলা নেই। অতএব বর্তমান যুগে জৈবিক চাহিদা পূরণ ও সন্তান গ্রহণের একমাত্র মাধ্যম নিজের বিবাহিত স্ত্রী। এর বাইরে কারো মাধ্যমে এসব চাহিদা পূরণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ এর বাইরে গিয়ে এসব চাহিদা পূরণ করে, তবে সে কোরআনের ভাষ্যমতে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

বর্তমান প্রচলিত সারোগেস পদ্ধতি তথা গর্ভ-ভাড়ার মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের কারণে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

এক. সারোগেস পদ্ধতির মাধ্যমে বংশ-পরিক্রমায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

দুই. পরপুরুষের বীর্য বা শুক্রাণু পরনারীর জরায়ুতে প্রবেশ করানোয় যিনার সাদৃশ্য হয়।হাদীস শরিফে এসেছে-

لا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يسقى ماءه زرع غيره

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কেয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার জন্য নিজের পানি (বীর্য) দিয়ে অপরের ক্ষেত সেচ করা বৈধ নয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১১৩১)

তিন. সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয়া শিশুর মা আসলে কে হবেন, তা নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী জন্মদাতা নারীই হয় সন্তানের মা।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

إن أمهاتهم إلا اللائي ولدنهم

তাদের মা তো শুধু তারাই, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে”। (সুরা : মুজাদালাহ, আয়াত : ২)

ফলে সারোগেট মায়ের অনেক আত্মীয়-স্বজন এই সন্তানের নিকট-আত্মীয় বলে বিবেচিত হবে। যাদের ও যাদের সন্তানদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই সন্তানের জন্য হারাম হবে। কিন্তু যেহেতু সারোগেট মা তার ভাড়া পাওয়ার পর সন্তানকে ভাড়া-দাতাদের কাছে হস্তান্তর করে ফেলে, কাজেই এর পর তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ না থাকা স্বাভাবিক। তখন এই শিশু বড় হয়ে কীভাবে শনাক্ত করবে যে, যার সঙ্গে তার বিয়ে হচ্ছে, সে ওই সারোগেট মায়ের সূত্রে তার কোনো হারাম আত্মীয় হয়ে যায় কি না? সারোগেট মায়েদের তো এমন আরো অনেক সন্তান থাকতে পারে, যারা পরস্পর ভাই-বোন হবে, তাদের মধ্যে বিয়ে বন্ধনও হারাম হবে, কিন্তু বড় হওয়ার পর এগুলো শনাক্ত করাও তো সম্ভব হবে না।

এই জটিলতাগুলো সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো, একদিকে যেমন মা-বাবার শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহারের কারণে তাদেরকেই মা-বাবা বলা যায়, অন্যদিকে গর্ভ ভাড়াদাতা (সারোগেট মা) গর্ভধারণের কারণে তাঁকেও মা বলতে হয়। এক কথায় বলতে গেলে এ ধরনের পদ্ধতি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনবে। সারোগেসির কারণে মানব বংশধারার পবিত্রতা হুমকিতে পড়ে যাবে। সন্তানের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

অতএব, উল্লেখিত আলোচনার দ্বারা এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সারোগেসি বা গর্ভ-ভাড়ার মাধ্যমে সন্তান জন্মদান ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও শরীয়ত বিরোধী একটি কাজ। যা পরিত্যাগ করা মুসলিম নর-নারীর জন্য কর্তব্য। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত, এসব বিষয়ে সর্তক থাকা। মহান আল্লাহ তায়ালা সবাইকে শয়তানের সূক্ষ্ম প্রতারণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

৫৫৭৮. প্রশ্নকিছুদিন আগে আমি একবার ফরয গোসলের সময় কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে ভুলে যাই এবং এ অবস্থায় গোসল শেষ করে ফজরের ...
05/02/2022

৫৫৭৮. প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমি একবার ফরয গোসলের সময় কুলি করতে ও নাকে পানি দিতে ভুলে যাই এবং এ অবস্থায় গোসল শেষ করে ফজরের নামায পড়ে ফেলি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিষয়টি মনে পড়লে আমি পুনরায় গোসল করে ফজরের নামায কাযা করি। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার জন্য পুনরায় গোসল করা আবশ্যক ছিল, নাকি শুধু কুলি করা এবং নাকে পানি দিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট ছিল?

উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার জন্য পুনরায় গোসল করা আবশ্যক ছিল না। আপনার যেহেতু কুলি ও নাকে পানি প্রবেশ করানোর কাজই বাকি ছিল তাই এ দুটি কাজ করে নেওয়াই যথেষ্ট ছিল।

-সুনানে দারাকুতনী ১/১১৫; কিতাবুল আছল ১/৩২; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৩৩৮; খিযানাতুল আকমাল ১/৩১; রদ্দুল মুহতার ১/১৫৫

৫৫৮৪. প্রশ্নকোনো কোনো মুসল্লীকে দেখা যায়, তারা জামাতে শরীক হওয়ার সময় যদি ইমাম সাহেবকে সিজদা অবস্থায় পায়, তখন তারা ন...
05/02/2022

৫৫৮৪. প্রশ্ন
কোনো কোনো মুসল্লীকে দেখা যায়, তারা জামাতে শরীক হওয়ার সময় যদি ইমাম সাহেবকে সিজদা অবস্থায় পায়, তখন তারা নিজে নিজে রুকু করে ইমামের সঙ্গে সিজদায় গিয়ে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, তাদের এই কাজ কেমন? এতে কি কোনো সমস্যা আছে?

উত্তর
নামাযের জামাতে শরীক হওয়ার পর ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তাই ইমামকে সিজদায় পেলে তাকবীরে তাহরীমার পর সরাসরি সিজদায় চলে যাবে। এক্ষেত্রে একাকী রুকু করবে না। একাকী রুকু করার পর এই রাকাতকে গণ্য করলে তার নামাযই হবে না। তাই নিজে নিজে রুকু করবে না; বরং তাকবীরের পর ইমামকে যে অবস্থায় পাবে ইমামের সাথে শরীক হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الصَّلَاةَ وَالإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الإِمَامُ.

তোমাদের কেউ যখন নামাযে আসে, তখন ইমামকে যে অবস্থায় পায় সে যেন তাই করে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৯১)

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/১২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১২

৫৫৯০. প্রশ্নআমাদের মসজিদে নির্ধারিত মুআযযিন নেই। এলাকার মুসল্লীরা আযান দেন। সেদিন এক মুরব্বী নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার আগে ...
05/02/2022

৫৫৯০. প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে নির্ধারিত মুআযযিন নেই। এলাকার মুসল্লীরা আযান দেন। সেদিন এক মুরব্বী নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার আগে ঘড়ি না দেখে মাগরিবের আযান দিয়ে দেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর ইমাম সাহেব তাকে পুনরায় আযান দিতে বললে মুরব্বী বলেন, দ্বিতীয়বার আযান দেওয়ার প্রয়োজন কী? একবার দিলেই তো হল। তখন ইমাম সাহেব ওয়াক্ত হওয়ার পর নিজেই আযান দিয়ে দেন। আমার জানার বিষয় হল, দ্বিতীয়বার আযান দিয়ে কি ইমাম সাহেব ঠিক করেছেন? ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে কি ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিতে হবে?

উত্তর
ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিয়ে ইমাম সাহেব ঠিকই করেছেন। কেননা ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে তা সহীহ হয় না। তাই কখনো ওয়াক্তের আগে আযান দিয়ে দিলে ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় আযান দিতে হবে। হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

كَانُوا إِذَا أَذّنَ الْمُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ أَتَوْهُ فَقَالُوا: اتّقِ اللهَ، وَأَعِدْ أَذَانَكَ.

মুআযযিন যদি ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে রাতে আযান দিয়ে দিতেন তাহলে, তাকে বলা হত, আল্লাহকে ভয় কর, পুনরায় আযান দাও। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৮৮৯)

-কিতাবুল আছল ১/১১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; খিযানাতুল আকমাল ১/৪১; আলইখতিয়ার ১/১৪৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৩৭৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬২

Address

Adamjeenagar Siddirganj
Narayanganj
1430

Telephone

+8801993298896

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when TakwaShop posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share