09/08/2025
শেষ মুহূর্তের নিবেদন
আমাদের জীবন থেকে আরও একটা ২২ শ্রাবণ প্রায় নিঃশব্দে চলে গেল।এখন মনে হয় এইসব দিনগুলো এভাবেই যাওয়া উচিত। স্তব্ধতার ভিতর দিয়ে, একা। ২২ শ্রাবণের অব্যবহিত পরেই,আজ বইপাড়ায় আদম-এর ভাঙাচোরা দপ্তরে শনিবারের সান্ধ্য আড্ডায় আমরা রবীন্দ্রনাথকে ছুঁয়ে থাকব অমিতেশদার মাধ্যমে।অমিতেশ সরকার,গত সপ্তাহে ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছে এবং প্রথম আলাপেই আমাদের অনুরোধে তিনি দুটি রবীন্দ্রসংগীত শুনিয়েছিলেন। জীবনের অনেক অপরাধের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই আমার একটা অপরাধ, এতদিন কেন তাঁর সন্ধান পাইনি। অপরাধ কিছুটা লাঘব হতে পারে, মাঝে সাঝে যদি তিনি আমাদের সান্নিধ্য দেন। এবং দু-একটা গান শোনান। আপনারাও তাঁর গান শুনতে চাইলে আগামীকাল শ্রাবণসন্ধ্যায় ভাঙাচোরা দপ্তরে নিঃসংকোচে আসতে পারেন।
আজ সান্ধ্য আড্ডায় কবিতা পাঠ করবেন তিন তরুণ কবি মঙ্গল, ঝিলম এবং সব্যসাচী। ঝিলম ও সব্যসাচী বাংলা কবিতার জগতে যথেষ্ট পরিচিত মুখ, তাই তাঁদের নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলছি না। তবে এঁদের মধ্যে মঙ্গল তরুণতম, কবিতাজগতে প্রায় অচেনা। মঙ্গল কবিতায় মঙ্গলের চিহ্ন নিয়ে আসবে এই প্রত্যাশায় আমরা জড়ো হব। অবশ্য অমঙ্গলের শঙ্খধ্বনি শোনা গেলেও কোনো সমস্যা নেই।
আজকের সান্ধ্য আড্ডায় বিগত শতাব্দীর সাতের দশকের আড়ালে থাকা বিশিষ্ট কবি প্রভাত সাহার অন্দরমহল নিয়ে বলবেন আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু কবি ও প্রাবন্ধিক রাহুল দাশগুপ্ত। রাহুলের কাছে আমি ইতিমধ্যেই দুবার কাতর আর্জি জানিয়েছি। ও যদি বিশ্বসাহিত্য পড়ানোর জন্য ক্লাস চালু করে, তাহলে একটা সার্টিফিকেট কোর্স ( ডিগ্ৰি বা মাস্টার্স কোর্স নহে) করার জন্য জন্ম-ক্লাসছুট আমি জমি বেচে নতুন করে আবার রাহুলের ক্লাসে ভর্তি হতে পারি। যদিও সেক্ষেত্রে আমার প্রিয় জায়গা হবে অবশ্যই লাস্ট বেঞ্চের কোণার দিক। রাহুল অবশ্য আমার কথায় মুচকি হেসেছে, এই হাসির অর্থ সে আমাকে তাঁর ক্লাসে ভর্তি নেবে নাকি নেবে না, তা আজও বুঝে উঠতে পারিনি।
একসময় সুধীরদা এবং রামদার হাত ধরে গীতা চট্টোপাধ্যায়ের পেল্লাই সাইজের বাড়িতে গিয়েছিলাম। গীতাদির সঙ্গে ওই বাড়িতে পরবর্তীকালে এককভাবে অনেক সময় কাটিয়েছি। একজন কবির প্রজ্ঞা, আভিজাত্য এবং আত্মসম্মানবোধ কতদূর অব্দি গভীর হলে তিনি গীতা চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠতে পারেন তা তাঁর কাছে বারবার গিয়ে কিছুটা টের পেয়েছি। আজ সন্ধ্যায় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের গদ্য নিয়ে বলবেন বিশিষ্ট কবি ও গদ্যকার সুধীর দত্ত। এই প্রসঙ্গে, সুধীরদার রোষানলে ভস্ম হতে পারি জেনেও কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে একটা বিষয় রাষ্ট্র করে দিই। সুধীর দত্তের হাত ধরে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর বাঙালিজাতি একটি মহাকাব্য পেতে চলেছে।
পুরস্কার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল হাতে অর্পিত হয়। সুতপা চক্রবর্তী যে ভুল কবি নন, তা বলা বাহুল্য। পুরস্কারের ঐশ্বর্য ও গ্লানি তাঁর ধ্যানকে এখনো পর্যন্ত নষ্ট করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে বলে মনে হয় না। আগামী ২৩ অগাস্ট আদম থেকে প্রকাশিত হবে তাঁর একটি নতুন কাব্যগ্রন্থ। শিবরাম পাঠশালা। আর আজ সান্ধ্য আড্ডায় যুব সাহিত্য অকাদেমি ২০২৪ প্রাপ্ত সুতপার কাব্যগ্রন্থ "দেরাজে হলুদ ফুল, গতজন্ম"র একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হবে।
মোটামুটি এটুকুই আজকের সান্ধ্য আড্ডার অগোছালো সূচি । সময় নিশ্চিতভাবেই অপচয় হবে জেনেও যাঁরা আসতে চান, তাঁরা চলে আসুন, বইপাড়ায় একমাত্র ভুল ঠিকানা আদম-এর ভাঙাচোরা দপ্তরে।
তবে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিই, আমাদের দপ্তর ভাঙাচোরা ঠিকই, বসার জায়গাও শ্রোতার তুলনায় অপ্রতুল ও ভ্যাপসা, কিন্তু এটুকু আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, এতজন কবির মাথায় অন্তত আজ মহাকালের ছাদ ভেঙে পড়ছে না।