06/08/2026
"আভা দিদির মাইলো , সবাই মিলি খাইলো ,উদরাময় হইল।"
এক চরম ধিক্কার ......মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে নারী সগর্বে ব্রিটিশ পুলিশের লাঠি সহ্য করেছিলেন, এবং যিনি সগৌরবে সবার সাথে লড়াই করেছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, স্বাধীনতার পর তাঁকেই কি না নিজের স্বাধীন দেশের বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সতীর্থ পুরুষ বিধায়কদের চরম কদর্য মানসিকতার শিকার হতে হয়েছিল!
পশ্চিমবঙ্গের অবিসংবাদিত স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী আভা মাইতির ওপর ষাট ও সত্তরের দশকে বামপন্থী শিবিরের চালানো সেই নোংরা রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ আজ আমাদের তথাকথিত 'প্রগতিশীল' ও 'সুশীল' সমাজের গালে এক জোরালো থাপ্পড়।রাজনীতিতে মতাদর্শের লড়াই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু মতাদর্শের দেউলিয়াত্ব যখন একজন নারীর বসার আসনে আলতা লেপে দিয়ে কুরুচিকর ইঙ্গিত করতে শেখায়, কিংবা খরা-পীড়িত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার মানবিক চেষ্টাকে নিয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে অত্যন্ত কদর্য ভাষার ছড়া কাটতে প্ররোচিত করে, তখন বুঝতে হবে সেই রাজনীতির ভিত কতটা পচা।লজ্জার সেই দুই অধ্যায়.....
বিধানসভার পবিত্র কক্ষে একজন নারী বিধায়কের বসার চেয়ারে আলতা মাখিয়ে দেওয়া কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ ছিল না। এটি ছিল একজন নারীর শালীনতা ও আত্মসম্মানকে জনসমক্ষে চূর্ণ করার এক আদিম, পুরুষতান্ত্রিক ও বিকৃত উল্লাস।'
মেদিনীপুরের খরা ও খাদ্যসংকটের সময় মার্কিন ত্রাণ থেকে পাওয়া দানাশস্য 'মাইলো' বিতরণ করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চেয়েছিলেন আভা মাইতি। অথচ, সেই মানবিক কাজকে রাজনৈতিক স্বার্থে কালিমালিপ্ত করতে বামপন্থীরা দেওয়ালে দেওয়ালে যে নোংরা ছড়া আর প্যারডি লিখেছিল, তা শুধু আভা মাইতির অপমান ছিল না, তা ছিল সেই বুভুক্ষু মেদিনীপুরবাসীর প্রতিও চরম উপহাস।সমাজের গালে থাপ্পড় কেন?আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা নারী স্বাধীনতা, প্রগতিশীলতা আর লিঙ্গসাম্যের বুলি আওড়াই, তখন আভা মাইতির সাথে ঘটা এই ঘটনাগুলো আমাদের দ্বিচারিতাকে নগ্ন করে দেয়।
আভা মাইতি দমে যাননি; তিনি তাঁর সততা, কাজ এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে এই সমস্ত নোংরামির যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সমাজ হিসেবে আমরা সেদিনও ব্যর্থ হয়েছিলাম এই বিকৃতির তীব্র প্রতিরোধ করতে, আর আজও হয়তো পুরোপুরি ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।এই প্রতিবেদনটি আসলে কোনো দলবিশেষের দিকে আঙুল তোলা নয়, বরং রাজনীতি ও সমাজ জীবনের সেই মানসিকতাকে ধিক্কার জানানো যা প্রতিপক্ষকে হারাতে না পেরে একজন নারীর চরিত্র হননে নেমে পড়ে। আভা মাইতির ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যারা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নারীর অসম্মানকে অস্ত্র করে, ইতিহাস কোনোদিন তাদের ক্ষমা করে না।
ধিক্কার তাঁদের, আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে এই বামফ্রন্ট সরকার কতটা নোংরা। যতই প্রগতিশীল ব্যাপারে বুলি আওড়াক, আসলে এদের মানসিকতার নিম্নমানের।
Bengal Owl
NB: আসুন আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরি, সম্ভব হলে এই লেখাগুলো নিজেরা কপি পেস্ট করে নিজেদের পরিচিতদেরকে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ফেসবুকে সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সময় তুলে ধরুন;
আমরা এক একজন যেন অন্ততপক্ষে আমাদের পরিচিতদের মাঝে এই সংবাদগুলো পৌঁছাতে পারি এবং সচেতন করতে পারি... মনে রাখবেন এটা আমার আপনার ভবিষ্যতের প্রশ্ন, অস্তিত্বের প্রশ্ন. ধন্যবাদ 🙏