13/07/2024
শাকিব একজন ভালো ছেলে, লেখাপড়ায় ভালো এবং খুব গরীব ঘরের সন্তান দেখতে খুবই সুন্দর ভালো ছিল। ছোটবেলায় থেকে তার ইচ্ছা ছিল পুলিশ হবার তাই ক্লাসে কোন মেয়েকে ভালবাসত না ফাইভ থেকে ট্রেন পর্যন্ত এইভাবে সে চলতে থাকে। মাধ্যমিক ফাস্ট ডিভিশন পাস করে ইলেভেনে ভর্তি হয়। বিভিন্ন স্কুল থেকে বিভিন্ন ছেলে-মেয়ে তার স্কুলে এসে ভর্তি হয়। অন্য স্কুল থেকে মধু নামে এক মেয়ে শাকিবকে খুব ভালবাসতে শুরু করে। সাকিবকে একদিন ডেকে বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি শাকিব বললো আমি ভালোবাসতে পারবো না মেয়েটি বলল কেন তখন শাকিব বলল আমার জীবনের একটি উদ্দেশ্য আছে। আমি লেখাপড়া শিখে একজন পুলিশ হতে চাই। যতদিন না চাকরি পাব ততদিন কোন মেয়েকে ভালোবাসবো না তাছাড়া আমি একজন গরীব ঘরের সন্তান তুমি তো ধনী ঘরের একজন সন্তান পরে মানিয়ে নিতে পারবে না । মধুর সাকিবকে বলল যতদিন বাঁচবো আমি তোমাকেই ভালোবাসবো অন্য কারো জন্য এই মন দেব না,। মধু বাড়ি থেকে বিভিন্ন রকমের টিফিন করে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে আসতো সাকিবকে খেতে দিতে শাকিব খেতে না চাইলে তাকে জোর করে খাওয়াতো। সাকিব যেখানে টিউশনি পড়তো সেখানে মধু ও টিউশনি নিল। কোন কোন দিন টিউশনি থেকে দুজনের স্কুলে চলে আসতো এইভাবে চলতে থাকে পুরো ইলেভেন ক্লাসটা। ক্লাসের সবাই জানতো যে এদের দুজনের ভালোবাসা চলছে। হঠাৎ একদিন মধুর শরীর খারাপ করে সেই স্কুলে টিউশনিতে আসতে পারে নাই। এদিকে শাকিব তখন বুঝতে পারল যে ভালোবাসা জিনিসটা কি। তখন সে মনে মনে তাকে ভালবাসতে শুরু করে মধু কিন্তু জানতো না। এক সপ্তাহ পর যখন মধু আসলো তখন মধুকে জিজ্ঞাসা করলে কিরে স্কুলে আসিস নি কেন মধু তখন বলল কি কষ্ট হচ্ছিল নাকি? না এমনি জিজ্ঞাসা করচ্ছি সত্যি কথা বল শাকিব তোর কিছু হচ্ছিল সাকির মাথাটা নিচু করে বলল হ্যাঁ । এদিকে দুচোখ দিয়ে মধুর জল গড়িয়ে যাচ্ছে সাকিব বলল তুই কাঁদছিস কেন না এমনি। তারপর ইলেভেন পরীক্ষা শুরু হলো দুজনেই পাস করে টুয়েলভে উঠলো টুয়েলভে ওঠার পর মধু একদিন সাকিবকে নেমন্তন্ন করে তার ভাইয়ের বিয়েতে। মধু তার ভাইয়ের বিয়েতে এমনভাবে সাজলো যাতে শাকিব দেখে পাগল হয়ে যায়। শাকিব দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিল আর বলল তোকে খুব সুন্দর লাগছে। মধু সাকিবকে বলল একটা কথা বলবো শাকিব বলল হ্যাঁ বল সাকিব তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? শাকিব আবার মাথা নিচু করে বলল হ্যাঁ ভালোবাসি তবে জানিনা তোমাকে আমি বিয়ে করতে পারব কিনা এই খুশিতে আনন্দের চিৎকার করে উঠে তখন পাশে থেকে তার মা ছুটে এসে বলল মধু কি হয়েছে রে মা কই কিছু হয়নি তো তাহলে চিৎকার করলি না বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলাম তো তাই। একই গাড়িতে দুজনা ভাইয়ের বিয়ে দিতে গেল একই টেবিলে খেতে খেতে মধু বলল আমাকে গালে তুলে খাওয়াবে না শাকিব বলল দেখছো না চারিদিকে লোক আমাদেরকে দেখছে তা কি হয়েছে? তুমি খাওয়াবে কিনা বল সাকিব তখন এক টুকরো মাংস নিয়ে তার মুখে দিল। মধু ও সাকিবকে এক টুকরো মাংস গালে তুলে দিল। তারপর দুজনা সেলফি তুলতে লাগলো। ভাইয়ের বিয়ের পর স্কুল এসে দেখে শাকিব স্কুলে আসেনি। শাকিব পুলিশের চাকরির জন্য ফরম ফিলাপ করেছিল তার কল এসে ছিল বলে স্কুল থেকে এক সপ্তাহ ছুটি নিয়েছিল। এ দিকে মধু তো জানেনা তার মনে মনে খুবই কষ্ট হচ্ছে তাই সে কষ্ট সহ্য না করতে পেরে শাকিবের বাড়িতে চলে যায়। শাকিব তো দেখে হতবাক কি ব্যাপার মধু। এখানে আরে মা দেখলে অসুবিধা তুমি চলে যা। তুমি আগে বল তোমার কি হয়েছে? আমি কি কিছু করলাম বলো, না কিছু হয়নি আমি পুলিশের চাকরি পরীক্ষা দেবো তাই ।ও আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তুমি আমাকে ভুলে যাচ্ছ নাকি না। দূর পাগলী, আমি বললাম না আমি তোমাকে খুবই ভালোবাসি। তুমি কি আমাকে ঘরে নিয়ে যাবে না? আরে মা আছে তো তা কি হয়েছে আমি যাব। দেখো সাকিব আমি তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলব। কি কথা। বিয়ের কথা নাকি? তুমি আমার সঙ্গে মজা করছ না না মজা করছি না তুমি তো ধনী লোক এই গরিব মানুষের বাড়িতে বিয়ে করে আসবে কি? আমি যখন তোমাকে ভালোবেসেছি শাকিব তোমাকেই বিয়ে করবো এতে যদি পালাতে হয় তাহলে পালিয়ে যাব তাই নাকি। ঠিক আছে দেখা যাবে? মধু শাকিবের ঘরে ঢোকা মাত্র ই তার মা দেখে বলল সাকিব কে রে বাবা আমার বন্ধু মা ও তাই নাকি তুই বললি আমার কোন মেয়ে বন্ধু নেই আমি চাকরি করার পর ভালবাসবো ,বন্ধু করব। গল্পটা এখনো শেষ হয়নি পার্ট টু দুদিন পর দেখতে পাবে।