05/07/2024
অনেক সংসারেই ছেলের বাবা মা নিজেদের হীনমন্যতার জন্য ছেলেকে পর ভাবতে শুরু করে ,এবং নববিবাহিত ছেলের জীবনে অশান্তি লাগিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চায়। তাই ছেলে বৌমার খুশি তারা কোনো ভাবেই সহ্য করতে পারে না । ছেলে বৌমাকে একসাথে হাসতে দেখলেও তারা কৃত্রিম ভাবে অশান্তির কারন সৃষ্টি করে অশান্তি করতে থাকে ছেলের অবর্তমানে। কোনো মেয়েই মন ছোটো করে শ্বশুরবাড়ি আসে না ।
একটা মেয়ে বিয়ে করে নিজের সব আপনজনদের ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে যায় সবার সাথে ভালো থাকবে বলে,ঝগড়া লাগাবে বলে নয়...শ্বশুরবাড়ির সবাই যদি প্রথম দিকে কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে একটু মানিয়ে নিয়ে চলে,তাহলে মেয়েটাও ভালোবাসতে শেখে,সবার খেয়াল রাখা,নিজ থেকে কাজ করা,ভালো ব্যবহার করা,সব...কিন্তু তারা প্রথম থেকেই এমন ব্যবহার করে যে,একটা কাজের লোকের আশায় বিয়ে দিয়েছে । অপমান,অবহেলা, খোঁটা দেওয়া, স্বামীর কান ভাঙ্গানো, তারপর ঝগড়া লাগা,মানসিক অত্যাচার, এসব সহ্য করতে করতে একসময় ধৈর্য ভেঙ্গে যায় মেয়েটির । আর মেয়েটাও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয় । আর যারা জবাব দিতে পারে না,তারা অনেকে আত্নহত্যাও করে বসে বা ডিভোর্স দিয়ে দেয়। শাশুড়ি রা ভুলে যায়,তারাও এক সময় বউ হয়ে এসেছিল। বউমারা প্রথম দিকে চেষ্টা করে মানিয়ে নেওয়ার কিন্তু যখন দেখে,এত করেও প্রতিনিয়ত নিজের আত্মসম্মান নষ্ট হচ্ছে ,তখনই সরে আসে সে
একজন পুরুষের উচিত তার স্ত্রীর সম্পর্কে তার মা ও বোনের করা সমালোচনার ব্যাপারে সতর্ক থাকা। কেননা- তারা অনেকক্ষেত্রেই সহানুভূতি বা ভালো উদ্দেশ্য থেকে এই ধরনের সমালোচনা করে না, বরং হিংসা, শত্রুতা ও স্বার্থপরতা থেকে করে।। তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যখন সে তার স্ত্রীর অনেক কাছে চলে আসে তখন তার পরিবার তার স্ত্রীকে তাদের শত্রু এবং তাদের ছেলের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। ফলশ্রুতিতে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাতে বৃদ্ধি না পায় তার উপায় খুঁজে বেড়ায়।
ছেলে তার আয়ের সমস্তটা সংসারে খরচ করে দিলেও তার ভাগ্যে জোটে বদনাম । আর দোষ গিয়ে পড়ে বৌমার ওপর ,তাদের মুখে একথা বলতে একটুও আটকায় না যে,-- বৌমা তার ছেলের সব টাকা বাপেরবাড়ি দিয়ে চলে আসে।
আর নিজের মেয়ে যদি বছরে একটা দুটো শাড়ি আর দুপাঁচশো টাকা দেয় তো সেই মা বাবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে । এমনভাব দেখায় যেন মেয়েই তার ছেলের সংসারও চালিয়ে দিচ্ছে !
আসলে নিজেদের পরশ্রীকাতর স্বভাবই বউ শাশুরি দ্বন্দ্বের বড় কারণ। পেটের সন্তান যত বড় অন্যায় করুক ক্ষমা করা যায়, বুকে আগলে রাখা যায়- কিন্ত, ছেলের বউয়ের ছোট ভুল/অবুঝপনাকে ছাড় দেওয়া যায়না, হাসিমুখে শুধরে দেওয়া যায়না! আবার, আপন মায়ের পিটানি খেয়েও মেয়ের তেমন কিছুই হয়না, কিন্ত শাশুরির সামান্য বাঁকা কথায় দুনিয়া উলটে যায়, কলিজা ছিঁড়ে যায়!
নিজের জামাই মেয়েকে গুরুত্ব দিলে শাশুড়ি আনন্দে গদগদ,কিন্তু ছেলে তার বউকে গুরুত্ব দিলে/এক্সট্রা কেয়ার করলেই শাশুরির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে!
ছেলে আমার হাতছাড়া হয়ে গেলো, পরের বেটি'র দখলে চলে গেলো! অথচ, ছেলে এবং বউয়ের ভালো বন্ডিং দেখে শাশুরির আনন্দিত হওয়ার কথা!
দুঃখের বিষয় হল মেয়েরাই মেয়েদের ভালো দেখতে পারেনা! শাশুড়ির থেকে আঘাত পেয়ে রোজ কাঁদা বউ মা-ই একদিন শাশুরি হয়ে নিজের ছেলের বউকে অত্যাচার করে, মানসিক অশান্তি দেয়!আর হাজার বছর ধরে এভাবেই চলতে থাকে বউ শাশুড়ির দ্বন্দ্ব!
যারা ভালো আছে তাদের বাদ দিয়ে, শাশুরির থেকে রোজ আঘাত পাওয়া বউমা কেন একদিন ভালো শাশুড়ি হতে পারেনা? শাশুড়ি নির্যাতনের স্বীকার হওয়া বউমা'রা প্রতিজ্ঞা করুক- "আমি শাশুড়ি হয়ে ছেলের বউকে কখনও কষ্ট দেবোনা, বউকে ছেলের দখলদার ভাববো না, বউ ছেলের ভালো বন্ডিং দেখে হিংসা করবোনা"! দেখবেন - আগামী ৫০ বছরে বউ শাশুরির দ্বন্দ্ব মিটে মা-মেয়ে হয়ে যাবে!
আমি ভালো শাশুড়ি হবো। আমি যা পাই নি যদি বেঁচে থাকি বৌমা কে সব দেবো। 🥰🥰