07/02/2024
🌹🌹🌹🌹🌹🕋 بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم 🕋🌹🌹🌹🌹🌹
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ্, আজ ২৭শে রজব ১৪৪৫ হিজরী, ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ বা শাব-ই-মি’রাজ শারীফ। এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনী পবিত্র শাব-ই-মি’রাজ শারীফ উপলক্ষে সকল আলিম, উলামা, মুফতি, ইসলামিক স্কলার ও মুমিন-মুসলমান জ্বীন, ইনসান ভাই-বোনদেরকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ।🌹
🌎 লাইলাতুল মি’রাজ বা শাব-ই-মি’রাজ শারীফ এর রাতের ফাযীলাত, ইবাদাত ও নেক আমল 🌍
💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎💎
এ রাতে আমাদের প্রিয় নাবী হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ} ফিরিশতা হযরত জিবরাঈল {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ}-এর সাথে পবিত্র কা’বা শারীফ হতে ভূ-মধ্যসাগরের পূর্ব তীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ্ {ﷻ}-এর দিদার লাভ করেন এবং ৫ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি {ﷺ} অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূলুল্লাহ্ হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ} ছাড়া অন্য কোনো নাবী {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ} এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই তিনি {ﷺ} সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী।
📌 প্রিয় রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} ইরশাদ করেন,
”فى رجب يوما و ليلة من صام ذالك اليوم وقام تلك الليلة كان له من الاجر كمن صام مأة عام وقامها وهى بثلاثة بقين من رجب“
অর্থ : “রজব মাসে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে। যে ব্যক্তি ঐ দিনে রোজা রাখবে এবং ঐ রাতে ইবাদত করবে, সে যেন ১০০ বছর রোজা রাখলো (অর্থাৎ একশত বছর রোযা রাখার ছওয়াব পাবে) এবং ১০০ বছর ইবাদত করলো (অর্থাৎ একশত বছর ইবাদত করার ছওয়াব পাবে) সেটা হলো ২৭শে রজব।”
[রেফারেন্স : ফাদ্বাইলে আওকাত, খণ্ড নং : ১ম, পৃষ্ঠা নং : ৯৫, হাদীস নং : ১১। শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং : ৩৫৩০। তাফসীরে দুররে মানছুর, খণ্ড নং : ৪র্থ, পৃষ্ঠা নং : ১৮৬। কানজুল উম্মাল, হাদীস নং : ৩৫১৬৯।]
📌 আরেক বর্ণনায় রয়েছে, প্রিয় রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} ইরশাদ করেন,
”من صام يوم السابع والعشرين من رجب كتب له ثواب صيام ستين شهرا“
অর্থ : “যে ব্যক্তি ২৭শে রজবে রোযা রাখবে, তার জন্য ৬০ মাস তথা ৫ বছরের নফল রোযার ছওয়াব লিখা হবে।”
[রেফারেন্স : গুনিয়াতুত ত্বালিবীন, পৃষ্ঠা নং : ২৪০।]
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় মুসলিম জাহানের সঙ্গে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ ক্বুরআনখানি, নফল নামায, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দূ‘য়া-দারূদ শারীফ পাঠ ও বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শাব-ই-মি’রাজ শারীফ পালন করবেন।
💎পবিত্র শাব-ই-মি’রাজ শারীফ এর নফল নামায ও ইবাদাত :
ইবাদাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো নফল নামায। প্রতিটি ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল ইবাদাতের জন্য তাজা অজু বা নতুন অজু করা মুস্তাহাব। বিশেষ ইবাদাতের জন্য গোসল করাও মুস্তাহাব। ইবাদাতের জন্য দিন অপেক্ষা রাত শ্রেয়তর।
♥️ নামায পড়ার নিয়ম : ২ রাকআত করে ১২ রাকআত নামায পরতে হবে।
👉 নামাযের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ : না ওয়াইতুআন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা রাক্আতাই ছালাতি লাইলাতিল্ মিরাজ্ মুতা ওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কাবাতিশ্ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
বিঃদ্রঃ যদি আপনি মনে করেন এটি মুখস্ত করতে সমস্যা বা মনে থাকে না। তাহলে এই নিয়ত আপনি বাংলায় ও করতে পারেন, যেমনঃ “আমি আল্লাহর ওয়াস্তে কিবলা মুখি হয়ে শবে মি’রাজের ২ রাকআত নফল নামায আল্লাহর রাজি ও খুশির জন্য আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।
🌹 নফল নামায (১) : এই রাত্রে সূরাহ্ ফাতিহার পর অন্য যেকোনো সূরাহ্ দ্বারা ১২ রাক‘আত নফল নামাজ আদায় করবেন এবং নামায শেষে ১০০ বার আস্তাগফার, ১০০ বার যেকোনো দারূদ শারীফ, ১০০ বার কালেমা তামজিদ পাঠ করে সিজদায় পড়ে মহান আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট যা জায়িয দূ‘আ (প্রার্থনা) করবেন মহান আল্লাহ্ পাক তা-ই ক্ববুল করবেন।
[রেফারেন্স : হাদীস শারীফের কিতাবঃ আওরাদ]
🌹 নফল নামায (২) : হাদীস শারীফ এর কিতাবে বর্ণিত আছে, রজব মাসে এমন একটি রাত রয়েছে ঐ রাতে নেক আমলকারীদেরকে ১০০ বছরের নেকীর সাওয়াব দান করা হয়। আর তা রজবের ২৭ই তারিখের রাত। যে ব্যক্তি ঐ রাতে ১২ রাকাআত নামায এইভাবে আদায় করবে যে, প্রতি রাকাআতে সুরায়ে ফাতিহা এর সহিত অন্য যে কোনো একটি সূরাহ্ পাঠ করবে আর প্রতি দু’রাকাআত পর পর আত্তাহিয়্যাতু পড়বে এভাবে ১২ রাকআত পূর্ণ হলে সালাম ফিরাবে এরপর ১০০ বার বর্ণিত দু‘আ পড়বে :
বাংলা উচ্চারণঃ “ছুবহানাল্লাহি ওয়াল্ হামদু লিল্লাহি ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার্।”
অতঃপর ১০০ বার ইস্তেগফার যথাঃ “আস্তাগফিরুল্লাহা রব্বি মিন্ কুল্লি যাম্ বিও্ঁ ওয়া আতুবূ ইলাই্হি”।
অতঃপর ১০০ বার যেকোনো দারূদ শারীফ পাঠ করতে হবে, এখানে একটি ছোট দারূদ শারীফ দেয়া হল যথাঃ “সাল্লাল্লাহু ‘আলা মুহাম্মাদ্ সাল্লাল্লাহু আলাই্হি ওয়া সালাম”।
আর দুনিয়া ও আখিরাতের জায়িয যা ইচ্ছা তা চেয়ে দু’আ করবে, আর সকালে রোযা রাখবে, তাহলে মহান আল্লাহ্ {ﷻ} তার সমস্ত বৈধ দু‘আ ক্ববুল করবেন।
[রেফারেন্স : শুআবুল ঈমান, খণ্ড নং : ৩য়, পৃষ্ঠা নং : ৩৭৪, হাদীস নং : ৩৮১২।]
💎💎💎 শবে মি’রাজের দিনে রোযার ফাযীলাত 💎💎💎
২৭শে রজবের গুরুত্বের কথা কি বলব! ঐ তারিখে আমাদের প্রিয় আকা হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ}-এর উপর প্রথমবার ওহী নাযিল হয়েছে এবং এই তারিখেই মি’রাজের সেই আজিমুশশান মুজিজা প্রকাশ পেয়েছিল। ২৭শে রজব শারীফের রোযার অনেক ফাযীলাত রয়েছে। যেমনঃ
🌹 (১) হযরত সাইয়িদুনা সালমান ফারসী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ} ইরশাদ করেন,—“রজবে একটি দিন ও রাত এমন রয়েছে, যে ব্যক্তি সে দিনে রোযা রাখবে ও রাতে নফল ইবাদতে অতিবাহিত করবে, তা শত বছরের রোযার সমান। আর তা হল ২৭শে রজব। ঐ তারিখেই মহান আল্লাহ্ {ﷻ} রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-এর নিকট ওহী প্রেরণ করেছেন।”-[রেফারেন্স : শুআবুল ঈমান, খণ্ড নং : ৩য়, পৃষ্ঠা নং : ৩৭০, হাদীস নং : ৩৮১১।]
🌹 (২) রজবের ২৭ই তারিখের রোজা ১০ বছরের গুনাহের কাফ্ফারা :
‘আলা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, ওলিয়ে নি’মাত, আজিমূল বরকত, আজিমূল মারতাবাত পরওয়ানায়ে শাময়ে রিসালাত, মুজাদ্দিদে দ্বীনো মিল্লাত, হামিয়ে সুন্নাত, আলিমে শারীআত, মুর্শিদে তরিক্বত, বাইছে খাইরু বরকত, হযরত আল্লামা মওলানা আলহাজ্ব আল হাফিয আল কারী আশ শাহ ইমাম আহমাদ রিযা খান {রহঃ} বলেছেন যে “ফাওয়ায়িদে হানাদে” বিশিষ্ট সাহাবী সাইয়িদুনা হযরত আনাস {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} হতে বর্ণিত আছে, নাবীয়ে কারীম, রঊফুর রহীম হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ} ইরশাদ করেছেন,—“২৭শে রজবে আমার নবুওয়্যত প্রকাশ হয়েছে। যে ব্যক্তি এই দিন রোযা রাখবে আর ইফতারের সময় দূ‘আ করবে, (তাহলে তা) ১০ বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হবে।”
[রেফারেন্স : সংশোধিত ফাতাওয়ায়ে রিযবীয়্যাহ্, খণ্ড নং : ১০ম, পৃষ্ঠা নং : ৬৪৮।]
🌹 (৩) ৬০ মাসের রোযার সাওয়াব :
হাদীসে পাকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ২৭ রজবের রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ্ {ﷻ} তার জন্য ৬০ মাসের রোযার সাওয়াব লিখে দিবেন। আর তা সেই দিন, যেই দিনে ফিরিশতাগণের সর্দার হযরত হযরত জিবরাঈল {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ} রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-এর জন্য প্রথম অহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
[রেফারেন্স : তানযিহুশ শারীয়াহ, খণ্ড নং : ২য়, পৃষ্ঠা নং : ১৬১, হাদীস নং : ৪১।]
🌹 (৪) শত বছরের রোযার সাওয়াব :
বিশিষ্ট সাহাবী সাইয়িদুনা হযরত সালমান ফারসী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} থেকে বর্ণিত,—“মহান আল্লাহ্ {ﷻ}-এর মাহবুব রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-এর বাণী হচ্ছে, রজবে এমন একটি দিন ও রাত রয়েছে যে, সেই দিনে যে রোযা রাখবে ও রাতে কিয়াম তথা ইবাদত বান্দেগী করবে সে যেন ১০০ বছর রোযা রাখল। আর সেই দিন হল ২৭শে রজব। এই দিন হযরত মুহাম্মাদ {ﷺ}-কে মহান আল্লাহ্ {ﷻ}-এর প্রতি প্রেরণ করেছেন।-[রেফারেন্স : শুআবুল ঈমান, খণ্ড : ৩য়, পৃষ্ঠা নং : ৩৭৪, হাদীস নং : ৩৮১১।]
❝আজ এই রাতকে ইবাদতের মধ্যে অতিবাহিত করুন। মহান আল্লাহ্ {ﷻ} যেন ইখলাসের জিন্দিগি / দুনিয়ার ধোকা থেকে বেঁচে থাকার / ঈমান ও ক্ষমার সাথে মৃত্যু / জান্নাতে হুজুর পাক {ﷺ}-এর প্রতিবেশি নসীব করেন, আমাদের সবাইকে। আসুন সবাই ইবাদাতের মাধ্যমে আজকের রাত্রে জাগ্রত থেকে মহান মহান আল্লাহ্ {ﷻ}-এর সন্তুষ্টি লাভ করি।❞
❤হে মহান আল্লাহ্ {ﷻ}! আপনি প্রিয় রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} ওয়াসিলায় এবং এই পবিত্র মি’রাজুন্নাবী {ﷺ} এই বিশেষ দিনের ওয়াসিলায় মুসলিম উম্মাহ্ এর গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিন এবং প্রতিটি বিশেষ দিন ও রাতে বেশি বেশি নফল নামায, ক্বুরআন মাজীদ পাঠ, দারূদ শারীফ, তাসবীহ পাঠ ও নেক আমল সমূহ করার তাওফিক দান করুন, আল্লাহুম্মা আমিন।❤
🌹🌹🌹সাওয়াবের নিয়তে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন। জাযাকাল্লাহ্ খইরন।🌹🌹🌹
#লাইলাতুল #শবে #মিরাজ #মুবারক
🇸🇦🇧🇩