31/08/2020
এককাপ চা চলবে? আর চায়ের সাথে ‘টা’? আজ তাহলে চায়ের সাথে না হয় চায়ের ইতিহাসটাই চলুক?
পাঁচ হাজার আগের একটি কাকতালীয় ঘটনাই আজকের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপের পর্দার পেছনের কাহিনী, যাকে আমরা বলি ‘ইতিহাস’। সম্রাটদের খামখেয়ালীপনার শত গল্পই দেখা যায় এই ইতিহাসের পাতা ওল্টালে, কারো রাজ্য জয়-পরাজয়, কারো অদ্ভূত শখ, বা কারো গভীর প্রেম, সবকিছুই বর্তমানের কোনো না কোনোকিছুতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। তেমনি এক সম্রাট ছিলেন আমাদের আজকের এই ‘শেন নাং’, চায়ের কথা বললে যার নাম বলতেই হয়!
মজার ব্যপার হলো চীনা ভাষায় ‘শেন নাং’ নামটির অর্থ হলো ‘স্বর্গীয় কৃষক’। শেন নাংও যেনো স্বর্গ থেকে ছেনে এনেছিলেন চা নামের প্রিয় পানীয়টি! এর পাঁচ হাজার বছর আগের এই সম্রাট ছিলেন দারুণ স্বাস্থ্যসচেতন। একবার তিনি ডিক্রী চালু করলেন যে তার প্রজাদের সবাইকে পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। তো একদিন বিকেলে রাজকার্যের ক্লান্তি দূর করার জন্য ক্যামেলিয়া গাছের নিচে বসে সম্রাট ফুটানো গরম পানি পান করছিলেন, কোত্থেকে যেন তার গরম পানির পাত্রে এসে পড়লো কয়েকটি অচেনা পাতা! পাতাগুলো পানি থেকে বের করার আগেই তার নির্যাস মিশে যেতে লাগলো পানির সাথে আর ভোজবাজির মত পাল্টাতে লাগলো পানির রং! কৌতূহলী সম্রাট শেন নাং ভাবলেন এ নির্যাসও একবার পান করে দেখে নেওয়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ, নির্যাসমিশ্রিত এ পানি পান করার পর নিজেকে অন্যদিনের চাইতে অনেক বেশি চনমনে লাগলো তার! ঘুম ঘুম ভাব কেটে গেলো, ক্লান্তি দূর হলো আর সম্রাটও নতুন স্বাদ পেয়ে খুশি! এরপর অনেক খুঁজেটুজে পাওয়া গেল পাতাটির উৎস- ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ গাছ।
সেই শুরু থেকে চীনারা করে আসছেন চায়ের পৃষ্টপোষকতা, এক চীনা মনিষী লাওৎ সে চাকে বলেছেন ‘মহৌষধি’ বা ‘পরশমণি’। প্রাচীন চীনারা তো এও বলে গেছেন, “চায়ের মত এমন প্রাকৃতিক সুঘ্রাণ আর কিছুতে নেই”। আর এ কথার জের ধরেই হয়তো আজ চায়ের নির্যাসে তৈরী হয়েছে মোহময় বিভিন্ন সুগন্ধিও!
চীনে চা পানের প্রচলন শুরু হয় ঔষধসেবন হিসেবে। ইংল্যান্ডে নামকরা চায়ের ব্র্যান্ড হলো ‘টাইফু’, চীনা ভাষায় যার অর্থ ‘চিকিৎসক’। ‘চা’ নামক এই অতি পরিচিত পানীয়টিতে রয়েছে ৭% থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন যা শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য অনেক উপকারী। এতে রয়েছে ২৫% এরও বেশি পলিফেনলস, যা ক্যান্সার প্রতিরোধী। ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে জাপানে চা পানের অভ্যাসও চালু হয় মূলত সুস্বাস্থ্যরক্ষার জন্যই।
লেখক: অনিন্দিতা চৌধুরী
রোর মিডিয়া