10/12/2019
আমরা বর্তমান ব্লগার
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করা কতটা সহজ তাইনা?বাংলাতে নিজের মতো করে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করা।তারপর গুগল এডসেন্সের এড বসিয়ে শত শত ডলার ইনকাম করা।
-হুমম, বর্তমান ব্লগিং করা মানুষগুলো এরকমই স্বপ্ন দেখে ব্লগিংয়ে নেমে পড়ে।কিন্তু বছর শেষে কষ্টের টাকায় কেনা ডোমেইনটি রিনিউ না করা অবস্থায় পড়ে থাকে।একসময় কেনা সেই ডোমেইনটি এক্সপায়ার্ড ডেটে হারিয়ে যায়।
-হয়তবা সেই ব্লগারদের জানা নেই যে, তার কেনা সেই ডোমেইনটি একসময় লক্ষ টাকায় বিক্রি হতে পারে।ব্লগিং সেক্টরে সফল না হোক,অন্তত সেই ডোমেইনটি বিক্রি করেই একসময় অঢেল টাকার মালিক হতে পারবে।
-আমাদের দেশে চাকরি স্বল্পতা/স্বজনপ্রীতির কারনে অনলাইনে ইনকাম করাটা বেশ ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসছে।সে কারনেই অনেকেই নেমে পড়ছে আউটসোর্সিং ও ফ্রীল্যান্সিংয়ের মতো বড় বড় সেক্টরগুলোতে।
-ঠিক তেমনি "ব্লগিং" অনলাইন ইনকামের বড় একটা অংশ জুড়ে অবস্থান করে আছে।কিন্তু আমরা বর্তমান ব্লগাররা কি সেই ব্লগিং সেক্টরকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি?
-না! হয়তবা হিসেব করলে দেখা যাবে ১ হাজারে ৫০ জন সফল হতে পারছি।আর বাকিরা? - ঐ যে বললাম, বছর শেষে কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা ডোমেইনটা রিনিউ করতে পারিনা।
-এর প্রধান কারন কি জানেন?
-আমার ধৈর্যের অভাব। আমার লেখা এই পোষ্টটি যদি ৩০ জন পড়া শুরু করে থাকেন।তাহলে এতক্ষনে ২০ জন স্কিপ করে চলে গেছে।এটা আমি শিওর।তাহলে কারা এখনও এই পোষ্টটি পড়ছে তাহলে?
-হুমমম! আপনিই সেই ব্যক্তি।যার ধৈর্য শক্তি অসীম।পাছে লোকে কি বলবে, সেগুলোকে আপনি পরোয়া করেন না। আপনি মনযোগ দিয়ে রিসার্চ করতে পারেন।এবং সবশেষে আপনিই একদিন সফলতার মুখ দেখবেন।
-তাহলে চলুন,আপনার সাথেই ব্লগিংয়ের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।মূলত ব্লগিং সেক্টরটা ঝটপট করে সফলতা পাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।এটা হয়তবা আপনি এতদিনে জেনে গেছেন। তাইনা?
-এই সেক্টর এমন একটা সেক্টর।যেখানে আপনি হরিণের মতো ছুটতে পারলেও।আপনাকে আপনার গতিকে কিছুটা কচ্ছপ গতিতে নিয়ে আসতে হবে।কারন,ব্লগিংয়ের মুল কর্নধার হলো "রিসার্চ" করা।আপনি যতোবেশি রিসার্চ করবেন,ততোবেশি জানতে পারবেন।
-আমরা সব ব্লগাররা সবকিছু একসাথে করতে চাই।যেমন,ব্লগের ডোমেইন সিলেক্ট + কিওয়ার্ড রিসার্চ +কন্টেন্ট রাইটিং + এসইও। কিন্তু আপনি একটু ভেবে দেখুন তো, অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে অনেকেই আছেন।যারা ভ্যালুয়াবেল ডোমেইন বিক্রি করেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে।আবার অনেকেই আছেন, যারা কিওয়ার্ড রিসার্চ এবং এসইও সার্ভিস প্রোভাইড করেই লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।বাকি থাকলো, "কন্টেন্ট রাইটিং"- আপনি ব্লগিং করলে এটা অবশ্যই জেনে থাকবেন। ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে একজন কন্টেন্ট রাইটারের মূল্য কতটুকু।
-এখন একটু ভেবে দেখুন , এই তিনটি ধাপ একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব? - হ্যাঁ! অবশ্যই সম্ভব।তবে সেই মানুষটিকে অনেক ধৈর্য নিয়ে লেগে থাকতে হবে।ব্লগিংয়ের সাথে যুক্ত এই ধাপগুলিকে পরিপূর্ণভাবে শিখতে হবে।
-কিন্তু আপনিও যদি অন্যদের মতো ১ বছরের জন্য ডোমেইন কিনে ব্লগিং শুরু করেন।তারপর বছর শেষে ইনকাম না হলে, ব্লগিংকে সমাপ্ত বলে বিদায় জানালে তো হবে না।
-আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইটিকে একটি ব্রান্ডে পরিনত করতে যাচ্ছেন।আর একটা ব্রান্ড ততোদিন জনপ্রিয়তা পাবেনা।যতোদিন সেই ব্রান্ড একটা জনবহুল কমিউনিটি তৈরি করতে পারবেন না।
-ট্রিকবিডি কিংবা টেকটিউনসের মতো ওয়েবসাইটগুলো একদিনে এতো জনপ্রিয়তা পায়নি।তার জন্য কত সময় ব্যায় করতে হয়েছে।সেটা একমাএ সেই ওয়েবসাইটের মালিকরাই বলতে পারবে।যদিও তাদের সময়ে বর্তমান সময়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো না। তবুও তাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক শেখার আছে।
-২০১৯ সালে যতোগুলো বাংলা ব্লগের জন্য ডোমেইন কেনা হয়েছে।সেগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ডোমেইন রিনিউয়ের অভাবে পড়ে থাকবে।বাকি ২০% ডোমেইন আপনার মতো হাল না ছাড়া পাবলিকদের ওয়েবসাইট গুলোতে জীবিত থাকবে।
-তাই প্রতিদ্বন্দ্বীতার ভয়ে পিছিয়ে পড়বেন না। বরং আপনার ওয়েবপেজটি পুরাতন হওয়ার কারনে গুগলের Search Rank এ পজেটিভ ইফেক্ট ফেলবে।
-আপনি কতদ্রুত সফলতা অর্জন করবেন।সে চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত না রেখে, কি কি শিখছেন আর কি কি শেখা বাকি আছে।সেগুলোতে মনযোগ দিন।এভাবে হয়তবা একটু সময় ব্যয় হবে।কিন্তু আপনার জানার আগ্রহটা আরও মজবুত হবে।
-নিজে নিজেই একটা সিলেবাস তৈরি করুন।আপনি এসইও শিখতে কতদিন সময় নিবেন, কন্টেন্ট রাইটিংয়ে কতদিন সময় নিবেন।তাহলে আপনি নিজে থেকেই অনুমান করতে পারবেন যে ব্লগিং কি তা জানতে আপনার কতদিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।এভাবে নিজে নিজে সিলেবাস তৈরি করে নিতে পারলে,আপনাকে আর ফেসবুক গ্রুপগুলোতে গিয়ে পোষ্ট করতে হবেনা যে,"এসইও শিখতে কতদিন লাগতে পারে,অভিজ্ঞরা কমেন্টে জানাবেন"?
-যখন আপনি আপনার শেখার ধাপগুলো সঠিকভাবে শেষ করতে পারবেন।তখন আসবে আপনার অর্জিত জ্ঞানগুলোকে প্রয়োগের পালা। আপনাকে প্রতিনিয়ত সেগুলোকে চর্চা করে যেতে হবে।
-আপনি একটা ওয়েবসাইটে আপনার অর্জিত এসইও টিপসগুলো প্রয়োগ করলেন।এমনটা হতে পারে,আপনার জানা এসইও ট্রিকগুলো ঠিক সেভাবে কাজ করলোনা। তার মানে কি আপনি ব্লগিং সেক্টরকে গুডবাই জানিয়ে চলে যাবেন?
-ভাই সফলতা এতোটা সহজ নয়।ইউটিউবে দু-চারটা ভিডিও দেখলাম।তারপর সেই অনুযায়ী কাজ করলাম।আর মাস শেষে সরকারি চাকরির সমান টাকা উপার্জন করলাম।যদি এতোটাই সহজ হতো,তাহলে কেউ চাকরির পেছনে ছুটতো না।সবাই ব্লগ সেক্টরে আসতো ব্লগিং করার জন্য।
-আপনি একটা সাইটকে Google Rank করাতে পারেননি।তাতে কোনো সমস্যা নেই।আপনি আপনাকে আরও দৃঢ হতে হবে।সেই সাইটের পাশাপাশি আপনি আরও কয়েকটি সাইট ক্রিয়েট করে কাজ করতেই থাকুন।
-হয়তবা দেখা যাবে, আপনার ১০ টা সাইটের মধ্যে ১ টি মাএ সাইট গুগলে খুব ভালো Rank করতে পেরেছে।এবার বাকি ৯ টি সাইটের কথা বাদ দিয়ে Google এ Rank করা ঐ ১ টি সাইটে এমন কিছু দিন।যেন সেই সাইট থেকেই আপনি যথেষ্ট পরিমান লাভবান হতে পারেন।
-কিন্তু যদি আপনার কাজ করা ১০ টি সাইটের মধ্যে কোনোটাই Google Rank না করে, তাহলে? -তখন আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি এতোদিনে যেগুলো শিখে এসেছেন।সেগুলোতে শেখার কিছু ঘাটতি আছে।আপনাকে আরও জানতে হবে।আপনাকে আরও বুঝতে হবে ব্লগিং সম্পর্কে।
-আপনি আপনার জানার আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে তুলুন।প্রথমে খুজে বের করুন, কোথায় আপনার শেখার ঘাটতি আছে।কোন বিষয়টিতে আপনার দুর্বলতা আছে।সেটিকে খুজে বের করুন।তারপর সেই বিষয়গুলকে যতোদ্রুত সম্ভব ইমপ্রুভ করার চেস্টা করুন।
-আপনি আপনি যদি সাধারন মানুষদের মতো করেন। যে কয়েকটা কন্টেন্ট পাবলিশ করলেন।তারপর গুগল এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করলেন।কিন্তু কারনবশত এপ্রুভাল পেলেন না।মন খারাপ করে ব্লগিং ছেড়ে দিলেন।
-কিন্তু ব্লগিংয়ে হাল ছেড়ে দেয়া সেই মানুষটি হয়তবা জানেনা। গুগল এডসেন্স ছাড়াও যে আরও কতভাবে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইনকাম করা সম্ভব।
-আচ্ছা, ঠিক আছে।আমি ধরে নিলাম,আপনি গুগল এডসেন্স পেয়ে গেলেন।কিন্তু আপনি এসইও+কন্টেন্ট রাইটিং + কিওয়ার্ড রিসার্চ এসবের কোনোটাই ভালোভাবে জানেন না। তাহলে আপনার সাইটকে আপনি ইমপ্রুভ করবেন কিভাবে? সাইটে ভিজিটর আনবেন কিভাবে? আর সবশেষে মুল বিষয়, আপনি ইনকাম করবেন কিভাবে?
-এর অর্থ দাঁড়ালো,আপনি এডসেন্স তো ঠিকই পেয়ে গেলেন।কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার আপনি করতে পারলেন না। তাহলে আপনি একজন ব্লগার হলেন কিভাবে? আপনাকে "ভুলগার" বললে ভুল হবেনা নিশ্চই।
-আগে নিজের একটা অথরিটি তৈরি করতে শিখুন।যেহুতু আপনি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাচ্ছেন।সেহুতু অনলাইনে আপনার উপর বিশ্বাস করে।এমন একটা বড় কমিউনিটি তৈরি করতে শিখুন।
-আজকের দিনে যদি আপনি কোনো এসইও নিয়ে কোর্স বের করেন।তাহলে আপনার কোর্স যে পরিমান সেল হবে।তার থেকে দ্বিগুন পরিমান কোর্স সেল হবে,যদি ফারুখ ভাই অথবা শামীম ভাই কোর্স সেল করে। বলতে পারবেন,এর কারন কি?
-এর প্রধান কারন হলো, তারা অনেক আগে থেকেই আপনার চেয়ে বড় কমিউনিটি বিল্ডআপ করতে পেরেছে।গোটা বাংলাদেশে তারা তাদের নিজেদের একটা অথরিটি তৈরি করতে পেরেছে।
-তাহলে কি আপনি তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না?
-অবশ্যই পারবেন।আপনার জেনে নেয়া উচিত,ফেসবুক আবিস্কারের পূর্বেও কিন্তু অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ছিলো।কিন্তু সেগুলোকে পিছনে ফেলে একসময় ঠিকই ফেসবুক তার প্রাপ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
-ঠিক তেমনি আপনিও তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।তবে তাদের থেকে আপনাকে আরও ভালো কিছু জানতে হবে।খুজে বের করতে হবে, তারা মানুষকে এমন কোন টিপসগুলো মানুষকে দিতে পারেনি।
-যখন আপনি সেগুলো জানতে পারবেন।ঠিক তখনি আপনিও আপনার নিজস্ব একটি অথরিটি ক্রিয়েট করতে পারবেন।সফলতা কি তখন বুঝতে পারবেন।ঠিক সে সময়ে আপনিও এসইও নিয়ে বড় বড় প্ল্যাটফর্ম গুলো থেকে বাহবা পাবেন।
-আজকের পোষ্টের মুল উদ্দেশ্য ছিলো, আপনাদেরকে মোটিভেট করা। যেন,সামান্য ব্যার্থতায় আপনারা পিছিয়ে না পড়েন।
-দেখা হবে, পার্ট ২ তে।আর আপনাদের রেন্সপন্স পেলে ধারাবাহিকভাবে লিখে যাবো।
।ধন্যবাদ।