07/02/2020
"কী ব্যাপার! তোমার ফোন এতোক্ষন বিজি কেন ছিল?"
- " বিশ্বাস করো সোনা, আব্বু ফোন দিয়েছিল। আচ্ছা তুমি বললে আব্বুর সাথেও আর কথা বলবো না।"
-"আধ ঘন্টা ধরে ফোন দিচ্ছি, ফোন ধরো না কেন? কার সাথে ঘুরে বেড়াও?"
- "গোসলে ছিলাম বিশ্বাস করো। দাঁড়াও সেলফি তুলে পাঠাই। আচ্ছা যাও, কাল থেকে ফোন নিয়ে গোসলে যাবো।"
"তোমারে না বলছি চোখে কাজল দিবা না। কাজল দিছ কেন? কারে দেখাও রুপ?"
- " সরি সোনা, মাফ করে দাও। আর দিবো না"
এইগুলা নাকি এখনকার দিনের প্রেম!
আগে তো শুধু বউদের বেলাতেই দেখেছি, এখন দেখি প্রেমিকাদের বেলাতেও গায়ের রঙ, উচ্চতা, চুলের দৈর্ঘের পাশাপাশি মার খেয়ে চুপ থাকাটা গুনের ভেতর ধরা হয়। প্রেমিক প্রেমিকাকে রাস্তার দাঁড়িয়ে চড় মারে। প্রেমিকা পায়ে ধরে কাঁদে, "আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"।
এই বিশ্ব বেহায়া মেয়েগুলোর নির্লজ্জতায় আমি মুগ্ধ হয়ে যাই! হিসু করা থেকে শুরু করে বাপের কবর জিয়ারত করা সব কিছুর জবাবদিহি করতে হবে বিশ্বস্ততার প্রমান হিসেবে। এ কেমন প্রেম! মেয়ের ফেবু পাসওয়ার্ড প্রেমিকের কাছে জমা না রাখলে তো প্রেমের প্রথম পরীক্ষাতেই ফেল! ফোন কল স্টোরি, মেসেজ বক্স, ফ্রেন্ড লিস্ট প্রেমিকের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত না থাকলেও প্রেমে নাকি সততা থাকে না!! হায়!
গালের চড়ের দাগ নিয়ে লাজুকলতা সেজে বলে 'ও আসলে আমাকে কারো সাথে ভাগ করতে চায় না।'
এইসব প্রেম আবার বিয়ে অব্দিও গড়ায়! তারপর রাত দুইটায় চড় খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে জাতিকে জিজ্ঞেস করে "এখন আমি কি করবো?"
তো আপু এখন আপনি অবশ্যই বান্দিগিরি করবেন। বান্দি হবার পরিক্ষায় ১০০ তে ১০০ পেয়ে আপনি পাশ করে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই না, লাত্থি গুতা খাবার ব্যবহারিক পরিক্ষাতেও ২৫ শে ২৫ পেয়েছিলেন। এখন কেন কান্নাকাটি।
সম্পর্কের ভীত বিশ্বাস, সম্মান, ভদ্রতা এবং অবশ্যই সীমা লঙ্ঘন না করা। আপনি আমার যে খুশি সে হন, স্বামী-পিতা- বন্ধু যাইহোক, আপনি কখনোই আমার ফোন, পার্স, ডায়েরি, ইনবক্স মেসেজ, কল লিস্ট দেখার অধিকার রাখেন না।
ছোটবেলায় বাবা মা শেখায়নি, কারো পার্সোনাল পার্টসে অনুমতি ছাড়া হাত দেয়া যাবে না। পার্সোনাল পার্টস হিসেবে কোন কোন অংগেরে কথা জেনেছেন? স্তন, রেচনাঙ্গ। আজ আরো কিছু জানা যোগ করে নিন, কোন ব্যক্তিকে পাঠানো অন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তির বার্তাও পার্সোনাল ম্যাটার। আমার কল লিস্ট, মেসেজ, লেখার খাতা, কাপড় রাখার ড্রয়ার, হ্যান্ডব্যাগ যা আমার ব্যক্তিগত জিনিশ, ভাবনা ধারন করে তা আমার পার্সোনাল পার্টস। কারো অধিকার নেই এখানে হাত দেবার।
আপনার যদি কখনো কোন কারনে মনে হয় পার্টনার বিশ্বস্ত নয়, তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন। সে যা বলে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে থাকুন নয়তো টাটা বাই বাই, এটাই সভ্যতা।
এখন আপুরা শুনুন, কেউ এই সভ্যতা ডিঙাতে চাইলে আপনি যদি বাঁধা না দেন তবে পরবর্তী কোন নালিশ গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন নিজ ইচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে যাবার পর 'হি ইউজ মি' বলা গ্রহনযোগ্য নয়। হয় আপনি শোবেন, সেক্ষেত্রে 'ছেড়েও যেতে পারে' এই সম্ভাবনা মেনে নিয়ে। নয় আপনি শোবেন না। ক্লিয়ার।
তো আপুরা, কান্নাকাটি করবেন না। একটু পরপর ফোন করে 'এখন আমি কী করব বলে' বন্ধুদের জ্বালাবেন না। তারা বহুবার বোঝাতে চেয়েছিল, আপনি তখন 'কবির সিং এর প্রেমে মশগুল। এনি হাও তার বউ হয়ে কোরবানির 'এক গরু এক একাই দিচ্ছি'র চাপাতির নিচে গলা দিতে মশগুল। এখন বান্দি হয়ে থাকেন।
দৈনন্দিন যে সম্পর্ক সেখানে ভালোবাসা খানিক কম থাকলেও চলে কিন্তু সম্মান পুরোটা থাকা চাই। ভালোবাসা প্রমান চায় না কখনো, ভালোবাসাতে জবাবদিহিতা নেই।
যে প্রেমে সম্মান নেই তা টিকিয়ে রাখার কোন মানে নেই। তাকে বিয়ে অব্দি টানা তো পাপ!