01/09/2016
"গ্রামীণফোন ফোরজি চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত: রাজীব শেঠি"
দেশে ফোরজি মোবাইল সার্ভিস প্রদানে গ্রামীণফোন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি। তিনি জানান, গ্রামীণফোন ১০,০২৬টি বিটিএসে (টাওয়ারে) দ্রুতগামী থ্রিজি প্রযুক্তি সক্রিয় করেছে এবং এসবগুলো বিটিএস ফোরজি সার্ভিস প্রদান করতে পারবে।
শেঠি বলেন, আর এটি করার জন্য আমাদের শুধুমাত্র স্পেকট্রামের নিরপেক্ষতা দরকার। বাজারে দ্রুতগামী ইন্টারনেট সার্ভিসের চাহিদা লক্ষ্য করেছি আমরা। গ্রাহকরা ভিডিও দেখছেন এবং তারা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন তা নিয়েও বিচলিত নন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা দেখছি বাংলাদেশী গ্রাহকরা বেশি বেশি ভিডিও কন্টেন্ট সার্চ করছেন। ইউজাররা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টিভিও দেখছেন।’
তার মতে, ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু হয়ে গেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বহুলাংশে বাড়বে। জুন মাস পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ১০,০২৬টি থ্রিজি সক্রিয় বিটিএস আছে।
শেঠি বলেন, স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা অপারেটরদের স্পেকট্রাম ব্যবহার করে যেকোন ধরণের সার্ভিস প্রদানের সুবিধা সৃষ্টি করে। এর ফলে এন্ড-ইউজাররা বেশি লাভবান হবে। বিশ্বের বেশিরভাগে টেলিকম বাজার স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা ভোগ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কিছু দেশের অপারেটররা ফাইভজি প্রযুক্তি প্রদান করার কথা ভাবছে। গ্রামীণফোন ইতোমধ্যে টেকনোলজি ইকুইপমেন্ট ভেন্ডর হুয়াওয়ের সহায়তায় তাদের নেটওয়ার্কে ফোরজি সার্ভিস পরীক্ষা করেছে এবং ব্যাপক স্পিড পেয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে অপারেটরটি ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম ব্যবহার করেছিল যদিও বিশ্বব্যাপী ফোরজি সার্ভিসের ক্ষেত্রে ১৮০০ ব্যান্ড সবচেয়ে জনপ্রিয়।
শেঠি বলেন, ‘গ্রামীণফোনই প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শহর, গ্রাম এবং ঘরে ঘরে মোবাইল টেলিফোন পৌছে দিয়েছে। আর এখন ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও সেটিই করতে চাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।’
তিনি জানান, অপারেটরটি দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে থ্রিজি সার্ভিস প্রদান করছে। কোন দেশই এতো কম সময়ে থ্রিজি নেটওয়ার্কের এতোটা বিস্তৃতি ঘটাতে পারেনি। তিনি ভারতের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের অনেক আগেই দেশটিতে থ্রিজি সার্ভিস চালু হয়েছিল কিন্তু পরিধির দিক থেকে তাদের নেটওয়ার্ক অতোটা বিস্তৃত হয়নি।
তিনি বলেন, ‘তারা এখনও ৯০ শতাংশ জনগণকে থ্রিজি সার্ভিসের আওতায় আনতে পারেনি। আপনি থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এমনকি মালয়েশিয়ার দিকে লক্ষ্য করলে গ্রামীণফোনের মতো এতো ভালো কাভারেজ পাবেন না। আর এসব অর্জনের জন্যই গ্রামীণফোন ভয়েস এবং ডাটা উভয় দিক থেকেই দেশের সেরা নেটওয়ার্ক।’
তিনি জানান, অবশিষ্ট সাইটগুলো খুব শীঘ্রই থ্রিজি নেটওয়ার্ক পাবে। অপারেটরটি নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতে ২০১৫ সালে ১,৯০০ কোটি টাকা এবং এ বছরের প্রথমার্ধ্বে ১,৩৬০ কোটি টাকা খরচ করে। টেলিকম জায়ান্ট জিপি ইতোমধ্যে সঙ্গীত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ভিন্ন ভিন্ন সার্ভিস চালু করেছে। তাছাড়া শিক্ষার ওপরও একটি সার্ভিস প্রাথমিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রার সবে মাত্র শুরু হলো।’
তিনি বলেন, থ্রিজি সার্ভিস গণমানুষের জীবনকে দ্রুতগামী করে তুলেছে এবং সরকারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসছে।
কলড্রপজনিত সমস্যার ব্যাপারে তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোর অপারেশনের তুলনায় গ্রামীণফোনের সার্ভিসের মান অনেক ভালো। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের সকল প্যারামিটার জুড়ে ভালো করছি আমরা।’
বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে সার্ভিসের মান নিয়ে সমস্যা রয়েছে সেসব অঞ্চলে সার্ভিসের মানোন্নয়নে কাজ করছে গ্রামীণফোন। শেঠি বলেন, ‘সার্ভিসের মান উন্নয়নই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য, বিশেষত ঢাকার মতো বড় শহরে।’
সম্প্রতি ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলা মর্মান্তিক অবস্থার সৃষ্টি করলেও এদেশে তাদের বিনিয়োগে তার কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারটিতে তেমন একটা উদ্বিগ্ন নই।’ তবে, নেটওয়ার্ক এবং বেস স্টেশনে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে গ্রামীণফোন।
শেঠি বলেন, ‘আমরা সকল সরকারী সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। ট্যাক্সের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, প্রত্যেক বছরই টেলিকম সেক্টরে ট্যাক্স বাড়ছে। গত অর্থবছরে ৫-৬ শতাংশ ট্যাক্স বেড়েছে যা এন্ড ইউজারকে চাপে ফেলে দিচ্ছে।