28/08/2026
বিএসএফ এবং মানব পাচারকারীদের মধ্যে গোপন আতাঁত! খোয়াই, আশারামবাড়ী ও আগরতলা লম্বা চেইন! লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন! আশারামবাড়ীতে ধৃত ১ এক বাংলাদেশী নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!
প্রতিনিধি,গোপাল সিংয়ের রিপোর্ট:
বিএসএফ এবং মানব পাচারকারীদের মধ্যে গোপন আতাঁত। খোয়াই, আশারামবাড়ী ও আগরতলা লম্বা চেইন। লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন। আর এই গোপন লেনদেন ও বিএসএফের সাথে মানব পাচারকারীদের বোঝাপড়ার মধ্যেই ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ক্রমাগত মারাত্মক রূপ নিচ্ছে বেআইনি মানব পাচারচক্র। বিএসএফের নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোয়াই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশীদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ও বিএসএফের রহস্যজনক উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে খোয়াই, আশারামবাড়ী ও চাম্পাহাওড় থানা এলাকাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে এক আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্র।
আজ আশারামবাড়ী এলাকার টিটিএএডিসি-র স্থানীয় এমডিসি প্রশমিত দেববর্মা এবিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার মধ্য দিয়ে জানান, ওয়াইটিএফ এর সদস্য ও স্থানীয় জনতা এমনই এক অনুপ্রবেশকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সুরক্ষায় গাফিলতির অভিযোগে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটককৃত বাংলাদেশী নাগরিকের বাড়ি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দুই দেশের সক্রিয় পাচারকারীদের সাথে চুক্তি করে সে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে অবৈধভাবে খোয়াই হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই ব্যক্তি জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে আসামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল। ভারতীয় জাল নথি বানিয়ে অবাধে খোয়াই ও আগরতলা রুট ব্যবহার করে সে যখন খুশি বাংলাদেশে নিজের বাড়ি যাচ্ছিল এবং পুনরায় একই পথে ভারতের আসামে ফিরে আসছিল। আশারামবাড়ী ও চাম্পাহাওড় থানা এলাকা দিয়ে নিত্যদিন অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঘটনা ঘটলেও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর এই ধরণের নিরুত্তাপ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত জুড়ে একটি বিশাল পাচারচক্র সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও বিএসএফ এবং প্রশাসন কার্যত ঘুমিয়ে রয়েছে। এমডিসি প্রশমিত দেববর্মাও এ ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং জাল নথির সাহায্যে ভারতে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা এবং এই বিশাল মানব পাচারচক্রের মূল পান্ডাদের অভিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।।