10/04/2023
১০০% ম্যাচিওর্ড/সিল্ড মৌচাকের ছবি।
৮০ % থেকে ৯২ % পানি বা ময়েশ্চার ও বিভিন্ন জৈবরসায়নিক উপাদানে সমৃদ্ধ নেকটার (সরাসরি ফুল থেকে যে মধু মৌমাছি সংগ্রহ করে নিয়ে আসে তাকে ’নেকটার’ বলে) সংগ্রহ করে নিয়ে এসে তা মৌচাকের (তা সে উন্মুক্ত মৌচাক হোক আর মৌবাক্সোর মৌচাক হোক) হানি চেম্বারে রেখে যাওয়ার সাথে সাথে চাকের মৌমাছিরা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতিতে তা বারবার নিজেদের পাকস্থলিতে নিতে এবং পাকস্থলি থেকে বের করতে থাকে। এভাবে এ সময় তারা নিজেদের পাকস্থলি নিসৃত নতুন নতুন আরো বিভিন্ন জৈবরসায়নিক উপাদান আহরিত নেকটারে মিশিয়ে তা মধুতে পরিণত করে। (প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মৌমাছির দেহাভ্যান্তরে দু্ইটি পাকস্থলি থাকে; যার একটি দিয়ে সে নিজের খাওয়া খাবার হজম করে আরেকটি সে মধু প্রক্রিয়াকরণের কাজে ব্যবহার করে থাকে)
ঐ প্রক্রিয়াধীন মধু এভাবে বারবার পাকস্থলিতে নেয়া এবং বের করার মাধ্যমে আগে থেকেই বিভিন্ন জৈবরসায়নিক উপাদানে সমৃদ্ধ নেকটার ও দ্বিতীয় পাকস্থলি নিসৃত নিত্য নতুন বিভিন্ন জৈবরসায়নিক উপাদান মিশ্রিত পাতলা বা অপেক্ষাকৃত তরল মধুর ময়েশ্চারের পরিমাণ কমিয়ে আনে। এভাবে বারবার একই প্রক্রিয়া অবলম্বনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া অপেক্ষাকৃত ঘণ মধূ যখন ঘণত্বের কারণে পাকস্থলিতে নিয়ে আর তা থেকে বের করে দেয়ার মত অবস্থায় থাকে না তখন সর্বশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে মৌচাকের অভ্যন্তরের বিরাজ করা সার্বক্ষণিক টেম্পারেচার ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার হানি চেম্বারগুলোতে ঐ আধা পাকা মধু রেখে নিজেদের পাখনার দ্বারা অবিরাম বাতাস দিয়ে প্রক্রিয়াধীন মধুর পানি বা ময়েশ্চারের পরিমাণ শেষ পর্যন্ত শুরুর ৮০ % বা ৯২ % থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ১৮% থেকে ১৬% এ নিয়ে এসে হানি চেম্বারগুলো এভাবে মোম দিয়ে সিল্ড করে দেয়। ( প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আদ্রতা প্রধান আবহাওয়ায় মৌমাছি সাধারণত ১৮% এর কমে ময়েশ্চার আনতে পারে না- আর এটাই এদেশীয় মধু-র স্ট্যান্ডার্ড। শীতপ্রধান অঞ্চলের অাদ্রতামুক্ত বা অপেক্ষাকৃত কম আদ্রতা বিশিষ্ট আবহাওয়ায় মধু আরো ঘণ বা গাঢ় হয়ে থাকে। কারণ আদ্রতা কম থাকায় ঐ সকল দেশের ম্যাচিওর্ড বা রাইপ্ড মধুতে সর্বোচ্চ ১৬% বা ১৫% ময়েশ্চার থাকে, ফলে এদেশীয় মধু অপেক্ষা ওগুলো আরো বেশী গাঢ় হয়)।
মধুকে প্রাকৃতিকভাবে ম্যাচিওর্ড বা রাইপড বা পাকা করার এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রকৃতিতে নেকটার প্রাপ্তির পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে কমপক্ষে একেকটা চাকে মৌমাছির ২০/২২ দিন সময় লাগে, কিন্তু কোন মৌসুমে নেকটার আহরণযোগ্য ফুলের যোগান অপেক্ষাকৃত কম থাকলে মধু ম্যাচিওর্ড বা রাইপড বা পাকা করতে মৌমাছির দেড়/ দুই মাসও লাগতে পারে।
এ ধরণের সিল্ড বা হানি চেম্বারগুলো পুরো ঢাকনা দেয়া মৌচাকের মধুকে ম্যাচিওর্ড বা পাকা মধু বলে। তা সে উন্মুক্ত পরিবেশে হওয়া মৌচাকের মধু হোক অথবা মৌবাক্সের বা কথিত চাষ করা মধু হোক। এ ভাবে মৌচাকে পরিপক্ক মধু আর কৃত্রিম ভাবে প্রসেসিং করতে হয় না বিধায় এধরণের চাকের পাকা মধূকে Raw Matured Honey বলে আর অপেক্ষাকৃত পাতলা অপরিপক্ক অবস্থায় সংগ্রহ করে অনুমোদিত কৃত্রিম প্রসেসিং-এর মাধ্যমে পাকা করা মধূকে বলে Regular Honey। উৎপাদন ইচ্ছামত ও অপেক্ষাকৃত বেশী করা যায় বিধায় Regular Honey-ই বাজারে বেশী পাওয়া যায়।
তবে অামাদের ”চুজ এন্ড ট্রাষ্ট (অন লাইন এন্ড অফ লাইন শপ)” প্রধানত Matured/ Riped Raw Honey বিক্রি করে থাকে।
মধু বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে এবং আমাদের বিক্রিযোগ্য অন্যান্য পণ্যের বিষয়ে জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ: "Choose and trust" ভিজিট করুন। আর আমাদের Matured/ Riped Raw Honey কিনতে চাইলে ইনবক্স করুন।