01/08/2026
২০০৫ সাল। মাত্র ২০ বছর বয়সী এক তরুণ তার ছোট্ট স্টার্টআপটি বিক্রি করার প্রস্তাব নিয়ে গেলেন তৎকালীন সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মাইস্পেস-এর (MySpace) কাছে। তরুণটির নাম মার্ক জাকারবার্গ, আর তার স্টার্টআপের নাম ফেসবুক। জাকারবার্গের চাওয়া ছিল মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু মাইস্পেস-এর সিইও ক্রিস ডিউলফ সেই প্রস্তাব হেসেই উড়িয়ে দিলেন। আজ ২০ বছর পর, সেই ফেসবুকের (বর্তমানে মেটা) বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার! আর মাইস্পেস? তারা এখন ব্যস্ত পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে।
২০০৫ সালের সেই ফেব্রুয়ারি মাসে জাকারবার্গের ৭৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর সেই গ্রীষ্মেই নিউজ কর্পোরেশন মাইস্পেসকে ৫৮০ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়। সে সময় মাইস্পেস ছিল বিশ্বের এক নম্বর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। সেই শরতে জাকারবার্গ আবারও ফিরে আসেন, এবার প্রস্তাব ছিল ৭৫০ মিলিয়ন ডলার। মাইস্পেস আবারও 'না' বলে দেয়। এর মাত্র ছয় বছর পর, ২০১১ সালে ধুঁকতে থাকা মাইস্পেস বিক্রি হয়ে যায় মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ডলারে যা জাকারবার্গের প্রথম প্রস্তাবের অর্ধেকেরও কম!
মাইস্পেস-এর বর্তমান মালিক, ক্রিস এবং টিম ভ্যান্ডারহুক নামের দুই ভাই সম্প্রতি এক নতুন ডকু-ফিল্মে (পরিচালক টমি অ্যাভালোন) বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মাইস্পেস আবারও ফিরছে। তারা নিজেদের এই ব্র্যান্ডের "তত্ত্বাবধায়ক" মনে করেন এবং সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছেন প্ল্যাটফর্মটি নতুন করে চালুর জন্য। তাদের পরিকল্পনা হলো পুরনো সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনা; যেখানে থাকবে এমবেডেড মিউজিক প্লেয়ার এবং প্রোফাইল কাস্টমাইজ করার সেই পুরনো স্বাধীনতা, যা একসময় মাইস্পেসকে অনন্য করে তুলেছিল। তবে এই যাত্রায় মাইস্পেস-এর বিখ্যাত সহ-প্রতিষ্ঠাতা 'টম অ্যান্ডারসন' থাকছেন না।
তবে এই ফেরার পথে বড় এক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৯ সালের একটি দুর্ঘটনা। মাইস্পেস স্বীকার করেছিল যে, একটি সার্ভার মাইগ্রেশন ভুলের কারণে তাদের ১২ বছরের আপলোড করা সব কন্টেন্ট হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৫ কোটি গান এবং ১৪ মিলিয়ন শিল্পীর কাজ। আর্কটিক মাঙ্কিজ, লিলি অ্যালেন বা অ্যাডেল-এর মতো তারকাদের শুরুর দিকের ডেমো গানগুলো চিরতরে মুছে গেছে। অর্থাৎ, যে নস্টালজিয়া পুঁজি করে তারা ফিরতে চাইছে, তার একটি বড় অংশ তারা নিজেরাই ধ্বংস করে ফেলেছে।
সত্যি বলিঃ মাইস্পেস-এর সেই প্রত্যাখ্যানকে ইন্টারনেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। যদি তারা সেদিন ৭৫ মিলিয়নে ফেসবুক কিনে নিত, তবে আজ হয়তো টেক দুনিয়ার মানচিত্র অন্যরকম হতো। এখনকার অ্যালগরিদম-নির্ভর সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে মাইস্পেস-এর এই নস্টালজিয়া-নির্ভর ফেরা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে ৫ কোটি গান হারিয়ে যাওয়ার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে।
আপনার কাছে একটি প্রশ্নঃ মাইস্পেস যদি সত্যিই ফিরে আসে, আপনি কি তা ব্যবহার করতে চাইবেন? নাকি এটি শুধুই একটি ব্যর্থ নস্টালজিয়া হয়ে থাকবে বলে আপনার মনে হয়? নিচে কমেন্টে জানান 👇
আর এমন Exclusive Tech, AI, and Social Media News পেতে ফলো করুন এবং পোস্টটি শেয়ার ও সেভ করুন 🙏