13/06/2026
মোহ
৪৮ ঘণ্টা আগে
“মানুষ বড়ো হিংস্র হে, মুস্তাফি!”
“তা যা বলেছেন, স্যার।”
“বডিটার দিকে দেখো, কতই বা বয়স হবে? বড়োজোর পঁয়ত্রিশ?”
“না, স্যার, পঁয়তাল্লিশের কম হবে না।”
“তোমার দেখার চোখটাই নেই, মুস্তাফি, খালি শিখেছ লক-আপে চোর পেটাতে! মৃত্যু এই মহিলার সৌন্দর্য কেড়ে নিতে পারেনি।”
“তা হবে, স্যার; তবে আমি ভাবছিলাম এ-রকম সাধারণ কেসে আপনি নিজে কেন এসেছেন? এমন কেসে তো পুলিশ কমিশনারের আসার কথা...”
“তোমরা কি সব প্রোটোকল বুঝবে, মুস্তাফি? ইনি আমাদের ইয়ে... মন্ত্রীর সাধন-সঙ্গিনী। তাই নিজে এসেছি তোমাদের ওই নায়ককে কেস বুঝিয়ে দিতে। দেখারও ইচ্ছে ছিল, মন্ত্রীসাহেব মজেছিলেন কেন...”
“নায়ক মানে কি যীশু, স্যার?”
“আর কোন অফিসার আছে পুলিশ ফোর্সে, যে আমাকে ওয়েট করাবে?”
“নিশ্চয়ই কোনো কাজে ফেঁসে গেছে...”
“থাক, তোমাকে আর চামচাগিরি করতে হবে না।”
“গুড মর্নিং, স্যার।”
যীশু রায়চৌধুরি, বয়স উনত্রিশ বছর, উচ্চতা পাঁচ ফিট নয় ইঞ্চি, ওজন পঁয়ষট্টি কেজি। লালবাজার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট।
পুলিশ কমিশনার সুরজিৎবাবুচোখ তুলে তাকালেন যীশুর দিকে।
“কী বুঝছ, অফিসার?”
যীশু নিঃশব্দে পুরো ঘরটা দেখছিল। সুরজিৎবাবু জানেন যীশু এমনভাবেই কাজ করে। খুব কম কথার, ঠাণ্ডা মাথার মানুষ যীশু পুরো পরিস্থিতি না বুঝে কোনো কমেন্ট করে না। তিন বছর ধরে এই অফিসারটিকে তিনি চেনেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এর কানেকশন তারিফ করার মতো। এই অল্প বয়সে এমন কয়েকটি কেস এই অফিসারটি সল্ভ করেছে, যা ওপরমহলেও প্রচুর প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়াও যীশু একজন শার্পশ্যুটার। নিখুঁত অ্যানাটমির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মোক্ষম জায়গায় আঘাত করে। নিচুতলার অনেক অপরাধী ওর নামে বুকে ক্রস আঁকে। তারা ওর নাম দিয়েছে ‘শয়তান’।
পার্ক সার্কাসের চোদ্দোতলায় এই দু’হাজার স্কোয়ার ফিট ফ্ল্যাটে থাকতেন মিসেস কাশ্যপ। ভদ্রমহিলা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন একসময়। পরে বিয়ে হয়ে কলকাতায় আসেন। কিছুদিনের মধ্যে ডিভোর্স হয়, তারপর বুটিকের বিজনেস শুরু করেন। এই ফ্ল্যাটের গ্রাউন্ড ফ্লোরেই অফিস। বয়স একচল্লিশ বছর, হাইট পাঁচ ফিট পাঁচ ইঞ্চি, শরীরে ঠিক ততটাই মেদ, যাতে আদুরে ভাবটা থাকে, কিন্তু কিছুতেই মোটা বলা যায় না। যথেষ্ট সুন্দরী। বুটিক চালাতে গিয়েই মন্ত্রীর সঙ্গে এঁর যোগাযোগ হয় পাঁচ বছর আগে। তারপর থেকেই তিনি মন্ত্রীর সহচরী।
আপাতত মহিলা তাঁর বেডরুমে শুয়ে আছেন। গলাটা কোনো ধারালো অস্ত্রে ছিন্নভিন্ন।
“বডি পাঠিয়ে দিন, স্যার।” যীশু পুরো ফ্ল্যাটটা ঘুরে এসে বলল।
“কী বুঝলে হে?” সুরজিৎবাবু প্রশ্ন করলেন।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল যীশু।
“যে-ই মেরে থাকুক, যথেষ্ট আক্রোশ ছিল তার ভিকটিমের প্রতি। এরপর কী কী করতে হবে সবই তো আপনি জানেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে, কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বলি। ভিকটিমের ফোনের কল লগ আর মেসেজ ঘাঁটি, ওঁর পরিচারিকার সঙ্গে কথা বলি; তারপর জানাব আপনাকে।”
“মন্ত্রীমশাই বড়ো আকুল হচ্ছেন, যীশু—”
“কোন আদিম রিপুর কারণে এই খুন, বের করতে হবে, স্যার,” যীশু শান্ত গলায় বলল, “কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ না মাৎসর্য—”
মৃত্যুপ্রহর
কল্যাণ গুপ্ত
মূল্য - 349/-
দ্বিতীয় মুদ্রণ
প্রাপ্তিস্হান - ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রু
Versoz.কম, boichitro.ইন