29/08/2026
-"কোরআন হল সকল সন্দেহের উর্দ্ধে"! পক্ষান্তরে ধর্মের অন্যান্য সহীহ বইগুলি কেবল অনুমান নির্ভর যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত নয়"! কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন...
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২)"ইহা সেই কিতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ - নির্দেশ।"
কুরআনকে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তার কোনও সুযোগ নেই।অন্যথায় মানুষ যখন আল্লাহর সামনে বিচারের জন্য দাঁড়াবে, তখন তার কাছে অজুহাত থাকবে। এই কারণে, আল্লাহ তার বইয়ের পাঠ্যটি বিকৃতির যে কোনও প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং আল্লাহই সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
(সূরাঃ হা-মীম-সেজদাহ ৪১, আয়াত ৪১,৪২)"যাহারা উহাদের নিকট কুরআন আসিবার পর উহা প্রত্যাখ্যান করে তাহাদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হইবে; ইহা অবশ্যই এক মহিমময় গ্রন্থ - কোন মিথ্যা ইহাতে অনুপ্রবেশ করিতে পারে না - অগ্র হইতেও নয়, পশ্চাৎ হইতেও নয়। ইহা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ আল্লাহ্র নিকট হইতে অবতীর্ণ।"
কুরআন ব্যাতীত কল্পনা আর অনুমান নির্ভর সকল উপাসনা পদ্ধতি আল্লাহ বাদ দিতে বলেছেন। নবীর নামে কুরআনের পাশাপাশি যত ইবাদত বা বিধিবিধানমান্য করার পদ্ধতির বই আছে এগুলো মিথ্যা, এগুলো কিছুই নয়। এগুলোকে আমরা শরীক বানিয়ে শিরক করি।
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৬৬)"জানিয়া রাখ! যাহারা আকাশমণ্ডলে আছে এবং যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহারা আল্লাহ্রই। যাহারা আল্লাহ্ ব্যতীত অপরকে শরীকরূপে ডাকে, তাহারা কিসের অনুসরণ করে ? তাহারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তাহারা শুধু মিথ্যাই বলে।"
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৪৮)"যাহারা শির্ক করিয়াছে তাহারা বলিবে, ‘আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করিতেন তবে আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষগণ শির্ক করিতাম না এবং কোন কিছুই হারাম করিতাম না।’ এইভাবে তাহাদের পূর্ববর্তীরাও প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল, অবশেষে তাহারা আমার শাস্তি ভোগ করিয়াছিল, বল, ‘তোমাদের নিকট কোন যুক্তি আছে কি? থাকিলে আমার নিকট তাহা পেশ কর; তোমরা শুধু কল্পনারই অনুসরণ কর এবং শুধু মনগড়া কথা বল।’
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩৬)"উহাদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না, উহারা যাহা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।"
(সূরাঃ আন-নাজম ৫৩, আয়াত ২৩)"এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে আল্লাহ্ কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।"
(সূরাঃ আন-নাজম ৫৩, আয়াত ২৮)"অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।"
সমস্ত যুগের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলি কখনও সত্যকে অনুসরণ করে না বরং এর পরিবর্তে তাদের আলেম উলামা মাশায়েক ঈমামদের অনুমানগুলির অনুসরণ করে। আল্লাহ বলেন....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১১৬)"যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।"
মুসলমানরা অযৌক্তিক হাদীস, তাফসির গ্রন্থগুলি এবং ফিকাহ বইগুলিকে পবিত্র বলে বিশ্বাসী। তারা এগুলিকে মুহাম্মদ এবং সাহাবী/ঈমামদের কাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাওয়া স্বীকৃত 'সত্য' শিক্ষা বলে ধরে নিয়েছে, যদিও এগুলো কখনোই সন্দেহমুক্ত ছিল না বা এর সত্যতা প্রমাণ করা কোন ভাবেই সম্ভব না। মোল্লারা নিছক লোক পরম্পরায় শোনা অনুমানগুলি অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়। যদিও আল্লাহর কাছে কুরআন ব্যাতিত অন্যকিছুর অনুসরণের নির্দেশ নেই।
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ১০৫)"আমি সত্যসহই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং উহা সত্যসহই অবতীর্ণ হইয়াছে। আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি।"
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩২)"তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের সত্য প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করিবার পর বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কী থাকে ? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হইতেছ ?"
(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ৩০)"এইগুলি প্রমাণ যে, আল্লাহ্ই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে, তাহা মিথ্যা। আল্লাহ্, তিনি তো সমুচ্চ, মহান।"
(সূরাঃ ফাতির ৩৫, আয়াত ৩১)"আমি তোমার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি তাহা সত্য, ইহা পূর্ববর্তী কিতাবের প্রত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁহার বান্দাদের সমস্ত কিছু জানেন ও দেখেন।"
(সূরাঃ আল-ইমরান ৩, আয়াত ৬২)"নিশ্চয়ই ইহা সত্য ভাষণ। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য বিধানদাতা নাই; নিশ্চয় আল্লাহ্ পরম প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরাঃ আল-ওয়াকিয়া ৫৬, আয়াত ৯৫)"ইহা তো ধ্রুব সত্য।
(সূরাঃ আল-হাক্বাক্বাহ ৬৯, আয়াত ৫১)"অবশ্যই ইহা নিশ্চিত সত্য।"
কুরআনই একমাত্র হাদিস যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত।আল্লাহ কুরআনকে "হাদিস/حَدِيثٍ" শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই একমাত্র এবং সর্বোত্তম "হাদিস" যা আমাদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
(সূরাঃ আল-যুমার ৩৯, আয়াত ২৩)"আল্লাহ্ অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী/হাদিস সম্বলিত কিতাব যাহা সুসমঞ্জস এবং যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। ইহাতে, যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাহাদের দেহমন বিনম্র হইয়া আল্লাহ্র স্মরণে ঝুঁকিয়া পড়ে। ইহাই আল্লাহ্র পথনির্দেশ, তিনি উহা দ্বারা যাহাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ্ যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।"
(সূরাঃ আত্ব-তূর ৫২, আয়াত ৩৩,৩৪)"উহারা কি বলে, ‘এই কুরআন তাহার নিজের রচনা?’ বরং উহারা অবিশ্বাসী। উহারা যদি সত্যবাদী হয় তবে ইহার সদৃশ কোন রচনা/হাদিস উপস্থিত করুক না!"
(সূরাঃ আন-নিসা ৪, আয়াত ৮৭)"আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত অন্য কোন বিধানদাতা নাই ; তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্র করিবেনই, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। কে আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী/সত্যহাদিস বলে?"
(সূরাঃ আল-কলম ৬৮, আয়াত ৪৪)"ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহারা এই বাণীকে/হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদেরকে, আমি উহাদেরকে ক্রমে ক্রমে ধরিব এমনভাবে যে, উহারা জানিতে পারিবে না।"
(সূরাঃ আল-মুরসালাত ৭৭, আয়াত ৫০)"সুতরাং উহারা কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিবে?.
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৮৫)"তাহারা কি লক্ষ্য করে না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং আল্লাহ্ যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার সম্পর্কে এবং ইহার সম্পর্কেও যে, সম্ভবত তাহাদের নির্ধারিত কাল নিকটবর্তী, সুতরাং ইহার পর তাহারা আর কোন্ কথায়/হাদিসে বিশ্বাস করিবে!"
আয়াতগুলিতে প্রশ্নের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের মৃত্যুর সময়টি ঘটানোর আগে চিন্তা করতে বলেছেন। আল্লাহ একমাত্র কুরআনে বিশ্বাসকে তাঁর প্রতি বিশ্বাস করার সমান করেছেন। কুরআনের হাদিস ছাড়া অন্যকোন হাদিসে যেমন বিশ্বাস করা উচিত নয়, তেমনি আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা বিধানদাতা ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রকৃত বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর বাক্যই যথেষ্ট এবং এই কথাগুলিই এই আয়াতগুলিতে আল্লাহ জনিয়েছেন..
(সূরাঃ আল-জাসিয়া ৪৫, আয়াত ৬-৮)"এইগুলি আল্লাহ্র আয়াত, যাহা আমি তোমার নিকট পাঠ করিতেছি যথাযথভাবে। সুতরাং আল্লাহ্র ও তাঁহার আয়াতের পরিবর্তে উহারা আর কােন্ বাণীতে/হাদিসে বিশ্বাস করিবে ? দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর, যে আল্লাহ্র আয়াতসমূহের পাঠ শুনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অটল থাকে যেন সে উহা শুনে নাই। উহাকে সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির।"
এই আয়াতগুলি উল্লেখ করে সেই সকল মানুষকে যারা আল্লাহর বাণী কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং এর পরিবর্তে অন্যান্য হাদিস, বর্ণনা এবং রচনাগুলিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। প্রকৃতপক্ষে, এই ধরনের মানুষ সব যুগে এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান।
(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ৬,৭)"মানুষের মধ্যে কেহ কেহ অজ্ঞতাবশত আল্লাহ্র পথ হইতে বিচ্যুত করিবার জন্য অসার বাক্য/লাহুয়াল হাদিস ক্রয় করিয়া নেয় এবং আল্লাহ্ - প্রদর্শিত পথ লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করে। উহাদেরই জন্য রহিয়াছে অবমাননাকর শাস্তি। যখন উহার নিকট আমার আয়াত পাঠ করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরাইয়া নেয় যেন সে ইহা শুনিতে পায় নাই, যেন উহার কর্ণ দুইটি বধির ; অতএব উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।"
আল্লাহ নবীর কাছে একমাত্র ওহীর কিতাব/বই হিসেবে কুরআন ছাড়া আর কিছুই দেননি৷ কিন্তু হুজুররা দাবী করে, আল্লাহ নবীকে দুই ধরনের ওহী করেছেন: ওহী মাতলু যা তেলাওয়াত করা হয় এবং ওহী গায়রে মাতলু যা তেলাওয়াত করা হয় না। কিন্তু এই মিথ্যা দাবীর সমর্থনে কুরআনে কোন আয়াত তারা দেখাতে পারে না। আল্লাহ মুশরিকদেরকে কুরআনের মতো একটি একক অধ্যায় তৈরি করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন....
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৩)"আমি আমার বান্দার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকিলে তোমরা ইহার অনুরূপ কোন সূরা আনয়ন কর এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান কর।"
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩৮)"তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা রচনা করিয়াছে ?’ বল, ‘তবে তোমরা ইহার অনুরূপ একটি সূরা/অধ্যায় আনয়ন কর এবং আল্লাহ্ ব্যাতীত অপর যাহাকে পার আহ্বান কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
(সূরাঃ হুদ ১১, আয়াত ১৩)"তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা নিজে রচনা করিয়াছে ?’ বল, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমরা ইহার অনুরূপ দশটি স্বরচিত সূরা/অধ্যায় আনয়ন কর এবং আল্লাহ্ ব্যতীত অপর যাহাকে পার, ডাকিয়া নাও।"
এটি প্রমাণ করে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ নবীর কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন তা অধ্যায় নিয়ে গঠিত এবং কুরআনের অধ্যায় ছাড়া তাকে অন্য কোন অধ্যায় দেওয়া হয়নি। সুতরাং, কুরআনই একমাত্র ওহী যা আল্লাহর কাছ থেকে নবীর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি কখনই নিজের 'সুন্না' বা 'হাদিস'-এর তথাকথিত ওহী পাননি।
মানুষের বিচার হবে শুধুমাত্র তাদের নবীদের উপর অবতীর্ণ ধর্মগ্রন্থের মাপকাঠিতে। কিয়ামতের দিন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলবেন....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৩০)"আমি উহাদেরকে বলিব, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় ! তোমাদের মধ্য হইতে কি রাসূলগণ/বার্তাবাহকগণ তোমাদের নিকট আসে নাই - যাহারা আমার আয়াত তোমাদের নিকট পাঠ করিত এবং তোমাদেরকে এই দিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করিত ?’ উহারা বলিবে, ‘আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম।’ বস্তুত পার্থিব জীবন উহাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল, আর উহারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্যও দিবে যে, তাহারা অবিশ্বাসী ছিল।"
এইভাবে, রাসূলগণ/বার্তাবাহকগণ মানুষের কাছে আল্লাহর কিতাব পৌঁছে দিয়েছেন যা তিনি তাদের কাছে নাযিল করেছেন। যারা আল্লাহর বাক্য প্রত্যাখ্যান করে তারা জাহান্নামের যোগ্য।
(সূরাঃ আল-যুমার ৩৯, আয়াত ৭১)"অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন উহারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হইবে তখন ইহার প্রবেশদ্বারগুলি খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা উহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হইতে রাসূল/বার্তাবাহক আসে নাই যাহারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত পাঠ করিত, এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করিত?’ উহারা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ বস্তুত অবিশ্বাসীদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হইয়াছে।"
(সূরাঃ ত্বোয়া-হা ২০, আয়াত ১২৪-১২৭)"যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকিবে, অবশ্যই তাহার জীবন - যাপন হইবে সংকুচিত এবং আমি তাহাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় । সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করিলে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান। তিনি বলিবেন, ‘এইরূপই আমার আয়াতসমূহ তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি উহা ভুলিয়া গিয়াছিলে এবং সেইভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হইলে। এবং এইভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাহাকে, যে বাড়াবাড়ি করে ও তাহার প্রতিপালকের আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।"
তাই, আমাদের কেবলমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে নবীর প্রতি অবতীর্ণ আয়াতগুলিতে বিশ্বাস করতে হবে। কুরআনের আয়াত ব্যতীত তাঁর প্রতি অবতীর্ণ আর কিছুই নেই। তাই প্রকৃত একেশ্বরবাদীদের জন্য কুরআনই যথেষ্ট। আল্লাহ অনন্য এবং কুরআনও তাই। আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেছেন...
(সূরাঃ আশ-শুরা ৪২, আয়াত ১১)"তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আন‘আমের তথা চতুষ্পদ জন্তু এর মধ্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন উহাদের জোড়া। এইভাবে তিনি তোমাদের বংশবিস্তার করেন; কোন কিছুই তাঁহার সদৃশ/অনুরূপ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
আর কুরআন সম্পর্কে বলেছেন...
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ৮৮)"বল, ‘যদি কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয় এবং যদিও তাহারা পরস্পরকে সাহায্য করে তবুও তাহারা ইহার অনুরূপ আনয়ন করিতে পারিবে না।"
সুতরাং, নবীর সুন্নত নামে কল্পকাহিনীকে বিশ্বাস করা অসম্ভব যে আল্লাহ নবী কাছে কুরআনের পাশাপাশি হাদীস ও সুন্নার নামে অন্যকিছু পাঠিয়েছেন। কুরআনের মতো কিছু বা এর অতিরিক্ত কিছু কিভাবে আসে যেখানে কুরআন এক এবং অনন্য?
(সূরাঃ আল-ফাতিহা ১, আয়াত ৬)"আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর।"
প্রতিনিয়ত আমরা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি। জবাবে আল্লাহ বলেছেন, এই সোজা সরল পথটিই হল কুরআন যা আমরা জানতে পারি এই আয়াত থেকে...
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১২৬)"ইহাই তোমার প্রতিপালক - নির্দেশিত সরল পথ। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে আমি তাহাদের জন্য আয়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা করিয়াছি।"
এর পরেই আল্লাহ সাবধান করে দিয়েছেন অন্য পথে না চলতে....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৫৩)"এবং এই পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা ইহারই অনুসরণ করিবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করিবে না, করিলে উহা তোমাদেরকে তাঁহার পথ হইতে বিচ্ছিন্ন করিবে। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও।"
অথচ মুসলমানরা আল্লাহর এই সাবধান বাণী উপেক্ষা করে কুরআনের বাইরে বেছে নিয়েছে অগণিত হাদীস, তাফসির ও ফিকাহ গ্রন্থ। কেয়ামতের দিন যারা কুরআন ত্যাগ করেছিল, রাসুল তাদের অস্বীকার করবেন...
(সূরাঃ আল-ফুরকান ২৫, আয়াত ৩০)"রাসূল বলিবেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।"
কুরআনই আল্লাহর দিকে যাওয়ার একমাত্র সরাসরি সহজ সরল পথ। এর বাইরে অন্য সকল শয়তানের পথ। স্মরন করুন শয়তানের প্রতিশ্রুতি...
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৬,১৭)"সে বলিল, ‘তুমি আমাকে শাস্তিদান করিলে, এইজন্য আমিও তোমার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয় ওঁৎ পাতিয়া থাকিব। ‘অতঃপর আমি তাহাদের নিকট আসিবই তাহাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে এবং তুমি তাহাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাইবে না।"
মানুষকে কুরআনের বাইরে নিতে মোল্লারা, আল্লাহর কথার উল্টো কথা বলে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। তারা বলে হাদিস ছাড়া কুরআন পরিপূর্ণ না। অথচ আল্লাহ বলেন কুরআন পরিপূর্ণ ও এরপাশে অন্যকোন লেখার প্রয়োজন নেই। কুরআন দিয়েই আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করেন।
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ৩)"..আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে অনুমোদন করলাম।.."
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১১৫)"সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়া তোমার প্রতিপালকের বাণী পরিপূর্ণ। তাঁহার বাক্য পরিবর্তন করিবার কেহ নাই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"
এর অর্থ হল কুরআনকে 'সম্পূর্ণ' করার বা এতে নতুন কিছু 'সংযোজন' করার বা এর পাশে অন্য কোনো উৎস খোঁজার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাদের জন্য একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ দিয়েছেন যাতে আমাদের ধর্মে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ রয়েছে এবং তাঁর নির্দেশনা ও করুণা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র এটি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূরাঃ আল-আনকাবুত ২৯, আয়াত ৫১,৫২)"ইহা কি উহাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহা উহাদের নিকট পাঠ করা হয়? ইহাতে অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রহিয়াছে সেই কওমের জন্য যাহারা বিশ্বাস করে। বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা তিনি অবগত এবং যাহারা অসত্যে বিশ্বাস করে ও আল্লাহ্কে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।"
কুরআনই হল প্রজ্ঞা/হিকমত। আল্লাহ শপথ করে বলেন...
(সূরাঃ ইয়াসিন ৩৬, আয়াত ২)"শপথ প্রজ্ঞাপূর্ণ কুরআনের।
(সূরাঃ আল- জমুআহ ৬২, আয়াত ২)"তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাহাদের মধ্য হইতে, যে তাহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ ; তাহাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিক্মত ; ইতিপূর্বে তো উহারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।"
মোল্লারা সংকলিত হাদিস প্রতিষ্ঠা করতে মানে মানুষকে কুরআনের বাইরে নিতে ভুলভাবে প্রচার করেন যে ৬২:২ এবং অন্যান্য কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত "প্রজ্ঞা/Wisdom/حِكْمَةَ" শব্দটি কুরআনের বাইরের কিছু বা এর বাইরে অন্যকোনো উৎসকে বোঝায়। আমাদের দাবি এই যে - "হিকমত" ও "কিতাব" উভয়ই কুরআনকেই বোঝায়। প্রমাণ: আসুন আমরা মূসা এবং হারুন সম্পর্কে এই আয়াতটি সংক্ষেপে চিন্তা করি:
(সূরাঃ আল-আম্বিয়া ২১, আয়াত ৪৮)"আমি তো মূসা ও হারূনকে দিয়াছিলাম মানদন্ড, আলো ও উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য।"
এই তিনটি বড় শব্দ সমার্থকভাবে শুধুমাত্র একটি জিনিসকে বোঝায়: তাওরাত। এই শব্দগুলো দিয়ে কখনোই মূসা ও হারুনকে দেওয়া তিনটি জিনিস বা তিনটি বই বোঝায় না।একইভাবে আল্লাহ এই আয়াতে মূসা ও হারুনকে প্রদত্ত তাওরাত বর্ণনা করেছেন...
(সূরাঃ আস-সাফফাত ৩৭, আয়াত ১১৭)"আমি উভয়কে দিয়াছিলাম বিশদ কিতাব।"
এটি তাওরাতের পাশে অন্য কোন গ্রন্থ বা বই নয় তাওরাতকেই বোঝায়। অনুরূপভাবে, আসুন আমরা যীশু সম্পর্কে এই আয়াতগুলি সংক্ষেপে চিন্তা করি..
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ১১০)"স্মরণ কর, আল্লাহ্ বলিবেন, ‘হে মার্ইয়াম - তনয় ‘ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলিতে; তোমাকে কিতাব, হিক্মত, তাওরাত ও ইন্জীল শিক্ষা দিয়াছিলাম।.."
(সূরাঃ আল-ইমরান ৩, আয়াত ৪৮)"‘এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইন্জীল।"
এর মানে এই নয় যে আল্লাহ যীশুকে চারটি ভিন্ন বই দিয়েছেন বরং, তাকে মূসাকে দেওয়া তাওরাত শেখানো হয়েছিল এবং তাকে ইঞ্জিল দেওয়া হয়েছিল। যখন "কিতাব" এবং "হিকমত" দুটি শব্দ ইঞ্জিলকে নির্দেশ করে। এই আয়াতে এটাকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে...
(সূরাঃ যুখরুফ ৪৩, আয়াত ৬৩)"‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ/হিকমতসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্প্ষ্ট করিয়া দিবার জন্য সুতরাং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।"
সুতরাং, হিকমত হল আল্লাহর বাণী/গ্রন্থ: তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন। "হিকমত" শব্দটি কুরআনের আয়াতগুলিকেও বর্ণনা করে
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ৩৯)"তোমার প্রতিপালক ওহীর দ্বারা তোমাকে যে হিকমত/প্রজ্ঞা দান করিয়াছেন এইগুলি তাহার অন্তর্ভুক্ত। তুমি আল্লাহ্র সঙ্গে অপর বিধানদাতা স্থির করিও না, করিলে তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইবে।"
আল্লাহ নবী মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীদের এবং সমস্ত বিশ্বাসীদের আদেশ দেন কুরআনের আয়াত পাঠ করতে...
(সূরাঃ নমল ২৭, আয়াত ৯২)"আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন পাঠ করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর কেহ ভ্রান্তপথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।"
(সূরাঃ ফাতির ৩৫, আয়াত ২৯)"যাহারা আল্লাহ্র কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম (সেই অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরণ) করে, আমি তাহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাহারাই আশা করে এমন ব্যবসায়ের, যাহার ক্ষয় নাই।"
নবী মুহাম্মাদের স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এই আয়াতে কুরআনের আয়াতগুলিকে হিকমত হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে..
(সূরাঃ আল-আযাব ৩৩, আয়াত ৩৪)"আল্লাহ্র আয়াত ও জ্ঞানের কথা যাহা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তাহা তোমরা স্মরণ রাখিবে ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অতি সূক্ষ্মদর্শী, র্সববিষয়ে অবহিত।"
সুতরাং,"হিকমত" শব্দটি কুরআনেরই সমার্থক এবং একই কথা অন্যান্য শব্দ যেমন "আলো" এবং "আল-ফোরকান" ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য...
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৩১)"..এবং তোমরা আল্লাহ্র বিধানকে ঠাট্টা - তামাশার বস্তু করিও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র নিয়ামত ও কিতাব এবং হিক্মত যাহা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন - যদ্দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তাহা স্মরণ কর। তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে জ্ঞানময়।"
এটি/بِهِ একবচন সর্বনাম। এর মানে দাড়ায়, আরবি ব্যাকরনের জ্ঞান যাদের আছে তাদের বোধগম্য হওয়ার কথা-কুরআনের ভাষা এই নির্দেশ করে যে কিতাব এবং হিকমত দুটি নয়, একটিই জিনিস: কুরআনকেই "...!?