VIP SADHU

VIP SADHU Master Para - Bhangura - Pabna
Mobile : 01718826707
(1)

সুর করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করা কুরআনের কাজ নয়, বরং স্পষ্ট করে কুরাআন প্রচার করাই আল্লাহর নির্দেশ। সহিহ উচ্চারণের ভিড়ে আসল উ...
31/08/2026

সুর করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করা কুরআনের কাজ নয়, বরং স্পষ্ট করে কুরাআন প্রচার করাই আল্লাহর নির্দেশ। সহিহ উচ্চারণের ভিড়ে আসল উদ্দেশ্যেই ঢাকা পড়ে গেছে। যারা মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পড়ে ও মানুষের তৈরি বিভিন্ন বিধান দ্বারা মানুষকে আশা দেয় তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন...
(সূরা: আল-ইমরান ৩, আয়াত ৭৮)"আর নিশ্চয়ই তাহাদের মধ্যে একদল লোক আছেই যাহারা কিতাবকে জিহ্‌বা দ্বারা বিকৃত করে যাহাতে তোমরা উহাকে আল্লাহ্‌র কিতাবের অংশ মনে কর ; কিন্তু উহা কিতাবের অংশ নহে এবং তাহারা বলে, ‘উহা আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে’, কিন্তু উহা আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে প্রেরিত নহে। তাহারা জানিয়া - শুনিয়া আল্লাহ্‌ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।"
এই শ্রেণী তখনও ছিলো এবং এখনও আছে। তখন সরাসরি কিতাব রদবদল করে বা বিকৃত করে বলতো। আর এখন কুরআনে চ্যালেঞ্জ থাকাতে রদবদল করতে না পেরে ভিন্ন পন্থায় কিতাব রচনা করে রাসুলের দোহাই দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই "অহি গায়রে মাতলুর" দোহাই দিয়ে বলে যে, এইসমস্ত কথা আল্লাহই বলেছেন। অহি গায়রে মাতলু বলে কোনো বাক্য আল্লাহর ক্বুরআনে নাই, ইহাও আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ। অথচ আল্লাহ অভিযোগ করে এদের ব্যাপারে পরিষ্কার করে বলেদিলেন যে, এরা মুখ বাঁকিয়ে (সূর দিয়ে, চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া) যা বলে তা আদৌ আল্লাহর কথা নয়।
(সূরা: আল-আনআম ৬, আয়াত ১১৯)"তোমাদের কী হইয়াছে যে, যাহাতে আল্লাহ্‌র নাম নেওয়া হইয়াছে তোমরা তাহা হইতে আহার করিবে না ? যাহা তোমাদের জন্য তিনি হারাম করিয়াছেন তাহা তিনি বিশদভাবেই তোমাদের নিকট বিবৃত করিয়াছেন, তবে তোমরা নিরুপায় হইলে তাহা স্বতন্ত্র। অনেকে অজ্ঞানতাবশত নিজেদের খেয়াল - খুশি দ্বারা অবশ্যই অন্যকে বিপথগামী করে; নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।"
(সূরা: আল-ইমরান ৩, আয়াত ৬৯)"কিতাবীদের একদল চাহে যেন তোমাদেরকে বিপথগামী করিতে পারে, অথচ তাহারা নিজেদেরকেই বিপথগামী করে, কিন্তু তাহারা উপলব্ধি করে না।"
লক্ষ্য করুন! কিতাবীরাই মানুষকে বিপদগামী করে বা পথভ্রষ্ট করে, এই কিতাবী কারা? আজ মানুষের মধ্যে এতো দল তৈরি হওয়ার একমাত্র কারণ এই কিতাবধারীগণ। পূর্বের বিকৃত কিতাবীরা মানুষকে ভুলপথে চালিয়ে পথভ্রষ্ট করে রেখেছিলো, ঠিক তেমনই রাসুলের এন্তেকালের পর এই কিতাবীরা ধর্মের মধ্যে হাজার হাজার মিথ্যা কিতাব রচনা করে মানুষকে বিভিন্ন পথে, বিভিন্ন ফেরকায়, বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে রেখেছে। আজ ইসলামের মধ্যে এতো বিভক্তির কারণ এবং এই দুরবস্থার কারণ এই কিতাবধারীগণ। তারা কুরআন পড়ে, কুরআন বোঝে অথচ তারা কুরআন থেকে মানুষকে সমাধান দেয় না। এরা নিজেরা যেমন পথভ্রষ্ট তেমনি মানুষকেও পথভ্রষ্ট করে, এরা একের পর এক আসতেই থাকে। আল্লাহ বলেন-
(সূরা: আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৬৯)"অতঃপর অযোগ্য উত্তরপুরুষগণ একের পর এক তাহাদের স্থলাভিষিক্তরূপে কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়; তাহারা এই তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, ‘আমাদেরকে ক্ষমা করা হইবে।’ কিন্তু উহার অনুরূপ সামগ্রী তাহাদের নিকট আসিলে উহাও তাহারা গ্রহণ করে; কিতাবের অঙ্গীকার কি তাহাদের নিকট হইতে নেওয়া হয় নাই যে, তাহারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিবে না ? এবং তাহারা তো উহাতে যাহা আছে তাহা অধ্যয়নও করে। যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে তাহাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়; তোমরা কি ইহা অনুধাবন কর না ?
লক্ষ্য করুন! আল্লাহ কিতাবীদের ব্যাপারে কেমন অভিযোগ করলেন? আল্লাহ বলেছেন এরা নিকৃষ্ট উপকরণ খায়, অর্থাৎ কোনো কাজকাম না করে ধর্মের জ্ঞানকে পুজিকরে ধর্ম ব্যাবসা করে খায়, যাকে আল্লাহ নিকৃষ্ট উপকরণ বলেছেন। যারা নিকৃষ্ট উপকরণ খায় তাদেরকে মান্য করা যায় কি? এই আয়াতে আরবিতে খলাফা ও খলফুন দুটি শব্ধ রয়েছে যার অর্থ খলীফা। অনুবাদে যার অর্থ রয়েছে "প্রতিনিধি" এবং "অযোগ্য"। প্রশ্নঃ- খলীফারা অযোগ্য হবে কেনো?
(সূরা: আল-আনআম ৬, আয়াত ১১২,১১৩)"এইরূপে আমি মানব ও জিনের মধ্যে শয়তানদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করিয়াছি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাহাদের একে অন্যকে চমকপ্রদ বাক্য দ্বারা প্ররোচিত করে। যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিতেন তবে তাহারা ইহা করিত না; সুতরাং তুমি তাহাদেরকে ও তাহাদের মিথ্যা রচনাকে বর্জন কর। আর তাহারা এই উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করে যে, যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের মন যেন উহার প্রতি অনুরাগী হয় এবং উহাতে যেন তাহারা পরিতুষ্ট হয় আর তাহারা যে অপকর্ম করে তাহাই যেন তাহারা করিতে থাকে।"
এই দুটি আয়াতে কিছু মানুষকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ রাসুলকে বলেছেন যে, শয়তান নামক মানুষগুলো মানুষকে পথভ্রষ্ঠ করার জন্য একে অপরকে "কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয় / চিত্তাকর্ষক কথাবার্তা শিক্ষা দেয় / চাকচিক্যপূর্ণ কথা শিক্ষা দেয় / মনোমুগ্ধকর, ধোকাপূর্ণ ও প্রতারণাময় কথা শিক্ষা দেয়। আর আল্লাহ রাসুলকে বললেন যে, তুমি তাদেরকে ও তাদের চমকপ্রদ বাক্য ও মিথ্যা রচনাকে বর্জন করো"।
আমার প্রশ্নঃ কারা এই চাকচিক্যপূর্ণ কথা শিক্ষা দেয়? কোনো হিন্দুরা শিখায় কি? কোনো খৃষ্টান বা ইহুদিরা শিখায় কি? তাহলে এরা কারা? এরা কোথায় থাকে? এরা কাদেরকে ধোঁকা দেয়? কোন ধরণের কথা বলে ধোঁকা দেয়?। আল্লাহ বলেন....
(সূরা: আল-বাকারা ২, আয়াত ৭৯)"সুতরাং দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির জন্য বলে, ‘ইহা আল্লাহ্‌র নিকট হইতে।’ তাহাদের হাত যাহা রচনা করিয়াছে তাহার জন্য শাস্তি তাহাদের এবং যাহা তাহারা উপার্জন করে তাহার জন্য শাস্তি তাহাদের।"
আল্লাহ কাদের জন্য দুর্ভোগ কলেছেন? কারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্মের মধ্যে হাজার হাজার কিতাব রচনা করেছে? কারা বলে "অহি গায়রে মাতলু" আল্লাহ নাজিল করেছেন? অথচ "অহি গায়রে মাতলু" সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনে কোনো বাক্যই উচ্চারণ করেননি। কুরআনের পরে যারা বিভিন্ন কিতাব রচনা করেছে তাদের বিষয় আল্লাহ বলেন....
(সূরা: নাহল ১৬, আয়াত ১০৫)"যাহারা আল্লাহ্‌র আয়াতে বিশ্বাস করে না তাহারা তো কেবল মিথ্যা রচনা করে এবং তাহারাই মিথ্যাবাদী।"
আল্লাহর কথা অনুযায়ী বুঝতে হবে যে, যারা আল্লাহর আয়াত মানে না, যারা আল্লাহর কুরআন মানে না বা যারা আল্লাহর কুরআনে সন্তুষ্ট নয় তারাই ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন বিধান রচনা করেছে। কুরআনের পরে যারা বিভিন্ন মিথ্যা বিধান মিথ্যা বাণী রচনা করেছে তারা মিথ্যাবাদী। মিথ্যাবাদীদের কোনো কিতাব দিয়ে এবাদাত বা বিধিবিধানমান্য করলে তাও হবে মিথ্যার এবাদাত বা বিধিভিধানমান্য। এই মিথ্যা রচনাগুলো কি কি? ফুরকান নামক কিতাব আল কুরআন দ্বারা যাচাই করলেই তা পাওয়া যাবে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-
(সূরা: আল-মুরসালাত ৭৭, আয়াত ৪৯)"সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যাবাদিদের জন্য।"
(সূরা: আল-বাকারা ২, আয়াত ১৪৬)"আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছি তাহারা তাহাকে সেইরূপ জানে যেইরূপ তাহারা নিজেদের সন্তানগণকে চিনে এবং তাহাদের একদল জানিয়া - শুনিয়া সত্য গোপন করিয়া থাকে।"
(সূরা: আল-ইমরান ৩, আয়াত ৭১)"হে কিতাবীগণ! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত কর এবং সত্য গোপন কর, যখন তোমরা জান?"
(সূরা: আল-বাকারা ২, আয়াত ৪২)"তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া - শুনিয়া সত্য গোপন করিও না।"
নবীর মৃত্যুর ২৫০ বছর পরে এসে ইসলামের বিধিবিধানরূপে নবীর নাম ব্যবহার করে হাজার হাজার মিথ্যা কিতাব, মিথ্যা বিধান রচনা করা হয়েছে । আর কুরআন সুন্দর করে কাপড় মুড়িয়ে উঁচু স্হানে তুলে রেখেছে।

-"‎যারা মানুষকে সবকিছু বাদ দিয়ে এক কুরআনে ফিরে".. -"আসতে বলে"-শুধু কুরআনের আয়াত তুলে ধরে"..তাদের প্রতি অবিশ্বাসীদের মনোভ...
29/08/2026

-"‎যারা মানুষকে সবকিছু বাদ দিয়ে এক কুরআনে ফিরে".. -"আসতে বলে"-শুধু কুরআনের আয়াত তুলে ধরে"..তাদের প্রতি অবিশ্বাসীদের মনোভাব কি রকম হবে তাও আল্লাহ কুরআনে বলেছেন .....
‎.
‎(সূরাঃ হাজ্জ্ব ২২, আয়াত ৭২)"এবং উহাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হইলে তুমি অবিশ্বাসীদের মুখমণ্ডলে অসন্তোষ লক্ষ্য করিবে। যাহারা উহাদের নিকট আমার আয়াত পাঠ করে তাহাদেরকে উহারা আক্রমণ করিতে উদ্যত হয়। বল, ‘তবে কি আমি তোমাদেরকে ইহা অপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দিব? - ইহা আগুন। এই বিষয়ে আল্লাহ্‌ প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন অবিশ্বাসীদেরকে এবং ইহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।"
‎.
‎অধিকাংশ মানুষ কুরআনকে সংকলিত হাদিসের উপর নির্ভরশীল দেখতে চায়। কিন্তু কুরআন পরিপূর্ণ, আল্লাহ দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত তা তারা মেনে নিতে চায় না বা অবিশ্বাস করে। আর যারা এ সত্য তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে।
‎.
‎(সূরাঃ আল-কলম ৬৮, আয়াত ৫১)"অবিশ্বাসীরা যখন কুরআন শ্রবণ করে তখন উহারা যেন উহাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়াইয়া ফেলিবে এবং বলে, ‘এ তো এক পাগল!"
‎.
‎(সূরাঃ হা-মীম সেজদাহ ৪১, আয়াত ২৬)"অবিশ্বাসীরা বলে, ‘তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করিও না এবং উহা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর যাহাতে তোমরা জয়ী হইতে পার।"
‎.
‎আপনাকে আল্লাহ কুরআনের বাইরের কোন কিছুকে খোজ করতে বলেন নি আর আপনি শুধু কুরআনের ব্যাপারেই জিজ্ঞাসিত হবেন। তারা তো এসকল আয়াত বলেই না বা জেনেও আগের অবস্থানে অটল থাকে।
‎.
‎(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ৭)"যখন উহার নিকট আমার আয়াত পাঠ করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরাইয়া নেয় যেন সে ইহা শুনিতে পায় নাই, যেন উহার কর্ণ দুইটি বধির ; অতএব উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।"
‎.
‎(সূরাঃ আল-জাসিয়া ৪৫, আয়াত ৭-৯)"দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর, যে আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহের পাঠ শুনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অটল থাকে যেন সে উহা শুনে নাই। উহাকে সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির; যখন আমার কোন আয়াত সে অবগত হয় তখন উহা লইয়া পরিহাস করে। উহাদের জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।"
‎.
‎বাপ-দাদার পালিত, অধিকাংশ মানুষের থেকে দেখে শেখা ধর্ম বাদ দিয়ে কুরআনে ফিরে না এসে বরং নানা প্রশ্ন করে কুরআন শুধু সুর করে পড়ে প্রচলিত ধর্মচর্চা ধরে রাখে।
‎.
‎(সূরাঃ আল-আহাক্বাফ ৪৬, আয়াত ৭)"যখন উহাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় এবং উহাদের নিকট সত্য উপস্থিত হয়, তখন অবিশ্বাসীরা বলে, ‘ইহা তো সুস্পষ্ট জাদু।"
‎.
‎(সূরাঃ আল-আনফাল ৮, আয়াত ৩১)"যখন তাহাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তাহারা তখন বলে, ‘আমরা তো শ্রবণ করিলাম, ইচ্ছা করিলে আমরাও ইহার অনুরূপ বলিতে পারি, ইহা তো শুধু সেকালের লোকদের উপকথা।"
‎.
‎আমি জানি এদের কুরআনের জ্ঞান নেই বা কুরআন বুঝে পড়া নেই। নাহলে এরা কুরআনকে পাঁঁচবার সুর করে পড়ার বই বানাতো না। এই অস্বীকারকারীরা বা অবিশ্বাসকারীরা কুরআনের আয়াত নিয়ে ভাবে না, চিন্তা করে না যে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ কি বলেছেন।
‎.
‎(সূরাঃ আল-মুতাফফিফীন ৮৩, আয়াত ১০-১৪)"সেই দিন দুর্ভোগ হইবে অস্বীকারকারীদের, যাহারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে, কেবল প্রত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী উহা অস্বীকার করে ; উহার নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হইলে সে বলে, ‘ইহা পূর্ববর্তীদের উপকথা।’ কখনও নয় ; বরং উহাদের কৃতকর্মই উহাদের হৃদয়ে জঙ্ ধরাইয়াছে।"
‎.
‎(সূরাঃ আল-মুতাফফিফীন ৮৩, আয়াত ২৯-৩৬)"যাহারা অপরাধী তাহারা তো বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করিত। এবং উহারা যখন বিশ্বাসীদের নিকট দিয়া যাইত তখন চক্ষু টিপিয়া ইশারা করিত। এবং যখন উহাদের আপনজনের নিকট ফিরিয়া আসিত তখন উহারা ফিরিত উৎফুল্ল হইয়া, এবং যখন উহাদেরকে দেখিত তখন বলিত, ‘ইহারাই তো পথভ্রষ্ট। উহাদেরকে তো তাহাদের তত্ত্বাবধায়ক করিয়া পাঠান হয় নাই। আজ বিশ্বাসীগণ উপহাস করিতেছে অবিশ্বাসীদেরকে, সুসজ্জিত আসন হইতে উহাদেরকে অবলোকন করিয়া। অবিশ্বাসীরা উহাদের কৃতকর্মের ফল পাইল তো?"
‎.
‎এরা মৃত্যুর সময় আফসোস করবে কিন্তু তখন কি তা কাজে আসবে? মৃত্যুর সময় অবিশ্বাসীরা কি বলবে তাও আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন...
‎.
‎(সূরাঃ মুনাফিকুন ৬৩, আয়াত ১০,১১)"আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তোমরা তাহা হইতে ব্যয় করিবে তোমাদের কাহারও মৃত্যু আসিবার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু আসিলে সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম! কিন্তু যখন কাহারও নির্ধারিত কাল উপস্থিত হইবে, তখন আল্লাহ্‌ তাহাকে কিছুতেই অবকাশ দিবেন না। তোমরা যাহা কর আল্লাহ্‌ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।"
‎.
‎(সূরাঃ আল-মুমিনুল ২৩, আয়াত ৯৯,১০০)"যখন উহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় প্রেরণ কর, ‘যাহাতে আমি সৎকাজ করিতে পারি যাহা আমি পূর্বে করি নাই।’ না, ইহা হইবার নয়। ইহা তো উহার একটি উক্তি মাত্র। উহাদের সম্মুখে বারযাখ থাকিবে উত্থান দিবস পর্যন্ত।"
‎.
‎(সূরাঃ সেজদাহ ৩২, আয়াত ১১,১২)"বল, ‘তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করিবে। অবশেষে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যানীত হইবে। হায়, তুমি যদি দেখিতে ! যখন অপরাধীরা তাহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে অধোবদন হইয়া বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা প্রত্যক্ষ করিলাম ও শ্রবণ করিলাম, এখন তুমি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ কর, আমরা সৎকাজ করিব, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।"
‎.
‎(সূরাঃ ইব্রাহীম ১৪, আয়াত ৪২-৪৪)"তুমি কখনও মনে করিও না যে, জালিমরা যাহা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্‌ গাফিল, তবে তিনি উহাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাহাদের চক্ষু হইবে স্থির। ভীত - বিহ্বল চিত্তে আকাশের দিকে চাহিয়া উহারা ছুটাছুটি করিবে, নিজেদের প্রতি উহাদের দৃষ্টি ফিরিবে না এবং উহাদের অন্তর হইবে উদাস। যেদিন তাহাদের শাস্তি আসিবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন জালিমরা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহ্বানে সাড়া দিব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করিব।’ তোমরা কি পূর্বে শপথ করিয়া বলিতে না যে, তোমাদের পতন নাই?"
‎.
‎(সূরাঃ আম্বিয়া ২১, আয়াত ৯৭)"অমোঘ প্রতিশ্রুতি কাল আসন্ন হইলে অকস্মাৎ অবিশ্বাসীদের চক্ষু স্থির হইয়া যাইবে, উহারা বলিবে, ‘হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন; না, আমরা সীমালংঘনকারীই ছিলাম।"

আলহামদুলিল্লাহ 💯 ⭐❤️‍🩹 এই মাত্র মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে নেয়ামত দাদু ভাই পেলাম পরম করুণাময় আল্লাহ
29/08/2026

আলহামদুলিল্লাহ 💯 ⭐❤️‍🩹 এই মাত্র মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে নেয়ামত দাদু ভাই পেলাম পরম করুণাময় আল্লাহ

-"কোরআন হল সকল সন্দেহের উর্দ্ধে"! পক্ষান্তরে ধর্মের অন্যান্য সহীহ বইগুলি কেবল অনুমান নির্ভর যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত ন...
29/08/2026

-"কোরআন হল সকল সন্দেহের উর্দ্ধে"! পক্ষান্তরে ধর্মের অন্যান্য সহীহ বইগুলি কেবল অনুমান নির্ভর যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত নয়"! কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন...
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২)"ইহা সেই কিতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ - নির্দেশ।"
কুরআনকে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তার কোনও সুযোগ নেই।অন্যথায় মানুষ যখন আল্লাহর সামনে বিচারের জন্য দাঁড়াবে, তখন তার কাছে অজুহাত থাকবে। এই কারণে, আল্লাহ তার বইয়ের পাঠ্যটি বিকৃতির যে কোনও প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং আল্লাহই সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
(সূরাঃ হা-মীম-সেজদাহ ৪১, আয়াত ৪১,৪২)"যাহারা উহাদের নিকট কুরআন আসিবার পর উহা প্রত্যাখ্যান করে তাহাদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হইবে; ইহা অবশ্যই এক মহিমময় গ্রন্থ - কোন মিথ্যা ইহাতে অনুপ্রবেশ করিতে পারে না - অগ্র হইতেও নয়, পশ্চাৎ হইতেও নয়। ইহা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ আল্লাহ্‌র নিকট হইতে অবতীর্ণ।"
কুরআন ব্যাতীত কল্পনা আর অনুমান নির্ভর সকল উপাসনা পদ্ধতি আল্লাহ বাদ দিতে বলেছেন। নবীর নামে কুরআনের পাশাপাশি যত ইবাদত বা বিধিবিধানমান্য করার পদ্ধতির বই আছে এগুলো মিথ্যা, এগুলো কিছুই নয়। এগুলোকে আমরা শরীক বানিয়ে শিরক করি।
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৬৬)"জানিয়া রাখ! যাহারা আকাশমণ্ডলে আছে এবং যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহারা আল্লাহ্‌রই। যাহারা আল্লাহ্‌ ব্যতীত অপরকে শরীকরূপে ডাকে, তাহারা কিসের অনুসরণ করে ? তাহারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তাহারা শুধু মিথ্যাই বলে।"
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৪৮)"যাহারা শির্‌ক করিয়াছে তাহারা বলিবে, ‘আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করিতেন তবে আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষগণ শির্‌ক করিতাম না এবং কোন কিছুই হারাম করিতাম না।’ এইভাবে তাহাদের পূর্ববর্তীরাও প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল, অবশেষে তাহারা আমার শাস্তি ভোগ করিয়াছিল, বল, ‘তোমাদের নিকট কোন যুক্তি আছে কি? থাকিলে আমার নিকট তাহা পেশ কর; তোমরা শুধু কল্পনারই অনুসরণ কর এবং শুধু মনগড়া কথা বল।’
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩৬)"উহাদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না, উহারা যাহা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।"
(সূরাঃ আন-নাজম ৫৩, আয়াত ২৩)"এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে আল্লাহ্‌ কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।"
(সূরাঃ আন-নাজম ৫৩, আয়াত ২৮)"অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।"
সমস্ত যুগের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলি কখনও সত্যকে অনুসরণ করে না বরং এর পরিবর্তে তাদের আলেম উলামা মাশায়েক ঈমামদের অনুমানগুলির অনুসরণ করে। আল্লাহ বলেন....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১১৬)"যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।"
মুসলমানরা অযৌক্তিক হাদীস, তাফসির গ্রন্থগুলি এবং ফিকাহ বইগুলিকে পবিত্র বলে বিশ্বাসী। তারা এগুলিকে মুহাম্মদ এবং সাহাবী/ঈমামদের কাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাওয়া স্বীকৃত 'সত্য' শিক্ষা বলে ধরে নিয়েছে, যদিও এগুলো কখনোই সন্দেহমুক্ত ছিল না বা এর সত্যতা প্রমাণ করা কোন ভাবেই সম্ভব না। মোল্লারা নিছক লোক পরম্পরায় শোনা অনুমানগুলি অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়। যদিও আল্লাহর কাছে কুরআন ব্যাতিত অন্যকিছুর অনুসরণের নির্দেশ নেই।
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ১০৫)"আমি সত্যসহই কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি এবং উহা সত্যসহই অবতীর্ণ হইয়াছে। আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি।"
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩২)"তিনিই আল্লাহ্‌, তোমাদের সত্য প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করিবার পর বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কী থাকে ? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হইতেছ ?"
(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ৩০)"এইগুলি প্রমাণ যে, আল্লাহ্‌ই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে, তাহা মিথ্যা। আল্লাহ্‌, তিনি তো সমুচ্চ, মহান।"
(সূরাঃ ফাতির ৩৫, আয়াত ৩১)"আমি তোমার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি তাহা সত্য, ইহা পূর্ববর্তী কিতাবের প্রত্যায়নকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁহার বান্দাদের সমস্ত কিছু জানেন ও দেখেন।"
(সূরাঃ আল-ইমরান ৩, আয়াত ৬২)"নিশ্চয়ই ইহা সত্য ভাষণ। আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য বিধানদাতা নাই; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পরম প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(সূরাঃ আল-ওয়াকিয়া ৫৬, আয়াত ৯৫)"ইহা তো ধ্রুব সত্য।
(সূরাঃ আল-হাক্বাক্বাহ ৬৯, আয়াত ৫১)"অবশ্যই ইহা নিশ্চিত সত্য।"
কুরআনই একমাত্র হাদিস যা আমাদের বিশ্বাস করা উচিত।আল্লাহ কুরআনকে "হাদিস/حَدِيثٍ" শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই একমাত্র এবং সর্বোত্তম "হাদিস" যা আমাদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
(সূরাঃ আল-যুমার ৩৯, আয়াত ২৩)"আল্লাহ্‌ অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী/হাদিস সম্বলিত কিতাব যাহা সুসমঞ্জস এবং যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। ইহাতে, যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাহাদের দেহমন বিনম্র হইয়া আল্লাহ্‌র স্মরণে ঝুঁকিয়া পড়ে। ইহাই আল্লাহ্‌র পথনির্দেশ, তিনি উহা দ্বারা যাহাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ্‌ যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।"
(সূরাঃ আত্ব-তূর ৫২, আয়াত ৩৩,৩৪)"উহারা কি বলে, ‘এই কুরআন তাহার নিজের রচনা?’ বরং উহারা অবিশ্বাসী। উহারা যদি সত্যবাদী হয় তবে ইহার সদৃশ কোন রচনা/হাদিস উপস্থিত করুক না!"
(সূরাঃ আন-নিসা ৪, আয়াত ৮৭)"আল্লাহ্‌, তিনি ব্যতীত অন্য কোন বিধানদাতা নাই ; তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্র করিবেনই, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। কে আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী/সত্যহাদিস বলে?"
(সূরাঃ আল-কলম ৬৮, আয়াত ৪৪)"ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহারা এই বাণীকে/হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদেরকে, আমি উহাদেরকে ক্রমে ক্রমে ধরিব এমনভাবে যে, উহারা জানিতে পারিবে না।"
(সূরাঃ আল-মুরসালাত ৭৭, আয়াত ৫০)"সুতরাং উহারা কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করিবে?.
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৮৫)"তাহারা কি লক্ষ্য করে না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং আল্লাহ্ যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার সম্পর্কে এবং ইহার সম্পর্কেও যে, সম্ভবত তাহাদের নির্ধারিত কাল নিকটবর্তী, সুতরাং ইহার পর তাহারা আর কোন্ কথায়/হাদিসে বিশ্বাস করিবে!"
আয়াতগুলিতে প্রশ্নের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের মৃত্যুর সময়টি ঘটানোর আগে চিন্তা করতে বলেছেন। আল্লাহ একমাত্র কুরআনে বিশ্বাসকে তাঁর প্রতি বিশ্বাস করার সমান করেছেন। কুরআনের হাদিস ছাড়া অন্যকোন হাদিসে যেমন বিশ্বাস করা উচিত নয়, তেমনি আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা বিধানদাতা ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রকৃত বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর বাক্যই যথেষ্ট এবং এই কথাগুলিই এই আয়াতগুলিতে আল্লাহ জনিয়েছেন..
(সূরাঃ আল-জাসিয়া ৪৫, আয়াত ৬-৮)"এইগুলি আল্লাহ্‌র আয়াত, যাহা আমি তোমার নিকট পাঠ করিতেছি যথাযথভাবে। সুতরাং আল্লাহ্‌র ও তাঁহার আয়াতের পরিবর্তে উহারা আর কােন্‌ বাণীতে/হাদিসে বিশ্বাস করিবে ? দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর, যে আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহের পাঠ শুনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অটল থাকে যেন সে উহা শুনে নাই। উহাকে সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির।"
এই আয়াতগুলি উল্লেখ করে সেই সকল মানুষকে যারা আল্লাহর বাণী কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং এর পরিবর্তে অন্যান্য হাদিস, বর্ণনা এবং রচনাগুলিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। প্রকৃতপক্ষে, এই ধরনের মানুষ সব যুগে এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান।
(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ৬,৭)"মানুষের মধ্যে কেহ কেহ অজ্ঞতাবশত আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবার জন্য অসার বাক্য/লাহুয়াল হাদিস ক্রয় করিয়া নেয় এবং আল্লাহ্ - প্রদর্শিত পথ লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করে। উহাদেরই জন্য রহিয়াছে অবমাননাকর শাস্তি। যখন উহার নিকট আমার আয়াত পাঠ করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরাইয়া নেয় যেন সে ইহা শুনিতে পায় নাই, যেন উহার কর্ণ দুইটি বধির ; অতএব উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।"
আল্লাহ নবীর কাছে একমাত্র ওহীর কিতাব/বই হিসেবে কুরআন ছাড়া আর কিছুই দেননি৷ কিন্তু হুজুররা দাবী করে, আল্লাহ নবীকে দুই ধরনের ওহী করেছেন: ওহী মাতলু যা তেলাওয়াত করা হয় এবং ওহী গায়রে মাতলু যা তেলাওয়াত করা হয় না। কিন্তু এই মিথ্যা দাবীর সমর্থনে কুরআনে কোন আয়াত তারা দেখাতে পারে না। আল্লাহ মুশরিকদেরকে কুরআনের মতো একটি একক অধ্যায় তৈরি করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন....
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৩)"আমি আমার বান্দার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকিলে তোমরা ইহার অনুরূপ কোন সূরা আনয়ন কর এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান কর।"
(সূরাঃ ইউনুস ১০, আয়াত ৩৮)"তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা রচনা করিয়াছে ?’ বল, ‘তবে তোমরা ইহার অনুরূপ একটি সূরা/অধ্যায় আনয়ন কর এবং আল্লাহ্‌ ব্যাতীত অপর যাহাকে পার আহ্বান কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
(সূরাঃ হুদ ১১, আয়াত ১৩)"তাহারা কি বলে, ‘সে ইহা নিজে রচনা করিয়াছে ?’ বল, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমরা ইহার অনুরূপ দশটি স্বরচিত সূরা/অধ্যায় আনয়ন কর এবং আল্লাহ্ ব্যতীত অপর যাহাকে পার, ডাকিয়া নাও।"
এটি প্রমাণ করে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ নবীর কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন তা অধ্যায় নিয়ে গঠিত এবং কুরআনের অধ্যায় ছাড়া তাকে অন্য কোন অধ্যায় দেওয়া হয়নি। সুতরাং, কুরআনই একমাত্র ওহী যা আল্লাহর কাছ থেকে নবীর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি কখনই নিজের 'সুন্না' বা 'হাদিস'-এর তথাকথিত ওহী পাননি।
মানুষের বিচার হবে শুধুমাত্র তাদের নবীদের উপর অবতীর্ণ ধর্মগ্রন্থের মাপকাঠিতে। কিয়ামতের দিন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলবেন....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৩০)"আমি উহাদেরকে বলিব, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় ! তোমাদের মধ্য হইতে কি রাসূলগণ/বার্তাবাহকগণ তোমাদের নিকট আসে নাই - যাহারা আমার আয়াত তোমাদের নিকট পাঠ করিত এবং তোমাদেরকে এই দিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করিত ?’ উহারা বলিবে, ‘আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম।’ বস্তুত পার্থিব জীবন উহাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল, আর উহারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্যও দিবে যে, তাহারা অবিশ্বাসী ছিল।"
এইভাবে, রাসূলগণ/বার্তাবাহকগণ মানুষের কাছে আল্লাহর কিতাব পৌঁছে দিয়েছেন যা তিনি তাদের কাছে নাযিল করেছেন। যারা আল্লাহর বাক্য প্রত্যাখ্যান করে তারা জাহান্নামের যোগ্য।
(সূরাঃ আল-যুমার ৩৯, আয়াত ৭১)"অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন উহারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হইবে তখন ইহার প্রবেশদ্বারগুলি খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা উহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হইতে রাসূল/বার্তাবাহক আসে নাই যাহারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত পাঠ করিত, এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করিত?’ উহারা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ বস্তুত অবিশ্বাসীদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হইয়াছে।"
(সূরাঃ ত্বোয়া-হা ২০, আয়াত ১২৪-১২৭)"যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকিবে, অবশ্যই তাহার জীবন - যাপন হইবে সংকুচিত এবং আমি তাহাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় । সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করিলে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান। তিনি বলিবেন, ‘এইরূপই আমার আয়াতসমূহ তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি উহা ভুলিয়া গিয়াছিলে এবং সেইভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হইলে। এবং এইভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাহাকে, যে বাড়াবাড়ি করে ও তাহার প্রতিপালকের আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।"
তাই, আমাদের কেবলমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে নবীর প্রতি অবতীর্ণ আয়াতগুলিতে বিশ্বাস করতে হবে। কুরআনের আয়াত ব্যতীত তাঁর প্রতি অবতীর্ণ আর কিছুই নেই। তাই প্রকৃত একেশ্বরবাদীদের জন্য কুরআনই যথেষ্ট। আল্লাহ অনন্য এবং কুরআনও তাই। আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেছেন...
(সূরাঃ আশ-শুরা ৪২, আয়াত ১১)"তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আন‘আমের তথা চতুষ্পদ জন্তু এর মধ্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন উহাদের জোড়া। এইভাবে তিনি তোমাদের বংশবিস্তার করেন; কোন কিছুই তাঁহার সদৃশ/অনুরূপ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
আর কুরআন সম্পর্কে বলেছেন...
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ৮৮)"বল, ‘যদি কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয় এবং যদিও তাহারা পরস্পরকে সাহায্য করে তবুও তাহারা ইহার অনুরূপ আনয়ন করিতে পারিবে না।"
সুতরাং, নবীর সুন্নত নামে কল্পকাহিনীকে বিশ্বাস করা অসম্ভব যে আল্লাহ নবী কাছে কুরআনের পাশাপাশি হাদীস ও সুন্নার নামে অন্যকিছু পাঠিয়েছেন। কুরআনের মতো কিছু বা এর অতিরিক্ত কিছু কিভাবে আসে যেখানে কুরআন এক এবং অনন্য?
(সূরাঃ আল-ফাতিহা ১, আয়াত ৬)"আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর।"
প্রতিনিয়ত আমরা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি। জবাবে আল্লাহ বলেছেন, এই সোজা সরল পথটিই হল কুরআন যা আমরা জানতে পারি এই আয়াত থেকে...
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১২৬)"ইহাই তোমার প্রতিপালক - নির্দেশিত সরল পথ। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করে আমি তাহাদের জন্য আয়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা করিয়াছি।"
এর পরেই আল্লাহ সাবধান করে দিয়েছেন অন্য পথে না চলতে....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৫৩)"এবং এই পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা ইহারই অনুসরণ করিবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করিবে না, করিলে উহা তোমাদেরকে তাঁহার পথ হইতে বিচ্ছিন্ন করিবে। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও।"
অথচ মুসলমানরা আল্লাহর এই সাবধান বাণী উপেক্ষা করে কুরআনের বাইরে বেছে নিয়েছে অগণিত হাদীস, তাফসির ও ফিকাহ গ্রন্থ। কেয়ামতের দিন যারা কুরআন ত্যাগ করেছিল, রাসুল তাদের অস্বীকার করবেন...
(সূরাঃ আল-ফুরকান ২৫, আয়াত ৩০)"রাসূল বলিবেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।"
কুরআনই আল্লাহর দিকে যাওয়ার একমাত্র সরাসরি সহজ সরল পথ। এর বাইরে অন্য সকল শয়তানের পথ। স্মরন করুন শয়তানের প্রতিশ্রুতি...
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৬,১৭)"সে বলিল, ‘তুমি আমাকে শাস্তিদান করিলে, এইজন্য আমিও তোমার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয় ওঁৎ পাতিয়া থাকিব। ‘অতঃপর আমি তাহাদের নিকট আসিবই তাহাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে এবং তুমি তাহাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাইবে না।"
মানুষকে কুরআনের বাইরে নিতে মোল্লারা, আল্লাহর কথার উল্টো কথা বলে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। তারা বলে হাদিস ছাড়া কুরআন পরিপূর্ণ না। অথচ আল্লাহ বলেন কুরআন পরিপূর্ণ ও এরপাশে অন্যকোন লেখার প্রয়োজন নেই। কুরআন দিয়েই আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করেন।
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ৩)"..আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে অনুমোদন করলাম।.."
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১১৫)"সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়া তোমার প্রতিপালকের বাণী পরিপূর্ণ। তাঁহার বাক্য পরিবর্তন করিবার কেহ নাই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"
এর অর্থ হল কুরআনকে 'সম্পূর্ণ' করার বা এতে নতুন কিছু 'সংযোজন' করার বা এর পাশে অন্য কোনো উৎস খোঁজার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আমাদের জন্য একটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ দিয়েছেন যাতে আমাদের ধর্মে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ রয়েছে এবং তাঁর নির্দেশনা ও করুণা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র এটি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূরাঃ আল-আনকাবুত ২৯, আয়াত ৫১,৫২)"ইহা কি উহাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহা উহাদের নিকট পাঠ করা হয়? ইহাতে অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রহিয়াছে সেই কওমের জন্য যাহারা বিশ্বাস করে। বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা তিনি অবগত এবং যাহারা অসত্যে বিশ্বাস করে ও আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।"
কুরআনই হল প্রজ্ঞা/হিকমত। আল্লাহ শপথ করে বলেন...
(সূরাঃ ইয়াসিন ৩৬, আয়াত ২)"শপথ প্রজ্ঞাপূর্ণ কুরআনের।
(সূরাঃ আল- জমুআহ ৬২, আয়াত ২)"তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল পাঠাইয়াছেন তাহাদের মধ্য হইতে, যে তাহাদের নিকট আবৃত্তি করে তাঁহার আয়াতসমূহ ; তাহাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিক্‌মত ; ইতিপূর্বে তো উহারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।"
মোল্লারা সংকলিত হাদিস প্রতিষ্ঠা করতে মানে মানুষকে কুরআনের বাইরে নিতে ভুলভাবে প্রচার করেন যে ৬২:২ এবং অন্যান্য কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত "প্রজ্ঞা/Wisdom/حِكْمَةَ" শব্দটি কুরআনের বাইরের কিছু বা এর বাইরে অন্যকোনো উৎসকে বোঝায়। আমাদের দাবি এই যে - "হিকমত" ও "কিতাব" উভয়ই কুরআনকেই বোঝায়। প্রমাণ: আসুন আমরা মূসা এবং হারুন সম্পর্কে এই আয়াতটি সংক্ষেপে চিন্তা করি:
(সূরাঃ আল-আম্বিয়া ২১, আয়াত ৪৮)"আমি তো মূসা ও হারূনকে দিয়াছিলাম মানদন্ড, আলো ও উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য।"
এই তিনটি বড় শব্দ সমার্থকভাবে শুধুমাত্র একটি জিনিসকে বোঝায়: তাওরাত। এই শব্দগুলো দিয়ে কখনোই মূসা ও হারুনকে দেওয়া তিনটি জিনিস বা তিনটি বই বোঝায় না।একইভাবে আল্লাহ এই আয়াতে মূসা ও হারুনকে প্রদত্ত তাওরাত বর্ণনা করেছেন...
(সূরাঃ আস-সাফফাত ৩৭, আয়াত ১১৭)"আমি উভয়কে দিয়াছিলাম বিশদ কিতাব।"
এটি তাওরাতের পাশে অন্য কোন গ্রন্থ বা বই নয় তাওরাতকেই বোঝায়। অনুরূপভাবে, আসুন আমরা যীশু সম্পর্কে এই আয়াতগুলি সংক্ষেপে চিন্তা করি..
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ১১০)"স্মরণ কর, আল্লাহ্ বলিবেন, ‘হে মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলিতে; তোমাকে কিতাব, হিক্‌মত, তাওরাত ও ইন্‌জীল শিক্ষা দিয়াছিলাম।.."
(সূরাঃ আল-ইমরান ৩, আয়াত ৪৮)"‘এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইন্‌জীল।"
এর মানে এই নয় যে আল্লাহ যীশুকে চারটি ভিন্ন বই দিয়েছেন বরং, তাকে মূসাকে দেওয়া তাওরাত শেখানো হয়েছিল এবং তাকে ইঞ্জিল দেওয়া হয়েছিল। যখন "কিতাব" এবং "হিকমত" দুটি শব্দ ইঞ্জিলকে নির্দেশ করে। এই আয়াতে এটাকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে...
(সূরাঃ যুখরুফ ৪৩, আয়াত ৬৩)"‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ/হিকমতসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্প্ষ্ট করিয়া দিবার জন্য সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।"
সুতরাং, হিকমত হল আল্লাহর বাণী/গ্রন্থ: তাওরাত, ইঞ্জিল এবং কুরআন। "হিকমত" শব্দটি কুরআনের আয়াতগুলিকেও বর্ণনা করে
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ৩৯)"তোমার প্রতিপালক ওহীর দ্বারা তোমাকে যে হিকমত/প্রজ্ঞা দান করিয়াছেন এইগুলি তাহার অন্তর্ভুক্ত। তুমি আল্লাহ্‌র সঙ্গে অপর বিধানদাতা স্থির করিও না, করিলে তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইবে।"
আল্লাহ নবী মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীদের এবং সমস্ত বিশ্বাসীদের আদেশ দেন কুরআনের আয়াত পাঠ করতে...
(সূরাঃ নমল ২৭, আয়াত ৯২)"আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন পাঠ করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর কেহ ভ্রান্তপথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।"
(সূরাঃ ফাতির ৩৫, আয়াত ২৯)"যাহারা আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম (সেই অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরণ) করে, আমি তাহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাহারাই আশা করে এমন ব্যবসায়ের, যাহার ক্ষয় নাই।"
নবী মুহাম্মাদের স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে এই আয়াতে কুরআনের আয়াতগুলিকে হিকমত হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে..
(সূরাঃ আল-আযাব ৩৩, আয়াত ৩৪)"আল্লাহ্‌র আয়াত ও জ্ঞানের কথা যাহা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তাহা তোমরা স্মরণ রাখিবে ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অতি সূক্ষ্মদর্শী, র্সববিষয়ে অবহিত।"
সুতরাং,"হিকমত" শব্দটি কুরআনেরই সমার্থক এবং একই কথা অন্যান্য শব্দ যেমন "আলো" এবং "আল-ফোরকান" ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য...
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৩১)"..এবং তোমরা আল্লাহ্‌র বিধানকে ঠাট্টা - তামাশার বস্তু করিও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র নিয়ামত ও কিতাব এবং হিক্‌মত যাহা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন - যদ্দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তাহা স্মরণ কর। তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে জ্ঞানময়।"
এটি/بِهِ একবচন সর্বনাম। এর মানে দাড়ায়, আরবি ব্যাকরনের জ্ঞান যাদের আছে তাদের বোধগম্য হওয়ার কথা-কুরআনের ভাষা এই নির্দেশ করে যে কিতাব এবং হিকমত দুটি নয়, একটিই জিনিস: কুরআনকেই "...!?

নবীর চরিত্র হল কুরআন নবী কি গুণের অধিকারি ছিলেন আর আমরা নবীর অনুসরণের নামে কি গুণের অধিকারি হইছি। আসুন কুরআন দিয়ে যাচাই ...
26/08/2026

নবীর চরিত্র হল কুরআন নবী কি গুণের অধিকারি ছিলেন আর আমরা নবীর অনুসরণের নামে কি গুণের অধিকারি হইছি। আসুন কুরআন দিয়ে যাচাই করি...
নবী কথা দিয়ে কথা রাখতেন কারন, আল্লাহর দৃষ্টিতে অসন্তোষজনক..
(সূরাঃ আছ-ছফ ৬১, আয়াত ২,৩)"হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যাহা কর না তাহা তোমরা কেন বল? তোমরা যাহা কর না তোমরা তাহা বলা আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক।"
কথা দিয়ে কথা না রাখা আল্লাহর কাছে বড়ই অসন্তোষজনক তা আমরা কয়জন জানি বা কথা দেয়ার সময় এটা মনে রাখি?
প্রতিদিন আমরা দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে কিছু করার বা দেয়ার কথা বলি, প্রতিশ্রুতি দেই যা আমরা পূরণ করি না। এর কুফল মারাত্মক। ফলে মানুষ বিশ্বাস করে ঠকে যায়। শপথের গুরুত্ব কতটা দিয়ে আল্লাহ বলেছেন...
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ৮৯)"তোমাদের বৃথা শপথের জন্য আল্লাহ্ তোমাদেরকে দায়ী করিবেন না, কিন্তু যেসব শপথ তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর সেই সকলের জন্য তিনি তোমাদেরকে দায়ী করিবেন। অতঃপর ইহার কাফ্‌ফারা দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের আহার্য দান, যাহা তোমরা তোমাদের পরিজনদের খাইতে দাও, অথবা তাহাদেরকে বস্ত্রদান, কিংবা একজন দাস মুক্তি এবং যাহার সামর্থ্য নাই তাহার জন্য তিনদিন সিয়াম পালন। তোমরা শপথ করিলে ইহাই তোমাদের শপথের কাফ্‌ফারা, তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করিও। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তাঁহার বিধানসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।"
রাগ হলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে যায়। ক্ষনিকের রাগের ফল আমাদের সারাজীবন ভুগতে হয়। আমাদের ব্যার্থতা, অক্ষমতা আমরা রাগ আকারে বের করি, অপেক্ষাকৃত দূর্বলদের উপর।
(সূরাঃ আশ-শুরা ৪২, আয়াত ৩৭)"...তারা রেগে গেলে ক্ষমা করে দেয়।"
আল্লাহ আমাদেরকে সব পরিস্থিতিতে রাগকে দমন করার পরামর্শ দিয়েছেন, তা যতই পরীক্ষামূলক হোক না কেন।আল্লাহর ভালোবাসার চেয়ে বড় অর্জন আরকি হতে পারে
(সূরাঃ আল-ইমরান ৩, আয়াত ১৩৪)"যাহারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যাহারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আল্লাহ্ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।"
বাহ্যিক চেহারা (দাড়ি, টুপি, বোরকা, হিজাব, নিকাব, কপালে দাগ) দেখে, কে ধার্মিক তা চেনা যায় কিন্তু কে আল্লাহর বিধান মেনে চলা মুসলিম/আত্মসমর্পনকারী তা চেনা যায় না। চেনা যাবে তার ব্যবহারে ও আচরনে।
কেউ মন্দ কিছু বললে, তার উত্তরে আল্লাহ ভালো দ্বারা প্রতিহত করতে বলেছেন...
(সূরাঃ হা-মীম-সেজদাহ ৪১, আয়াত ৩৪)"ভাল ও মন্দ সমান হইতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যাহার শত্রুতা আছে, সে হইয়া যাইবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।"
আল্লাহ বলেছেন কাউকে বিদ্রুপ, উপহাস করা যাবে না, গালি দেয়া যাবে না, মন্দ নামে ডাকা যাবে না...
(সূরাঃ আল-হুজরাত ৪৯, আয়াত ১১)"হে বিশ্বাসীগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাহাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে এবং কোন নারী অপর কোন নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাহাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হইতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করিও না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডাকিও না; বিশ্বাস আনয়নের পর মন্দ নাম অতি মন্দ। যাহারা তওবা না করে তাহারাই জালিম।"
আল্লাহ বলেছেন কারো জন্য কোন কিছু করে, তার খোটা দেয়া যাবে না...
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৬৪)"হে বিশ্বাসীগণ! দানের কথা বলিয়া বেড়াইয়া এবং কষ্ট দিয়া তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল করিও না, যে নিজের ধনসম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করিয়া থাকে এবং আল্লাহ্‌ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে না। তাহার উপমা একটি মসৃণ পাথর - যাহার উপর কিছু মাটি থাকে; অতঃপর উহার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত উহাকে পরিষ্কার করিয়া রাখিয়া দেয়। যাহা তাহারা উপার্জন করিয়াছে তাহার কিছুই তাহারা তাহাদের কাজে লাগাইতে সক্ষম হইবে না। আল্লাহ্ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"
জম্নস্থান, ভাষা, শিক্ষা, অর্থণৈতিক ও পারিবারিক অবস্থা কোন কিছু নিয়ে গর্ব করো না।
(সূরাঃ বণী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ৩৭)"ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করিও না ; তুমি তো কখনই পদভরে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করিতে পারিবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বতপ্রমাণ হইতে পারিবে না।"
এইবার বলেন, নবীর অনুসরণ কি দিয়ে করবেন? কুরআন দিয়ে না সংকলিত হাদিস দিয়ে?
নবী প্রচার করেছেন,"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-আল্লাহ ছাড়া কোন বিধানদাতা নেই। আর আল্লাহ আমাদের জন্য বিধান করেছেন শুধু কুরআন। আর আল্লাহ আমাদের শুধু কুরআনের ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করবেন। তাই আমাদের আল্লাহর দেয়া কুরআনের বিধানগুলো জানতে হবে এবং পালন করতে হবে।
আল্লাহর দেয়া বিধানগুলোর মধ্যে দান করার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন একটি বিধান যার প্রতিদান আল্লাহ ইহকালে দেবেন এবং পরকালেও দেবেন বলে কুরআনে উল্লেখ করেছেন। পরকালের জন্য ভয় ও চিন্তা মুক্ত হতে চান? দান করুন।
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৭৪)"যাহারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য রাত্রে ও দিবসে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাহাদের পুণ্য ফল তাহাদের প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে, তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।"
কাকে দেয়া যাবে সাদাকা/দান? এদের মধ্যে আছে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফিরসহ অনেকে। কিন্তু নেই মসজিদ মাদ্রাসার দানের কথা, মসজিদ আল্লাহর ঘর এমন কথা কুরআনের কোথাও বলা নাই। আল্লাহ নবীকে বলতে বলেছেন....
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২১৫)"লোকে কি ব্যয় করিবে সে সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে। বল, ‘যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় করিবে তাহা পিতামাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, মিস্‌কীন এবং মুসাফিরদের জন্য। উত্তম কাজের যাহা কিছু তোমরা কর না কেন আল্লাহ্‌ তো সে সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।"
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৬১)"যাহারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে তাহাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যাহা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা। আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করিয়া দেন। আল্লাহ্ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।"
ইয়াতীম, মিসকিন বা অভাবী মানুষদের খাওয়ানোতে আল্লাহ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যারা মিসকিনকে খাওয়ায় না বা উৎসাহ দেয় না তারা দ্বীনকেই অস্বীকার করে।
(সূরাঃ মাউন ১০৭, আয়াত ১-৩)"তুমি কি দেখিয়াছ তাহাকে, যে দীনকে অস্বীকার করে? সে তো সে - ই, যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়াইয়া দেয় এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না।"
জাহান্নামের রক্ষীর প্রশ্নের উওরে দেখুন কি বলছে?
(সূরাঃ আল-মুদ্দাসসির ৭৪, আয়াত ৪২-৪৫)"তোমাদেরকে কিসে সাকার - এ নিক্ষেপ করিয়াছে? উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসুল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, ‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না, ‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।"
আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমরা পরিশুদ্ধ হই যাকে আরবিতে যাকাত বলে। কুরআনে বারে বারে আকিমুস সালাতের সাথে আতু যাকাত বাক্যটির মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের শুদ্ধ হওয়ার আদেশ করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন।আল্লাহর সকল বিধান মানার (আকিমুস সালাত) মাধ্যমেই আমরা নিজেদের শুদ্ধ করতে পারি। দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
আত্মশুদ্ধির প্রথম করনীয় হল নিজেকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করা। এ কাজটি বাস্তবিকই কঠিন। নিজের থেকে অন্যকে শুদ্ধ করার চেষ্টায় আমাদের আগ্রহ বেশি। একারনে আল্লাহ বলেছেন....
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ৪৪)"তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর নিজদেরকে বিস্মৃত হও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর। তবে কি তোমরা বুঝ না?"
নিজের জন্য পরকালে কি অপেক্ষা করছে সেটা না জানলে ও অপরের চিন্তায় আমরা বেশি চিন্তিত। এমনকি নবীও জানতেন না তার কি হবে। আল্লাহ নবীকে বলতে বলেছেন....
(সূরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৬৪)"বল, ‘আমি কি আল্লাহ্‌কে ছাড়িয়া অন্য প্রতিপালককে খুঁজিব ? অথচ তিনিই সব কিছুর প্রতিপালক।’ প্রত্যেকে স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেহ অন্য কাহারও ভার গ্রহণ করিবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের প্রতিপালকের নিকটেই, তৎপর যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করিতে তাহা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করিবেন।"
(সূরাঃ আল-আহক্বাফ ৪৬, আয়াত ৯)"বল, ‘আমি কোন নতুন রাসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হইবে ; আমি আমার প্রতি যাহা ওহী করা হয় কেবল তাহারই অনুসরণ করি। আর আমি তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।"
নিজে শুদ্ধ হই, নিজের চিন্তাটাই করি। এমনটি আল্লাহর উপদেশ বলতে পারেন, নির্দেশ ও বলতে পারেন। আল্লাহ বলেন...
(সূরাঃ আল-মায়েদাহ ৫, আয়াত ১০৫)"হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হইয়াছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। আল্লাহ্‌র দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন; অতঃপর তোমরা যাহা করিতে তিনি সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবহিত করিবেন।"

Address

Nawga Ullapara
Pabna
707

Telephone

+8801866545011

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when VIP SADHU posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category