11/05/2025
আম্রপালি আমের ইতিহাস:
উৎপত্তি ও উদ্ভাবন:
আম্রপালি আম প্রথম উদ্ভাবিত হয় ১৯৭১ সালে ভারতের লখনউয়ের মালিহাবাদে অবস্থিত Central Institute for Subtropical Horticulture (CISH)-এ। এটি দুটি জনপ্রিয় আমের জাত দশেরি (Dashehari) এবং নেহাল (Neelum) এর সংকরজাত বা হাইব্রিড জাত।
নামকরণ:
এই আমের নাম রাখা হয়েছে প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত রাজনর্তকী ও ভক্ত আম্রপালিকা-এর নামে, যিনি বুদ্ধদেবের সময় বিখ্যাত ছিলেন। তার সৌন্দর্য ও রূপের মত এই আমের স্বাদ এবং সুগন্ধও অনন্য, তাই তার নামেই আমটির নামকরণ করা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
আম্রপালি আম খেতে খুবই মিষ্টি এবং রসালো।
আঁশ খুবই কম, তাই খাওয়ার সময় মুখে আঁশ লাগে না।
গাঢ় কমলা বা লালচে হলুদ রঙের হয় পাকার পর।
সাধারণত ছোট আকৃতির হয়ে থাকে।
এটি ঘরে সংরক্ষণযোগ্যতা ভালো, তাই বাজারজাতকরণে সুবিধা হয়।
বাংলাদেশে পরিচিতি:
বাংলাদেশে আম্রপালি আম এখন অনেক জনপ্রিয়। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ (যেমন সাপাহার), দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এটি ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। আম্রপালির ফলন ভালো হয় এবং বাগানে একাধিক বছর ফল দেয়।
সাপাহার (নওগাঁ জেলার একটি উপজেলা) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে আম্রপালি আম চাষ গত কয়েক বছর ধরে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং এটি এখন একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সাপাহারে আম্রপালি আম চাষ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
১. জনপ্রিয়তার কারণ:
উচ্চ ফলন: আম্রপালি গাছ কম জায়গা দখল করে বেশি ফলন দেয়। এক হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি গাছ বসানো যায়, ফলে মোট উৎপাদনও বেশি হয়।
আকর্ষণীয় রঙ ও স্বাদ: আম্রপালির গাঢ় রঙ, সুগন্ধ এবং মিষ্টি স্বাদ ক্রেতাদের কাছে খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে শহুরে বাজার ও বিদেশে রপ্তানির জন্য।
বাজারে চাহিদা: দেশি বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও আম্রপালি আমের ভালো চাহিদা রয়েছে, যা সাপাহারের চাষিদের উৎসাহিত করেছে।
সংক্ষেপে বলা যায়:
সাপাহারের আম্রপালি শুধু একটি ফল নয়, এটি এখন একটি স্বাদের ব্র্যান্ড, যা
কৃষককে দেয় আয়,
ভোক্তাকে দেয় তৃপ্তি,
আর দেশের জন্য তৈরি করছে রপ্তানির সম্ভাবনা।
নামডাক ও পরিচিতি:
সাপাহার নিজেই এখন একটি “ব্র্যান্ড” হয়ে গেছে আমের ক্ষেত্রে।
যখন কেউ বলে "সাপাহারের আম্রপালি", তখন সেটা মানসম্পন্ন, খাঁটি ও সুস্বাদু বলেই ধরে নেওয়া হয়।