Ashab - আসহাব

Ashab - আসহাব খাঁটি খাবার আপনজনের জন্য...

14/04/2026
হাতে ভাজা, কেমিক্যাল মুক্ত আমন ধানের লাল মুড়ি! আসহাবে পাওয়া যাচ্ছে।
10/08/2025

হাতে ভাজা, কেমিক্যাল মুক্ত আমন ধানের লাল মুড়ি!
আসহাবে পাওয়া যাচ্ছে।

☀️ গরমটা যখন সয়ে নেওয়া যাচ্ছিল না...তখনই এক বন্ধু বললো – "ভাই, এই ফ্যানটা একবার ট্রাই করে দেখো!"নামটা মনে আছে – JYSUPER ...
16/06/2025

☀️ গরমটা যখন সয়ে নেওয়া যাচ্ছিল না...
তখনই এক বন্ধু বললো – "ভাই, এই ফ্যানটা একবার ট্রাই করে দেখো!"
নামটা মনে আছে – JYSUPER JY-2218
আর ব্যবহার করার পর বুঝলাম, শুধু নামেই না, কাজেও সত্যিই সুপার! 😌

📦 ছোট, হালকা – যেকোনো জায়গায় বহনযোগ্য
🔋 চার্জে চলে, বিদ্যুৎ গেলেও চিন্তা নেই
🔇 শব্দ কম, বাতাস বেশি
🎛️ দুই স্পিডে নিয়ন্ত্রণযোগ্য
🎨 আর ডিজাইন? যে দেখবে, একবার জিজ্ঞেস করবেই – "এটা কোথা থেকে আনলেন?"

চমৎকার এই রিচার্জেবল ফ্যান নিতে চাইলে মেসেজ দিতে পারেন।

উপমহাদেশে সবার চোখের সামনে ১টা 'Food Calamity' ঘটে গেছে; সেটা হলো—দেশীয় গরুর দুধ উঠে যাওয়া!দেশীয় গরুর দুধ মারাত্মক রক...
02/06/2025

উপমহাদেশে সবার চোখের সামনে ১টা 'Food Calamity' ঘটে গেছে; সেটা হলো—দেশীয় গরুর দুধ উঠে যাওয়া!

দেশীয় গরুর দুধ মারাত্মক রকম উপকারী। দেহের Bone কে দারুণভাবে Strengthening করে দেশীয় গরুর দুধ।
দেশীয় গরুর দুধ স্বাস্থ্যর জন্য একটি কমপ্লিট নিউট্রিয়েন্টস প্যাকেজ হিসেবে কাজ করে।

আমাদের পূর্বপুরুষদের যমানায়, ব্যায়াম করে এসে এক পেল্লায় সাইজের পাত্রে দেশী গরুর দুধ খাওয়া ছিল নৈমিত্তিক ব্যাপার। আর, একারনেই সেকালে ১৫০ কিলো In a Lil wrong posture-এ তুলেও পেইন এর বিন্দুমাত্র সমস্যা উনাদের হতোনা।

অন্যদিকে,
বিজাতীয় গরুর দুধ খাওয়ার থেকে দুধই না খাওয়া উত্তম।
এসব গরুর দুধ খেলে ঐ 'Bone strengthening' এর বদলে সেটাকে উল্টা দুর্বল করে দেয় আরো।

কিন্তু, বর্তমানে সেই দেশী গরুর দুধ উঠে গেছে।
বাজার ভরে গেছে নানা বিজাতীয় গরুর নিম্নমানের দুধ দিয়ে, যা খেলে শরীরে নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া ছাড়া আর কোন কাজে সাহায্য হবেনা।

বিজাতীয় গরুরা এদেশের আবহাওয়ায় বেশি বেশি অসুস্থ হয়, তখন এদের গাদাগাদা এন্টিবায়োটিক গেলানো হয়।

কেবলমাত্র ২০১০ সালে সারা পৃথিবীতে ৬৩৫০০ মেট্রিক টন এন্টিবায়োটিক উৎপাদিত হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১,২০,০০০ টন এর মাত্রা ছাড়াবে। এই বিপুল পরিমান এন্টিবায়োটিকের ৭০ ভাগই ব্যবহৃত হয় পশুপালন ক্ষেত্রে!

ডেইরি ইন্ডাস্ট্রির গরুগুলোকে তাদের জন্ম-মৃত্যু পর্যন্ত হাই & লো এন্টিবায়োটিক ডোজের ওপরে রাখা হয়।
এদের দুধ খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে থাকে এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া!

প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ৭ লাখ মানুষ এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশনের কারণে মারা যায়!
WHO'র এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ১ কোটি মানুষ কেবল এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার কারণে মারা যাবে!
..

পৃথিবীতে গরুর যতগুলো জাত রয়েছে তাদেরকে সাধারণভাবে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে:
১। Bos ta**us: এদের মধ্যে ইউরোপীয় জাত যেমন- জার্সি, হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত, যাদের গায়ের কাঠামোয় সাধারণত কুঁজ থাকে না।
২। Bos indicus: এদের মধ্যে জেবু জাতের গরু অন্তর্ভুক্ত, যাদের পিঠে কুঁজ থাকে।

উপমহাদেশের অধিকাংশ গরুর জাত Bos indicus বা জেবু পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যাদের পিঠে কুঁজ থাকে। উপমহাদেশে স্থানীয় যতগুলো গরুর জাত আছে সব গুলোর পিঠেই কুঁজ (Hump) আছে।

এই জেবু পরিবারের গরুদের ২১টি বৈশিষ্ট্য আছে, যা দ্বারা এদেরকে সহজেই বিদেশী গরু থেকে আলাদা করা যায়।

এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:
- দেশী গরুর সামনের দিকটা চওড়া, পেছনের দিক সরু।
- এদের পিঠে কুঁজ থাকবে, হোক সেটা ছোট কিংবা বড়।
- এদের বড় গলকম্বল (Dewlap) থাকবে। দেশি ষাড়ের গলকম্বল বেশি বড় হয়।
- জাত ভেদে এদের শিং এর আকৃতি ভিন্নভিন্ন হয়ে থাকে।
- এরা পরিষ্কার জায়গা পেলে বসে, নইলে দাঁড়িয়ে থাকে।
- ঘাম নির্গমনের জন্য উপযুক্ত বডি স্ট্রাকচার থাকায় গরমেও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম। ঘামগ্রন্থি বড়, তাই এরা প্রচন্ড গরমেও মাঠে চরে বেড়ায়।
- দেশী গাভী সম্পূর্ণ জীবদ্দশায় আনুমানিক ১০-১২ টি বাচ্চা দেয়।
- বাছুর ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই মা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। যখন বাছুর ডাকে, মা যেখানেই থাকুক দৌড়ে আসবে।
- দেশী গাইয়ের দুধ ঘন ও পুষ্টিকর, এটি দিয়ে বাই প্রডাক্ট বেশী হয়।
- দেশী বলদ গরমে টানা ৭-৮ ঘন্টা কাজ করতে পারে।
- দেশি গরুর অন্ত্র বিদেশি গরুর তুলনায় বৃহত্তর, যা কঠিন আঁশ হজম করতে সহায়ক। দেশী গরুর অন্ত্র বিদেশি গরুর চেয়ে মোটামুটি দেড় গুণ বড়। দেশী গরুর অন্ত্রে থাকে অসংখ্য উপকারী অনুজীব।

ভারতে দেশী গরুর ৩৭টি রেজিস্ট্রার্ড ব্রীড আছে। তবে এর বাইরেও অনেকগুলো আনরেজিস্ট্রার্ড জাত আছে সেখানে। ভারতে সরকারী সংস্থাগুলো কর্তৃক ৩৭টি দেশী গরুর রেজিস্ট্রার্ড ব্রীড স্বীকৃত হলেও, আনরেজিস্টার্ড অনেক স্থানীয় জাত বিদ্যমান।

বাংলাদেশে দেশী গরুর রেজিস্ট্রার্ড ব্রীডগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- পাবনা ক্যাটেল, রেড চিটাগং ক্যাটেল (RCC), নর্থ বেঙ্গল গ্রে, মুন্সিগঞ্জ ক্যাটেল, হিল ব্ল্যাক প্রভৃতি।
এই তালিকার বাইরেও আমাদের দেশে আরো অনেক আনরেজিস্টার্ড বা নন-ডিসক্রিপটিভ দেশী জাত বিদ্যমান।

ভাল দুধ উৎপাদন করে থাকে এমন উপমহাদেশীয় গরুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- শাহিওয়াল, সিন্ধি, গীর, থারপারকর, রাঠি, কাংক্রেজ প্রভৃতি। এ জাতগুলি অন্যান্য দেশী জাতের তুলনায় বেশি দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে।

আর যেসব গাভী তুলনামূলক কম দুধ দেয় তাদের গোবরে উপকারী অনুজীবের সংখ্যা অনেক বেশী থাকে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় গুরুত্ব না থাকলেও প্রাকৃতিক জীবনধারায় তাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ, দেশি গরুর গোবর প্রাকৃতিক কৃষির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত চাষাবাদ করতে চাইলে আপনার দেশী গাভীর গোবর লাগবেই।

যেই গরুগুলো দুধ কম দেয় (২-৩ লিটার) এবং যে গাভীগুলোর বয়স হয়ে গিয়েছে (এখন আর দুধ ও বাচ্চা দেয় না) তাদের গোবরে শত শত কোটি উপকারী অনুজীব থাকে!
অন্যদিকে বিদেশী গরুর গোবরে এত বেশী অনুজীব ত থাকেই না, তার মধ্যে আবার অপকারী অনুজীবের সংখ্যাই বেশী!

দুধ কম দেয় বলে দেশী গাভী কেউ পালতে চায় না। যার ফলে আমাদেরকে ফার্মের বিজাতীয় গরুর দুধের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গরুর দুধ দুই প্রকারের হয়:
১) A1 milk
২) A2 milk

গরুর দুধে প্রায় ৮০% casein প্রোটিন থাকে। এই casein প্রোটিন ৪ ধরনের:
১) আলফা casein
২) বেটা casein
৩) গামা casein
৪) কাপা casein

এর মধ্যে বেটা casein আবার ২ প্রকার:
১) A1 Beta casein
২) A2 Beta casein

হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান, জার্সি এসব বিদেশি গরুর দুধে A1 বেটা ক্যাসিন পাওয়া যায়।
তাই এই দুধকে A1 milk বলে।

আর, A2 বেটা ক্যাসিন পাওয়া যায় আমাদের (উপমহাদেশের) দেশী গাভীর দুধে।
তাই এই দুধকে A2 milk বলে।

দুধের পরিমাণ কম হওয়ায় কোনো ডেইরি ফার্মেই দেশী গাভী পালন করা হয় না।
ফার্মে পালন করা হয় হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান, জার্সি ইত্যাদি অধিক দুধ উৎপাদনশীল জাত। যেগুলো A1 milk উৎপাদন করে।

A1 মিল্কের বেটা ক্যাসিন হজমের সময় ব্রেক ডাউন হয়ে BCM-7(বেটা কসমোমরফিন-৭) সৃষ্টি হয়, যা মানবদেহে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরী করে এবং পরবর্তীতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, অটিজম এবং নিউরোলজিকাল ডিসঅর্ডারের মত সমস্যা তৈরী করে!
এই দুধ নিয়মিত বাচ্চাদেরকে খাওয়ালে তাদের অটোইমিউন ডিজিজ এবং অটিজম হতে পারে! (https://www.iafaforallergy.com/blog/hidden-enemies-present-in-a1-milk-and-their-consequences-on-human-health/)

অন্যদিকে,
A2 milk অর্থাৎ আমাদের দেশী গাভীর দুধ এসমস্ত ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
আগে সবাই ছোটবেলায় দেশী গাভীর দুধ খেয়েছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দেশী গাভীর দুধ খুবই ভালো।

A2 দুধ থেকে তৈরী A2 ঘি (A2 Clarified Butter), অর্থাৎ দেশী গরুর দুধ থেকে তৈরী ঘি-তেই প্রকৃত ঔষধি গুণ বিদ্যমান।

তাই আপনার উচিৎ বাড়িতে একটি-দুটি দেশী গাভী পালন করা। আমাদের অবহেলার কারণে দেশী গরুর জাতগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।
প্রয়োজনে ৪-৫ টা পরিবার মিলে একটা দেশি গাভী পালুন।

অসচেতন ভোগবাদী কালচারে প্রতিদিন গ্লাসে গ্লাসে অস্বাস্থ্যকর দুধ খাওয়ার চেয়ে সপ্তাহে ১ দিন ১ কাপ করে হলেও দেশী গরুর খাঁটি দুধ খান।

Muhammad Rahat Khan

সকল রোগের নিরাময়!প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসা প্যাপিরাসে (Ebers Papyrus, 1550 BCE) কালোজিরার ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে উল্লেখ রয়েছে।...
31/05/2025

সকল রোগের নিরাময়!

প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসা প্যাপিরাসে (Ebers Papyrus, 1550 BCE) কালোজিরার ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে উল্লেখ রয়েছে। এই প্যাপিরাসে কালোজিরাকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয়রা কালোজিরাকে "স্বর্গের ভেষজ" হিসেবে গণ্য করত। মিশরীয় সভ্যতায় কালোজিরা ও কালোজিরার তেল ফারাও এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হত। (Padhye, Subhash et al. “From here to eternity - the secret of Pharaohs: Therapeutic potential of black cumin seeds and beyond.” Cancer therapy vol. 6b (2008): 495-510.)

কালোজিরা প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত। হিপোক্রেটিস, গ্যালেন এবং ডিওস্কোরাইডসের মতো বিখ্যাত গ্রিক চিকিৎসকরা তাদের রচনায় কালোজিরার ব্যবহার সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। কালোজিরা মাথাব্যথা, নাক বন্ধ, দাঁতের ব্যথা, অন্ত্রের কৃমির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হত এবং নারীর মাসিক চক্র নিয়মিত করতে ও দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হত। কালোজিরা ক্যাটারহ (সর্দি বা শ্লেষ্মাজনিত সমস্যা) এর বিরুদ্ধে কার্যকর বলে বিবেচিত হত।
হিপোক্রেটিস কালোজিরাকে লিভার এবং পাচনতন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করতেন।
গ্যালেন বর্ণনা করেছেন যে, কালোজিরাকে লিনেন কাপড়ে মুড়ে গরম করে নাকে টানা হত, যা বর্তমান সময়ের ইনহেলেশন থেরাপির মতোই কাজ করত।
ডিওস্কোরাইডস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "ডি মেটেরিয়া মেডিকা"-তে কালোজিরাকে মাথাব্যথা, বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

আধুনিক চিকিৎসার জনক ইবনে সিনা তাঁর বিশ্ববিখ্যাত বই আল-কানুন ফিত তিব্ব (The Canon of Medicine)-এ কালোজিরার বিভিন্ন উপকারী বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে সিনা লিখেছেন কালোজিরা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে, শরীরের ক্লান্তি এবং শক্তির অভাব কাটাতে সাহায্য করে। কালোজিরা হাঁপানি, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। ইবনে সিনা লিখেছেন, কালোজিরা নিয়মিত সেবন করলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। তিনি কালোজিরা ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন এবং এটিকে সংক্রমণ ও প্রদাহ প্রতিরোধে কার্যকরী মলম হিসাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।

ইসলামি ঐতিহ্যে, কালোজিরাকে "হাব্বাতুল বারাকাহ" (আশীর্বাদপূর্ণ বীজ) বলা হয়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করো, কারণ এতে মৃত্যু ছাড়া প্রতিটি রোগের নিরাময় রয়েছে।" (সহীহ বুখারি, ৫৬৮৮; সহীহ মুসলিম, ২২১৫)
হযরত খালিদ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা এক সফরে বের হয়েছিলাম এবং আমাদের সাথে ছিলেন গালিব ইবনে আবজার। পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা মদিনায় পৌঁছলে তিনি তখনও অসুস্থ ছিলেন। ইবন আবি আতীক তার দেখতে এলেন এবং আমাদের বললেন, 'তাকে কালোজিরা দিয়ে চিকিৎসা করো। পাঁচ বা সাতটি কালোজিরা নিয়ে গুঁড়ো করো, তারপর তেলের সাথে মিশিয়ে তার নাকে ডান ও বাম দিকে কয়েক ফোঁটা দাও। কারণ আয়েশা (রা.) আমাকে বলেছেন যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: 'এই কালোজিরায় আস-সাম (মৃত্যু) ছাড়া প্রতিটি রোগের জন্য নিরাময় রয়েছে।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আস-সাম কী? তিনি বললেন, মৃত্যু।" (সহিহ বুখারি, ৫৬৮৭)

কালোজিরা সেবনের বহু উপায় রয়েছে। একে অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে অথবা একাই সেবন করা যায়। কালোজিরা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। কালোজিরা পানিতে সিদ্ধ করে চা বানিয়ে পান করা যায়। কালোজিরা গুঁড়ো করে বা চিবিয়ে পানির সাথে গিলে খেতে পারেন। কালোজিরা বিভিন্ন ফর্মে ব্যবহার করা যায়, যেমন বীজ, তেল, ক্যাপসুল, পাউডার ইত্যাদি।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসক ডা. মাইকেল গ্রেগর তাঁর বই "How Not to Die"-এ কালোজিরা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কালোজিরার নিয়মিত সেবন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে (ওজন কমানো, শরীরের চর্বি কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো) সাহায্য করে। ডা. মাইকেল গ্রেগর পরামর্শ দিয়েছেন কালোজিরার উপকারিতা পেতে এটি নিয়মিত সেবন করা উচিত। এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান, তাই এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা যায়। যদি ওজন কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, তাহলে কমপক্ষে ৩ মাস ধরে নিয়মিত সেবন করা উচিত।

কিছু বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, কালোজিরা বীজ বা গুঁড়ো প্রতিদিন ১ থেকে ৩ গ্রাম সরাসরি বা পানির সাথে মিশিয়ে বা অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে সেবন করা যেতে পারে। কালোজিরার তেলও ব্যবহার করা যায়। তবে তেলের ক্ষেত্রে পরিমাণ কম হবে, কারণ তেল বেশি ঘনীভূত হয়। কালোজিরা তেল প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা চামচ (৫ থেকে ১০ মিলি) সেবন করা যেতে পারে।

হাদিসে উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসারে কালোজিরা ব্যবহারের একটি উপায় হলো– ১. পাঁচ বা সাতটি কালোজিরা নিয়ে গুঁড়ো করুন। ২. এই গুঁড়োটি তেলের সাথে মিশিয়ে নিন। ৩. এই মিশ্রণটি রোগীর নাকে ডান ও বাম দিকে কয়েক ফোঁটা দিন। এই পদ্ধতিটি বিশেষত ঠান্ডা, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার জন্য উপকারী।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "যাদুল মাআদ" এবং ইবন হাজার আল-আসকালানি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "ফাতহুল বারি"-তে উনারা কালোজিরার ঔষধি গুণাবলী এবং ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। কালোজিরা ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষভাবে উপকারী। কালোজিরা গুঁড়ো করে কাপড়ে রেখে নাকে টানলে এর সুগন্ধ সর্দি-কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা উপশম করতে সাহায্য করে। এটি ঠান্ডা লাগা এবং নাক বন্ধের সমস্যায় বিশেষভাবে কার্যকর। কালোজিরা তেল নাকে প্রয়োগ করলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং সাইনাসের সমস্যা দূর হয়। কালোজিরা ভিনেগারের সাথে সিদ্ধ করে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁতের ব্যথা, মাড়ির প্রদাহ এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। কালোজিরার গুঁড়ো বা তেল খেলে তা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি, হজমশক্তি উন্নত করা এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। কালোজিরা তেল ত্বকে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বকের সমস্যা, ক্ষত এবং প্রদাহের চিকিৎসায় কার্যকর। কালোজিরা মধু, যয়তুন তেল, ভিনেগার ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কালোজিরার উপর এ পর্যন্ত হাজার হাজার গবেষণা রয়েছে। PubMed, ScienceDirect, Springer এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ডাটাবেস অনুসন্ধান করলে কালোজিরার উপর অসংখ্য রিসার্চ পেপার পাওয়া যায়। শুধুমাত্র PubMed-এ কালোজিরার উপর ২,০০০ এরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে। ইরান, সৌদি আরব, মিশর, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে কালোজিরার উপর অসংখ্য গবেষণা পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও রয়েছে যেখান থেকে কালোজিরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে স্বীকৃত হয়।

পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য টেস্টোস্টেরন লেভেল, শুক্রাণুর সংখ্যা এবং বীর্যের গুণমান দ্বারা নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন প্রি-ক্লিনিক্যাল এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণায় রিপোর্ট করা হয়েছে যে কালোজিরা বীজ, বিশেষ করে এর তেল এই প্রজনন স্বাস্থ্যের সূচক এবং প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করে। ২০১৪-২০১৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত ২৪টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে পুরুষ ও নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর কালোজিরার প্রভাব নিয়ে একটি Systematic Review করা হয়েছে। এই সিস্টেমেটিক রিভিউ থেকে পুরুষ ও মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্যের উপর কালোজিরার কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরা পুরুষ ও নারীদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর। পুরুষদের উপর একটি হিউম্যান ট্রায়ালে ৭৮ জন বন্ধ্যাত্বগ্রস্ত পুরুষ, যাদের শুক্রাণুর সংখ্যা কম বা গুণগত মান দুর্বল ছিল তাদের ২ মাস ধরে প্রতিদিন ২.৫ মি.লি. কালোজিরার তেল খেতে দেওয়া হয়। কালোজিরা তেল খাওয়ার পরে অংশগ্রহণকারীদের টেস্টোস্টেরনের লেভেল ও শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, শুক্রাণুর সঠিকভাবে চলাফেরার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রাণুর আকৃতি ও গঠন স্বাভাবিক হয়, যা সফল নিষেকের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ। কালোজিরা প্রাকৃতিকভাবে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি ও শুক্রাণুর উৎপাদনে সাহায্য করে। কালোজিরা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে শুক্রাণুর ক্ষতি রোধ করে। এই ট্রায়ালে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি তাই কালোজিরা যৌনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি নিরাপদ প্রাকৃতিক উপাদান বলে বিবেচিত হয়েছে। (Darand, M., Hajizadeh, M., Mirmiran, P., & Mokari-Yamchi, A. (2019). The effect of Nigella sativa on infertility in men and women: a systematic review. Progress in Nutrition, 21(2), 12-20.)

ইমিউন সিস্টেমের উপর কালোজিরার প্রভাব নিয়ে একটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়। গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন যে কালোজিরা সাপ্লিমেন্টেশন ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে কিনা। গবেষণায় তরুণ, সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট ডোজে কালোজিরা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। এখানে গবেষকরা তাদের ইমিউনোলজিক্যাল মার্কার (CD4+ T-সেল, CD8+ T-সেল এবং সাইটোকাইনস) এবং সাধারণ স্বাস্থ্য সূচক (শারীরিক সুস্থতা, ক্লান্তি এবং জীবনযাত্রার মান) এই প্যারামিটারগুলি পরিমাপ করেছিলেন। দেখা যায়, CD4+ T-সেল এবং CD8+ T-সেল এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কালোজিরা ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে। কালোজিরা গ্রহণকারীদের শারীরিক সুস্থতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। তাদের ক্লান্তি এবং দুর্বলতার মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। কালোজিরা সাপ্লিমেন্টেশনের কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কালোজিরা একটি প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ উপাদান হিসেবে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে পারে, যা সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে। (Effect of Nigella sativa on general health and immune system in young healthy volunteers; a randomized, placebo-controlled, double-blinded clinical trial, 2021 Nov 25. [Version 2] doi: 10.12688/f1000research.73524.2)

কালোজিরা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। একটি গবেষণায় কালোজিরাকে মেটফর্মিন (একটি ডায়াবেটিস ওষুধ) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। দেখা গেছে যে প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কালোজিরা মেটফর্মিনের মতোই কার্যকর। (Nigella sativa as a promising intervention for metabolic and inflammatory disorders in obese prediabetic subjects: A comparative study of Nigella sativa versus both lifestyle modification and metformin 2021 Jul;35(7):107947.)
২০০২ সালে Research in Veterinary Science জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে কালোজিরা তেলের ইনসুলিনোট্রপিক প্রপার্টিজ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপিত হয়। এটি প্রমাণ করে যে কালোজিরা তেল রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। (Fararh, K. M., Atoji, Y., Shimizu, Y., & Takewaki, T. (2002). Insulinotropic properties of Nigella sativa oil in Streptozotocin plus Nicotinamide diabetic hamsters. Research in Veterinary Science, 73(3), 279-282.)

কালোজিরা স্মৃতি, মনোযোগ এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা (Cognitive function) উন্নত করতে পারে বলে প্রমাণিত। একটি গবেষণায় সুস্থ মানুষের স্মৃতি, মনোযোগ এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতার উপর কালোজিরার বীজের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে কালোজিরা সেবন স্মৃতি, মনোযোগ এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। এই গবেষণাটি প্রমাণ করে কালোজিরা একটি সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক উপাদান যা স্মৃতি এবং মনোযোগের সমস্যায় সাহায্য করতে পারে। (Bin Sayeed, M. S., Asaduzzaman, M., Morshed, H., Hossain, M. M., Kadir, M. F., & Rahman, M. R. (2013). The effect of Nigella sativa Linn. seed on memory, attention and cognition in healthy human volunteers. Journal of Ethnopharmacology, 148(3), 780-786.)

হাঁপানির ওপর কালোজিরার থেরাপিউটিক প্রভাব নিয়ে ৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউয়ে কিভাবে কালোজিরা হাঁপানির উপর কাজ করে তা স্পষ্ট হয়। হাঁপানি একটি প্রদাহজনিত রোগ, যা শ্বাসনালী সংকুচিত করে ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি করে। কালোজিরা শ্বাসনালী প্রশস্ত করতে ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ৪৩৪ জন হাঁপানি রোগী। তাদের বিভিন্ন ফর্মে কালোজিরা খেতে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল বয়েলড এক্সট্র্যাক্ট, তেল, গুঁড়া এবং ক্যাপসুল। প্রতিদিন ১-২ গ্রাম পর্যন্ত কালোজিরা দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরা Asthma Control Test-ACT স্কোর (হাঁপানি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে) বৃদ্ধি করেছে, হাঁপানির উপসর্গ কাশি ও শ্বাসকষ্টের তীব্রতা হ্রাস করেছে এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা (PFTs) বৃদ্ধি করেছে। গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, কালোজিরা শ্বাসনালীর সংকোচন কমিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসকে স্বাভাবিক করে। এটি সাধারণ ব্রঙ্কোডাইলেটর ওষুধের মতোই কাজ করে, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায় না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কালোজিরা ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে পারে। যা ইঙ্গিত দেয় কালোজিরা হাঁপানির চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে, তবে এটি একটি সম্পূরক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, প্রাথমিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়। (Khazdair, M. R., & Amirabadizadeh, A. (2022). Therapeutic effects of Nigella sativa on asthma: a systematic review of clinical trial. Physiology and Pharmacology, 26(3), 123-134.)

কালোজিরা এবং এর তেল বিভিন্ন কেমিক্যাল, ওষুধ, ভারী ধাতু এবং কীটনাশক দ্বারা ঘটিত নেফ্রোটক্সিসিটি (কিডনির বিষাক্ততা) থেকে সুরক্ষা প্রদানে কার্যকর বলে বিভিন্ন প্রি-ক্লিনিক্যাল (প্রাণী মডেল) গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। কালোজিরা কেমোথেরাপিউটিক এজেন্ট (যেমন সিসপ্ল্যাটিন, মেথোট্রেক্সেট), অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এজেন্ট (যেমন অ্যাসপিরিন,প্যারাসিটামল), অ্যান্টিসাইকোটিক ড্রাগ (যেমন হ্যালোপেরিডল), কীটনাশক এবং ফাঙ্গিসাইড (যেমন পেনকোনাজোল) এসবের ক্ষতি থেকে কিডনির টিস্যুকে সুরক্ষা প্রদান করে। কালোজিরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম (যেমন সুপারঅক্সাইড ডিসমিউটেজ, গ্লুটাথায়ন পারঅক্সিডেজ এবং ক্যাটালেজ) এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে। কালোজিরা বৃক্কের কোষগুলির অ্যাপোপটোসিস (কোষ মৃত্যু) কমিয়ে টিস্যুর ক্ষতি রোধ করে। তবে, মানবদেহে এর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার ব্যাপার নিশ্চিত করার জন্য আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। (Hannan, M. A., Zahan, M. S., Sarker, P. P., Moni, A., Ha, H., & Uddin, M. J. (2021). Protective effects of black cumin (Nigella sativa) and its bioactive constituent, thymoquinone, against kidney injury: An aspect on pharmacological insights. International Journal of Molecular Sciences, 22(16), 9078.)

শিল্পায়ন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার বর্তমান যুগে, বিশেষ করে পারদ, আর্সেনিক, সীসা, ক্রোমিয়াম, ম্যালাথিয়ন এবং ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতুগুলি পরিবেশ থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। বিষাক্ত ধাতুগুলি বিভিন্ন অঙ্গের টিস্যুতে জমা হয়, যা নিউরোটক্সিসিটি, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার রোগ, বন্ধ্যাত্ব এবং রেনাল ড্যামেজের মতো বিভিন্ন রোগের কারণ হয়। এই বিষক্রিয়া সমাধানে কালোজিরা একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিডোট হতে পারে।। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরা বিভিন্ন অঙ্গ, যেমন মস্তিষ্ক, কিডনি, ফুসফুস, লিভার, হার্ট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট এবং প্রজনন সিস্টেমে রাসায়নিক বিষাক্ততা থেকে সুরক্ষা প্রদানে অ্যান্টিডোট হিসাবে কাজ করতে পারে। শক্তিশালী কেলেটিং ক্ষমতার কারণে, কালোজিরা খাদ্যের দূষিত বা ভেজালযুক্ত বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে পারে। কালোজিরা ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রশমিত করতে পারে। কালোজিরার বিষনাশক (detoxification) গুণ রয়েছে। কালোজিরা ভারী ধাতু ও রাসায়নিক বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করতে পারে, সোডিয়াম নাইট্রাইট (খাদ্যে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ) বিষক্রিয়া কমাতে পারে, টলুইন (শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক) বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করতে পারে এবং লিভারকে প্যারাসিটামলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। কালোজিরার সক্রিয় উপাদান থাইমোকুইনোন এবং থাইমোহাইড্রোকুইনোন ভারী ধাতুর সাথে বন্ধন তৈরি করে এবং শরীরে তাদের শোষণ রোধ করে। প্রি-ক্লিনিকাল গবেষণাগুলো আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে, তবে কালোজিরার কার্যকারিতা ভালোভাবে নির্ধারণের জন্য আরও ক্লিনিকাল ট্রায়াল প্রয়োজন। (Tavakkoli, A., Mahdian, V., Razavi, B. M., & Hosseinzadeh, H. (2017). Black seed (Nigella sativa) and its constituent thymoquinone as an antidote or a protective agent against natural or chemical toxicities. Iranian Journal of Basic Medical Sciences, 20(10), 1101-1111.)

Medical Science Monitor জার্নালে প্রকাশিত হয় শিশুদের ইন্ট্র্যাক্টেবল পেডিয়াট্রিক সিজার (Intractable Pediatric Seizures) এর চিকিৎসায় কালোজিরার প্রভাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের ইন্ট্র্যাক্টেবল পেডিয়াট্রিক সিজার (যে সিজার ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না) এর চিকিৎসায় কালোজিরা বীজের নির্যাসের প্রভাব মূল্যায়ন করা। গবেষণায় ইন্ট্র্যাক্টেবল পেডিয়াট্রিক সিজারে আক্রান্ত শিশুদের নেওয়া হয়েছিল। এই শিশুদের সিজার ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। শিশুদের কালোজিরা বীজের নির্যাস দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট ডোজে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ফলাফল দেখা যায় কালোজিরা নির্যাস গ্রহণকারী শিশুদের সিজারের ফ্রিকোয়েন্সি কমে গিয়েছিল। কালোজিরা নির্যাস গ্রহণকারী শিশুদের সিজারের তীব্রতাও কমে গিয়েছিল। গবেষণায় কালোজিরা নির্যাসের কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যা কালোজিরাকে একটি প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, বিশেষ করে যেখানে প্রচলিত ওষুধগুলি কার্যকর হয় না। এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কালোজিরা বীজের নির্যাস ইন্ট্র্যাক্টেবল পেডিয়াট্রিক সিজারের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। কালোজিরা বীজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য মস্তিষ্কের কোষগুলিকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে, যা সিজারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। (Akhondian, J., Parsa, A., & Rakhshandeh, H. (2007). The effect of Nigella sativa L. (black cumin seed) on intractable pediatric seizures. Medical Science Monitor, 13(12), CR555-CR559.)

Muhammad Rahat

হতাশা, শোক, মনখারাপ দূর করে মন ভালো করার খাবার- 'তালবিনাহ'হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা...
30/05/2025

হতাশা, শোক, মনখারাপ দূর করে মন ভালো করার খাবার- 'তালবিনাহ'

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে জড়ো হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকী সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ’তালবিনা’ পাক করতে বললেন। তা পাকানো হলো। এরপর ’সারিদ’ প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবিনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ’তালবিনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।
(সহীহ বুখারী,৫৪১৭; সহীহ মুসলিম,২২১৬)

যবের গুঁড়া বা আটাকে দুধে জ্বাল দিয়ে বানানো জাউ-ই হলো তালবিনা (Talbinah) বা যবের জাউ (Barley Porridge)।
পৃথিবীর খাদ্যশস্যসমূহের মধ্যে যব (Barley) এর গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স স্কোর সবচেয়ে কম। (https://www.healthline.com/nutrition/barley)

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) হলো এমন স্কোর যা দেখে কোনো খাবার রক্তে গ্লুকোজ লেভেল কত দ্রুত বাড়ায় তা বুঝা যায়।
সাধারণত, গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) যত কম, খাবারটি তত বেশি স্বাস্থ্যকর, বিশেষ করে ডায়াবেটিস, অবেসিটি, হার্ট ডিজিজ ইত্যাদির ক্ষেত্রে।

- High GI (৭০ বা তার বেশি): রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ বাড়ায়। যেমন: সাদা চাল, চিনি, ময়দা ইত্যাদি।
- Medium GI (৫৬-৬৯): মাঝারি প্রভাব ফেলে। যেমন: লাল চাল, কিছু কিছু ফল ইত্যাদি।
- Low GI (০-৫৫): ধীরে ধীরে গ্লুকোজ ছাড়ে, বেশি স্বাস্থ্যকর। যেমন: যব, ডাল, শাকসবজি ইত্যাদি।

বিভিন্ন খাদ্যশস্যের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স স্কোর—
- বাকহুইট: ৩০-৩৫
- মিলেটস: ৩৮-৬৫
- কুইনোয়া: ৫০-৫৩
- ওটস (Rolled oats): ৫৫
- গম: ৫৫-৬০
- ভুট্টা: ৬৯-৭০
- লাল চাল (Brown rice): ৫০-৮৭
- সাদা চাল: ৭২-৮৯

আর, যবের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স স্কোর—
- সম্পূর্ণ দানা বা হোলগ্রেইন যব (Hulled barley): ২৫-২৮
- খোসা ছাটাইকৃত যব (Pearled Barley): ৩৫-৪৬

তাই বুঝাই যাচ্ছে, শস্যসমূহের মধ্যে হোলগ্রেইন যব হলো সবচেয়ে কম গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স স্কোরবিশিষ্ট।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সম্পূর্ণ দানা যবের তৈরি খাবার খেতেন। যাকে আজকের দিনে hulled barley বা whole grain barley বলা হয়। এটি ছাঁটা বা প্রসেসড যব না। তাই এই যব হলো সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ ও আঁশসমৃদ্ধ।
রাসূল (সা:) ও সাহাবীগণ হোল গ্রেইন যব থেকে তৈরি রুটি, সারিদ, সাওয়িক, তালবিনা ইত্যাদি খাবার খেতেন।

অসুস্থ ব্যক্তিদের পথ্য হিসেবে তালবিনা খাওয়ানো যেতে পারে। শিশু ও সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য একটি সুষম খাদ্য হিসাবে নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।
তালবিনা বানানো খুবই সহজ। তালবিনা আরবি 'লাবান' (টকদই) শব্দ থেকে এসেছে। কারণ রান্নার পরে এটি দইয়ের মতো ঘন ও সাদা দেখতে হয়।

তালবিনা তৈরির পদ্ধতি:
- যবের আটা অথবা যবের ছাতু দুধে মিশিয়ে জ্বাল দিন
- যতক্ষণ পর্যন্ত মিশ্রণটি জাউ বা ক্ষীরের মত না হয় ততক্ষণ জ্বাল দিন।
- তৈরি হলে একটি পাত্রে ঢেলে দিন এবং উপরে মধু ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

উত্তম পরামর্শ:
- যবের আটা/গুঁড়া আগে প্যানে রোস্ট করে নিলে তালবিনার স্বাদ ভালো হয়। আর, যবের ছাতু ব্যবহার করলে রোস্ট করার দরকার নেই।
- গরম অবস্থায় তালবিনায় মধু মেশাবেন না, কারণ এতে মধুর পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে।
..
হোলগ্রেইন যবে অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয়- দুই ধরনের ফাইবারই আছে। এর দ্রবণীয় আঁশে বিটা-গ্লুকান সবচেয়ে বেশি থাকে, যেটা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে।
যবের দ্রবণীয় ফাইবার প্রিবায়োটিক হিসেবে পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে শক্তি যোগায় ও একটি সুস্থ মাইক্রোবায়োম গঠনে ভূমিকা রাখে।
যবের উচ্চ ফাইবার কন্টেন্ট পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং সামগ্রিকভাবে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।

'ডিপ্রেশন' এর সাথে পরিচিত নয় বা এর সম্মুখীন হয়নি এমন মানুষ বর্তমানে অনেক কম। বিশেষ করে, যুবসমাজের বড় এক অংশ এখন হতাশা, বিষণ্নতা ও মানসিক অবসাদে সময় পার করে।
দীর্ঘস্থায়ী ডিপ্রেশন মানসিক অসুস্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এর থেকে রেহাই পেতে অনেকে এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ সেবন করে। এসব এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মারাত্মক পাশ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে।

এই ডিপ্রেশনের একটি উত্তম প্রতিকার হতে পারে 'তালবিনা'। তালবিনার মত পুষ্টিকর খাদ্য শারীরিক ও মানসিক উভয় সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তালবিনা হতাশা, দুঃখ, স্ট্রেস, মন খারাপ, উদাসীনতা ইত্যাদি দূর করে হৃদয়ে প্রশান্তি প্রদান করে।
তালবিনা মানবদেহে সেরোটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে। এই সেরোটোনিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারটি আমাদেরকে খুশি বা প্রশান্তির অনুভূতি দেয়।

Muhammad Rahat Khan

"আমার প্রতিটি পণ্যের প্রথম ভোক্তা আমি নিজে। আমি যা নিজের জন্য বাছাই করি, সেটাই আপনাদের জন্য নিয়ে আসি। কারণ আমি বিশ্বাস ক...
26/05/2025

"আমার প্রতিটি পণ্যের প্রথম ভোক্তা আমি নিজে। আমি যা নিজের জন্য বাছাই করি, সেটাই আপনাদের জন্য নিয়ে আসি। কারণ আমি বিশ্বাস করি—যা নিজের জন্য ভালো না, তা কখনোই অন্যের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। তাই আমার ব্যবসায় বিশ্বাসের মূলভিত্তি হলো পরীক্ষিত গুণমান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আর নিঃস্বার্থ আন্তরিকতা।"

ঘানি ভাঙা সরিষার তেল ঈদুল আযহা উপলক্ষে পাবেন স্পেশাল প্রাইসে।

একটি সুন্নাহসম্মত পানীয়– 'শরবতুল আসাল বা মা'উল আসাল বা মধু পানি (Honey Water)'মধুকে বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে মধু পানি (Hone...
25/05/2025

একটি সুন্নাহসম্মত পানীয়– 'শরবতুল আসাল বা মা'উল আসাল বা মধু পানি (Honey Water)'

মধুকে বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে মধু পানি (Honey Water) তৈরি করা হয়, যা প্রিয় নবীজি (সাঃ) পান করতেন। এটি একটি শক্তিবর্ধক পানীয় এবং প্রাকৃতিক ওষুধ।

নবীজি ﷺ এর চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের ধর্মের একটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বর্ণযুগের মুসলিমগণ এই বিষয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করতেন এবং ফলস্বরূপ, তাঁরা সেই সময়ের অন্যান্য সভ্যতার চেয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসীম অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযীর মতো ইসলামিক পণ্ডিতগণ তাঁদের হাদীস সংকলনে 'কিতাবুত তিব্ব' (চিকিৎসা বই) নামে আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রাসূল ﷺ এর কাছ থেকে ওযু, সালাত, হজ্জ ইত্যাদি কীভাবে পালন করতে হয় তা শেখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চিকিৎসা জ্ঞানও তাঁর কাছ থেকেই আমাদের নেওয়া উচিত।

আমরা সকলেই জানি কুরআন ও হাদিসে মধুর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। মধু সম্পর্কে ইসলামের প্রসিদ্ধ পণ্ডিতগণ বিভিন্ন সংকলনে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছেন। ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিযী, ইমাম সুয়ূতী, ইমাম ইবনে কাইয়্যিম'সহ বহু ইসলামিক পণ্ডিত মধুকে সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য ও ঔষধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর গ্রন্থ তিব্বে নববী-তে বলেছেন, "মধু হলো খাবারের খাবার, পানীয়ের পানীয় এবং ঔষধের ঔষধ। এটি শরীরের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য এবং সর্বোত্তম চিকিৎসা।"

মধুর আশ্চর্যজনক উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানলেও খুব কমই এটি ব্যবহার করি এবং প্রায়ই প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে ভুলে যাই। মধুর প্রকৃত উপকারিতা কেবল নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। মধু ব্যবহারের একটি রুটিন তৈরি করলে আপনি এটি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন। সকালে-রাতে হানি ওয়াটার পানের মাধ্যমে আপনি এমন একটা রুটিন অনুসরণ করতে পারেন।

মধু বলতে অবশ্যই আপনাকে বুঝতে হবে কাঁচা মধু (Raw Honey), টিভি-মোবাইলের ব্র্যান্ডেড মধু নয়। কাঁচা মধু সরাসরি মৌচাক থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং প্রসেস বা উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয় না। তাই এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম, ভিটামিন, মৌমাছির পরাগ এবং প্রোপোলিস অক্ষত থাকে। কাঁচা মধুতে সাধারণত ২২টি অ্যামিনো অ্যাসিড, ২৭টি খনিজ পদার্থ এবং ৫,০০০ রকম এনজাইম থাকে।

ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) তাঁর গ্রন্থে বলেছেন—
"নবীজি (ﷺ) খালি পেটে মধু ও পানি পান করতেন, এবং এটি স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গোপন রহস্য যা কেবল বুদ্ধিমান ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই বুঝতে পারে।" (যাদুল মা'আদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪; মাক্তাবাহ শামিলা ডিজিটাল ভার্সন)
"নবীজি (ﷺ) ঠাণ্ডা পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করতেন।" (যাদুল মা'আদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৫; মাক্তাবাহ শামিলা ডিজিটাল ভার্সন)

ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী (রহ.) তাঁর গ্রন্থে বলেছেন— "নবীজি (ﷺ) প্রতিদিন সকালে পানির সাথে মধু পান করতেন।" (আত-তিব্বুন নববি)

নবীজি ﷺ সকালে খালি পেটে মধু মিশ্রিত পানি পান করতেন। নবীজি ﷺ এর প্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল মধু ও ঠাণ্ডা পানির মিশ্রণ (হানি ওয়াটার)। এই মিষ্টি পানীয়টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং নবীজি ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণের একটি অংশ। নবীজি (সাঃ) এর মধু পানি তৈরি করার পদ্ধতি খুবই সহজ ও প্রাকৃতিক ছিল, কোনো জটিল প্রক্রিয়া বা অতিরিক্ত উপাদান ব্যবহার করা হতো না।

হানি ওয়াটার শুধু পানীয় নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক হাইপোটোনিক সলিউশন। যখন মধু পানির সঙ্গে মিশানো হয় তখন এটি পানির অণুগুলোর মধ্যে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে একটি নিম্ন-ঘনত্বের দ্রবণ তৈরি করে। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে- 'হাইপোটোনিক সলিউশন' (Hypotonic Solution)। যা পান করলে কোষের প্লাজমা ঝিল্লির মাধ্যমে দ্রুত শরীরে শোষিত হয় এবং বিভিন্ন উপকার নিয়ে আসে।
মধু পানি পান করলে যে উপকার পাওয়া যায়, সেটিকে বলে- অ্যালকালাইন ইফেক্ট (Alkaline Effect)। হানি ওয়াটার শরীরের পিএইচ লেভেল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, শরীরের কোষে দ্রুত হাইড্রেশন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

শরবতুল আসাল বা হানি ওয়াটার কিভাবে তৈরি করবেন?
উপকরণ:
- প্রাকৃতিক কাঁচা মধু
- বিশুদ্ধ পানি (ঠাণ্ডা বা হালকা গরম পানি নেয়া যেতে পারে। নবীজি (সাঃ) সাধারণত ঠাণ্ডা/স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতেন)
- দারুচিনি গুঁড়া বা হলুদ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

প্রস্তুত প্রণালী:
- এক গ্লাস পানিতে ১-৩ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
- আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া বা হলুদ গুঁড়া যোগ করতে চাইলে করুন।
- ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

পান করার সময়:
- সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে বা ব্যায়ামের পরে পান করুন। নবীজি (সাঃ) সাধারণত সকালে খালি পেটে মধু পানি পান করতেন।
- এটি অসুস্থতা বা দুর্বলতার সময়েও পান করা যেতে পারে।

গুরুত্বপুর্ণ টিপস:
- প্রতিদিন ১-৩ কাপ মধু পানি পান করুন, প্রতি কাপ পানির জন্য ১ চা চামচ মধু ব্যবহার করবেন।
- মধু পানি তৈরির সময় অতিরিক্ত মধু ব্যবহার করা উচিত নয়।
- মধু পানি পান করার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অন্য কিছু খাওয়া উচিত, যাতে মধুর পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণভাবে দেহে শোষিত হয়।
- মধু পানি তৈরিতে কৃত্রিম বা প্রসেসড মধু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

মা'উল আসাল বা মধু পানি পানের উপকারিতা:
১. অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। মধু ফ্যাট মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করে।
২. এনার্জি বুস্ট করে। মধুর প্রাকৃতিক শর্করা ও এনজাইম শরীরকে দ্রুত এনার্জি দেয়।
৩. মধুর এনজাইম, প্রোবায়োটিকস ও ফ্রুক্টোজ হজমশক্তি উন্নত করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক দূর করে এবং গুড ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে।
৪. মধু পানি গলা ব্যথা ও কাশি উপশমে সাহায্য করে।
৫. মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক উপাদান ইমিউনো-মডুলেশন প্রক্রিয়ায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. সকালে খালি পেটে হানি ওয়াটার পান করলে এটি লিভারের এনজাইমকে উদ্দীপ্ত করে। লিভারের কাজকে সাপোর্ট করে।
৭. পানিশূন্যতায় (Dehydration) ভুগলে হানি ওয়াটার তাৎক্ষণিক হাইড্রেশন নিশ্চিত করবে।
৮. মধুর প্রাকৃতিক শর্করা ও এনজাইম পানির সাথে মিশে শরীরে Electrolyte Balance বজায় রাখে। কোষের ভিতরের তরলের সাথে সমন্বয় করে Osmotic Balance তৈরি করে।
৯. সকালে খালি পেটে হানি ওয়াটার পান করলে এটি দ্রুত মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ করে এবং মনোযোগ শক্তি বাড়ায়।

Muhammad Rahat Khan

Address

Sylhet
3103

Telephone

+8801767666183

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ashab - আসহাব posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share