25/01/2026
এক ভাইয়ের দোয়া কবুলের গল্প।
সময়টা এইচএসসি/আলিম পরীক্ষা চলাকালীন। প্রথম পরীক্ষা খুবই বাজে হয়েছিল। আমি বরাবরই আরবি সাবজেক্টগুলোতে খুবই দুর্বল ছিলাম কারণটা ছিলো বিজ্ঞান বিভাগের পড়া করতে করতে আরবিগুলো ভালো করার সময় পেতাম না খুব একটা। প্রথম পরীক্ষা ছিল কুরআন। পরীক্ষা শেষ করে বাসায় এসে মার্ক গুনে দেখলাম স্যার যদি খুব দয়া করে সবগুলো উত্তরে সম্পূর্ণ মার্ক দেয় তারপরেও কোনোরকম ৩৪ হচ্ছে। কিন্তু আমি যা লিখেছি ওই লেখায় সম্পূর্ণ মার্ক আশা করা যায় না। যাইহোক দূচিন্তা করে সময় নষ্ট করলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো খারাপ হয়ে যাবে।
সুতরাং পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করবো ভাবলাম। এর মধ্যে আমার একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার । তখন আমি তার পরামর্শে তার আম্মুর কাছে কথা বলি। মেয়ের আম্মুর কথাগুলো এমন ছিলো "কি যোগ্যতা আছে তোমার যে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাও"? এবং মেয়ের মায়ের সাথে আমার কথা হয়েছে এটা মামা কে জানায়। যদিও পরিবার এবং আত্নীয়-স্বজন দের খুবই যত্নের ছিলাম কিন্তু এটা সবাই জানাজানি হওয়াতে আত্নীয়দের অনেকে আমাকে তাদের ছেলে হিবেসে তাদের কাছে মরে গেছি এমন দাবি করতো।
সবকিছু মিলিয়ে না পারছিলাম পড়ায় মন দিতে না পারছিলাম রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাবে এই দূচিন্তা থেকে বের হতে। আম্মু আর একটা ভাইয়া ব্যাতীত কেউ পাশে ছিলোনা। আম্মু শুধু বলতো অপমানের জবাব সফলতা দিয়ে দিতে হয় আসলেই তুমি অযোগ্য তবে নিজেকে প্রমাণ করার সময় আছে তুমিও প্রমাণ করে দেখাবা ওরা তোমার অযোগ্য।আর আজ থেকে এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করবা না প্রচুর লেখাপড়া করবা। আর এটাই ছিলো আমার রবের নিকট ফিরে আসার গল্প। নামাজ দোয়া এবং চেষ্টা কোনোকিছুর কমতি রাখিনি । এমনকি সব শোশ্যাল মিডিয়া এপস ডিলেট দিয়ে বাটন ফোন বব্যবহার শুরু করি। (এবং এডমিশন এক্সাম পর্যন্ত বাটন ফোন ই বব্যাবহার করতাম)।
পরীক্ষা শেষ করার পরে বুঝতে পারলাম। হয়তো ভালো রেজাল্ট হবে না হলে প্রথম পরিক্ষার জন্য ফেল হবে। দোটানার মধ্য থেকেও আম্মুর কথামতো । শহরে এসে এডমিশন প্রিপারেশন নেয়া শুরু করলাম।ভাবছি যদি পাশ করি তাহলে কোথাও আটকাবো না ইনশাআল্লাহ। ইঞ্জিনিয়ারিং এ ট্রাই করলে হয়ে যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই যেন মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। মাথায় একটা চিন্তায় ঘুরতো যদি ফেল করি তাহলে এত পরিশ্রম সবকিছু বৃথা যাবে। এবং সবাই ভাববে ওই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বলে ফেইল করছি। কি একটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি। আত্মহত্যা করে ফেলবো এমনও ভেবেছিলাম দুইবার। কিন্তু আমি রেজাল্ট খারাপ হওয়ার ভয়ে এটা করলেও সবাই হয়তো ভাবতো ওই মেয়ের জন্য এমন করেছি ।
তখন ভাবি রেজাল্ট দেখবো পরে যদি ফেইল আসে আমার এই মুখ আর কাউরে দেখাবো না। এত মন খারাপ ডিপ্রেশন সবকিছু শেয়ার করতাম একটা কাকুর কাছে আর নামাজে সিজদায় আল্লাহর কাছে । যদিও কাকু রক্তের সম্পর্কের কেউ না এমনি সিনিয়র বলে কাকু ডাকতাম । কিন্তু তিনি আমাকে সব সময় জীবন নিয়ে সৎ উপদেশ দেন । কিন্তু সবাই আমাকে ভালো ছাত্র হিসেবে জানে কাকুর কাছে ফেল যেতে পারে এটা বলতেও পারতাম না কেমন ব্যর্থ মনে হতো নিজেকে। একদিন কাকুর কাছে বলেই বসলাম কাকু এবার সবমিলিয়ে ৫৫% পাস করেছে শুনতেছি আবার আমার প্রথম পরিক্ষার এই অবস্থা। তখন আর রেজাল্ট দিতে ৪ দিন বাকি। কাকু বললেন আজ থেকে তাহাজ্জুদ নামায যেন কাজা না হয় নিজের মতো করে আল্লাহর কাছে চাও আল্লাহ দিবে।
তারপর উনি পবিত্র কুরআন থেকে একটা রেফারেন্স দিলেন যে আল্লাহ বলেন:"দোয়া করলেই কবুল হয়"। ওইদিন থেকে আল্লাহর কাছে চাওয়া শুরু করলাম বললাম আল্লাহ আপাতত এমন একটা রেজাল্ট দিও যেটা মানুষকে সম্মানের সাথে বলতে পারবো। সিজদায় কান্না করে দোয়া করলে কি আল্লাহ ফেরাবে? কখনোই না। রেজাল্ট পাবলিশ হলো । গ্রুপে দেখলাম অল রেজাল্টে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ জন ফেইল। পরে আমি ভাবলাম হয়তো আমিও ওর মধ্যে আছি। কাপাকাপা হাতে ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখলাম আমাদের ক্যাম্পাস থেকে ২০২৪-২০২৫ সেশনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে টপ রেজাল্ট আমার আলহামদুলিল্লাহ। তারপর কিছুদিন পর এডমিশন এক্সাম তাহাজ্জুদ পড়া আর বন্ধ করলাম না এবার শুধু নামাজে আল্লাহকে চাইলাম আর চাইলাম সম্মান।
আগে থেকেই কোরিয়ান ভাষা জানা ছিলো। ২৩ তারিখ দক্ষিণ কোরিয়ার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন টেস্ট দিলাম। ১৭ হাজার থেকে ১৭ জনের চান্স হলো আমি ৪র্থ হয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট পেলাম। প্রথমটাতেই হয়ে গেল। জাতীয় প্রবাসী শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় ৪র্থ হলাম এবং বিভাগীয় প্রথম। এবং এটার জন্য মেডেল ও পেয়েছি । সবকিছু মিলিয়ে আল্লাহকে পেলাম ভালো রেজাল্ট ও পেলাম সম্মান ও পেলাম।তাহাজ্জুদের দোয়া বিফলে যায় না আল্লাহ কবুল করবেই ইনশাআল্লাহ। আর হ্যাঁ আরেকটা কথা আমার আম্মু আব্বুর দোয়ারও কিন্ত কমতি ছিলো না। আমার অর্জনের সবটুকুই আম্মুর অর্জন।
যারা শেষ পর্যন্ত পড়বেন তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আব্বু আম্মুর খেদমত করবেন তাদের দোয়া নিবেন জীবনে কোথাও আটকাবেন না ইনশাআল্লাহ। আর বেশি বেশি নেক আমল করবেন আল্লাহর কাছে চাইবেন ইনশাআল্লাহ তিনি দিবেন। আর আমার জন্য দোয়া রাখবেন।।
#ইস্তেগফার #তাহাজ্জুদ #দোয়া_কবুলের_গল্প