27/03/2018
#ইন্টারন্যাশনাল_স্পেস_স্টেশন
আচ্ছা, মহাকাশ দেখতে কেমন? লাল নাকি নীল? সেখনে কি ফুলের বাগান করা যাবে? সেখনে কিভাবে বসবাস করা যায়? এমন হাজারো প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের মাথায়। সেই ১৬১১ সালে টেলিস্কোপ আবিষ্কারের পর থেকে যেন মহাকাশ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষনা আর শেষ হয় না। প্রতিদিন নতুন নতুন আবিষ্কার করেই যাচ্ছে। কিছুদিন আগে শুনলাম মঙ্গলের মাটিতে নাকি ২% পানি পাওয়া গেছে। এ নিয়েও কত মাতামাতি। এই অসম্ভব মেধাবী বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের একটা অন্যতম সাফল্য হল পৃথিবীর আকাশে International Space Station (ISS) স্থাপন। আজকে এই ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা ISS-কে নিয়েই জানবো মজার কিছু তথ্য। ১৯৪০ সালের আগে ISS ছিল সায়েন্স ফিকশান এর গল্প। এরপর ধীরে ধীরে মহাকাশে একটা আস্তো স্টেশন বসানোর সব কলা কৌশল মানুষ আবিষ্কার করতে থাকে। ১৯৫০ সালের পর রাশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান সহ বিভিন্ন দেশ মহাকাশ গবেশনায় সাফল্য পেতে থাকে। ১৯৮৪ সালে U.S. প্রেসিডেন্ট Ronald Reagan মহাকাশে স্থায়ী গবেষনাগার স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দেশেকে আহ্বান জানান। এরপর রাশিয়া, কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি সহ ১৫টি দেশ একত্রিত হয় মহাকাশে ISS স্থাপন করার জন্য। ১৯৯৮ সালের ২০ নভেম্বর রাশিয়া থেকে ISS-এর প্রথম অংশটি পাঠেনোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ। এবং ২০১১ সালে এর নির্মান কাজ শেষ হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, ISS-কে পৃথিবীতে সম্পূর্ণ তৈরী করে মহাকাশে পাঠানো হয় নি। এর বিভিন্ন ছোট ছোট অংশ পৃথিবীতে বানিয়ে রকেটে করে মহাকাশে অরবিটালে নিয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এজন্য মহাকাশচারীদের প্রায় ৩০ বারেরও বেশি মহাকাশ যাত্রা করতে হয়েছিল। ISS হল মহাকাশে ভাসমান মানুষের তৈরী সবচেয়ে বড় বস্তু। একটি ফুটবল মাঠের সমান। ISS-কে দেখতে হলে কোন টেলিস্কোপ দরকার নেই। পৃথিবী থেকে খালি চোখেই একে দেখা যায়। সূর্যের reflection-এর জন্য রাতের আকাশে চলমান তারার মত দেখায় একে। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৪০ কিমি. উপরে অরবিটালে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে এই বিশাল সাইজের গবেষণাগার। প্রতি ঘন্টায় এটি প্রায় ২৮০০০ কিমি. বেগে ঘুরছে। মাত্র ৯০ মিনিটেই পুরো পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসতে পারে। এর মানে দাঁড়ায় ২৪ ঘন্টায় ISS পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্বের ২ গুন পথ অতিক্রম করে ফেলে। বিভিন্ন গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিজ্ঞানী পাঠানো হয় ISS-এ। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন মহাকাশচারী ও বিজ্ঞনী গিয়েছেন সেখানে। সাইজে বিশাল হলেও একইসাথে ৬ জনের বেশি থাকেন না কখনোই। আবার অনেক বেশি সময়ের জন্যও থাকা যায় না সেখানে। একটানা ৩৪০ দিন ISS-এ থেকে রেকর্ড করেছেন NASA-র মহাকাশচারী Scott Kelly. মহাকাশ গবেষণাই ISS প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও, অন্য কোন গ্রহে গেলে মনুষের বসবাস কেমন হবে, মানুষের চাষবাস পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিৎ, বিভিন্ন জীবাণু মহাকাশে কেমন আচরন করে, মহাকাশে বিভিন্ন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ইত্যাদি বহু রকমের গবেষণা চলে ISS-এ। মহাকাশে microgravity-তে artificial environment তৈরী করে বিজ্ঞানীরা সফলভাবে কয়েক প্রকার সালাদ ও ফুলের চাষ করতে পেরেছেন। যা মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পথ একধাপ এগিয়ে দিল। বিজ্ঞানীরাও তো মানুষ। মহাকাশে বসবাস যেন বোরিং না হয় সেজন্য রয়েছে gymnasium , সুন্দর এই নীল পৃথিবী দেখার জন্য আছে ৩৬০ ডিগ্রি জানালা, বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য আছে বেড রুম। মহাকাশেও কিন্তু facebooking করা বন্ধ নাই। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের জন্য সামাজিক সব যোগাযোগ মাধ্যমই রয়েছে সেখানে। আর খাবার দাবার তো আছেই। তবে একটু বিশেষ ধরনের খাবার। মানুষের মহাকাশ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুজতে ব্যস্ত ISS-এর বিজ্ঞানীরা। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেখানে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে বিজ্ঞানীদের। এরপর ISS-এর কি হবে সেটা এখনো ঠিক করা হয়নি। পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি একত্রিত হয়ে Scientific Research-এর সবচেয়ে সন্দর উদাহরন হল এই ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে।
#নিপুন_কারিগর