11/05/2025
গল্প: "চোখের আড়াল, কিন্তু হৃদয়ের না"
লালমনিরহাট জেলার জেলা পরিষদের পাশে ছেলেটার বাড়ি।
বেশ চেনা মুখ, শান্ত স্বভাব, মনের ভেতর এক সমুদ্র ভালোবাসা লুকিয়ে রাখা এক যুবক।
তার ভালোবাসা ছিলো মিশন মোরের এক মেয়েকে ঘিরে—একটা মেয়ে, যার হাসিতে তার সমস্ত দুঃখ গলে যেতো, যার কণ্ঠ শুনলেই তার দিনটা শুরু হতো নতুন করে।
তাদের ভালোবাসা বহু দিনের।
তবে কেউ জানতো না।
না পরিবার, না বন্ধু—এ যেন এক চুপচাপ, গভীর, সত্যিকারের ভালোবাসা, যেখানে শব্দের চেয়ে চোখ অনেক বেশি বলতো।
স্কুল পেরিয়ে কলেজ, কলেজ পেরিয়ে জীবন এখন নতুন গন্তব্যে।
মেয়েটি এখন নার্সিং পড়ছে—ডাকায়, অনেক ব্যস্ততা, ক্লাস, হাসপাতালের ঘ্রাণে মিশে আছে তার স্বপ্ন।
ছেলেটা আর এফ এল এ (RFL) তে কাজ করে—ভোর থেকে রাত, পরিশ্রমে ভরা জীবন।
তবুও, তাদের প্রেম আজও আগের মতোই।
হয়তো এখন আর প্রতিদিন দেখা হয় না, হয়তো সময় দেয়ার সুযোগ কম,
কিন্তু একটুখানি টেক্সট, একফোঁটা সময়ের ফোনকলেই তারা দুজন বুঝে ফেলে—"ভালোবাসা এখনো একই আছে, বরং আরও গভীর হয়েছে।"
একদিন ছেলেটা বলেছিলো—
"তুই তো জানিস, তোর হাসিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
তুই নার্স হবি, মানুষকে সুস্থ করবি, আর আমি তোকে আগলে রাখবো, তোর পাশে থাকবো—চুপচাপ, সবসময়।"
আর মেয়েটা হেসে বলেছিলো—
"আমার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা তুই, তুই থাকলে আমি সব পারবো..."
এখন তারা স্বপ্ন দেখে—একসাথে একটা ছোট্ট ঘর, যেখানে মেয়েটা অফিস থেকে ফিরে বলবে, “চা দিস তো।”
আর ছেলেটা ক্লান্ত মুখে বলবে—“তুই থাকলেই তো জীবন সুন্দর।”
তাদের গল্পটা খুব সাধারণ, কিন্তু খুবই শক্তিশালী।
কারণ এটা কোনো স্ট্যাটাসে নেই, কোনো লোক দেখানো ভালোবাসা নয়।
এটা তাদের হৃদয়ের গভীরে লেখা—যেখানে
ভালোবাসা মানে দেখা নয়, ভালোবাসা মানে—বোঝা, ধরা, আর অদৃশ্য হয়ে গেলেও অনুভব করা।
---
তারা দুজন এখনো একে অপরের অপেক্ষায়—নিজের স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু মনের সবটুকু জুড়ে একজন আরেকজন।
কারণ ভালোবাসা মানে তো একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা নয়, একসাথে থাকার লড়াই।