05/06/2022
জীবন কত ঠুনকো! পৃথিবী কতটা ক্ষণিকের!
“আমি মারা যাচ্ছি বাবা, আমাকে মাফ করে দিয়ো।”
তিন মাস আগে বিএম কনটেইনার ডিপোতে চাকরিতে ঢোকে মমিনুল হক। শনিবার রাতে আগুন লাগার পরপরই সাড়ে নয়টা দশটার দিকে ছেলের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয়। প্রথমবার ছেলে ডিপোতে আগুন লাগার সংবাদ জানায়। তখন তাকে দূরে থাকতে বলেছিলাম। এর ১০ মিনিট পরে ছেলে ফোন করে বলে, বাবা বিস্ফোরণে আমার একটা পা উড়ে গেছে। আমি মারা যাচ্ছি বাবা, আমাকে মাফ করে দিয়ো।
শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বসে ছেলের সঙ্গে বলা শেষ কথা গুলো এভাবেই ঢাকা পোস্টকে জানান নিহত মমিনুল হকের বাবা স্কুল শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ফোনে ওইটুকু কথা বলার পর লাইন কেটে যায়। এরপর রাত ১টার পরে এসে হাসপাতালে ছেলের লাশ পাই।
তার সঙ্গে থাকা মুমিনুলের চাচাত ভাই তৈয়ব বলেন, আমাদের পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল মুমিনুলকে নিয়ে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।
কন্টেইনারগুলো ঘিরে এমন শত সহস্র স্বপ্ন বুনে ছিল অনেক মানুষ। আজ তাদের স্বপ্নগুলো ধোঁয়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে।
চট্টগ্রাম এবং আশেপাশে যারা আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ একবার হলেও হাসপাতালের দিকে যান- কারো সাহায্য লাগলে এগিয়ে আসুন, রক্ত দিন, ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করে দিন।অল্প একটু সাহায্য ও অনেকের জন্য হেল্পফুল হবে।
ফায়ার ফাইটারদের কত সহ্ যোদ্ধা যারা মারা যাওয়ার আগেও একসাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল একসাথে।
জীবন কত ছোট! 😞
অসুস্থদের আল্লাহ সুস্থ করে দিন। মৃতদের শাহাদাতের মর্যাদা ও পরিবারকে সান্ত্বনা দান করুন। রাব্বে কারীম সকলকে তাঁর রহমতের চাদরে ঢেকে নেন। আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন আমিন।🤲