17/08/2026
একটা কাল্পনিক ছোট গল্প ------------
বেশ কয়েক বছর ধরেই সেনবাগের গরীব,দুঃখী,দুঃস্থ,দরিদ্র,অসহায় মৃত মানুষদের জন্য এবং বেওয়ারিশ লাশকে কবরস্থ করার লক্ষ্যে একটা গণ-কবরস্থান এর আইডিয়া মাথায় ঘুরছে।
কিন্তু নানাবিধ কারণেই সাহসে কুলোচ্ছো না।
কারণ?? গত কয়েকটা বছর আমি অর্থনৈতিকভাবে অধোগামী অবস্থায় আছি।
তাই,,আমার হাতে অর্থ সমাগম না থাকলে,,আমার অর্থনৈতিক অবদান/কন্ট্রিবিউশান না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া ১৬আনাই অনুচিত।
চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুমোতে ঘুমোতেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।
আমার গ্রামের এইপাড়া ঐপাড়া আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি আমার বন্ধু বান্ধব,,আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কাছের কয়েকজনকে নিয়ে।
গ্রামের মানুষ আমাকে দেখেই কৌতুহল!!!
কিও শুনলাম তুমি নাকি কাদরা গ্রামে একটা গণ-কবরস্থান এর জন্য জায়গা খুজতেছ???
কাদরা গ্রামে জায়গার অনেক দাম,,এতো জায়গা,,এতো টাকা কোথায় পাবে!!!?? কে দিবে!!!??
আমি তাদের কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম - আচ্ছা কতটুকু জায়গা হলে একটা গণ-কবরস্থান করা যায়/যাবে??
তারা জবাব দিলো,,নুন্যতম এক কানি/১২০ শতক।
আমি জিজ্ঞেস করলাম - কাদরা গ্রামের মধ্যে কি কোথাও একসাথে ১২০ শতক জায়গা পাওয়া যাবে না??
তাদের উত্তর - ২/৩ টা জমি মিলে হয়তো হয়ে যাবে ১২০ শতক বা তারও বেশি।
তবে দাম তো বাবু মেলা পড়বে/ বেশী পড়বে।
আমি জবাব দিলাম - এই দামী সময়েও ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে এগিয়ে আসলে প্রতি শতক জায়গা ৩৫/৪০ হাজার করে সর্বমোট নুন্যতম ১২০ শতক জায়গা গণ-কবরস্থান এর জন্য একত্রিত করা কোন বিষয় নয়।
প্রথমে তারা দ্বিমত করলেও আমি তাদেরকে কাদরা গ্রামের কয়েকটা লোকেশন দেখিয়ে কনফার্ম করলাম ৩৫/৪০ হাজার করে নুন্যতম ১২০ শতক জায়গার ওপর একটা গণ-কবরস্থান গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা।
এরপর তারা আমাকে জিজ্ঞেস করছে -- এখানে তো জায়গা কিনতেই ৫০ লক্ষ টাকার মতো প্রয়োজন।
এতো টাকা তুমি কিভাবে ব্যবস্থা করবে??
আমি জবাব দিলাম - প্রথমত আমি নিজের পকেট থেকে নুন্যতম ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে গণ-কবরস্থানটি আমার জীবদ্দশায় সুন্দরভাবে গড়ে তুলবো।
তারা আমাকে প্রশ্ন করলো- বাকি টাকা কোথায় পাবে??
আমি তাদেরকে জবাব দিলাম - দল,মত নির্বিশেষে আপনারা আমার পাশে থাকবেন,,এই প্রতিশ্রুতি আপনারা আমাকে আল্লাহর ঘরে বসে দিতে পারলে টাকা ব্যবস্থা করার নেতৃত্বও আমি দিতে পারি,,ইনশাআল্লাহ।
আগামী শুক্রবার তুলাবাড়ির মসজিদে জুমার নামাজের পরে আমাদের গণ-কবরস্থান নিয়ে মুসল্লীদের সাথে উম্মুক্ত পরামর্শ সভা।
তারপরের শুক্রবার ছয়বাড়িয়া জামে মসজিদে,,তারপরের শুক্রবার আরেকটি জুমা মসজিদে আরেকটা পরামর্শ সভা।
এভাবেই কাদরা গ্রামের সকল জুমা মসজিদে পরামর্শ সভা করতে করতেই ৩০ লক্ষাধিক টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে,, আলহামদুলিল্লাহ।
ইতিমধ্যে গ্রামের গন্যমান্যদের সমন্বয়ে একটা পরামর্শ পরিষদও গড়ে উঠেছে।
তাদের নেতৃত্বে এমপি,পৌরসভা মেয়র,,উপজেলা চেয়ারম্যান সহ সকল স্তরের স্থানীয় সরকার নেতৃবৃন্দ,,রাজনৈতিক,,সামাজিক নেতৃবৃন্দ,,ব্যবসায়ী,শিল্পপতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় আমাদের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ালো ১ কোটি টাকারও অধিক।
এইবার আমাদের জায়গা কেনার পালা।
কাদরা গ্রামের এক প্রান্তে রাস্তা থেকে ১/২ প্লট ভেতরে / পিছনে একসাথে প্রায় দেড় কানি/১৮০ শতক জায়গা আমরা কিনে নিলাম গণ-কবরস্থান করার জন্য।
রাস্তা থেকে ১৫ ফুট প্রস্থ করে একটা সড়ক তৈরী করা হলো গণ-কবরস্থানে পৌছানোর জন্য।
টানা ২/৩ বছর ধরে বাউন্ডারি করে মাটি ভরাট করে এবং মাঝেমধ্যে কিছু খেজুরের চারা রোপণ করে সেই গণ-কবরস্থানকে দৃশ্যমান করা হলো।।
আমি সেই গণ-কবরস্থানে হাঁটতে হাঁটতে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছি,, নিজে নিজেই জবাব দিচ্ছি,, নিজে নিজেই হাঁসছি।
হঠাৎ করেই ফজরের আজানের ধ্বনি আমার কানে বেজে উঠলো,,আর এমনিতেই চোখের ঘুম ভেঙে গেলো।
আমি আলহামদুলিল্লাহ পড়তে পড়তে ভাবছি--
কত শত শত ভোরে এই ফজরের আজান শুনেও নামাজ না পড়েই আবারও ঘুমিয়ে গেছি!!!
কত শত দিন মা,বাবাকে ফাঁকি দিতে ফজরের আজানের পরে ওয়াশরুমে/ টয়লেটে গিয়ে পানির ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে হাত-পা নাড়াচাড়া করে মা,বাবাকে বুজিয়েছি আমি ওজু করছি!!!
কিন্তু আসলেই ঐটা আমার ওজু ছিল না,,ছিল ধোঁকাবাজী।
আজকে যেহেতু আমার আল্লাহ আমাকে এমন স্বপ্নই দেখার সুযোগ করে দিয়েছে,,আজকে অবশ্যই আমি ফজরের নামাজ আদায় করে ২ রাকআত নফল নামাজ পড়ে তবেই না আবারও ঘুমাবো।
পুনশ্চঃ আল্লাহর ওয়াস্তে এই গল্পটিকে কাল্পনিক গল্পই মনে করবেন।