22/04/2024
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে আপনার করনীয়!
পুরো বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ জায়গার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। আমাদের দেশে বাতাসের আদ্রতা যেহেতু বেশি, তাই তীব্র গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে, বেশি বেশি পানি বেরিয়ে যায়, এর ফলে তাপমাত্রা বেশি অনুভুত হয়। তাই বাহিরে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলেও সেটা আসলে ৪৫ ডিগ্রির সমান অনুভুত হয়। এই গরমে হিট স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক চিকিৎসার জরুরী ব্যাবস্থা গ্রহন করেছে। আমাদের একটু সচেতনতা, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের মাধ্যমে, একটা জীবন বাঁচাতে পারে। আসুন হিট স্ট্রোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
হিট স্ট্রোক কি?
হিট স্ট্রোক হল সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতা। এটি ঘটে যখন শরীর আর তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হিট স্ট্রোকে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ঘামের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয় এবং শরীর শীতল হতে অক্ষম হয়। যখন হিট স্ট্রোক হয়, তখন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (106° ফারেনহাইট) বা তার বেশি হতে পারে। হিট স্ট্রোক স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে, যদি ব্যক্তি জরুরী চিকিৎসা না পায়। এবার জানি হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কি কি,
হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে,
❎ হঠাৎ চেতনা হারানো, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, রোগী কোমাতেও চলে যেতে পারে।
❎গরম, শুষ্ক ত্বক বা প্রচুর ঘাম বের হওয়া।
❎শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি হওয়া
❎শরীরে খিঁচুনি শুরু হওয়া
❎রোগী চোখে ঝাপসা দেখতে পারে
❎কথা জড়ীয়ে যাওয়া বা একেবারেই বলতে না পারা।
❎বিভ্রান্ত হওয়া, মানসিক অবস্থা পরিবর্তিত হওয়া, ইত্যাদি
কারো হিট স্ট্রোক হলে আপনার করনীয়
👉জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য 911 নম্বরে কল করুন
👉জরুরী চিকিৎসা সেবা না আসা পর্যন্ত রোগীর সাথে থাকুন।
👉রোগীকে ছায়াযুক্ত, শীতল জায়গায় নিয়ে যান এবং শরীরের পোশাক খুলে ফেলুন।
👉সম্ভব হলে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে পুরা শরীর ধুয়ে দিন
👉ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে, রোগীর শরীর মুছে দিন এবং শরীরে ভেজা কাপড় জড়িয়ে রাখুন।
👉রোগীর শরীর দ্রুত শীতল করার জন্য ফ্যান ছেড়ে দিন, না পেলে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করুন। রোগীর চারপাশে বায়ু সঞ্চালন করুন।
👉রোগীর জ্ঞান ফিরে আসলে, তাকে অল্প অল্প পরিমানে ঠাণ্ডা পানি পান করতে দিন।
👉 রোগীকে অল্প অল্প করে স্যালাইন পানি পান করতে দিন।
👉 যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাঁসপাতালে রোগীকে নিয়ে যান।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে আপনার করনীয়
✅এক্তান্ত দরকার না হলে দিনের বেলা বাহিরে বের হবেন না,
✅দিনের বেলা বাহিরে বের হলে, রোদ এড়িয়ে চলুন ছাতা, ক্যাপ ব্যাবহার করুন, মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
✅ব্যাগে মিনি ফ্যান বা হাতপাখা রাখুন
✅হালকা রঙের ঢিলাঢালা, সুতির জামা পরিধান করুন
✅সারা দিনে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি পান করুন, পানির বোতল হাতের কাছেই রাখুন, বাহিরে বের হলে কমপক্ষে ২ লিটার পানি সাথে রাখুন
✅সহজে হজম হয় এমন খাবার খান, বাহিরের খাবার বা বাসী খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন
✅রাস্তার ধারের আখের রস বা জুস এড়িয়ে চলুন, এগুলো টাইফয়েড, জন্ডিস সহ বিভিন্ন রোগের কারন হতে পারে। বেশি ডিহাইড্রেশন হলে স্যালাইন পানি পান করুন।
✅দিনের বেলায় একটানা শারীরিক পরিশ্রম করবেন না,
✅সম্ভব হলে দিনে একাধিক বার গোসল করুন, শরীরে পানি ঝাপটা দিন,
✅পস্রাবের রঙের দিকে খেয়াল রাখুন, পস্রাবের রং হুলুদ হলে, পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
✅ঘরের পরিবেশ অতিরিক্ত গরম এবং ভ্যাপসা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যাবস্থা করুন।
✅বেশি খারাপ লাগলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
আসুন হিট স্ট্রোকের ব্যাপারে আমরা সবাই সচেতন হই এবং অন্যদের সচেতন করি।
ধন্যবাদ!
(উপরের সব তথ্য CDC: Center for disease control and Prevention সাইট থেকে নেয়া )