27/08/2023
মুসনাদে আহমাদের একটি হাদীসে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুস্তনতুনিয়া বা কনস্টান্টিনোপল জয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন। এই হাদীসের কারণে মুসলমানরা শুরু থেকেই এই শহর জয়ের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
কনস্টান্টিনোপলের অবস্থান এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে। তুর্কী ভাষায় এই শহরের নাম ইস্তাম্বুল। ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টান্টিন দ্য গ্রেট এই শহর প্রতিষ্ঠা করে। কালে কালে এই শহর হয়ে ওঠে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী।
সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (১৪৩২-১৪৮১)। উসমানি সালতানাতের সপ্তম সুলতান। ইতিহাসখ্যাত মহান বীর। বহু গুণ ও প্রতিভাধর এক সম্রাট। উসমানি সালতানাতের আধ্যাত্মিক বুজুর্গ শাইখ আক শামসুদ্দিনের হাতেগড়া শিষ্য। মাত্র ১১ বছর বয়সেই আনাতোলিয়ার 'মানেসা'র শাসনভার হাতে নেন। আবার মাত্র ১৪ বছর বয়সে গোটা সালতানাতের সুলতান সাব্যস্ত হন! এতটুকুন বয়সে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে চাপিয়ে দেন পিতা সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ।
একদিন রাতেরবেলা। শাহজাদা মুহাম্মাদ আল ফাতিহ শাইখ আক শামসুদ্দিনের কাছে পড়ছেন। ইত্যবসরে হন্তদন্ত হয়ে তাঁদের কামরায় প্রবেশ করল একজন দূত। এসেই শশব্যস্ত কণ্ঠে বলল, বাইজেন্টাইন সেনারা আক্কা, সায়দা ও বৈরুত দুর্গে অতর্কিত হামলা করে হাজার হাজার নারীকে বন্দি করে কনস্টান্টিনোপল নিয়ে গেছে!
দুঃসংবাদটা শুনতেই শাহজাদা মুহাম্মাদ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কিতাব বন্ধ করে আনমনে বসে রইলেন। বেশ কতক্ষণ এভবেই কেটে গেল। একসময় তাঁর চোখ দুটো অশ্রু টলোমলো হয়ে উঠল। একটু দূরে গিয়ে, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হেচকি দিয়ে কান্না করতে লাগলেন। কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন তাঁর উস্তাদ শাইখ আক শামসুদ্দিন। তিনি তাঁর কাঁধে হাত রাখলেন। প্রবোধ দিয়ে বললেন-
-শাহজাদা! চিন্তা করো না। ইনশাআল্লাহ অচিরেই একদিন তুমি কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। তবে, বিজয়ের দিন মুজাহিদদের মধ্যে ইনসাফ বিজায় রাখবে!
শাইখ তাঁর পাগড়িটা খুললেন। আগে বেড়ে ছোট্ট শাহজাদার মাথায় পরিয়ে দিলেন। তাঁকে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন। আল্লাহর রাসুলের ভবিষ্যৎবাণী শুনিয়ে দিলেন, 'অচিরেই কনস্টান্টিনোপল জয় করা হবে। কতইনা উত্তম সেই সেনাদল এবং কতইনা উত্তম সেই দলের সেনাপতি!' এরপর সুরা রা'দের ৩৮ নং আয়াতখানা তিলাওয়াত করে বুঝালেন, প্রতিটি বস্তর নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে।
১৪৪৪ সালে, শাহজাদা মুহাম্মাদের ১৪ বছর বয়সে সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ পুত্রের হাতে সালতানাতের শাসনভার সমঝিয়ে অবকাশ যাপনে চলে যান। মাত্র দুইবছর শাসন পরিচালনা করার পর আন্তঃ রাজনৈতিক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে পুনরায় সুলতান মুরাদ ক্ষমতায় আসেন। এরপর ১৪৫১ সালে আবারও পুত্রের হাতে শাসন ছেড়ে দিয়ে তিনি অবকাশে চলে যান। তরুণ সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ প্রায়দিন রাতের অন্ধকারে বসফরাস প্রণালির তীরে গিয়ে কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীর লক্ষ করে বলতেন, 'আর বেশিদিন দূরে নয়; হয়তো আমি কনস্টান্টিনোপল জয় করব, নতুবা এর জন্য শাহাদাত বরণ করব!'
বস্তুত, সেই ছোট্ট বয়স থেকেই শাহজাদা মুহাম্মাদ আল ফাতিহের নরম তুলতুলে অন্তরে শাইখ আক শামসুদ্দিন কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের বীজ বুনে দিয়েছিলেন। যে বীজ কালের আবর্তে, অঙ্কুরিত হয়ে, কান্ডবিশিষ্ট হয়ে, পত্রপল্লবে সুশোভিত হয়েছিল। এরপর ফল দিয়েছিল ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের মাধ্যমে। এজন্য সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহকে কনস্টান্টিনোপলের বাহ্যিক বিজেতা আর শাইখ আক শামসুদ্দিনকে আধ্যাত্মিক বিজেতা বলা হয়। ©
ইস্তাম্বুল (টি-শার্ট)
কালার: মেরুন এবং কালো।
সাইজ: M - L - XL - XXL
ফেব্রিক: ১৬০ জিএসএম, ৯৫% কটন ৫% স্পেন্ডিক্স।
অর্ডার করতে যোগাযোগ করুন:
m.me/ummeed.bd
01979-323610