26/06/2026
প্রশ্ন ১০। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করুন।
▶️ভূমিকা: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ব্যাপক এবং এর মূল ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ। ইসলাম রাজনীতিকে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে, যেখানে সমাজের ভালো ও মঙ্গলের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়।
▶️রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি/মূলনীতি:
১। কুরআন ও সুন্নাহ: ইসলামী রাজনীতির মূল উৎস হলো কুরআন, সুন্নাহ (নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর জীবন দর্শন), ইজমা (ঐকমত্য) এবং কিয়াস (যুক্তিতর্ক)। এসবের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি গঠিত হয়েছে।
২। আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন: ইসলাম মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে। এই প্রতিনিধিত্বের অর্থ হলো, পৃথিবীতে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এই দায়িত্বেরই অংশ।
৩। সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ: ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমকে সৎকাজের আদেশ দিতে এবং অন্যায় ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। এই মূলনীতি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
৪। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন: ইসলাম নাগরিকদের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের অধিকার নিশ্চিত করে। কোনো ধরনের স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্রকে ইসলাম সমর্থন করে না। শাসক ও শাসিত সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর ইসলাম গুরুত্ব দেয়।
৫। শুরা (পরামর্শ): ইসলামে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণের বা প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শের (শুরা) বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে সবার মতামতের প্রতি সম্মান জানানো হয় এবং স্বেচ্ছাচারিতার পথ বন্ধ করা হয়।
৬। জনকল্যাণ: রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা। এক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা এবং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন করা মুসলিমদের দায়িত্ব।
৭। যোগ্যতার ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন: ইসলাম নাগরিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী হওয়া এবং মতামত বা সমর্থন প্রদানের অধিকার দেয়।
৮। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই ইসলামী মূল্যবোধ ও ইসলামি আইনের (শরিয়া) অনুশাসন মেনে করতে হবে। ইসলাম-বিরোধী বা ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে সমর্থন করা যায় না, কারণ এগুলো ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী।
৯। জনগণের অধিকার: ইসলাম নাগরিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, ভোট দেওয়া, মতামত প্রকাশ করা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার লাভের অধিকার দিয়েছে।
১০। শরিয়াহ পরিপন্থী কাজে অংশগ্রহণ না করা: একজন মুসলিমের জন্য এমন কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করা বৈধ নয়, যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী।
▶️উপসংহার: ইসলাম রাজনীতিকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে এবং মুসলিমদেরকে এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। তবে এই অংশগ্রহণ হতে হবে ইসলামের মৌলিক নীতি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে, যা সমাজে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।